Lesson 1

দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সঙ্কটের সময়ে―যখন স্থায়িত্ব ও সুরক্ষার বিষয়টি দুর্লভ; যখন নির্ভরযোগ্য আধ্যাত্মিক নেতারা মিথ্যা প্রমাণিত হয়; যখন রাজনীতিতে মিথ্যা বলাটাই আদর্শ বলে মনে হয়; যখন আপনি যাদের উপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেন তারা আপনাকে সবচেয়ে গভীরভাবে আঘাত করেন―এমন কি কিছু বাকি আছে, যাতে আপনি আস্থা রাখতে পারেন? হ্যাঁ! আপনি বাইবেলকে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করতে পারেন! কেন? আসুন তার প্রমাণ দেখি ...

1. বাইবেল নিজের বিষয়ে কী দাবি করে?

বাইবেল বলে, “প্রত্যেক শাস্ত্রলিপি ঈশ্বর–নিশ্বসিত” (২ তীমথিয় ৩:১৬)। “কারণ ভাববাণী কখনও মনুষ্যের ইচ্ছাক্রমে উপনীত হয় নাই, কিন্তু মনুষ্যেরা পবিত্র আত্মা দ্বারা চালিত
হইয়া, ঈশ্বর হইতে যাহা পাইয়াছেন, তাহাই বলিয়াছেন” (২ পিতর ১:২১)। “আর শাস্ত্রের খণ্ডন ত হইতে পারে না” (যোহন ১০:৩৫)।

উত্তর: বাইবেল ঈশ্বর নিশ্বসিত, পবিত্র আত্মায় পরিচালিত মানুষদের দ্বারা লিখিত বলে দাবি করে। এটি বলে যে এতে লিখিত বার্তাগুলি কখনো খণ্ডিত বা অসত্য প্রমাণ করা যাবে না।

Jesus quoted the Bible and stated that it was true.2. কীভাবে যীশু শাস্ত্রের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসকে বর্ণনা করেছেন?

যীশু বলেন, “লেখা আছে, ‘মনুষ্য কেবল রুটিতে বাঁচিবে
না’ ... আবার লেখা আছে, ‘তুমি আপন ঈশ্বর প্রভুর
পরীক্ষা করিও না।” ... কেননা লেখা আছে তোমার ঈশ্বর
প্রভুকেই প্রণাম করিবে, কেবল তাঁহারই আরাধনা করিবে’”
(মথি ৪:৪, ৭, ১০)। “তাহাদিগকে সত্যে পবিত্র কর; তোমার বাক্যই সত্যস্বরূপ” (যোহন ১৭:১৭)।

উত্তর: যখন যীশু শয়তান কর্তৃক পরীক্ষিত হয়েছিলেন তখন তিনি শাস্ত্র থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন। তিনি এটাও বলেছেন যে বাইবেল সত্য (যোহন ১৭:১৭)। যীশু যা কিছু শিক্ষা দিচ্ছিলেন তার সব কিছুর ক্ষমতাধিকার হিসেবে তিনি বাইবেলকেই উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

3. বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো কীভাবে এর ঐশী প্রেরণাকে সুনিশ্চিত করে?

বাইবেলে উল্লিখিত “আমিই সদাপ্রভু ... আমি নতুন নতুন ঘটনা জ্ঞাত করি, অঙ্কুরিত হইবার পূর্বে তোমাদিগকে তাহা জানাই” (যিশাইয় ৪২:৮, ৯) “আমিই ঈশ্বর, আমি শেষের বিষয় আদি অবধি জ্ঞাত করি যাহা সাধিত হয় নাই, তাহা পূর্বে জানাই” (যিশাইয় ৪৬:৯, ১০)।

উত্তর: বাইবেলে যে সব পূর্বাভাস দেয়া ঘটনাবলী নাটকীয়ভাবে ঘটে গেছে সেগুলো শাস্ত্রের ঐশী অনুপ্রেরণাকে সুনিশ্চিত করে। নীচে বাইবেলের পূর্ণতাপ্রাপ্ত ভবিষ্যদ্বাণীর মাত্র কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হলো:

ক. বিশ্বের চারটি সাম্রাজ্যের উত্থান হবে: বাবিল, মাদীয়-পারসিক, গ্রীস, ও রোম (দানিয়েল ২, ৭, ৮ অধ্যায়গুলো)।.

খ. কোরস হবেন সেই যোদ্ধা যিনি বাবিলকে জয় করবেন (যিশাইয় ৪৫:১-৩)।

গ. বাবিলের ধ্বংসের পরে, সেখানে কোনদিনও কেউ বসবাস করবে না (যিশাইয় ১৩:১৯, ২০;
যিরমিয় ৫১:৩৭)।

ঘ. মিশর পুনরায় আর কোনোদিন জাতিবৃন্দের মাঝে কর্তৃত্বের পদমর্যাদা পাবে না (যিহিষ্কেল ২৯:১৪, ১৫; ৩০:১২, ১৩)।

ঙ. পৃথিবীর অন্তিম মুহুর্তে বিশ্ব-কাঁপানো বিপর্যয় নেমে আসবে (লূক ২১:২৫, ২৬)।

চ. শেষকালে নৈতিক অধঃপতন ও আধ্যাত্মিকতার অবক্ষয় দেখা দেবে (২ তীমথিয় ৩:১-৫)।

4. Are the Bible’s statements about the natural world confirmed by science?4. প্রাকৃতিক জগত সম্পর্কে বাইবেলের উক্তিগুলো কি বিজ্ঞান অনুমোদন করে?

বাইবেল জ্ঞাত করে, “তোমার বাক্যের সমষ্টি সত্য, তোমার ধর্ম্মময় প্রত্যেক শাসন চিরস্থায়ী” (গীতসংহিতা ১১৯:১৬০ পদ)।

উত্তর: হ্যাঁ। পবিত্র আত্মা, যিনি বাইবেলের প্রতিটি লেখককে পরিচালনা দিয়েছিলেন, তিনি সব সময় সত্য বলেন। বাইবেলের যে সব উক্তিগুলো বিজ্ঞান দ্বারা অনুমোদিত তার কয়েকটি এখানে দেয়া হলো:

ক. “তিনি অবস্তুর উপরে পৃথিবীকে ঝুলাইয়াছেন”
(ইয়োব ২৬:৭)। বাইবেলের সবচেয়ে পুরাতন পুস্তক, ইয়োবে এই বৈজ্ঞানিক তথ্যের উল্লেখ আছে।
খ. “তিনিই পৃথিবীর সীমাচক্রের উপরে উপবিষ্ট”
(যিশাইয় ৪০:২২ পদ)। বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের বহু পূর্বেই বাইবেল বলেছে যে পৃথিবী গোলাকার।
গ. “তিনি ... বায়ুর গুরুত্ব নিরূপন করিলেন” (ইয়োব ২৮:২৫)। বিজ্ঞান যাচাই করার বহু পূর্বেই
বাইবেল জানিয়েছে যে বাতাসের ওজন রয়েছে।

5. স্বাস্থ্য সম্বন্ধে বাইবেলের উক্তিগুলো কি আজকের পৃথিবীতে এখনও একইভাবে কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক?

বাইবেল বলে, “প্রিয়তম, প্রার্থনা করি, যেমন তোমার প্রাণ কুশলপ্রাপ্ত, সর্ববিষয়ে তুমি তেমনি কুশলপ্রাপ্ত ও সুস্থ থাক” (৩ যোহন ১:২)।

উত্তর: ঈশ্বর প্রত্যাশা করেন যেন তাঁর সৃষ্ট জীবকূল সুস্থ ও সুখী থাকে। বাইবেলের যে সব স্বাস্থ্যনীতিগুলো এর ঐশ্বরিক প্রেরণা সুনিশ্চিত করে তার মাত্র কয়েকটি উদাহরণ নীচে দেয়া হলো:

ক. দেহের বর্জ্য পদার্থ মাটি দিয়ে ঢেকে ফেলা (দ্বিতীয় বিবরণ ২৩:১২, ১৩)। দেহের বর্জ্য ইস্রায়েলদের শিবিরের বাইরে মাটিচাপা দিতে হবে—মোশির এই আদেশটি এর নির্ধারিত সময়ের থেকে হাজারো বছর এগিয়ে ছিল। মানুষের বর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্কাশন না করা হলে, পানি সরবরাহের মাধ্যমে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাইবেলের এই পরামর্শটি ইতিহাসব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাঁচিয়েছে।

খ. “আমরা যেন ... ব্যভিচারও না করি” (১ করিন্থীয় ১০:৮)। “ব্যভিচার” যে কোনো প্রকার অনুচিত যৌন আচরণকে নির্দেশ করে (বিস্তারিত তালিকার জন্য লেবীয় ১৮ অধ্যায় পড়ুন)। বাইবেলের এই পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে লোকদের অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ এবং সিফিলিস ও এইড্স-এর মত যৌনবাহিত রোগকে ভয় পাবার কোন কারণই থাকতো না।

গ. অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়কে একা থাকতে দিন (হিতোপদেশ ২৩:২৯-৩২)। যদি প্রত্যেকে বাইবেলের এই পরামর্শ পালন করতেন তবে লক্ষ লক্ষ মদ্যপায়ী সংযত নাগরিক হয়ে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন; লক্ষ লক্ষ ছিন্ন পরিবার পুনর্মিলিত হতো; মাতাল গাড়ি চালকের সৃষ্ট দুর্ঘটনা থেকে হাজার হাজার প্রাণ রক্ষা পেতো; এবং সরকারী ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতেন।

বিঃদ্রঃঈশ্বর কেবল আমাদের বর্তমান সময়ের সমস্যাবলীর মধ্যে সফল হবার এবং সুখ লাভের উপায়ই বলেন না, বরং তিনি আমাদের সেটি অর্জন করতে অলৌকিক শক্তিও দেন (১ করিন্থীয় ১৫:৫৭; ফিলিপীয় ৪:১৩; রোমীয় ১:১৬)। বাইবেলের স্বাস্থ্যনীতিগুলো বর্তমান সময়েও একইভাবে কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক এবং অত্যন্ত প্রয়োজন।

6. Are the Bible’s historical statements accurate?6. বাইবেলে উল্লেখিত ঐতিহাসিক উক্তিগুলি কি নির্ভুল?

বাইবেল বলে “আমি সদাপ্রভু ন্যায্য বাক্য বলি সরলতার কথা কহি” (যিশাইয় ৪৫:১৯)।

উত্তর:কখনো কখনো শাস্ত্রে পাওয়া কিছু ঐতিহাসিক বিবৃতির প্রমান পাওয়া না গেলেও, বাইবেলের বৈধতা প্রমাণ করতে বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ বারবার সামনে উপস্থিত হয়েছে। নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন:

ক. বছরের পর বছর ধরে সন্দেহবাদীরা বাইবেলকে অনির্ভরযোগ্য বলেছে কারণ সেখানে হিত্তীয় জাতি (দ্বিতীয় বিবরণ ৭:১) নীনবী (যোনা ১: ১, ২) এবং সদোম (আদিপুস্তক ১৯:১) নগরীর কথা উল্লেখ আছে যেগুলোর অস্তিত্ব কখনো ছিল বলে তারা স্বীকার করে না। কিন্তু এখন আধুনিক প্রত্নতত্ত্ব প্রমাণ করেছে যে এর তিনটিরই অস্তিত্ব ছিল।

খ. সমালোচকেরা এটাও বলেন যে বেল্শত্সর (দানিয়েল ৫:১) এবং সর্গোন (যিশাইয় ২০:১) নামে কখনো কোনও রাজা ছিলেন না। আজ, তাঁদের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ. সন্দেহবাদীরা বলেছে যে মোশির লিখন নির্ভরযোগ্য ছিল না কারণ সেখানে লেখার (যাত্রা ২৪:৪) এবং চাকাওয়ালা যানবাহনের (যাত্রা ১৪:২৫) কথা উল্লেখ আছে, যার অস্তিত্ব তারা বলে যে তার সময়ে ছিল না। আজ আমরা জানি যে সে সময়ে সেগুলোর অস্তিত্ব ছিল।

ঘ. এক সময়ে, প্রাচীন ইস্রায়েল ও যিহুদার ৩৯ জন রাজার বিষয়ে কেবল বাইবেলের লিখন থেকেই জানা গিয়েছিলো; এতে সমালোচকরা ঐ জাতিগুলোর অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ করত। কিন্তু যখন প্রত্নতাত্ত্বিকরা আলাদা আলাদা প্রাচীন প্রামাণ্য দলিল পেলেন যা এ সকল রাজাদের কথা উল্লেখ করে, বাইবেলের বর্ণনা পুনরায় নির্ভুল প্রমাণিত হলো।

নতুন নতুন আবিষ্কৃত তথ্যগুলো বাইবেলের মানুষ, স্থান এবং ঘটনাকে সুনিশ্চিত করার কারণে বাইবেলের সমালোচকরা বারবার ভুল প্রমাণিত হয়েছেন।

7. What other facts about the Bible prove its divine inspiration?7. বাইবেল সম্বন্ধে অন্যান্য কী তথ্য রয়েছে যেগুলো এর স্বর্গীয় অনুপ্রেরণা সুনিশ্চিত করে?

বাইবেল বলে, “প্রত্যেক শাস্ত্রলিপি ঈশ্বর–নিঃশ্বসিত’’ (২ তীমথিয় ৩:১৬)।

উত্তর : বাইবেলের সর্বশ্রেষ্ঠ অলৌকিক বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এর তথ্যগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মিল। কেবল নিচের বিস্ময়কর তথ্যগুলো বিবেচনা করুন:

বাইবেলের ৬৬ টি পুস্তক লিখিত হয়েছিল:
১. তিনটি মহাদেশে
২. তিনটি ভাষাতে
৩. প্রায় ৪০ প্রকারের বিভিন্ন মানুষের দ্বারা (যেমন–রাজা, মেষপালক, বিজ্ঞানী, আইনজীবী, একজন সেনাধ্যক্ষ, মত্স্যজীবী, যাজক, এবং একজন চিকিত্সক)
৪. প্রায় ১,৫০০ বছরেরও অধিক সময় ধরে
৫.সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়ের উপর
৬. এমন লোকদের দ্বারা, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যারা কখনই পরস্পর মিলিত হননি
৭. এমন লেখকদের দ্বারা যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রেক্ষাপটে অনেক ব্যবধান ছিল

book writings
যদিও এটি মেনে নেয়া অসম্ভব বলে মনে হয়, তথাপি, ৬৬টি পুস্তকই পরস্পরের সঙ্গে সঙ্গতি বজায় রেখেছে। এবং এমনকি সেখানে একটি বিষয়ের উপর নতুন নতুন ধারণা প্রকাশ হয়ে থাকলেও, সেগুলো ঐ একই বিষয়ে বলা বাইবেলের অন্যান্য লেখকদের বক্তব্যগুলোকে অবমূল্যায়ন করে না।

এটি এত আশ্চর্যজনক যে বিশ্বাস করা কষ্টকর! একই ঘটনার বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীদের আপনি সেখানে কী ঘটেছিলো সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন পেশ করতে বলবেন, দেখবেন যে তাদের বর্ণনার বেশির ভাগই একটি অপরটি থেকে ব্যাপকভাবে আলাদা এবং কোনো না কোনো দিক দিয়ে পরস্পরবিরোধী। তথাপি বাইবেলটি ১,৫০০ বছর সময় ধরে ৪০ জন লেখকের কলমে লেখা হলেও পড়ার সময় মনে হয় যেন লেখাগুলো এক ব্যক্তির মন থেকে এসেছে। আর বাস্তবে তাই হয়েছিল। “মনুষ্যেরা পবিত্র আত্মা দ্বারা চালিত হইয়া ঈশ্বর হইতে যাহা পাইয়াছেন, তাহাই বলিয়াছেন” (২ পিতর ১:২১)। পবিত্র আত্মাই তাদের সকলকে “পরিচালিত করেছেন;” তিনিই বাইবেলের আসল লেখক।

8.মানুষের জীবনে বাইবেলের অনুপ্রেরণার কী প্রমাণ পাওয়া যায়?

বাইবেল বলে, “ফলতঃ কেহ যদি খ্রীষ্টে থাকে তবে নূতন সৃষ্টি হইল; পুরাতন বিষয়গুলি অতীত হইয়াছে, দেখ সেগুলি নূতন হইয়া উঠিয়াছে” (২ করিন্থীয় ৫:১৭)।

উত্তর: যারা যীশুকে অনুসরণ করে এবং বাইবেলকে মেনে চলে তাদের পরিবর্তিত জীবন বাইবেলের ঐশ্বরিক অনুপ্রেরণার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য কিছু প্রমাণ দেয়। মাতাল ব্যক্তি সংযত হয়ে যায়; অনৈতিক ব্যক্তি শুদ্ধ হয়; আসক্ত ব্যক্তি মুক্ত হয়; ভক্তিহীন ব্যক্তি ভক্তিপূর্ণ হয়ে ওঠে; ভীত ব্যক্তি সাহসী হয়; এবং নিষ্ঠুর ব্যক্তি সদয় হয়।

9. What evidence for Bible inspiration emerges when we compare Old Testament prophecies of the coming Messiah with New Testament events in the life of Jesus?9. যখন আমরা পুরাতন নিয়মে প্রাপ্ত আসন্ন মশীহের ভবিষ্যদ্বাণীগুলিকে নূতন নিয়মে প্রাপ্ত যীশুর জীবনের ঘটনাবলির সঙ্গে তুলনা করি তখন বাইবেলের অনুপ্রেরণার সপক্ষে কী প্রমাণ পাওয়া যায়?

বাইবেল বলে, “তিনি [যীশু], মোশি হইতে ও সমুদয় ভাববাদী হইতে আরম্ভ করিয়া, সমুদয় শাস্ত্রে তাঁহার নিজের বিষয়ে যে সকল কথা আছে, তাহা তাঁহাদিগকে বুঝাইয়া দিলেন” (লূক ২৪:২৭)। “যীশুই যে খ্রীষ্ট, ইহা শাস্ত্রীয় বচন দ্বারা প্রমাণ করিয়া তিনি [আপল্লো] ক্ষমতার সহিত লোকসাধারণের সাক্ষাতে যিহূদিগণকে একেবারে নিরুত্তর করিলেন” (প্রেরিত ১৮:২৮)।

উত্তর: পুরাতন নিয়মে মশীহের বিষয়ে পূর্বাভাসগুলো এত সুনির্দিষ্ট ছিল এবং নাসারতীয় যীশুর দ্বারা পূর্ণতা পেয়েছিল যে যীশু এবং আপল্লো উভয়েই এই ভাববাণীগুলো এটা প্রমাণ করার জন্য ব্যবহার করতেন যে যীশু প্রকৃতপক্ষেই মশীহ ছিলেন। এই প্রকারের ১২৫টিরও বেশি ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে। আসুন তাদের মধ্যে কেবল ১২টি নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করি:

ভাববাণী পুরাতন নিয়মের অনুমান নতুন নিয়মে পূর্ণতা প্রাপ্তি

১। বৈথলেহমে জন্মগ্রহণ

মীখা ৫:২ মথি ২:১

২। কুমারীর গর্ভে জন্মগ্রহণ

যিশাইয় ৭:১৪ মথি ১:১৮–২৩

৩। দায়ূদের বংশকূল

যিরমিয় ২৩:৫ প্রকাশিত বাক্য ২২:১৬

৪। হত্যা প্রচেষ্টার লক্ষ্যবস্তু

যিরমিয় ৩১:১৫ মথি ২:১৬–১৮

৫। মিত্রের দ্বারা বিশ্বাসঘাতকতা

গীতাসংহিতা ৪১:৯ যোহন ১৩:১৮, ১৯, ২৬

৬। ৩০ টি রৌপ্য মুদ্রায় বিক্রীত

সখরিয় ১১:১২ মথি ২৬:১৪–১৬

৭। ক্রুশবিদ্ধ হওয়া

সখরিয় ১২:১০ যোহন ১৯:১৬-১৮, ৩৭

৮। তাঁর পোষাক নিয়ে গুলিবাঁট

গীতসংহিতা ২২:১৮ মথি ২৭:৩৫

৯। অস্থি সকল অটুট

গীতসংহিতা ৩৪:২০ যোহন ১৯:৩১-৩৬

১০। এক ধনবানের কবরে কবরপ্রাপ্ত

যিশাইয় ৫৩:৯ মথি ২৭:৫৭–৬০

১১। তাঁর মৃত্যুর দিন, ক্ষণ, ও বছর

দানি ৯:২৬, ২৭; যাত্রা ১২:৬ মথি ২৭:৪৫–৫০

১২। তৃতীয় দিবসে পুনরুত্থান

হোশেয় ৬:২ প্রেরিত ১০:৩৮–৪০

 

এমন কোনও সম্ভাবনা আছে কি যে যীশুর উপরোক্ত ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মধ্যে আটটি নিছক ঘটনাক্রমেই ঘটেছে? ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসাডেনা কলেজের গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, এবং প্রকৌশল বিভাগের প্রাক্তন সভাপতি ড: পিটার স্টোনার এই প্রশ্নের উপর সম্ভাব্যতার নীতিটি প্রয়োগ করেছেন। তিনি হিসেব করলেন যে এক ব্যক্তির ক্ষেত্রেই কেবল আটটি ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হওয়ার মানে হলো ১,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ টির মধ্যে একটি আকস্মিকভাবে হওয়া। তাহলে মশীহের ১২৫টি ভাববাণী আকস্মিকভাবে পূর্ণ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা আছে কি? না, নেই। ওগুলো ঘটনাক্রমে ঘটতেই পারে না!

10. যিনি বাইবেলকে ঈশ্বরের অনুপ্রাণিত বাণী হিসাবে গ্রহণ করেন তিনি কী কী উপকার পেয়ে থাকেন??

বাইবেল বলে, “প্রাচীন লোক হইতেও আমি বুদ্ধিমান, কারণ আমি তোমার নির্দেশ সকল পালন করিয়াছি” (গীতসংহিতা ১১৯:১০০)। “তোমার আজ্ঞা সকল আমাকে শত্রুগণ অপেক্ষা জ্ঞানবান করে” (গীতসংহিতা ১১৯:৯৮)। “কারণ ভূতল হইতে আকাশমণ্ডল যত উচ্চ, তোমাদের সঙ্কল্প হইতে আমার সঙ্কল্প তত উচ্চ” (যিশাইয় ৫৫:৯)।

উত্তর : যিনি ঈশ্বরের বাক্যকে গ্রহণ করেন তিনি এমন অনেক রহস্যের উত্তর আবিষ্কার করবেন যেগুলো যারা কেবলমাত্র জাগতিক উত্তর খোঁজেন তাদেরকে বিভ্রান্ত করে। উদাহরণস্বরূপ, জড় পদার্থ থেকে জীবনের উদয় হতে পারে এমন কোনো উপায় কারো জানা নেই; বাইবেল বলে, জীবন শুরু হবার জন্য একটি অলৌকিক মাধ্যম―অর্থাত্ ঈশ্বর―এর প্রয়োজন হয়েছিলো। বিজ্ঞানীরা এখন এটাও জানেন যে বর্তমানের সকল মানব জীবন এসেছে একজন নারী থেকে; আদিপুস্তকে বাইবেল ঠিক এটিই শিক্ষা দেয়।

আপনি এটাও জানতে পারবেন যে ঈশ্বর ২৪-ঘণ্টার ৬টি, আক্ষরিক, দিনে জগত্ সৃষ্টি করেছেন; জানতে পারবেন যে পৃথিবীব্যাপী একটি বন্যা এসে সমুদ্রের জীব এবং জাহাজের ভেতরে যা ছিল তা ব্যতিরেকে সব জীব ধ্বংস করে দিয়েছিলো; আরো জানবেন যে পৃথিবীর নানা ভাষাগুলোর উত্পত্তি হয়েছিলো বাবিলের উচ্চ দুর্গের কাছে।

universe

ঈশ্বর, যার অস্তিত্ব প্রথম থেকেই আছে ও যিনি সব কিছুই জানেন, তিনি বাইবেলের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে এ সত্যগুলো ভাগ করেছেন, কারণ তিনি জানেন যে আমরা নিজে থেকে এই সমস্ত কথা জানতে পারবো না। ঈশ্বরের জ্ঞান “বোধাতীত” (রোমীয় ১১:৩৩)। বাইবেলকে বিশ্বাস করুন, দেখবেন আপনার জ্ঞান মানব জ্ঞানকেও ছাড়িয়ে যাবে।
11. What recent events have brought the power and appeal of the Bible into sharp focus?11. সাম্প্রতিক কোন্ কোন্ ঘটনাবলী বাইবেলের ক্ষমতা এবং আকর্ষণীয়তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে?

উত্তর: : প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পৃথিবীব্যাপী সন্ত্রাসী কার্যক্রমই হলো বাইবেলের পূর্বাভাসকৃত লক্ষণাবলী, যেগুলো বলে যে অন্তিম সময়ে, “পৃথিবীতে জাতিগণের ক্লেশ হইবে, তাহারা সমুদ্রের ও তরঙ্গের গর্জনে উদ্বিগ্ন হইবে” (লূক ২১:২৫)। ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বরের সুনামি তার একটি উদাহরণ মাত্র। এটি ছিল আধুনিককালের ইতিহাসে সব থেকে ভয়ঙ্কর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় যাতে ২৫০,০০০-এরও বেশি লোককে মৃত কিংবা নিখোঁজ বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। এর এক বছর পর নিউ অরলীন্সকে চিরে ক্যাটরিনা নামক প্রবল ঝড় বয়ে গিয়ে আমাদের আবারও যীশুর সেই ভবিষ্যদ্বাবাণীর ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দেয় যে “তরঙ্গের গর্জন” হইবে।

Answerবাইবেল এটাও ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে “জাতির বিপক্ষে জাতি উঠিবে” (মথি ২৪:৭)। ২০০১ সালের, ১১ সেপ্টেম্বরে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের বহুতল ভবনগুলোয় আক্রমণ হবার পর, লোকেরা উপলব্ধি করলো যে কোনো দেশই প্রকৃতপক্ষে সুরক্ষিত নয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষগুলোর এবং সন্ত্রাসবাদের চলমান নিপীড়নের ফলে লোকেরা শক্তি ও আশা পেতে বাইবেলের কাছে এসেছে।

কিছু লোক বাইবেলকে সন্দেহের চোখে দেখেন কারণ বাইবেল বলে যে পৃথিবী “বিবর্তিত” নয় বরং সৃষ্ট হয়েছে। যীশু প্রশ্ন করেছিলেন, “মনুষ্যপুত্র যখন আসিবেন, তখন কি পৃথিবীতে বিশ্বাস পাইবেন?” (লূক ১৮:৮)। যেভাবেই হোক না কেন, বিবর্তনবাদের তত্ত্বকে এখন ব্যাপকভাবে নিন্দা করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ আণবিক জীববিদ্যা দেখায় যে একটি একক কোষ অপরিবর্তনীয়ভাবে জটিল, যার ফলে একটি একক কোষে জীবের উত্পত্তি হবার যে কেবল সম্ভাবনা নেই, তা নয়, বরং হওয়া একেবারে অসম্ভব।

সম্ভবত এ কারণেই ফ্রেড হয়েল এবং একদা কুখ্যাত নাস্তিক অ্যান্টনি ফ্লিউ সহ পূর্বে যারা নাস্তিক ছিলেন তাদের অনেকেই, যারা বলেছিলেন, “ঈশ্বরের অস্তিত্বের” সপক্ষে সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক যুক্তিগুলো সেগুলি যা সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলো সমর্থন করে, তারা এখন বিশ্বাস করেন যে, পৃথিবীকে সৃষ্টি করা হয়েছিলো।”
বিবর্তনবাদের তত্ত্বটি একথাটি শেখায় যে মানুষ এবং বনমানুষ উভয়েই একই পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে; এটি অস্বীকার করে যে, মানুষ ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট হয়েছিলো এবং আপনার জীবনের একটি আসল উদ্দেশ্য রয়েছে: ঈশ্বরের সঙ্গে অনন্তকাল বসবাস করা। বিবর্তনবাদের বৈজ্ঞানিক পতন এবং বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা ঈশ্বরের বাক্যে আপনার বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করতে আপনাকে সাহায্য করবে।

12.কেন বাইবেল আপনাকে দীর্ঘস্থায়ী সুখ ও শান্তি লাভ করার সর্বোত্তম সুযোগ দেয়?

বাইবেল একথা বলে, “তোমার বাক্য ... আমার পথের আলোক” (গীতসংহিতা ১১৯:১০৫)। “এই সকল কথা তোমাদিগকে বলিয়াছি, যেন ...
তোমাদের আনন্দ সম্পূর্ণ হয়” (যোহন ১৫:১১)। “ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতেই তাহাকে সৃষ্টি করিলেন” (আদিপুস্তক ১:২৭)। “তদ্রূপ তোমাদের দীপ্তি মনুষ্যদের সাক্ষাতে উজ্জ্বল হউক্, যেন তাহারা তোমাদের সৎক্রিয়া দেখিয়া তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার গৌরব করে” (মথি ৫:১৬)। “আমি ... পুনর্বার আসিব, এবং আমার নিকটে তোমাদিগকে লইয়া যাইব; যেন, আমি যেখানে থাকি, তোমরাও সেইখানে থাক” (যোহন ১৪:৩)।

উত্তর: কারণ এটি জীবনের সবচেয়ে ধাঁধানো প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়:

ক। আমার উৎপত্তি কোথা থেকে হয়েছে? ঈশ্বর নিজের প্রতিমূর্তিতে আমাদের সৃষ্টি করেছেন; আমরা উদ্দেশ্যবিহীন কোনো দুর্ঘটনা নই। আমরা ঈশ্বরের সন্তান (গালাতীয় ৩:২৬)। আরো উত্তম বিষয় এই যে, তাঁর সন্তান হিসেবে, আমরা তাঁর কাছে বহুমূল্য আর তিনি ইচ্ছা করেন যেন অনন্তকাল ধরে আমরা তাঁর সঙ্গে থাকি।

খ। কেন আমি এই পৃথিবীতে এলাম? বাইবেল বলে আমাদের এ জীবনের লক্ষ্য হতে হবে জীবনের সমস্যাগুলোর মুহূর্তে ঈশ্বরের নিখুঁত, বাস্তবসম্মত উত্তর আবিষ্কার করা, আমাদের পাপ থেকে উদ্ধার করতে যীশুর প্রদত্ত দান গ্রহণ করা, এবং দিন দিন আরো অধিক তাঁর মতো হওয়ার চেষ্টা করা (রোমীয় ৮:২৯)।

গ। ভবিষ্যতে আমার জন্য কী রয়েছে? আপনাকে অনুমান করতে হবে না! আপনি যে কেবল আজকের দিনেই আরো অধিক শান্তি ও সুখ উপলব্ধিই করবেন তা নয়, বাইবেল বলে যে, যীশু খুব শীঘ্রই তাঁর সন্তানদের সেই চমত্কার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসবেন যেটি তিনি স্বর্গে তাদের জন্য প্রস্তুত করছেন” (যোহন ১৪:১-৩)। পরম আনন্দে ও সুখে, আপনি অনন্তকাল ঈশ্বরের উপস্থিতিতে বসবাস করবেন। (প্রকাশিত ২১:৩, ৪)।

13. ঈশ্বর বিনম্রভাবে জীবনের সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন বলে আপনি কি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ?

আপনার উত্তর :-


আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর


 

১। কেন বাইবেল লোকদের পাপের এত ভয়ানক, ও সচিত্র বর্ণনা দেয়?

উত্তর: পাপ ঈশ্বরের কাছে একটি জঘন্য ব্যাপার, এবং তিনি চান যেন তিনি পাপকে যতটা ঘৃণা করেন, আমরাও ততটা করি। বাইবেলে উল্লেখিত ঐ ধরণের ভাল ও মন্দ, উভয় প্রকার কাহিনীগুলো বাইবেলকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। ঘটনা ঠিক যেভাবে ঘটেছিলো বাইবেল সেভাবে তুলে ধরে বলে লোকেরা ভরসা পায় যে বাইবেলের উপর নির্ভর করা যায়; এটি কিছুই লুকোচ্ছে না। শয়তানের কৌশল হলো মানুষকে এটা বোঝানো যে তারা এত ভয়ানক পাপী যে ঈশ্বরের পক্ষে তাদের উদ্ধার করা অসম্ভব, কিংবা তিনি উদ্ধার করবেন না। যখন বাইবেল তাদেরকে তাদেরই মতো লোকদের ঘটনাগুলো দেখানো হয় যাদের ঈশ্বর পাপ থেকে রক্ষা করেছেন, তখন তাদের মনে কিই না আনন্দ বয়ে যায়! (রোমীয় ১৫:৪)।

২। বাইবেলের কি সম্পূর্ণই ঈশ্বর-নিশ্বসিত―না কি শুধুমাত্র আংশিক?

উত্তর: “ঈশ্বর-নিশ্বসিত প্রত্যেক শাস্ত্রলিপি আবার শিক্ষার, অনুযোগের, সংশোধনের, ধার্মিকতা সম্বন্ধীয় শাসনের নিমিত্ত উপকারী” (২ তীমথিয় ৩:১৬)। বাইবেল কেবল ঈশ্বরের বাক্য ধারণই করে না―বরং সেটিই স্বয়ং ঈশ্বরের বাক্য। বাইবেল হলো মানব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের ভাণ্ডার এবং ব্যবহার সহায়িকা। এটিকে অগ্রাহ্য করলে দেখবেন আপনি অনাবশ্যক সমস্যার মূখোমূখি হবেন।

৩। বর্তমানে বাতিলকৃত এত প্রাচীন একটি বইয়ের উপর নির্ভর করা কি অনিরাপদ নয়?

উত্তর : কখনই না। বাইবেলের বয়সই এর ঐশী প্রেরণার একটি প্রমাণ। এটি বলে, “প্রভুর বাক্য চিরকাল থাকে” (১ পিতর ১:২৫)। বাইবেল একটি শৈল (পাথর) রূপে দাঁড়িয়ে থাকে; একে ধ্বংস করা যায় না। মানুষেরা, এমনকি সমগ্র জাতিগণ বাইবেলকে পুড়িয়ে দিয়েছে, নিষিদ্ধ করেছে, এবং বাইবেলের বদনাম করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তার পরিবর্তে তারা নিজেরাই ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের প্রস্থানের অনেকদিন পরও, বাইবেল অবিরাম চাহিদাসম্পন্ন একটি সর্বাধিক বিক্রয়কৃত বই হিসেবে রয়ে গেছে (এবং আজও আছে)। এর বার্তাটি ঈশ্বর প্রদত্ত এবং হালনাগাদ। এটি অধ্যয়ন করার আগে, প্রার্থনা করুন যেন পড়ার সময় ঈশ্বর আপনার হৃদয়-দ্বার খুলে দেন।

৪। বিশ্বের অনেক মেধাবী মানুষ বিশ্বাস করে যে বাইবেল কারও পক্ষে বোঝা অসাধ্য। যদি এটি সত্যিই ঈশ্বরের গ্রন্থ হয়ে থাকে, তবে সবারই কি এটি বুঝতে পারার কথা নয়?

উত্তর: যে সব বুদ্ধিমান লোক কার্যত অন্য যে কোনো কিছু সহজে বুঝতে পারেন তারা যখন বাইবেল পড়েন তখন প্রায় ক্ষেত্রেই দ্রুত হতবুদ্ধি হয়ে যান। এর কারণ এই যে আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো “আধ্যাত্মিকভাবেই বিচারিত হয়” (১ করিন্থীয় ২:১৩, ১৪)। ঈশ্বরের বাক্যের গভীর বিষয়বস্তুগুলো কখনো পার্থিব মন দিয়ে বোঝা যাবে না, তা সে যতই মেধাবী হোক না কেন। যতক্ষন পর্যন্ত না একজন সততায় ঈশ্বরের সঙ্গে অভিজ্ঞতার সন্ধান না করে, সে ঐশ্বরিক বিষয়বস্তু বুঝতে পারবে না। পবিত্র আত্মাই বাইবেল ব্যাখ্যা করে থাকেন (যোহন ১৬:১৩; ১৪:২৬), তাঁকে ধর্মনিরপেক্ষ মন দিয়ে বোঝা যায় না। অন্যদিকে, নতনম্র, এমনকি অশিক্ষিত, অনুসন্ধানকারী যিনি বাইবেলকে অধ্যয়ন করেন তিনি পবিত্র আত্মা থেকে আশ্চর্যজনক জ্ঞান প্রাপ্ত হন (মথি ১১:২৫; ১ করিন্থীয় ২:৯, ১০)।

৫। কেউ কেউ বলেন যে বাইবেল ভুলে ভরা, কী প্রকারে কেউ বিশ্বাস করবে যে এটি ঈশ্বর―নিশ্বসিত?

উত্তর: বাইবেলে বিদ্যমান তথা-কথিত ভুলগুলোর অধিকাংশই হয় নিছক বিচারের ত্রুটি নয়তো যারা অভিযোগ করেছেন তাদের জ্ঞানের ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে। সেগুলো মোটেও ভুল নয়, বরং সরল ভাষায় বলা যায় সত্যকে ভুল বোঝা হয়েছে। ঈশ্বর–নিশ্বসিত বাইবেল:

  1. সর্বদা আপনাকে সত্য বলবে
  2. কখনই আপনাকে পথভ্রষ্ট করবে না
  3. সম্পূর্ণভাবে আস্থা রাখার দাবীদার।
  4. আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক, ও বিজ্ঞান―ভিত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ভরযোগ্য এবং কর্তৃত্বস্থানীয়।

এ কথাটি সত্য যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে, প্রতিলিপিকারীগণ হয়তো এখানে-সেখানে একটি ছোট শব্দ কিংবা সংখ্যা ভুলভাবে অনুলিপি করে থাকতে পারেন, তবে এমন অনুমানকৃত ত্রুটি কিংবা দোষারোপকৃত কোনও ত্রুটিই ঈশ্বরের বাক্যের পরম সত্যকে প্রভাবিত করে নি। ধর্মীয় মতবাদ কেবলমাত্র বাইবেলের একটি অনুচ্ছেদের উপর গড়ে ওঠে না, বরং একটি বিষয়ের উপর ঈশ্বর―অনুপ্রাণিত মোট মন্তব্যগুলোর সমষ্টির উপর গড়ে ওঠে। এ কথা সত্য যে, বাইবেলে এমন এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলোর সাথে একমত হওয়া কষ্টকর। সন্দেহ করার মতো কিছু না কিছু বিষয় সবসময়েই থাকবে। তথাপি, এমনকি যে সমস্ত ত্রুটিগুলোর বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়েছিলো সেগুলোও কালক্রমে মতৈক্যে নিয়ে আসা হবে, ঠিক যেমনটি অতীতে হয়েছে। দেখা যায় যে লোকেরা বাইবেলকে অবমূল্যায়ন করতে যত বেশি শ্রম করে, এঁটির আলো তত উজ্জ্বল হয়ে কিরণ দেয়।


সারসংক্ষেপ

দয়া করে এই প্রশ্নের সমাধান করার আগে পাঠটি পড়ে নিন। সমস্ত উত্তর আপনি এই সহায়িকা বইটিতে পেয়ে যাবেন।। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দিন। বন্ধনীর সংখ্যাগুলো (১)
সঠিক উত্তরের সংখ্যা নির্দেশ করে।


১। কোন ভবিষ্যদ্বাণীটির পূর্ণতা বাইবেলের ঐশ্বরিক অনুপ্রেরণাকে সুনিশ্চিত করে? (৪)

( ) কোরস বাবিল দখল করবে।

( ) জর্জ ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবেন।

( ) মিশর কখনই পুনরায় একটি শক্তিশালী, নেতৃস্থানীয় জাতি হবে না।

( ) শেষ দিনগুলোতে নৈতিকতার অধঃপতন হবে।

( ) জার্মানিতে ২০-বছরব্যাপী একটি খরা হবে।

( ) বাবিল, একবার ধ্বংস হবার পর, আর কখনই বসতি হবে না।

২। যীশু কীভাবে দেখিয়েছেন যে তিনি বাইবেলকে ঈশ্বর–নিশ্বসিত বলে বিশ্বাস করেন? (২)

( ) এ বিষয়টি নিয়ে উচ্চস্বরে কথা বলে।

( ) শিক্ষা দেবার সময়ে বাইবেল থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে।

( ) যারা সন্দেহ করতো তাদের উপর অগ্নি নামিয়ে দিয়ে।

( ) মন্দিরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে তা ঘোষণা করে।

৩। নিচের তালিকা থেকে কোন্ বৈজ্ঞানিক সত্যটি বাইবেলে উল্লেখ আছে? (২)

( ) পৃথিবীটি গোলাকার।

( ) বাতাসের ওজন আছে।

( ) জলের সংকেত "H2O।"

( ) সমুদ্রজল লবনাক্ত।

৪। নিচের কোন্ স্বাস্থ্য-বিধিটি বাইবেলে দেখা যায়? (২)

( ) দিনে ৪ লিটার জল পান করুন।

( ) অ্যালকোহল-জাতীয় পানীয় ত্যাগ করুন।

( ) প্রতিদিন সকাল-বিকেল দৌড়ান।

( ) অনৈতিক যৌন আচরণ থেকে বিরত থাকুন।

৫। বাইবেল সম্বন্ধে নিম্নলিখিত উক্তিগুলো সত্য: (৩)

( ) প্রায় ৪০ জন লোক বাইবেল লিখতে সাহায্য করেছেন।

( ) বাইবেল ১০,০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লেখা হয়েছিলো।

( ) বাইবেলের কেবল কিছু অংশ ঈশ্বর-নিশ্বসিত।

( )প্রকৃত বাইবেল লেখক হলেন পবিত্র আত্মা।

( ) বাইবেল একটি সর্বাধিক বিক্রি হওয়া বই।

৬। মশীহ’র জীবনের বিষয়ে বাইবেল নীচের কোনটি পূর্বাভাস দিয়েছে? (৩)

( ) তিনি নাসরতে জন্ম গ্রহন করবেন।

( ) প্রায়শই উড়ে স্বর্গে যাবেন।

( ) ৩০টি রৌপ্য-মুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি হবেন।

( ) হেরোদ রাজা তাঁকে মারতে চেষ্টা করবেন।

( ) তাঁকে ক্রুশে টাঙ্গান হবে।

( ) তিনি সাত বছর পর আবার বেঁচে উঠবেন।

৭। বাইবেলের কোন্ বিধিটি, যদি পালন করা হয়, তা সর্বোত্তমভাবে এইডস প্রতিরোধ করবে? (১)

( ) যৌনতায় অনৈতিক জীবন-যাপন করবেন না।

( ) খোদাইকৃত মূর্তির পুজা করবেন না।

( ) নিয়মিত আহার করবেন।

৮। বিবর্তনবাদ সম্বন্ধে নীচের কোন উক্তিটি সঠিক? (২)

( ) এটি একটি অপ্রমাণিত মতবাদ।

( ) এটি খ্রীষ্টধর্মকে অবমূল্যায়ন করে।

( ) এটি প্রমাণ করে যে মানুষ এবং বনমানুষ উভয়ের পূর্বপুরুষ একই।

৯। নিচের কোন উক্তিগুলো প্রমাণ করতে সাহায্য করে যে বাইবেল ঈশ্বর–নিশ্বসিত? (৫)

( ) এর জীবনীগুলোতে যেমন ভাল তেমনি মন্দ অন্তর্ভুক্ত করা আছে।

( ) এটি এর অনুসারীদের জীবন পরিবর্তন করে।

( ) পুরাতন নিয়মে মসীহের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো যীশু দ্বারা পূর্নতা পেয়েছে।

( ) এটি পৃথিবীর চারটি রাজ্যের উত্থানের পূর্বাভাস দিয়েছিলো।

( ) এতে আশ্চর্যজনক ঐক্য রয়েছে।

( ) এটি যীশুর দ্বিতীয় আগমনের দিন-ক্ষণ বলে দেয়।

১০। বাইবেল অনুযায়ী ঈশ্বর পৃথিবীকে ৬টি, আক্ষরিক, ২৪-ঘণ্টার দিনে সৃষ্টি করেছেন। (১)

( ) সত্য

( ) মিথ্যা

১১। নোহের দিনে, বিশ্বব্যাপী একটি জলপ্লাবন সামুদ্রিক জীব এবং জাহাজের মধ্যস্থিত সব কিছু ছাড়া অন্য সমস্ত জীব ধ্বংস করে দিয়েছিল (১)

( ) সত্য

( ) মিথ্যা

১২। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাগুলো বাবিলের উচ্চ দুর্গে উৎপত্তি হয়েছিলো। (১)

( ) সত্য

( ) মিথ্যা

১৩। ঈশ্বর আমাকে জীবনের সবচেয়ে ধাঁধানো প্রশ্নগুলোর ইতিবাচক উত্তর দিয়েছেন বলে আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।

( ) হ্যাঁ

( ) না