রান্না ঘরে মৃত্যু

CONTENTS

স্বাস্থ্য - একটি প্রধান আগ্রহ
আমাদের দেহ আমাদের নিজের নয়
বডি মেকারস ম্যানুয়েল
শূকরের মাংস অশুচি
সামুদ্রিক খাদ্য খাওয়ার উপযুক্ত নয়
অ্যালকোহল বা মদএকটি অভিশাপ
নিকোটিনসবচেয়ে মারাত্মক বিষ
কফি আসক্ত
একটি বড় প্রশ্ন বা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

অধ্যায় ১: স্বাস্থ্য - একটি প্রধান আগ্রহ

 

কয়েক বছর পূর্বে আমেরিকার একটি নির্দিষ্ট শহরে একটি জরিপ করা হয়েছিল, এবং প্রত্যেক বাসিন্দা জরিপে অন্তর্ভুক্ত ১৫৬টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। এতে দেখা গিয়েছিল যে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রধান আগ্রহ ছিল স্বাস্থ্য রাজনীতি, ইতিহাস বা এমনকি আবহাওয়া q ̶  কিন্তু স্বাস্থ্য, তাদের নিজেদের এবং তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য। আমরা কী এক অসঙ্গতিপূর্ণ যুগে বাস করি, এই সময়টা! এমন একটা সময় যখন আমাদের অনেক বেশি ডাক্তার, হাসপাতাল, ওষুধ আছে; রোগের যত্ন বা পরিচর্যার, চিকিৎসা এবং নিরাময়ের আরও চিকিৎসা জ্ঞান; আরও বড়ি, ক্যাপসুল, ভিটামিন, ইত্যাদি আছে; তবুও কদাচিৎ এমন একটি সময় এসেছে যখন আরও বেশি অসুস্থতা এবং সাধারণ অসুস্থতা মানব পরিবারকে জর্জরিত করছে।

 

লক্ষ লক্ষ মানুষ ভুল জীবনযাপনের এবং ক্ষতিকর খাবার পানীয় পানের অভ্যাসের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ভুগছে আমরা কষ্টে জর্জরিত পৃথিবীতে বাস করি। অসুস্থ পীড়িতদের কান্না আধুনিক সমাজের ট্রেডমার্ক। চিকিৎসা গবেষণায় অবিশ্বাস্য কার্যক্রমগুলো থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু নিয়ে এখনও আমাদের সমাজ সবচেয়ে গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

 

বাইবেল অকাল অক্ষমতা এবং মৃত্যু নিয়ে প্রশ্নের একটি সহজ, সংক্ষিপ্ত উত্তর দেয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ আজও জীবিত থাকত যদি তারা যাত্রাপুস্তক ১৫:২৬ পদে বর্ণিত ঈশ্বরের সতর্কবার্তায় মনোযোগ দিত: “তুমি যদি আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর কথায় মনোযোগ কর, তাঁহার দৃষ্টিতে যাহা ন্যায্য তাহাই কর, তাঁহার আজ্ঞাতে কর্ণপাত কর, তাঁহার বিধি সকল পালন কর, তবে আমি মিসরীয়দিগকে যে সকল রোগে আক্রান্ত করিলাম, সেই সকলেতে তোমাকে আক্রমণ করিতে দিব না; কেননা আমি সদাপ্রভু তোমার আরোগ্যকারী।

 

এই পদটি এটা স্পষ্ট করে যে, প্রকৃতপক্ষে যে, কেউই তার নিজের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া থামিয়ে রাখতে পারে। স্বাস্থ্য এবং খাদ্য সম্পর্কিত ঈশ্বরের ব্যবস্থা মেনে চলার মাধ্যমে রোগ সম্পূর্ণভাবে প্রশমিত বা এড়ানো যেতে পারে। বাইবেলের এই পদ থেকে এটা স্পষ্ট যে, মহামারী আঘাতের জন্য লক্ষ লক্ষ লোককে তাদের কবরে পাঠানো (ঠেলে দেওয়া) ঈশ্বরের ইচ্ছা নয়। তিনি চান আমরা উন্নতি করি এবং- দেহে, মনে এবং আত্মায় সুস্থ থাকি।

 

তাহলে কেন আমরা আজ পৃথিবীতে এত দুর্ভোগ রোগ দেখছি? উত্তর হল এই যে অধিকাংশ লোক তাদের সৃষ্টিকর্তার লঙ্ঘন করছে। ঠিক যেমন নিশ্চিতভাবে প্রকৃতির নিয়ম কাজ করছে, তেমনি আমাদের শরীরেরও নিয়ম রয়েছে যেগুলো অনুমানযোগ্য এবং নিশ্চিত।তোমরা ভ্রান্ত হইও না, ঈশ্বরকে পরিহাস করা যায় না; কেননা মনুষ্য যাহা কিছু বুনে তাহাই কাটিবে” (গালাতীয় : পদ) যদি কোনো ব্যক্তি ছাদ থেকে পড়ে যায়, মধ্যাকর্ষণ শক্তি অবিলম্বে তা দখল করে নেয়। বয়স, লিঙ্গ বা আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে, সেই পড়ে যাওয়া দেহ আহত বা নিহত হওয়ার জন্য নীচের দিকে ধাবিত হবে। একইভাবে, যদি আমরা আমাদের শরীরের নিয়ম লঙ্ঘন করি, তাহলে আমরা অসুস্থতা বা অনিবার্য মৃত্যুর পরিণতি আশা করতে পারি।

 

কাজের ফল সবসময়ই একটি কারণে হয়। যারা ঈশ্বরের পরামর্শ এবং বর্তমান বিশ্ব স্বাস্থ্যে প্রবণতাগুলো গুরুত্ব সহকারে অধ্যয়ন করেছেন তাদের কাছে কোন গভীর রহস্য নেই। বিশেষজ্ঞরা বিস্মিত যে ক্যান্সার তার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। যদিও অনেক রোগ ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে, এবং কিছু সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়েছে, তবে ক্যান্সার বেড়েছে। এমনকি নজিরহীন তহবিল এবং গবেষণার সঙ্গেও এই প্রাণনাশক ম্যালিগন্যান্সির বৃদ্ধি রোধে সমান্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

 

আমেরিকার ধূমপানের অভ্যাসের আলোকে আমরা সহজেই ফুসফুসের ক্যান্সারের ক্রমাগত বৃদ্ধি বুঝতে পারি। এই প্রবণতা নিঃসন্দেহে অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না আরও অধিক মানুষ একটি প্রাণনাশক বিষ গ্রহণ করার জন্যনাবলার সহজ, নৈতিক সাহস সঞ্চয় করে। কিন্তু খুব কম মানুষই বোঝে যে মানবদেহের সমস্ত ক্যান্সারের এক-তৃতীয়াংশ পাকস্থলীর মধ্যেই ঘটে। আর সমস্ত ক্যান্সারের অর্ধেক লিভার বা যকৃৎ, অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং কোলনসহ হজমের অঙ্গগুলোতে পাওয়া যায়।

এই ক্যান্সারের কারণ আমাদের সবার কাছে স্পষ্ট হতে হবে। ফুসফুস বাদে, যেটি গরম তামাকের আলকাতরা দিয়ে বোমাবাজি করা হয়, পাকস্থলী শরীরের সবচেয়ে অপব্যবহৃত অঙ্গ। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডা. জেমস ইউইং, ক্যান্সার প্রতিরোধের একটি গবেষণামূলক পুস্তকের শিরোনামে এই বিবৃতি দিয়েছেন: “একটি সাধারণ পাকস্থলীর চিরস্থায়ী অপব্যবহার ঘন ঘন ক্যান্সারের জন্ম দেয় এবং একটি অস্বাভাবিক দুর্বল পাকস্থলীর কম অপব্যবহারের কারণেও একই পরিণতি ভোগ করতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই অপব্যবহার এবং অতিরিক্ত কাজ সম্পাদনাকে উত্তেজনাপূর্ণ কারণ হিসাবে বিবেচনা করা উচিত। পাকস্থলী তামা দ্বারা রেখাযুক্ত নয় বরং সূক্ষ্ম এপিথেলিয়াল কোষের একক রেখা দ্বারা যুক্ত। এই তথ্যগুলো থেকে একমাত্র নিরাপদ উপসংহারটি হলো যদি এই খুব সাধারণ রোগ থেকে উচ্চ মৃত্যুহার কমাতে হয় তবে পাকস্থলীর সমস্ত ধরণের অপব্যবহার এড়াতে হবে।

 

আমেরিকান পুরুষ, মহিলা এবং শিশুদের পাকস্থলীতে কী যায় তা দেখা ভীষণ লোমহর্ষক এবং ভয়াবহ। ভয়াবহ এটা মনে হয় যে, এটার স্বাদ ভাল কিনা, বা এটা একটি মনোরম ফলাফল দেয় কিনা তা পরীক্ষা করা। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ স্থলতায় ভুগছে এবং প্রতি বছর ত্রিশ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ভোজনপ্রণালির সূত্র (ডায়েট ফর্মুলা) এবং ব্যায়ামের সরঞ্জামগুলোতে ব্যয় করা হয়।

আশ্চর্যজনক বিষয় হল যে গড়ে আমেরিকানরা প্রতি বছর ,৪৮৮ পাউণ্ড খাদ্য গ্রহণ করে। এটি নিঃসন্দেহে গড়ে প্রতিদিন আমেরিকান হাসপাতালে দেড় মিলিয়ন রোগী ভর্তি হওয়ার একটি বড় কারণ। আপনি কি কখনও লক্ষ্য করেছেন যে ইংরেজিতে DEATH বা মৃত্যু শব্দের তিন-পঞ্চমাংশ হল EAT বা খাওয়া?

পল ব্র্যাগ, তার বিখ্যাত রান্নার বইয়ে বলেছেন: “গড়পড়তায় মানুষ যে খাবার খাচ্ছে  তার মাধ্যমে দ্বারা দিনে দিনে নিজেকে বিষিয়ে তুলছে। বেশিরভাগ মানুষই চোখ দিয়ে খায়। যদি খাবারটি ভাল দেখায় তবে তারা এটি স্বাস্থ্যকর অথবা আয়ু-কমাচ্ছে কিনা তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলে না। খুব কম লোকই জানে যে তাদের শরীরকে ভালো এবং শক্তিশালী রাখতে তাদের শরীরে সঠিক ধরণের খাবার দিতে হয়, আর যদি তারা জানেও তবু এই খাবারটি নির্বাচন করতে সময় নেয়। জন্ম থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত গড়ে কোনো ব্যক্তিই প্রকৃত প্রাকৃতিক খাবারের স্বাদের অভিজ্ঞতা পায় না। আমাদের ক্ষুদ্র সংবেদনশীল স্বাদের মুকুল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অস্বাভাবিক, কৃত্রিমভাবে পাকানো এবং উদ্দীপক খাবার দ্বারা এতটাই দূষিত হয়েছে যে আমাদের মধ্যকার বেশিরভাগই প্রাকৃতিক খাবারের সূক্ষ্ম, সুস্বাদু স্বাদের প্রশংসা করতে অক্ষম। সভ্য মানুষের কাছে একটি আবেদন জানানোর জন্য খাবার অবশ্যই অভিন্ন, কুচি কুচি করে কাটা, ভর্তা করা, থেঁতো করা, সিদ্ধ করা, আগুনে ঝলসে রান্না করা, স্ট করা, শেঁকা, আচার, সংরক্ষিত, সুস্বাদু, লবণযুক্ত, ক্রিমযুক্ত, শুকানো, রোস্ট করা, ভাজা, চর্বি মাখানো বা গ্রিস করা, মরিচযুক্ত, ভিনেগারযুক্ত, ধোঁয়াযুক্ত, টোস্ট করা, গুঁড়ো করা, রোল করা, ময়দাযুক্ত, তেলযুক্ত, খামি করা, ভাঙ্গা, মিষ্টিদায়ক, মশলাদার, টক, খোসা ছাড়ানো, টুকরো করা, স্টিম করা, অল্প আঁচে রান্না করা, রং করা এবং ভিন্নভাবে পাকানো হতে হবে।তারপর তিনি আরও যোগ দিয়ে বলেন, “সভ্য মানুষকে সৃষ্টিকর্তা যে খাদ্য সরবরাহ করেছেন তাতে সন্তুষ্ট নয়, আর তাই খাওয়ার উপযুক্ত মনে করার পূর্বে তাকে অবশ্যই খাবারটা নিয়ে কিছু করতে হবে।

ছোট একটি আশ্চর্য বিষয় হল এই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন ২৫ টন অ্যাসপিরিন গ্রহণ করা হয়। ন্যাশনাল অবজার্ভার এর মতে, এটা দেশের প্রতিটি পুরুষ, মহিলা এবং শিশুর জন্য /৪টি করে ট্যাবলেট; আর এটা সপ্তাহের প্রতিটি দিনের জন্য। আপনি যদি আজ আপনার /৪টি ট্যাবলেট না পান, তবে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে অন্য কেউ দ্বিগুণ সরবরাহ পেয়েছে!

               আমেরিকান জীবনধারণের অদ্ভzত বদভ্যাসগুলোর একটি স্বাস্থ্যের এই ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। যদিও মানুষ অন্য সমস্ত শত্রুর থেকেও অসুস্থতাকে বেশি ভয় পায়, তবুও তারা তাদের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে প্রায় কিছুই করে না যতক্ষণ না রোগটি ইতোমধ্যেই আঘাত করে। এক বছরের মধ্যে, আমেরিকান জনগণের দ্বারা চিকিৎসা খাতের ব্যয় করা প্রতিটি ডলারের মধ্যে ৯৫ সেন্ট সুস্থ হওয়ার জন্য এবং সেন্ট প্রতিরোধমূলক ওষুধে ব্যয় করা হয়েছিল। এখন এসবের তেমন কোনো মানে হয় না। কিন্তু ক্ষেত্রে বেশিরভাগ লোকই যুক্তি বা বিচক্ষণতায় পারদর্শী বলে মনে হয় না।

এটা আমাকে স্পেনের একদল পর্যটকের কথা মনে করিয়ে দেয় যারা একটি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন। একটি খাঁড়া বাঁধের বা পাহাড়ের পাশে, একটি প্রাচীন মঠ ছিল যা তারা দেখতে চেয়েছিলেন। সেখানে ওঠার একমাত্র উপায় ছিল একটি কপিকলের উপরে একটি ঝুড়ি যা কিছু সন্ন্যাসীদের দ্বারা টানা হত। মঠটি পরিদর্শন করার পর, তাদের পুনরায় খাঁড়া বাঁধ বা পাহাড়ের পাশ দিয়ে নামানো হত। নিচে নামার জন্য ঝুড়িতে ওঠার সময় তারা লক্ষ্য করলেন যে দড়িটা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তাই তারা দায়িত্বরত সন্ন্যাসীকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কত ঘন ঘন দড়ি পরিবর্তন করেন?” আর সন্ন্যাসী বললেন, “আচ্ছা, প্রতিবার ছিঁড়ে গেলে অবশ্যই আমরা এটা পরিবর্তন করি।যাদেরকে ঝুড়িতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাদের কাছে কথাটি খুব বেশি স্বস্তির ছিল না।

উত্তরোত্তর, চিকিৎসা গবেষকরা খুঁজে বের করছেন যে আমাদের খাদ্য আমাদের স্বাস্থ্যের অবস্থার সঙ্গে খুব বেশি সম্পর্কযুক্ত। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের দেহ যন্ত্রটি আমরা এটাকে যে জ্বালানি খাওয়াই তা দিয়েই তৈরি। স্নায়ু, হাঁড়, রক্ত এবং কোষের গুণগত মান ভালো পুষ্টি এবং সঠিক খাদ্যের উপর নির্ভর করে। পুরানো প্রবাদ প্রায় অক্ষরে অক্ষরে সত্য: লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজের দাঁত দিয়ে নিজের কবর খুঁড়ছে।

 

 

 

 

অধ্যায় ২: আমাদের দেহ আমাদের নিজের নয়

 

ঠিক এই মুহুর্তে কেউ হয়ত ভাবছেন যে এইসবের সঙ্গে ধর্মের কি সম্পর্ক। কেন ঈশ্বর আমার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন? নিজ দেহের যত্ন নেওয়া কি একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিষয় নয়? এগুলো প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন এবং তা উপেক্ষা করা যায় না।

 

সৌভাগ্যবশত, আমাদের দেহের সৃষ্টিকর্তা এই প্রশ্নগুলো উত্তরবিহীন আমাদের ছেড়ে যাননি।অতএব তোমরা ভোজন, কি পান, কি যাহা কিছু কর, সকলই ঈশ্বরের গৌরবার্থে কর” ( করিন্থীয় ১০:৩১ পদ) এট চমৎকার নয় কি? আমরা কি, কীভাবে এবং কখন আমাদের দেহ তন্ত্রকে খাওয়াই ধরণের ছোট্ট বিষয়গুলো নিয়েও ঈশ্বর উদ্বিগ্ন। বাইবেল প্রকাশ করে যে ঈশ্বর দুর্বল মানব যন্ত্র তৈরি করেননি এবং তারপর এটাকে একা চলার জন্য ছেড়ে দেননি। তিনি কখনই সৃজনশীল প্রক্রিয়া বা সৃষ্ট বস্তুর মালিকানা ছেড়ে দেননি।

 

প্রেরিত পৌল লিখেছেন, “অথবা তোমরা কি জান যে, তোমাদের দেহ পবিত্র আত্মার মন্দির, যিনি তোমাদের দেহ পবিত্র আত্মার মন্দির, যিনি তোমাদের অন্তরে থাকেন, যাঁহাকে তোমরা ঈশ্বর হইতে প্রাপ্ত হইয়াছ? আর তোমরা নিজের নও, কারণ মূল্য দ্বারা ক্রীত হইয়াছ। অতএব তোমাদের দেহে ঈশ্বরের গৌরব কর” ( করিন্থীয় :১৯, ২০ পদ) এই পদটি প্রকাশ করে যে আমাদের দেহের সঠিক যত্ন নেওয়া শুধু একটি আধ্যাত্মিক বাধ্যবাধকতাই নয় বরং একটি নৈতিক আবশ্যকতা। যদিও আমাদের দেহের নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাছে আছে, তথাপি প্রকৃতপক্ষে তারা আমাদের অন্তর্গত নয়। আমরা কেবল অন্যের সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক।

 

কোন মানুষেরই এটা বলার অধিকার নেই, “আমি আমার নিজের দেহ বা শরীর দিয়ে যা খুশি তাই করব, এবং এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিষয়।আমরা পবিত্র আত্মার বাসস্থান আমাদের এই দেহ মন্দিরের ঐশ্বরিক উদ্দেশ্য লঙ্ঘন করে ঈশ্বরের সম্পদ চুরি করতে পারি।

 

পৌল মণ্ডলী এবং প্রত্যেক সদস্য উভয়কেই উল্লেখ করে তিনি বলেন: “তুমি কি জান না যে, তোমরা ঈশ্বরের মন্দির, এবং ঈশ্বরের আত্মা তোমাদের অন্তরে বাস করেন? যদি কেহ ঈশ্বরের মন্দির নষ্ট করে, তবে ঈশ্বর তাহাকে নষ্ট করিবেন, কেননা ঈশ্বরের মন্দির পবিত্র, আর সেই মন্দির তোমরাই” ( করিন্থীয় :১৬, ১৭ পদ) এটা চিরতরে স্থির করে যে একজন ব্যক্তি ঈশ্বরের সম্পদ অপবিত্র করার ফলে হারিয়ে যেতে পারে।

কিন্তু সাধারণ মানুষ তার নিজের দেহ এবং কীভাবে তার দেহের যত্ন নিতে হয় সেই সম্পর্কে কতটা জানেন? এটা কি আপনার কাছে অদ্ভz মনে হয় না যে সাধারণ পিতামাতা তার নিজের সন্তানদের চাহিদার চেয়ে খোঁয়াড়ের মুরগি বা বাড়ির একটি কুকুরের শারীরিক চাহিদা সম্পর্কে বেশি জানেন? সাধারণ মানুষ তার নিজের পরিবারের শারীরিক চাহিদার চেয়ে তার মোটরগাড়ির চাহিদা সম্পর্কে বেশি জানে! কেন এই পবিত্র দেহ মন্দিরের যত্ন নেওয়ার উপায় সম্পর্কে এমন অবিশ্বাস্য পরিমাণ অজ্ঞতা রয়েছে? বাইবেল আমাদের আশ্বস্ত করে যে বাইবেলে বর্ণিত নিয়মানুযায়ী মানবদেহের যত্ন, সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। সমস্যা হল যে বেশিরভাগ আমেরিকান খাওয়া এবং পান করার ক্ষেত্রে তাদের আহারের রুচিকে (স্পৃহাকে) প্রাধান্য দেয়।

শরীরের (দেহের) যত্ন নেওয়া এবং তাকে খাওয়ানোর বিষয়ে বাইবেলে কী নির্দেশিকা দেওয়া আছে? ঈশ্বর প্রশ্ন করেন, “কেন অখাদ্যের নিমিত্ত রৌপ্য তৌল করিতেছ, যাহাতে তৃপ্তি নাই, তাহার জন্য স্ব স্ব শ্রমফল দিতেছ? . . . উত্তম ভক্ষ্য ভোজন কর, পৃষ্টিকর দ্রব্যে তোমাদের প্রাণ আপ্যায়িত হউক” (যিশাইয় ৫৫: পদ) আর আমরা কীভাবে বলতে পারি কোনটি ভালো? অবশ্যই স্বাদ বা বিজ্ঞাপ বা রঙিন লেবেলের দ্বারা নয়। বেশিরভাগ আমেরিকান, আহারের রুচির প্রথা অনুসরণ করে, তাদের মুদির ঝুড়িগুলোতে সেই পণ্যগুলো দিয়ে পূর্ণ করে যা টিভির হকার বা বিজ্ঞাপনদাতাদের দ্বারা উচ্চস্বরে বলা হয়েছে। উপাদান বিবেচনা না করে, তারা স্বাদ এবং চোখের সাধ মেটানোর জন্য সবকিছু সংগ্রহ করে। ছোট্ট বাচ্চা পাখিরা যেমন মা পাখি যা-ই দেবে তার জন্য মুখ খোলে, ঠিক তেমনি ভোক্তারাও অন্ধভাবে মিডিয়া বিপণণকারীদের পছন্দকে অনায়াসে গ্রহণ করে।

 

 

অধ্যায় ৩: বডি মেকারস ম্যানুয়েল

 

এই অত্যন্ত জটিল দৈহিক গঠনতন্ত্রের জন্য কোনটি মঙ্গলজনক তা জানার একমাত্র উপায় রয়েছে এবং তা হল যিনি এটা সৃষ্টি করেছেন তার সঙ্গে পরামর্শ করা। শুধুমাত্র প্রস্তুতকারকের (উৎপাদকের) কাছেই তার পণ্যগুলো পরিচালনার শ্রেষ্ঠ ম্যানুয়াল রয়েছে। অটোমোবাইল নির্মাতারা সর্বদা তাদের যানবাহনকে সর্বোত্তম চলমান অবস্থায় রাখতে ধরণের নির্দেশনা প্রদান করে।

 

ঈশ্বর যখন শরীর বা দেহ তৈরি করেছিলেন, তিনি নির্দিষ্টভাবে পরিচালনার নির্দেশনাও দিয়েছিলেন, যার মধ্যে জ্বালানি এবং রক্ষণাবেক্ষণ বিদ্যমান। আদিপুস্তক :২৯ পদে বর্ণিত এই পরামর্শটি লক্ষ্য করুন, “দেখ, আমি সমস্ত ভূতলে স্থিত যাবতীয় বীজোৎপাদক ওষধি যাবতীয় সবীজ ফলদায়ী বৃক্ষ তোমাদিগকে দিলাম, তাহা তোমাদের খাদ্য হইবে।কেউ এর  চেয়ে সেরা কিচ্ছু দিতে সক্ষম হয়নি। বাদাম, ফল, শস্য এবং শাকসবজি এখনও সেরা, পুষ্টিবিদদের দ্বারা সর্বোত্তম গ্রহণযোগ্য খাদ্য হিসেবে স্বীকৃত। একজন নিখুঁত ঈশ্বর যিনি শুরুতেই নিখুঁত দেহগুলো সৃষ্টি করেছিলেন তাঁর নির্দেশিত আদর্শ নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করতে কারোরই অনিচ্ছুক হওয়ার প্রয়োজন নেই। আজ, পাপের ক্রমবর্ধমান অভিশাপের অধীনে, সেই দেহগুলো আকার এবং শক্তি উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে, কিন্তু কোনো যুক্তি বা বৈজ্ঞানিক তথ্য ঈশ্বরের আদি ব্যবস্থার জ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম হয়নি।

 

কিন্তু লক্ষ্য করুন কীভাবে আমেরিকান লোকেরা সেই প্রকৃত আদি ব্যবস্থার সরলতা থেকে সরে গেছে। আজ, সাধারণ ভোক্তার প্লেটে ভারী মাংসের প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং পেস্ট্রি দিয়ে ভরা থাকে। আদিতে (শুরুতে), ঈশ্বর এমনকি মাংস ব্যবহার করার অনুমতি দেননি। জলপ্লাবনে সমস্ত উদ্ভিজ্জ দ্রব্য ধ্বংস হওয়ার পরেই প্রথমবারের মত মানুষের খাদ্যে মাংসের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ̶  তাও শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু মাংস ছিল। ঈশ্বর নোহকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন: “তুমি শুচি পশুর স্ত্রীপুরুষ লইয়া প্রত্যেক জাতির সাত সাত জোড়া এবং অশুচি পশুর স্ত্রীপরুষ লইয়া প্রত্যেক জাতির এক এক জোড়া আপনার সঙ্গে রাখ” (আদিপুস্তক : পদ)

তাৎপর্যপূর্ণ সত্যটা মিস করবেন না যে শুচি এবং অশুচি প্রাণীর সম্পর্কিত নিয়ম মানব ইতিহাসের শুরু পর্যন্ত প্রসারিত আছে। অনেকেই মনে করেছিলেন যে শুধুমাত্র যিহুদিদের জন্যই অশুচি প্রাণী খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। তা নয়। নোহের সময়ে কোনো যিহুদি ছিল না, তথাপি পার্থক্যটা স্পষ্টভাবে প্রণীত হয়েছে। কেন অতিরিক্ত শুচি পশু জাহাজের মধ্যে নেওয়া হয়েছিল? কারণ জলপ্লাবনে সমস্ত গাছপালা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং প্রথমবারের মত ঈশ্বর মানুষকে মাংস খাওয়ার অনুমতি দেবেন।

 

কিন্তু শুধু শুচি মাংস! নোহ এবং তার পরিবার যদি কোনো অশুচি প্রাণী খেয়ে ফেলতেন, তবে সেই প্রজাতির অস্তিত্বই শেষ হয়ে যেত কারণ প্রজাতিটিকে চিরস্থায়ী করার জন্য শুধুমাত্র একজন পুরুষ স্ত্রীকে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। জাহাজে সাত জোড়া শুচি পশু ছিল। তাদের প্রজাতির ধারাবাহিকতাকে বিপন্ন না করে কেবল তারা খাবারের জন্য বাঁচতে পারত।

 

অতএব এটা স্পষ্ট যে এমনকি কিছু আদিম-জাতীয় প্রাণীও অশুচি ছিল, তাহলে আমরা কীভাবে নির্ণয় করব যে কোথায় শুচি এবং অশুচির মধ্যে রেখা টানা হয়েছে? ঈশ্বর আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে কৌতূহল রেখে ছেড়ে যাননি।

 

লেবীয় পুস্তক ১১:-১১ পদে প্রয়োজনীয়তাগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে: “পশুগণের মধ্যে যে কোন পশু সম্পূর্ণ দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট জাবর কাটে, তাহা তোমরা ভোজন করিতে পার। কিন্তু যাহারা জাবর কাটে, কিম্বা দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট, তাহাদের মধ্যে তোমরা এই এই পশু ভোজন করিবে না। উষ্ট্র তোমাদের পক্ষে অশুচি, কেননা সে জাবর কাটে বটে, কিন্তু দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট নয়। আর শাফন তোমাদের পক্ষে অশুচি, কেননা সে জাবর কাটে, কিন্তু দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট নয়। আর খরগোস তোমাদের পক্ষে অশুচি, কেননা সে জাবর কাটে, কিন্তু দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট নয়। আর শূকর তোমাদের পক্ষে অশুচি, কেননা সে সম্পূর্ণরূপে দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট বটে, কিন্তু জাবর কাটে না। জলচর প্রাণীদের মধ্যে তোমরা এই সকল ভোজন করিতে পার; জলাশয়ে, সমুদ্রে কি নদীতে স্থিত প্রাণীদের মধ্যে ডানা আঁইসবিশিষ্ট প্রাণী তোমাদের খাদ্য। কিন্তু সমুদ্রে কি নদীতে স্থিত জলচরদের মধ্যে, জলে অবস্থিত যাবতীয় প্রাণীর মধ্যে যাহারা ডানা আঁইসবিশিষ্ট নয়, তাহারা তোমাদের পক্ষে ঘৃণার্হ। তাহারা তোমাদের পক্ষে ঘৃণার্হ হইবে; তোমরা তাহাদের মাংস ভোজন করিবে না।

 

 

অধ্যায় ৪: শূকরের মাংস অশুচি

 

আমরা কতই না সৌভাগ্যবান যে যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি আমাদের কী ধরণের খাবার খাওয়া উচিত এবং কী খাওয়া উচিত নয় তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমরা হয়ত ব্যাখ্যা করতে পারব না যে কেন কিছু অশুচি এবং অন্যগুলো শুচি, তবে আমরা প্রভেদটা জানতে স্রষ্টাকে বিশ্বাস করতে পারি এবং আমাদের প্রতি তাঁর মহান ভালোবাসার ফলে তিনি আমাদের মঙ্গলের জন্য তা প্রকাশও করেছেন। যে সকল প্রাণী  দ্বিখণ্ড খুরবিশিষ্ট নয় এবং জাবর কাটে সেসব প্রাণী খাওয়া যাবে না।

 

শয়তান ঈশ্বরের নিষেধ করা খাবারের প্রতি ক্ষুধা সৃষ্টি করছে এটা কি আমাদের কাছে কোন চমকপ্রদ বিষয়? আর এটা কি কোন চমকপ্রদ বিষয় যে খাদ্য সংক্রান্ত ঈশ্বরের ব্যবস্থা লঙ্ঘন করার ফলে মহামারী আসে?  শূকর একটি যথাযথ উদাহরণ যে কীভাবে উদ্ধত ক্ষুধা ঈশ্বরের বিধিনিষেধকে অগ্রাহ্য করেছে। অন্যান্য কিছু অশুচি শ্রেণীর থেকে ভিন্ন, আমরা প্রচুর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দেখাতে পারি যে কেন শূকরের মাংস খাদ্য হিসেবে সম্পূর্ণভাবে অনুপযোগী।

 

শূকরের মাংসে ট্রাইচিনা নামক একটি মাইক্রোস্কোপিক কৃমি থাকে এবং এটা দেহের তন্ত্রে প্রবেশ করলে ট্রাইচিনোসিস রোগ হয়। সরকার সর্তক করে যে প্যারাসাইটের জন্য কোন নিরীক্ষা নেই, এবং এর রিডার্স ডাইজেস্ট একটি প্রবন্ধ (পাঠকদের হজম সম্পর্কিত একটি প্রবন্ধ) জোর দেয় যে এই রোগের কোনো প্রতীকার নেই।

 

শূকরের মাংস অবশ্যই বিপজ্জনক থাকবে?” এই শিরোনামের অধীনে ট্রাইচিনোসিস সম্পর্কে এই বিবৃতি প্রস্তুত করা হয়: “ক্রটিপূর্ণ শূকরের মাংসের একক পরিবেশন, এমনকি সামান্য এক গ্রাসও, ভুক্তভোগীকে হত্যা, খোঁড়া বা পঙ্গু করে দিতে পারে অথবা আজীবন ব্যথা যন্ত্রণার জন্য দোষীসাব্যস্ত করতে পারে। এই অনন্য ট্রাইচিনোসিস রোগের কোন প্রতীকার নেই। এগুলো প্রতিরোধের কোনও ওষুধ নেই তাই কৃমিগুলো মানব দেহের তন্ত্রের সম্পূর্ণ পেশীয় টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

 

সংক্রমণের তীব্রতার উপর নির্ভর করে দুটি জিনিসের মধ্যে একটি ঘটে। হয় মৃত্যু ঘটে বা একটি সফল প্রচেষ্টা সৃষ্টি করে প্রকৃতির দ্বারা একটি অবরোধ বা সিস্ট স্থাপন করে, চারপাশে পরজীবির জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে সুপ্ত হয়ে যায়, তবুও এগুলো বছরের পর বছর বেঁচে থাকে। আপনার ডাক্তারকে দোষারোপ করবেন না। এখন পর্যন্ত সেরা ডাক্তার যা করতে পারেন তা হল রোগীর শক্তি সংরক্ষণ করা এবং বেদনাদায়ক, উপসর্গগুলো উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা উপশম করার চেষ্টা করা” (রিডারস ডাইজেস্ট, মার্চ ১৯৫০) এই লক্ষণগুলো কী, তা সাধারণ মানুষের চিন্তা না করাই ভাল ছিল। ট্রাইচিনোসিস কিছু মাত্রায় প্রায় অন্য যেকোনো রোগের বেশ ধঅরণ করতে পারে। আপনার বাহু বা পায়ের ব্যথা আর্থ্রাইটিস বা বাতরোগ হতে পারে অথবা এটা ট্রাইচিনোসিসও হতে পারে। আপনার পিঠে ব্যথার অর্থ গল ব্লাডার সংক্রান্ত হতে পারে, তবে এটা ট্রাইচিনোসিসও হতে পারে।

ডা. স্যামুয়েল সি. গোল্ড, ওয়াশিংটনের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, যিনি ট্রাইচিনোসিস নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন, তিনি বলেছেন যে আমেরিকান ভোক্তা তার জীবদ্দশায় গড়ে কমপক্ষে ২০০টি সংক্রমিত শূকরের মাংস খান। তারা বেকল এই যুক্তিতে খান যে মাংসটি হয়তইউ. এস. সরকার তদারকি করেছে তা খাদ্য মান অনুসারে উত্তীর্ণ হয়েছে” এবং মুদ্রাঙ্কিত করেছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে এটা ট্রাইচিনা সংক্রমণের জন্য পরীক্ষা করা হয়েছে। শূকরের মাংসের প্রতিটি টুকরোকে সঠিক নির্ণয়ের জন্য একটি মাইক্রোস্কোপের অধীনে যেতে হবে।

 

পাবলিক হেলথ সার্ভিস ট্রাইচিনা কৃমি মারার জন্য ভোক্তাদের শূকরের মাংস পঙ্খানুপুঙ্খভাবে রান্না করার পরামর্শ দেয়। কেউ একজন লক্ষ্য করেছেন যে মৃত কৃমি খাওয়া স্বাদবোধের জন্য খুব বেশি আকর্ষণীয় নয়। বিষয়টি হল ঈশ্বর এটাকে অশুচি এবং জঘন্য বলেছেন। কেনো খ্রিস্টীয়ানদের জন্য খাবারের রুচির বিকৃত অভিলাষের জন্য ঈশ্বরের রায় মেনে নেওয়া এত কঠিন?

 

কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন যে শূকর খাওয়া উচিত নয় তবে ঈশ্বর কেন তা সৃষ্টি করেছেন? এর উত্তর সুস্পষ্ট। শূকর, সেই সঙ্গে বাজপাখি, সাপ এবং হায়েনারা হল পৃথিবীর নোংরা এবং বর্জ্যের মহান মেথর। সমস্ত প্রাণীই একটি উদ্দেশ্যে কাজ করে, কিন্তু সবগুলো খাদ্য হিসেবে মানব ব্যবস্থায় আত্তীকরণের জন্য উপযুক্ত নয়। আমরা হয়তো আমাদের নিজস্ব জ্ঞানে তা বের করতে পারব না, কিন্তু ঈশ্বরের পরামর্শ সব সন্দেহ বা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে তা প্রকাশ করেছে।

 

যুক্তিগুলো আরও ধারালো হয়েছে যে ঈশ্বর পুরাতন নিয়মে যেহেতু নিয়মগুলো দিয়েছেন সেহেতু আরও উত্তম স্বাস্থ্যব্যবস্থা রয়েছে এবং শূকর এখন খাওয়ার জন্য বেশ উপযুক্ত। কারও বিশ্বাস করা কঠিন যে স্থল বা সমুদ্রের প্রাণী সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কম দূষিত হচ্ছে। আজ রাসায়নিক বিষ ভূমি, সমুদ্র এবং বায়ুমণ্ডলকে এতটাই উদ্বেগজনক মাত্রায় সংক্রমিত করছে যে ক্রমাগত সরকারি বিধি নিষেধ জারি করা হচ্ছে।

 

পরিবেশবাদীরা প্রকৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে মারাত্মক কীটনাশক, ওষুধ এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থের ব্যাপক জমা হওয়া সম্পর্কে ঘন্টার পর ঘন্টা আমাদের পোস্ট করে থাকেন। আর যদি কারণগুলো আমাদের বিশ্বাস করাতে না পারে যে অশুচি প্রাণীগুলো এখনও অশুচি, আমাদের কাছে বিষয়ে ঈশ্বরের বাক্য প্রকাশিত হয়েছে। যিশাইয় লিখেছেন: “কারণ দেখ, সদাপ্রভু অগ্নিসহ আগমন করিবেন, তাঁহার রথ সকল ঘূর্ণবায়ুর ন্যায় হইবে; তিনি মহাতাপে আপন ক্রোধ, প্রজ্জ্বলিত অগ্নি দ্বারা আপন ভর্ৎসনা কার্যে পরিণত করিবেন। কেননা সদাপ্রভু অগ্নি দ্বারা আপন খড়্গ দ্বারা সমস্ত মর্ত্যের সহিত আপনার বিবাদ নিষ্পন্ন করিবেন; আর সদাপ্রভু কর্তৃক অনেক লোক নিহত হইবে। যাহারা মধ্যবর্তী এক ব্যক্তির পশ্চাতে পশ্চাতে উদ্যানে [যাইবার জন্য] আপনাদের পবিত্র শুচি করে, শূকরের মাংস, ঘৃণ্য দ্রব্য মূষিক খায়, তাহারা একসঙ্গে বিনষ্ট হইবে, ইহা সদাপ্রভু কহেন” (যিশাইয় ৬৬:১৫-১৭ পদ)

 

এই পদটি যীশুর দ্বিতীয় আগমনের বিষয়ে বলছে এবং প্রমাণ করে যে সেই প্রাণীদের মধ্যে এমন কোনো পরিবর্তন আসবে না যা তাদের খাবার উপযোগী করে তুলবে ̶  এমনকি এই পৃথিবীর শেষ দিনে যখন যীশু আসবেন সেদিনে পর্যন্তও নয়। শূকরকে ঘৃণ্য এবং ইঁদুরের মতো একই শ্রেণীতে রাখা হয়েছে এবং ঈশ্বর স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে এর ভক্ষণকারীদেরএকত্রে বিনষ্ট করা হবে।কেউই বলতে পারবে না সতর্ক বার্তা সবার বোধগম্য ভাষায় দেওয়া হয়নি।

 

 

অধ্যায় ৫: সামুদ্রিক খাদ্য খাওয়ার উপযুক্ত নয়

 

এটা উল্লেখ করা উচিত যে জলচর বা সামুদ্রিক প্রাণীদের মধ্যে যাদের ডানা এবং আঁশ আছে কেবল সেগুলোকেই লেবীয় পুস্তক ১১ অধ্যায়েশুচিহিসেবে গণনা করা হয়েছে। বাকি সব ঈশ্বরের কাছে ঘৃণ্য। এগুলো হল ঝিনুক, চিংড়ি, কাঁকড়া, শুক্তি, ঈল, মাগুর শিং মাছ (ক্যাটফিশ), গলদা চিংড়ি এবং বাগদা চিংড়িগুলো যা খাবারের বিবেচনার অযোগ্য। আবার, মেথর প্রাণীদেরও খাদ্যের উপাদান হিসাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

এই শেলফিশ (খোলাওয়ালা মাছ) এবং অন্যান্য সামুদ্রিক খাবারের জন্য ঈশ্বরের অনুমোদন নেবার কি সঠিক, বৈজ্ঞানিক কোন কারণ আছে? এটা খুবই সাধারণ জ্ঞান যে এই প্রাণীরা মূলত পানিতে থাকা কাঁচা পয়ঃনিষ্কাশন এবং দূষণকারী খাবার খায়।

 

সেপ্টেম্বর ১৯৭২-এর প্রিভেনশন ম্যাগাজিন, “শেলফিশ নোংরা এবং বিপজ্জনকশিরোনামের একটি আকর্ষণীয় প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিল। লেখককে একটি অবস্থান নিতে অনিচ্ছুক বলে মনে হয়েছিল, কিন্তু তিনি এই সংবেদনশীল বিষয়ে সত্য বলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। তিনি লিখেছিলেন: “এগুলো রসালো; সুস্বাদু; এমনকি পুষ্টিকর। কিন্তু, মোলাস্কের (খোলকীর) প্রকৃতি এবং এর আবাসস্থলের নর্দমা-সদৃশ দূষণের ফলে, তারা আপনাকে যেভাবেই প্রলুদ্ধ করুক না কেন, এবং যদিও আপনার চারপাশের লোকেরা আনন্দের সঙ্গে এগুলো গ্রহণ করছে বলে আপনার মনে হওয়ার পরও আমাদের অবশ্যই সৎ বিবেকের সঙ্গে আপনাকে শেলফিশ এড়ানোর পরামর্শ দিতে হবে। হিসাবের দিন আসছে।

 

কেন শেলফিশে বা খোলশওয়ালা এত বিপজ্জনক? কারণ এগুলো যে নোংরা জলে বাস করে তার চেয়েও বহুগুণ বেশি তারা দূষিত।

 

দুর্ভাগ্যবশত এগুলো উপকূলীয় অঞ্চলের মোহনায় বসবাস করতে পছন্দ করে এবং এই স্থানকে সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য বেছে নেয়। এই মোহনাগুলো বিশেষ করে পৌরসভার নিঃসরণ, শহরতলির বাড়ির নিষ্কাশন এবং কৃষি সংক্রান্ত কাজের প্রবাহিত জল, পয়ঃনিষ্কাশন বর্জ্য এবং অন্যান্য জলবাহিত দূষণে দুষিত।

 

তাদের আবাস্থলের দূষিত দিক একটি বিপদ। বিষয়টি হল যে তারা ফিল্টার ফিডার (বিশোধক), আর তা বিপদকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

 

উদাহরণস্বরূপ, ঝিনুকের খাদ্য গ্রহণ শোষণের পদ্ধতির কারণে আশেপাশের সমুদ্রের পানির স্তরে ২০ থেকে ৬০ গুণ পর্যন্ত পোলিও ভাইরাসকে জমাট বাঁধতে দেখা গেছে।

 

আপনার প্রিয় খাবারের স্থানে খাবার মেনুতে অন্য কোন প্রাণীর খাবার তার মলসহ পরিবশেন করা হবে না। তবুও সামুদ্রিক খাবারের ক্ষেত্রে এই অবস্থা হয়। এটা সম্পূর্ণ তাদের অভ্যন্তরীণ তন্ত্র সহ আস্তা পরিবেশন করা হয়;

 

আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে কেউ ধরণের একটি রন্ধন সম্পর্কীয় উপাদেয় হতে মার্জিত রুচি খুঁজে পাবে? বার বার হেপাটাইটিসের প্রাদুর্ভাব সামুদ্রিক খাবার খাওয়া জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। কাঁচা ময়লা খাওয়ানোর পরে, প্রাণীটি সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়। রোগটি খুব সহজভাবে মানুষ থেকে মলাস্কে (খোলকীতে) এবং তারপর আবার মানুষের কাছেই ফিরে আসে।

 

আবার আমাদের অবশ্যই তাঁর সৃষ্টির স্বাস্থ্য ও সুখের জন্য একজন সর্বজ্ঞ ঈশ্বরের প্রেমময় উদ্বেগের কথা স্বীকার করতে হবে। আর যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঐশ্বরিক নিয়মগুলোকে প্রত্যাখান করে, অবশেষে তারা অবাধ্যতার কারণে আসা দুঃখজনক পরিণতি ভোগ করবে

 

 

 

অধ্যায় ৬: অ্যালকোহল বা মদএকটি অভিশাপ

 

এখন আসুন আমরা যা পান করি বা শরীরে শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করি তাতে কীভাবে ঈশ্বরকে মহিমান্বিত করা যায় সে বিষয়ে বিবেচনা করি। বাইবেল বলে, “অতএব তোমরা ভোজন, কি পান, . . . সকলই ঈশ্বরের গৌরবার্থে কর” ( করিন্থীয় ১০:৩১ পদ) আধুনিক মানুষের দ্বারা গৃহীত সমস্ত জনপ্রিয় বিষগুলোর মধ্যে, বিশেষভাবে মারাত্নক এবং ধ্বংসাত্নক একটি হল অ্যালকোহল বা মদ। দয়ালু জীবনযাপনের প্রতীক হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করা, এটা প্রকৃতপক্ষে, সভ্যতার কাছে সবচেয়ে মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি হিসেবে পরিচিত।  আশ্চর্যের কিছু নেই বাইবেল ঘোষণা করে যে কোনো মাতাল স্বর্গে থাকবে না।

 

সমঝোতার এই দিনে, বেশিরভাগ বড় বড় ধর্মীয় সংস্থাগুলো সামাজিক মদ্যপানের প্রতি তাদের মনোভাব পরিবর্তন করেছে। সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া তারা এখন মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। মোটকথা এটা ঠিক একই অবস্থান যা মদ প্রস্তুতকারীরা নেয় ̶  কোন উন্মত্ততা নয়।

 

কিন্তু এটা কি মদকে পানীয় হিসেবে নেওয়া কি নিরাপদ?  পরিসংখ্যান প্রকাশ করে যে প্রতি দশজনের মধ্যে একজন যারা মদ পান শুরু করে তারা হয় মদ্যপায়ী বা সমস্যা সৃষ্টিকারী মদ্যপানকারী হয়ে ওঠে।

 

অনেক খ্রীষ্টিয়ান দাবি করেন বাইবেল পরিমিত মদ্যপানকে সমর্থন করে। এটা মূলত শাস্ত্রেদ্রাক্ষারস (ওয়াইন)” শব্দটির উপর ভিত্তি করে। কিন্তু বাইবেলে সুপারিশকৃত ওয়াইন বা দ্রাক্ষারস অ্যালকোহলযুক্ত নয়। ওয়াইন বা দ্রাক্ষারস শব্দটি গাঁজানো বা গাঁজানো নয় এমন পানীয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। সদাপ্রভু এই কথা কহেন, “দ্রাক্ষাগুচ্ছে ফলের রস দেখিলে লোকে যেমন বলে, ইহা বিনষ্ট করিও না, কেননা ইহাতে আশীর্বাদ আছে; তদ্রূপ আমি আপন দাসদের নিমিত্ত করিব, সমুদয়ের বিনাশ করিব না” (যিশাইয় ৬৫: পদ)

 

এটি তাজা এক থোকা আঙ্গুরের তাজা রস হতে হবে। এটাই একমাত্র উপায় যাতে ঈশ্বরের আশীর্বাদ আছে বলে ঘোষণা করেছেন। গাঁজানো বিষের বোতলের নেশায় আশীর্বাদ নেই। অনুপ্রেরণা ঘোষণা করে, “দ্রাক্ষারস নিন্দুক, সুরা কলহকারিণী; যে তাহাতে ভ্রান্ত হয়, সে জ্ঞানবান নয়” (হিতোপদেশ ২০: পদ)দ্রাক্ষারসের প্রতি দৃষ্টিপাত করিও না, যদিও উহা রক্তবর্ণ, যদিও উহা পাত্রে চক্ চক্ করে, যদিও উহা সহজে গলায় নামিয়া যায়; অবশেষে উহা সর্পের ন্যায় কামড়ায়, বিষধরের ন্যায় দংশন করে” (হিতোপদেশ ২৩:৩১, ৩২ পদ)

 

যীশু কি পুরাতন নিয়মের বিপরীতে গিয়েছিলেন এবং জলকে অ্যালকোহলযুক্ত মদে পরিণত করেছিলেন? এটা ভাবা অচিন্তনীয় যে তিনি তা করবেন। তিনি ঈশ্বরের বাক্যের আনুগত ছিলেন। তিনি যে দ্রাক্ষারস তৈরি করেছিলেন তা ছিল গাঁজনহীন।  আমরা এখন শরীরে অ্যালকোহলের প্রকৃত শরীরবৃত্তীয় প্রভাব সম্পর্কে জানি। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে নেশা এমন একটি প্রক্রিয়ায় ঘটে যা মস্তিষ্ককে অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত করে। এই ক্ষতি মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ধ্বংস করে, অবশেষে, আত্মচেতন চিন্তার যুক্তি শক্তিকে প্রভাবিত করে। যীশু, যিনি দেহের স্রষ্টা, তিনি যা নৈতিক প্রতিবন্ধকতাকে দুর্বল করবে, কার্যকর সিদ্ধান্তের ক্ষমতা হ্রাস করবে এবং অবশেষে পবিত্র আত্মার পবিত্র দেহ মন্দিরকে ধ্বংস করবে এমন কিছুকে কি ক্ষমা করবেন? কখনই না। তাহলে তামাকের ব্যবহার সম্পর্কে আমরা কী বলতে পারি?

 

 

 

 

 

 

অধ্যায় ৭: নিকোটিনসবচেয়ে মারাত্মক বিষ

 

দেহে নিকোটিনের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কিত ব্যাপক গবেষণা নিয়ে বই লেখা যেতে পারে। এই বিষয়ের উপর সার্জন জেনারেলের প্রথম প্রকাশের পর থেকে, প্রতিটি নতুন গবেষণায় আরও সহায়ক তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। নিকোটিন সম্ভবত মানুষের কাছে পরিচিত সবচেয়ে মারাত্মক বিষ। এর মারাত্মক প্রভাবের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেছে। দেহের বা শরীরের ধমনীকে সংকুচিত করে নিকোটিন হৃৎপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে বাধ্য করে। ফুসফুস ক্যান্সারে ঝাঁঝরা হয়ে যায়। ভ্রূণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাণঘাতী এই নিকোটিন বিষের ছলনাময় প্রভাব থেকে খুব কমই দেহের বা শরীরের কোন অঙ্গ রক্ষা পায়।

 

তামাক ব্যবহার করা কি পাপ? প্রত্যক্ষ সত্যকে অস্বীকার করার কোন অর্থ নেই। পবিত্র দেহের পবিত্র স্থানকে অপবিত্র করে এমন যেকোন কিছুই পাপ। ঈশ্বর বলেছেন যারা এটা করে তাদের তিনি ধ্বংস করবেন। আমরা এটাকে এর চেয়ে কম বলার সাহস করি না। এটি একটি পাপ এবং কোন খ্রীষ্টিয়ানেরই এটাকে তার দেহের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তার জীবনের আয়ুকে কমিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

 

মণ্ডলীর কিছু সদস্যরা তাদের দেহে আর্সেনিক বা স্ট্রাইকানিনের এমনকি ক্ষুদ্র, মাইক্রোস্কোপিক ডোজ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অনেক চিন্তা-ভাবনা করবে কিন্তু তারা অবলীলায় প্রাণনাশকের মত কিছু গ্রহণ করে। ধীরে ধীরে সিগারেটের আলকাতরা যতক্ষণ না মৃত্যু হয় ততক্ষণ ফুসফুসের সূক্ষ ঝিল্লিকে আবৃত করে। এটা ঠিক একই রকম যখন পুরুষ বা মহিলারা ইচ্ছাকৃতভাবে তামাকের বিষাক্ত ধোঁয়ার শ্বাস গ্রহণ করে, যতক্ষণ না ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ফলে মৃত্যু ঘটে। এটা কিস্তির পরিকল্পনার মত আত্মহত্যার সামীল। ঈশ্বরের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া, আমাদের ন্যস্ত দায়িত্ব লঙ্ঘন করা এবং তাঁর নিজের সম্পত্তি লুট করা নৈতিকভাবে অন্যায়।

 

আর তামাকের জন্য অর্থ অপচয় সম্পর্কে আমরা কী বলতে পারি? বেশীরভাগ ধূমপায়ীরা প্রতি মাসে তাদের ৫০ ডলার বা তারও বেশি আসক্তি পূরণের জন্য খরচ করে। অবসর গ্রহণের সময় এর পরিমাণ ২৫,০০০ ডলার হবে। সামাজিক নিরাপত্তা ব্যর্থ হলেও শেষ বয়সে নীড়ে থাকা ডিমের শেষ-প্রাণের নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবুও যারা তামাক সেবনে এই অর্থ অপচয় করে তাদের অনেকেই জীবনের শেষ সময়ে অর্থহীন, অসহায়, এবং জনকল্যাণ অফিস এবং আত্মীয়স্বজনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কী এক অবর্ণনীয় দুঃখজনক ঘটনা! অবাক হওয়ার কিছু নেই যে ঈশ্বর বলেছেন, “জ্ঞানের অভাব প্রযুক্ত আমার প্রজাগণ বিনষ্ট হইতেছে” (হোশেয় : পদ) ২৫,০০০ ডলারকে একটি পরিষ্কার স্তূপে রাখা এবং এটাতে দিয়াশলাই জ্বালিয়ে দেওয়াটা কতই না ভালো হবে। এটা অন্তত একটি জীবন ধ্বংসকারী হিসেবে গণিত হবে না।

 

একটি নির্দিষ্ট, আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা শারীরিক দেহ এবং মনকে অপবিত্র করা কতটা গুরুতর বিষয় তা এতক্ষণে আমরা নিশ্চিতভাবে দেখতে পাচ্ছি। আমরা যেভাবে আমাদের দেহ বা শরীরের যত্ন নেই তার জন্য ঈশ্বরের নিকট দায়বদ্ধ হওয়ার এই নীতিটি বাইবেলে গভীরভাবে প্রোথিত, কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ তাদের দেহের অবহেলার বেদনাদায়ক প্রভাব এড়াতে স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠছে। আর এটা এতটাই সত্য যে কেবল যুক্তি এবং সঠিক বিচারই একটি সুষম খাদ্য এবং ব্যয়োমের কার্যক্রমের জন্য যথেষ্ট অনুপ্রেরণা দেবে।

 

কিন্তু কখনও কখনও যুক্তি, এমনকি বৈজ্ঞানিক প্রমাণেরও ক্ষুধা, সামাজিক প্রথা এবং আসক্তির সঙ্গে প্রচণ্ড দ্বন্দ্ব থাকে। ক্যাফেইন একটি চমকপ্রদ উদাহরণ। গবেষণার একটি ক্রমবর্ধমান ক্যাটালগ রয়েছে যা ক্যাফেইনকে সুস্বাস্থ্যের ক্ষতিকারক শত্রু হিসেবে নির্দেশ করে। এটি একটি শক্তিশালী, অভ্যাস-গঠনকারী নেশা যা লক্ষ লক্ষ মানুষকে আসক্তির কবলে ফেলেছে। অনেকের কাছে ধূমপান বা মদ্যপান বন্ধ করার মতই ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ত্যাগ করাও ঠিক ততটাই কঠিন বলে মনে হয়। এটাকে হৃৎপিণ্ড, পাকস্থলী, স্নায়ু এবং এমনকি গর্ভবতী মায়েদের ভ্রুণের উপরও এর বিরূপ প্রভাবের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

 

অধ্যায় ৮: কফি আসক্ত

 

 

মার্ক ইনডেক্স অফ ড্রাগস ক্যাফেইনের বিভিন্ন উপসর্গের তালিকা করে এবং নির্দেশ করে যে ওষুধের সাতটি দানা একটি মেডিকেল ডোজ। বেশিরভাগ কোলা জাতীয় পানীয়, চা এবং কফিতে দেড় থেকে তিনটা শস্য দানা থাকে। অনেক লোক তাদের প্রতিবার খাবারে একটির বেশি মেডিকেল ডোজ গ্রহণ করে, এর ফলে দেহের কোষগুলো ঈশ্বরের নক্শার চেয়ে বেশি কাজ করার জন্য উত্তেজিত হয়।  একজন চিকিৎসক এটাকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: “আমেরিকাতে আমরা চা এবং কফি আসক্ত জাতিতে পরিণত হয়েছি।

 

এটা দেখতে অবিশ্বাস্য মনে হয়, এই দেশটি প্রতি বছর ২৭৫ বিলিয়ন পাউন্ড কফি খায়। এটা গড়ে প্রতিটি পুরুষ, মহিলা এবং শিশুর জন্য ১৭ পাউন্ড করে। চিকিৎসকরা হৃদরোগীদের এবং পাকস্থলীর আলসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ধূমপানের পাশাপাশি ক্যাফেইন ত্যাগ করার জন্য সতর্ক করেন। কফির আরেকটি উপাদান সম্প্রতি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটা, এখন পর্যন্ত, সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ যা কফি গবেষণা থেকে উঠে এসেছে। যদিও কার্সিনোজেনিককে (ক্যান্সার জনিত) ক্যাফেইন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি, তবে এটা অবশ্যই কফি পানের সঙ্গে সংযুক্ত।

 

চায়ে ক্যাফেইনের উপাদান ছাড়াও আরও একটি ক্ষতিকারক উপাদান রয়েছে, তা হল ট্যানিক অ্যাসিড। এই শক্তিশালী রাসায়নিক চামড়া রং করার জন্য ব্যবহার করা হয়। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়গুলোতে চিনির ঘনত্বের ক্ষতিকারক প্রভাব এটাকে খাদ্য তালিকা বা ডায়েট থেকে বাদ দেওয়ার আরেকটি যুক্তি তুলে ধরে।  পরিশোধিত চিনির মারাত্মক ক্ষতিসংক্রান্ত প্রভাব অভ্যাসগতভাবে কোমল পানীয়ের ব্যবহারকারীর প্রত্যেকের ভালো থাকার জন্য হুমকী স্বরূপ।

 

সচিব বা বসদের এক হাতে সিগারেট, কাছেই এক কাপ কফি এবং পাশের টেবিলেই একটি কোকা-কোলা নিয়ে তাদের ডেস্কে বসে থাকতে দেখাটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। কে তাদের সাধারণ যুক্তিটি শোনেনি: “যদি আমি আমার কফি (বা কোক) না পাই তবে আমার মাথা ব্যথা হয়?” তারা সত্য বলছেন। ক্যাফেইন মাথাব্যথা দূর করে, কিন্তু মরফিনের এক দানার দশ ভাগের এক ভাগ হবে। এর অস্থায়ী, প্রশান্তিদায়ক প্রভাব হল ব্যথাকে উপশম করা, কিন্তু প্রতিদিন গ্রহণ করলে সূক্ষ্ম স্নায়ু সরু হয়ে যায়, সেগুলোতে সমস্যা সৃষ্টি করে, এতে আরও কড়া পানীয়ের দাবী করে।

 

এই ড্রাগ-দাসত্বের সবচেয়ে করুণ প্রমাণ গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে পাওয়া যায়। সমস্ত চিকিৎসা তথ্য উপাত্ত প্রমাণ দেয় যে ভ্রুণের উপর অ্যালকোহল, তামাক এবং ক্যাফেইনের ক্ষতিকারক প্রভাবে, গর্ভবতী মহিলারা এখনও তাদের অনাগত শিশুদের শরীরে বা দেহে বিষ ঢেলে দেয়। রাসায়নিক বিষে বিকৃতভাবে লিপ্ত হয়ে নিজের জীবন স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক একজন মহিলার বিষয়টি না-হয় বোঝা গেল, কিন্তু কীভাবে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তার সন্তানের জীবনকে বিপন্ন করতে পারেন? এই প্রশ্নের উত্তর আমেরিকান সমাজে মাদক সমস্যার গভীরতার বিষয়টি প্রকাশ করে।

 

 

অধ্যায় ৯: একটি বড় প্রশ্ন বা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

 

স্বভাবতই, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হল কীভাবে পরিত্যাগ করবেন। বছরের পর বছর প্রশ্রয়ের কারণে ইচ্ছাশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর, কীভাবে কেউ এই নেশাজাতীয় ওষুধের জন্য শক্তিশালী লোভকে বা প্রবল ইচ্ছাকে প্রতিরোধ করার শক্তি খুঁজে পায়? বেশিরভাগই কেবল নিজেদের বাইরে থেকে মুক্তি খুঁজে পাবে। প্রথমত, প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত থাকতে হবে ̶  এটা হল অভ্যাসের সঙ্গে সংযুক্ত শারীরিক আনন্দ ত্যাগ করার ইচ্ছা। লড়াইয়ের জন্য সমস্ত প্রচেষ্টা একত্রিত করা উচিত। তারপর প্রার্থনা করুন। সম্পূর্ণ বিজয়ের জন্য বাইবেলের শক্তিশালী প্রতিজ্ঞাগুলো দাবি করুন।

 

এমন কিছুর ব্যবহার বন্ধ করার চেষ্টা করবেন না যা নৈতিক এবং শারীরিকভাবে প্রশ্রয় দেওয়া ভুল। এটা কেবল কাজ করে না। এটা অনেকটা কুকুরের এগিয়ে চলা সহজ করার জন্য কুকুরের লেজ কিছুটা কেটে ফেলার মত! প্রকৃতপক্ষে, বিষয়টি আরও বেদনাদায়ক। একটি অভ্যাস হল একটি স্বভাব। আপনি যদিhকেটে ফেলেন তবে আপনার কাছে এখনওabitবাকি থাকবে।aসরিয়ে দিন এবং দেখুনbitথেকে গেছে।bসরিয়ে ফেলুন এবং তখনওitআপনার সঙ্গে আছে। এমনকিiনিয়ে নেওয়ার পরেও আপনার কাছেtঅবশিষ্ট আছে। আর আপনার সমস্যা যদি চা-পান হয়, তবে আপনি এখনও সম্পূর্ণ বিজয় পাননি।

 

কেউ কেউ আপত্তি করতে পারে যে আমরা খুব বেশি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। সর্বোপরি, আপনি যেকোন কিছু করতে পারেন। কিছু কিছু লোকের জন্য অনেক বেশি আলু বা মটরশুটিও খুব ক্ষতিকারক হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, তারা পারে, এবং মিতাচারের প্রকৃত সংজ্ঞাটি এইভাবে পড়া উচিত: ক্ষতিকারক জিনিসগুলো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা, এবং ভালো জিনিসগুলোর একটি পরিমিত ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার। এটা কি অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ নয়? এতে অনেক বেশি মঙ্গল, স্বাস্থ্যকর ধর্মও রয়েছে।

 

একজন ব্যক্তি তার নিজের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া স্থগিত করতে পারে এমন চিত্তাকর্ষক প্রমাণ পল হার্ভে তার সংবাদ কলামে উপস্থাপন করেছিলেন। সঠিক খাবার খান, দীর্ঘজীবি হউন (ইট রাইট, লিভ লংগার) শিরোনামে, হার্ভে দীর্ঘায়ু নিয়ে একটি পশ্চিমা সমীক্ষার ফলাফল বর্ণনা করেছেন। গবেষণায় নন-এসডিএদের তুলনায় ক্যালিফোর্নিয়ার সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্টদের মৃত্যু সনদের উপর মনোনিবেশ করা হয়েছিল। অন্যদের সঙ্গে অ্যাডভেন্টিস্টের রেকর্ডের (যারা মদ্যপান, ধূমপান বা ক্যাফেইন ব্যহারের বিরুদ্ধে শিক্ষা দেন) তুলনা করে, জরিপ প্রকাশ করেছে যে সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্টদের সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যান্য লোকদের তুলনায় প্রায় ছয় বছর বেশি।

 

৭০ শতাংশের কম অ্যাডভেন্টিস্টরা সব ধরণের ক্যান্সারে মারা যায়, ৬৮ শতাংশের কম শ্বাসযন্ত্রের রোগে, ৮৮ শতাংশের কম টিবি এবং ৮৫ শতাংশের কম পালমোনারি এমপিসেমা (এমন একটি অবস্থা যেখানে ফুসফুসের বায়ু থলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বড় হয়, যার ফলে শ্বাসকষ্ট হয়) থেকে মারা যায়। সম্ভবত অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকার উপজাত হিসেবে, তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

 

পুনরায় আমরা এই আশ্বাসদায়ক সত্যের মুখোমুখি হয়েছি যে বাইবেলে আমাদের সৃষ্টিকর্তার দ্বারা স্থিরীকৃত ব্যবহারিক, শাশ্বত নিয়মগুলো মেনে চলার মাধ্যমে আমরা সকলেই আমাদের জীবনে দীর্ঘায়ু যোগ করতে পারি। প্রতারিত বা স্বল্প-পরিবর্তিত হওয়ার চেয়ে বরং আমাদের আনন্দ করা উচিত যে ঈশ্বর আমাদের এতই ভালোবাসেন যে তাঁর দীর্ঘ জীবন এবং সুখের নিগূঢ়তত্ত্ব আমাদের সঙ্গে সহভাগ করেছেন। (বা ঈশ্বর তাঁর দীর্ঘ জীবন এবং সুখের গোপনীয়তাগুলো আমাদের সঙ্গে সহভাগ করার মত যথেষ্ট ভালোবাসেন।) প্রেরিত যোহন লিখেছেন, “প্রিয়তমেরা, এখন আমরা ঈশ্বরের সন্তান; এবং কি হইব, তাহা এই পর্যন্ত প্রকাশিত হয় নাই। আমরা জানি, তিনি যখন প্রকাশিত হইবেন, তখন আমরা তাঁহার সমরূপ হইব; কারণ তিনি যেমন আছেন, তাঁহাকে তেমনি দেখিতে পাইব। আর তাঁহার উপরে এই প্রত্যাশা যে কাহারও আছে, সে আপনাকে বিশুদ্ধ করে, যেমন তিনি বিশুদ্ধ” ( যোহন : , পদ)

 

অনুপ্রাণিত করে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিশ্বাস এবং সাহস কি আপনার আছে যা আপনার জীবন এবং প্রশান্তিকে দীর্ঘায়িত করতে পারে? এটাকে এখনই একটি কোর্স বা গতি পথ হিসেবে আয়ত্ত করুন যা আপনাকে সময় এবং অনন্তকাল উভয়ের জন্যই সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে পারে।