Lesson 4

ভাবুন তো আপনার পছন্দের একটি শহর আছে যেখানে রাস্তায় কোনো গর্ত নেই, নেই যানজট, নেই দূষণ, কিংবা কোনো প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। অসম্ভব মনে হচ্ছে? বাইবেলে এমন একটি নগরের কথা বলে যেখানে রাস্তাগুলো স্বর্ণে বাঁধানো থাকবে! আর এর খাঁটি সূর্যকান্তমণির তৈরী উঁচু প্রাচীরগুলোর ভেতরে কারো কোনো প্রকারের হাঁচি-কাশি থাকবে না, কিংবা ঠাণ্ডার কারণে কষ্ট পেতে হবে না। প্রত্যেকে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবে এবং পরস্পরের সঙ্গ উপভোগ করবে। আপনি কি ঐ নগরে ভ্রমণে যেতে চান? কেবল ভ্রমণই নয়, আপনি সেখানে বসবাসও করতে পারবেন! কীভাবে? জানতে হলে পড়তে থাকুন ... ।
1. অবিশ্বাস্য এই নগরের স্থপতি এবং নির্মাতা কে?
“ঈশ্বর তাঁহাদের ঈশ্বর বলিয়া আখ্যাত হইতে, তাঁহাদের বিষয়ে লজ্জিত নহেন; কারণ তিনি তাঁহাদের নিমিত্ত এক নগর প্রস্তুত করিয়াছেন” (ইব্রীয় ১১:১৬)।
উত্তর: বাইবেল বলে যে, ঈশ্বর তাঁর সন্তানদের নিমিত্ত অতি মনোরম এবং বিশাল এক নগর প্রস্তুত করেছেন—আর এটি পৃথিবীর অন্য যে কোনো নগরের মতোই বাস্তব!
2. এই আশ্চর্য নগরটি কোথায় আছে?
“আর আমি দেখিলাম, ‘পবিত্র নগরী, নূতন যিরূশালেম,’ স্বর্গ হইতে, ঈশ্বরের নিকট হইতে নামিয়া আসিতেছে” (প্রকাশিত বাক্য ২১:২)। “হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর ... তোমার নিবাস-স্থান স্বর্গে তাহা শুনিও, (১ রাজাবলি ৮:২৮, ৩০)।
উত্তর: এই মুহূর্তে ঐ পবিত্র নগরী এখন স্বর্গে নির্মানাধীন।
3. বাইবেল কীভাবে এই আশ্চর্য নগরীর বর্ণনা দিয়েছে?
উত্তর:
ক) নাম: ঐ নগরীর নাম “নূতন যিরূশালেম” (প্রকাশিত বাক্য ২১:২)।
খ) আকৃতি: “ঐ নগর চতুষ্কোণ, তাহার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান। আর তিনি সেই নল দ্বারা নগর মাপিলে দ্বাদশ সহস্র তীর পরিমাণ হইল” (প্রকাশিত বাক্য ২১:১৬)। নগরটি সম্পূর্ণ বর্গাকৃতির। এর পরিসীমা ১২,০০০ ফার্লং—যা ১,৫০০ মাইলের সমান। এর প্রত্যেকটি বাহুর দৈর্ঘ্য ৩৭৫ মাইল!
গ) প্রাচীর: “তাহার প্রাচীর মাপিলে, মনুষ্যের অর্থাত্ দূতের পরিমাণ অনুসারে ১৪৪ হস্ত হইল। প্রাচীরের গাঁথনি সূর্যকান্তমণির” (প্রকাশিত বাক্য ২১:১৭, ১৮)। ১৪৪ হাত—অর্থাত্ ২১৬ ফুট উঁচু একটি দেয়াল দাঁড়িয়ে!—নগরটিকে ঘিরে আছে। প্রাচীরটির গাঁথনি খাঁটি সূর্যকান্তমণির, যার রশ্মি এবং সৌন্দর্য বর্ণনাতীত! একবার ভেবে দেখুন: প্রায় ২০ তলা উঁচু এবং খাঁটি সূর্যকান্তমণির তৈরী!
ঘ) প্রবেশদ্বার: “তাহার বৃহত্ ও উচ্চ প্রাচীর আছে, দ্বাদশ পুরদ্বার আছে। ... পূর্বদিকে তিন দ্বার, উত্তরদিকে তিন দ্বার, দক্ষিণদিকে তিন দ্বার ও পশ্চিমদিকে তিন দ্বার। ... আর দ্বাদশ দ্বার দ্বাদশটি মুক্তা, এক এক দ্বার এক এক মুক্তায় নির্মিত” (প্রকাশিত বাক্য ২১:১২, ১৩, ২১)।
ঙ) ভিত্তিমূল: “আর নগরের প্রাচীরের দ্বাদশ ভিত্তিমূল ... সর্ববিধ মূল্যবান মণিতে ভূষিত। প্রথম ভিত্তিমূল সূর্যকান্তের, দ্বিতীয় নীলকান্তের, তৃতীয় তাম্রমণির, চতুর্থ মরকতের, পঞ্চম বৈদুর্যের, ষষ্ঠ সার্দ্দীয় মণির, সপ্তম স্বর্ণমণির, অষ্টম গোমেদকের, নবম পদ্মরাগের, দশম লশুনীয়ের, একাদশ পেরোজের, দ্বাদশ কটাহেলার” (প্রকাশিত বাক্য ২১:১৪, ১৯, ২০)। শহরটিতে ১২ টি, সম্পূর্ণ ভিত্তি আছে—প্রতিটি ভিত্তি মূল্যবান পাথর দিয়ে নির্মিত। রংধনুর প্রতিটি রঙ এমনভাবে প্রদর্শিত রয়েছে, যে দূর থেকে নগরটিকে একটি রংধনুর উপর স্থাপিত আছে বলে মনে হয়।
চ) রাস্তা (চক): “নগরের চক স্বচ্ছ কাচবত্, বিমল সুবর্ণময়” (প্রকাশিত বাক্য ২১:২১)।
ছ) বাহ্যিক রূপ: “পবিত্র নগরীটি ... আপন বরের নিমিত্ত বিভূষিতা কন্যার ন্যায় প্রস্তুত হইয়াছিল ... সে ঈশ্বরের প্রতাপ বিশিষ্ট, তাহার জ্যোতি বহুমূল্য মণির, স্ফটিকবত্ নির্মল সূর্যকান্তমণির তুল্য। ... ঐ নগর চতুষ্কোণ, তাহার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান” (প্রকাশিত বাক্য ২১:২, ১১, ১৬)। সেই নগরটি, তার সমস্ত মূল্যবান পাথরগুলো, স্বর্ণ, ঝলমলে সৌন্দর্যসহ ঈশ্বরের মহিমায় আলোকিত করা হবে। এর শ্বাসরুদ্ধকর মহিমা এবং বিশুদ্ধতাকে “আপন বরের নিমিত্ত বিভূষিতা কন্যার” সঙ্গে তুলনা করা হয়।
4. এই রাজকীয় নগরটির কোন্ অসাধারণ বৈশিষ্ট্য প্রত্যেক নাগরিককে শাশ্বত যৌবন ও সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দেয়?
“নদীর এপারে ওপারে জীবন-বৃক্ষ আছে, তাহা দ্বাদশ বার ফল উৎপন্ন করে, এক এক মাসে আপন আপন ফল দেয়, এবং সেই বৃক্ষের পত্র জাতিগণের আরোগ্যনিমিত্তক” (প্রকাশিত বাক্য ২২:২)। “জীবনবৃক্ষের ফলও পাড়িয়া ভোজন করে ও অনন্তজীবী হয়” (আদিপুস্তক ৩:২২)।
উত্তর: যে জীবন বৃক্ষে ১২ প্রকার ফল ধরে, সেটি নগরের মাঝখানে অবস্থিত
(প্রকাশিত বাক্য ২:৭), আর যারা তার ফল ভক্ষণ করে তাদের অন্তত জীবন এবং যৌবন দেয়। এমনকি এই বৃক্ষের পত্রে আশ্চর্যরকমের দীর্ঘায়ু দানের গুণাবলী রয়েছে। এ বৃক্ষটি প্রতি মাসে এক একটি নতুন ফল উৎপন্ন করবে।
5. সত্যিই কি এ আশ্চর্য নগরীটি এ পৃথিবীতে নেমে আসবে?
“আর আমি দেখিলাম, “পবিত্র নগরী, নূতন যিরূশালেম,” স্বর্গ হইতে, ঈশ্বরের নিকট হইতে নামিয়া আসিতেছে; সে আপন বরের নিমিত্ত বিভূষিতা কন্যার ন্যায় প্রস্তুত হইয়াছিল” (প্রকাশিত বাক্য ২১:২)। “ধন্য যাহারা মৃদুশীল, কারণ তাহারা দেশের অধিকারী হইবে” (মথি ৫:৫)। “পৃথিবীতে ধার্মিক প্রতিফল পাইবে!” (হিতোপদেশ ১১:৩১)।
উত্তর:হ্যাঁ! ঐ পবিত্র নগরীটি এই পৃথিবীতে নেমে এসে নতুন রূপে এই পৃথিবীর প্রধানকেন্দ্র হবে। সকল উদ্ধারপ্রাপ্ত বিশ্বাসীগণই ঐ নগরে বসবাস করার সুযোগ পাবে।

6. পাপ এবং অবিশ্বাসীদের অবস্থা কী হবে?
“দর্পী ও দুষ্টাচারীরা সকলে খড়ের ন্যায় হইবে; আর সেই যে দিন আসিতেছে, তাহা তাহাদিগকে পোড়াইয়া দিবে” (মালাখি ৪:১)। “মূলবস্তু সকল পুড়িয়া গিয়া বিলীন হইবে, এবং পৃথিবী ও তাহার মধ্যবর্তী কার্য সকল পুড়িয়া যাইবে” (২ পিতর ৩:১০)। “আর তোমরা দুষ্ট লোকদিগকে মর্দন করিবে; কেননা তাহারা তোমাদের পদতলের অধঃস্থিত ভস্ম হইবে” (মালাখি ৪:৩)। “কিন্তু তাঁহার প্রতিজ্ঞা অনুসারে আমরা এমন নূতন আকাশমণ্ডলের ও নূতন পৃথিবীর অপেক্ষায় আছি, যাহার মধ্যে ধার্মিকতা বসতি করে” (২ পিতর ৩:১৩)।
উত্তর: ঈশ্বর পৃথিবীকে পাপমুক্ত করবেন; এছাড়াও যাহারা পাপে লিপ্ত থাকবে তিনি গভীর দুঃখে তাদের কাছ থেকে এই পৃথিবীকে নিয়ে এসে শুদ্ধ করবেন। তারপর ঈশ্বর এক শুদ্ধ নতুন পৃথিবী তৈরী করবেন। ঐ পবিত্র নগরই হবে পৃথিবীর (নতুন) রাজধানী। এখানে উদ্ধারপ্রাপ্ত বিশ্বাসীগণ সুখে, শান্তিতে, পবিত্রতায় অনন্তকাল বসবাস করবে। ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন যে আর কখনোই পাপের উদ্ভব হবে না। (নহূম ১:৯) দেখুন।
7. যারা ঈশ্বরের নতুন সাম্রাজ্যে প্রবেশ করবে তাদেরকে তিনি কী কী রোমাঞ্চকর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন?
উত্তর:
8. নূতন পৃথিবী কীভাবে বর্ত্তমান পৃথিবী থেকে ভিন্ন হবে?
উত্তর:
- বিশাল মহাসাগরগুলো আজ আমরা যেমন দেখছি সেগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে “পরে আমি এক নূতন পৃথিবী ও এক নূতন আকাশ দেখিলাম, কেননা প্রথম আকাশ ও প্রথম পৃথিবী লুপ্ত হইয়াছে এবং সমুদ্র আর নাই” (প্রকাশিত বাক্য ২১:১)। আজ, পৃথিবীর পৃষ্ঠের ৭০ শতাংশই মহাসাগরে ঢেকে আছে। ঈশ্বরের নতুন রাজ্যে তেমনটি হবে না। আর সারা দুনিয়া একটি অতুলনীয় সুন্দর বড় বাগান হবে যেখানে ছড়িয়ে থাকবে ঝিল, নদী, আর পর্বতমালা। “আর তিনি আমাকে জীবন জলের নদী দেখাইলেন যাহা স্ফটিকের ন্যায় উজ্জ্বল” (প্রকাশিত বাক্য: ২২:১; প্রেরিত ৩:২০, ২১)।
- মরুভূমিগুলো উদ্যানে পরিবর্তিত হবে (যিশাইয় ৩৫:১, ২)।.
- প্রতিটি পশু পোষ মানবে। নেকড়ে, সিংহ, ভাল্লুক, ইত্যাদি—কোনও জীবই—অন্য প্রাণীদের শিকার করবে না, আর ক্ষুদ্র বালকেরা তাদের নেতৃত্ব দেবে (যিশাইয় ১১:৬-৯; যিশাইয় ৬৫:২৫)।
- সেখানে কোনো প্রকার অভিশাপ থাকবে না (প্রকাশিত বাক্য ২২:৩)। আদিপুস্তক ৩:১৭-১৯ পদে পাপের যে অভিশাপের বর্ণনা রয়েছে, তা বিলুপ্ত হবে।
- সেখানে আর কোনো প্রকার সহিংসতা থাকবে না (যিশাইয় ৬০:১৮)। অর্থাত্ আর কোনো অপরাধ, ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, টর্নেডো, জখম, ইত্যাদি ঘটবে না।
- অপবিত্রকর কোনও কিছু পাওয়া যাবে না (প্রকাশিত বাক্য ২১:২৭)। নতুন সাম্রাজ্যে কোনও মাতলামী, মদের দোকান, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়, বেশ্যালয়, অশ্লীল চিত্র, কিংবা যে কোনও প্রকার অশুদ্ধতা থাকবে না।
9. ঈশ্বরের রাজ্যে কি ছোট শিশুরা থাকবে? যদি থাকে, তাঁরা কি বেড়ে উঠবে?
“আর চকে ক্রীড়া করে, এমন বালক-বালিকাতে নগরের চক সকল পরিপূর্ণ হইবে” (সখরিয় ৮:৫)। “তোমরা বাহির হইয়া পালের গোবৎসদের ন্যায় নাচিবে (মালাখি ৪:২)।
উত্তর: ঐ পবিত্র নগরে বহু সংখ্যক ছোট শিশুরা খেলাধুলায় মেতে থাকবে (যিশাইয় ১১:৬–৯ পদ) আর তারা বৃদ্ধি পাবে। মানুষের পতন থেকে শুরু করে, আমাদের আকারে, বুদ্ধিমত্তায়, এবং জীবনী শক্তিতে অনেক অধঃপতন হয়েছে—তবে এটি আবার পুনরুদ্ধার হয়ে যাবে! (প্রেরিত ৩:২০, ২১)।
10. যখন স্বর্গে প্রিয়জনেরা পুনর্মিলিত হবেন, তারা কি একে অন্যকে চিনতে পারবে?
“তৎকালে আমি নিজে যেমন পরিচিত হইয়াছি, তেমনি পরিচয় পাইব” (১ করিন্থীয় ১৩:১২)।
উত্তর:বাইবেল স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে উদ্ধারপ্রাপ্ত মৃতদেরকে জীবিত করা হবে, তারা জীবিত উদ্ধারপ্রাপ্তদের সাথে মিলিত হইবে, এবং একসাথে ঈশ্বরের নতুন রাজ্যে প্রবেশ করবে (যিশাইয়: ২৬:১৯; যিরমিয় ৩১:১৫-১৭; ১ করিন্থীয় ১৫:৫১-৫৫; ১ থিষলনীকীয় ৪:১৩-১৮)। বাইবেল একথাও শিক্ষা দেয় যে ঈশ্বরের নতুন রাজ্যে প্রিয়জনেরা একে অন্যকে চিনতে পারবে, ঠিক যেমন আজকের দুনিয়াতে মানুষ একে অন্যকে চেনে।
11. স্বর্গের বাসিন্দারা কি অস্থি-মাংসে গঠিত হবে?
“তিনি (যীশু) আপনি তাহাদের মধ্যস্থানে দাঁড়াইলেন ও তাহাদিগকে বলিলেন, তোমাদের শান্তি হউক। ইহাতে তাহারা ত্রাসযুক্ত ও মহাভীত হইয়া মনে করিলেন আত্মা দেখিতেছি। তিনি তাহাদিগকে কহিলেন কেন উদ্বিগ্ন হইতেছ? তোমাদের অন্তরে বিতর্কের উদয়ই বা কেন হইতেছ? আমার হাত ও আমার পা দেখ, এ আমি স্বয়ং; আমাকে স্পর্শ কর, আর দেখ; কারণ আমার যেমন দেখিতেছ, আত্মার এরূপ অস্থি-মাংস নাই। ... তখনও তাঁহারা আনন্দ প্রযুক্ত অবিশ্বাস করিতেছিলেন এবং আশ্চর্য জ্ঞান করিতেছিলেন, তাই তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, তোমাদের কাছে এখানে কি কিছু খাদ্য আছে? তখন তাঁহারা তাঁহাকে একখানি ভাজা মাছ দিলেন। তিনি তাহা লইয়া তাঁহাদের সাক্ষাতে ভোজন করিলেন। ... পরে তিনি তাঁহাদিগকে বৈথনিয়ার সম্মুখ পর্যন্ত লইয়া গেলেন, এবং ... তিনি আশীর্বাদ করিতে করিতে তাঁহাদের হইতে পৃথক হইলেন, এবং ঊর্ধ্বে, স্বর্গে নীত হইতে লাগিলেন” (লূক ২৪:৩৬–৩৯, ৪১–৪৩, ৫০-৫১)। “এই যে যীশু তোমাদের নিকট হইতে স্বর্গে ঊর্ধ্বে নীত হইলেন, উহাঁকে যেরূপে স্বর্গে গমন করিতে দেখিলে, সেইরূপে উনি আগমন করিবেন” (প্রেরিত ১:১১)। প্রভু যীশু খ্রীষ্ট ... তিনি আমাদের দীনতার দেহকে রূপান্তর করিয়া নিজ প্রতাপের দেহের সমরূপ করিবেন” (ফিলিপীয় ৩:২০, ২১)।
উত্তর: যীশু তাঁর পুনরুত্থানের পর শিষ্যদের সামনে প্রমাণ দিয়েছেন যে তিনি অস্থি ও মাংসে জীবিত। তিনি তাঁদেরকে নিজের দেহ স্পর্শ করিয়ে এবং তাদের সামনে আহার করে সেটি প্রমাণ দিয়েছিলেন। অতঃপর যীশু স্বর্গারোহণ করে তাঁর পিতার কাছে গেলেন এবং তিনি পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। যারা উদ্ধারপ্রাপ্ত তাদেরকে যীশুর দেহের মতোই নতুন দেহাবয়ব দেয়া হবে এবং তারা চিরদিনের জন্য অস্থি ও মাংসময় দেহধারী লোক হয়ে জীবন-যাপন করবেন। তবে আমাদের সে দেহের ক্ষয় কিংবা মৃত্যু হবে না। যে শিক্ষায় বলা হয় যে যারা উদ্ধারপ্রাপ্ত তারা এমন নিছক আত্মা হবেন যারা কেবল মেঘে ভেসে বেড়িয়ে বীণা বাজানো ব্যতীত আর কিছুই করবেন না, এমন শিক্ষা বাইবেলভিত্তিক নয়। যারা যীশুর ভালোবাসা গ্রহণ এবং তাঁর পথ অনুসরণ করেছে তাদেরকে তিনি ঐ প্রকার তুচ্ছ কোনও ভবিষ্যত্ দেবার জন্য ক্রুশে হত হন নি। অধিকাংশ লোকেরই তেমনভাবে বেঁচে থাকার কোনও আগ্রহ নেই এবং, অতঃপর, ঈশ্বরের স্বর্গীয় রাজ্যে প্রবেশ করার কোনও বাসনা নেই—তারা স্বর্গে যেতে পছন্দ করেন কেবল এ কারণে যে তারা নরককে ভয় পান। প্রত্যেক ব্যক্তি যদি ঈশ্বরের পবিত্র নগরী এবং নতুন পৃথিবী সম্বন্ধে সত্যটা জানতে পারতো, তবে লক্ষ লক্ষ লোক তাঁর ভালোবাসা উপলব্ধি করতে শুরু করে তাঁর প্রতি ফিরে এসে সেই শান্তি, আনন্দ, এবং জীবনের লক্ষ্য উপভোগ করতে পারতো যার অভিজ্ঞতা পেতে তিনি তাদের জন্য নকশা করেছিলেন।
12. নতুন রাজ্যে লোকেরা কীভাবে তাদের সময় কাটাবে?
“লোকেরা গৃহ নির্মাণ করিয়া তাহার মধ্যে বসতি করিবে, দ্রাক্ষাক্ষেত্র প্রস্তুত করিয়া তাহার ফল ভোগ করিবে। তাহারা গৃহ নির্মাণ করিলে অন্যে বাস করিবে না, তাহারা রোপণ করিলে অন্যে ভোগ করিবে না ... এবং আমার মনোনীত লোকেরা দীর্ঘকাল আপন আপন হস্তের শ্রমফল ভোগ করিবে” (যিশাইয় ৬৫:২১, ২২)।
উত্তর: পরিত্রাণপ্রাপ্তগণ নতুন পৃথিবীতে স্বহস্তে নিজেদের গৃহ নির্মাণ করবে। (নগরে প্রতিটি ব্যক্তিরও এক একটি গৃহ থাকবে যেটি খ্রীষ্টের নির্মিত—যোহন ১৪:১–৩ দেখুন।) তারা দ্রাক্ষাক্ষেত্র রোপণ করে সেখান থেকে ফল খাবে। বাইবেল এ বিষয়ে স্পষ্ট: স্বর্গে বাস্তবেই লোকজন থাকবে এবং তাদের কর্মকাণ্ডও বাস্তব হবে, আর তারা এর সবটুকুই পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করবে।
13. মনোনীতগন স্বর্গে আর কী কী করবেন?
উত্তর:
- স্বর্গীয় গান গাইবেন এবং যন্ত্রসঙ্গীত বাজাবে (যিশাইয় ৩৫:১০; ৫১:১১; গীতসংহিতা ৮৭:৭; প্রকাশিত বাক্য ১৪:২, ৩)।
- প্রতি সপ্তাহে ঈশ্বরের সিংহাসনের সম্মুখে উপাসনা করবে (যিশাইয় ৬৬:২২, ২৩)।
- চিররঙ্গীন ফুল ও বৃক্ষাদি উপভোগ করবে (যিহিষ্কেল ৪৭:১২; যিশাইয় ৩৫:১, ২)।
- প্রিয়জন, পূর্ববংশধর, বাইবেলের চরিত্রদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবে (মথি ৮:১১; প্রকাশিত বাক্য ৭:৯–১৭)।
- স্বর্গের বিবিধ প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করবে (যিশাইয় ১১:৬–৯; ৬৫:২৫)।
- ক্লান্তিবিহীন ভ্রমণ এবং অভিযান করবে (যিশাইয় ৪০:৩১)।
- ঈশ্বরের কণ্ঠে আনন্দ-গান শ্রবণ করবে (সফনিয় ৩:১৭)।
- তাদের অন্তরের গভীরের আকাঙ্ক্ষাগুলো পূরণ হবে (গীতসংহিতা ৩৭:৩, ৪; যিশাইয় ৬৫:২৪)।
- সবচেয়ে আনন্দের বিষয়—তারা যীশুর মতো হওয়ার, তাঁর সাথে আলাপ ও ভ্রমণ করার, এবং তাঁকে সামনা-সামনি দেখার সুযোগ পাবে! (প্রকাশিত বাক্য ১৪:৪; ২২:৪; ২১:৩; ১ যোহন ৩:২)।
14. আমাদের স্বর্গের বাড়ির মহিমা মানুষের ভাষা দিয়ে সম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করা সম্ভব কি?
“চক্ষু যাহা দেখে নাই, কর্ণ যাহা শুনে নাই, এবং মনুষ্যের হৃদয়াকাশে যাহা উঠে নাই, যাহা ঈশ্বর, যাহারা তাঁহাকে প্রেম করে, তাহাদের জন্য প্রস্তুত করিয়াছেন” (১ করিন্থীয় ২:৯)।
উত্তর: এমনকি খেয়ালি স্বপ্নেও মানুষের মন ঈশ্বরের অনন্তকালীন রাজ্যের বিস্ময়ের বর্ণনা দিতে পারবে না। আদম যে স্বর্গটি হারিয়ে ফেলেছিলেন সেটির পুনরুদ্ধার হবে (প্রেরিত ৩:২০, ২১)।
15. এ রাজ্যটি কি ব্যক্তিগতভাবে আপনার জন্যই প্রস্তুত করা হচ্ছে?
“যে ইচ্ছা করে, সে বিনামূল্যেই জীবন-জল গ্রহণ করুক” (প্রকাশিত বাক্য ২২:১৭)। “অক্ষয় ... সেই দায়াধিকার স্বর্গে তোমাদের নিমিত্ত সঞ্চিত রহিয়াছে” (১ পিতর ১:৪)। “আমি তোমাদের জন্য স্থান প্রস্তুত করিতে যাইতেছি” (যোহন ১৪:২)।
উত্তর:হ্যাঁ! এটি আপনার জন্য ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে—ঠিক এ মুহূর্তেই। আর আপনার কাছে প্রভুর আমন্ত্রণটিও ব্যক্তিগতভাবে পাঠানো হয়েছে। দয়া করে তাঁর প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করবেন না।
16. আপনি কীভাবে সুনিশ্চিত হবেন যে এ মহৎ ও মহিমাময় রাজ্যে আপনার জন্য একটি স্থান আছে?
“দেখ, আমি দ্বারে দাঁড়াইয়া আছি, ও আঘাত করিতেছি; কেহ যদি আমার রব শুনে ও দ্বার খুলিয়া দেয়, তবে আমি তাহার কাছে প্রবেশ করিব” (প্রকাশিত বাক্য ৩:২০)। “যাহারা আমাকে হে প্রভু, হে প্রভু বলে, তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারিবে, এমন নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা পালন করে, সেই পারিবে” (মথি ৭:২১)। “ধন্য তাহারা, যাহারা আপন আপন পরিচ্ছদ ধৌত করে (তাঁর আজ্ঞাসমূহ পালন করে), যেন তাহারা জীবন-বৃক্ষের অধিকারী হয়, এবং দ্বার সকল দিয়া নগরে প্রবেশ করে” (প্রকাশিত বাক্য ২২:১৪)। “যত লোক তাঁহাকে গ্রহণ করিল, সেই সকলকে ... তিনি ঈশ্বরের সন্তান হইবার ক্ষমতা দিলেন” (যোহন ১:১২)। “তাঁহার পুত্র যীশুর রক্ত আমাদিগকে সমস্ত পাপ হইতে শুচি করে” (১ যোহন ১:৭)।
উত্তর: আপনার জীবন খ্রীষ্টের কাছে উত্সর্গ করুন এবং তাঁর মধ্যে থাকুন যেন তিনি আপনাকে পাপ এবং পাপের বাসনা থেকে মুক্তি দিতে পারেন। এ প্রক্রিয়াটি জটিল নয়! যখন আপনি যীশুতে থাকেন, তিনি আপনাকে প্রেমময় আনুগত্য থেকে তাঁর ইচ্ছা এবং তাঁর আদেশগুলি পালন করার শক্তি দেন। এর অর্থ আপনি খ্রীষ্ট যেমন জীবন-যাপন করতেন তেমনি জীবন-যাপন করতে আরম্ভ করবেন, এর অর্থ তিনি আপনাকে সব পাপের উপর জয়লাভ করতে সাহায্য করবেন। “যে জয় করে, সে এই সকলের অধিকারী হইবে” (প্রকাশিত বাক্য ২১:৭ পদ)।) পদ। একজন ব্যক্তি স্বর্গের জন্য প্রস্তুত হয়, যখন স্বর্গ তার হৃদয়ে থাকে।
17. আপনি কি যীশুর সঙ্গে তাঁর স্বর্গীয় রাজ্যে চিরকাল বসবাস করার গৌরবময় আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন?
আপনার উত্তর:
আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর
১। স্বর্গ কেমন করে একটি সুখের স্থান হতে পারে যখন উদ্ধারপ্রাপ্তগণ তাদের হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের কথা ভাববেন?
উত্তর: বাইবেল জ্ঞাত করে যে ঈশ্বর “তাহাদের সমস্ত নেত্রজল মুছাইয়া দিবেন”
(প্রকাশিত বাক্য ২১:৪)। নতুন পৃথিবীর সৌন্দর্য আর খুশিতে ঘিরে থাকার দরুন ঈশ্বরের উদ্ধারপ্রাপ্ত লোকেরা তাদের অতীতের দুঃখজনক ঘটনা এবং মর্মবেদনা ভুলে যাবে। যিশাইয় ৬৫:১৭ বলে, “পূর্বে যাহা ছিল, তাহা স্মরণে থাকিবে না, আর মনে পড়িবে না।”
২। বাইবেল বলে, “রক্ত মাংস ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকারী হইতে পারে না” (১ করি ১৫:৫০)। তাহলে, কীভাবে পুনরুদ্ধারপ্রাপ্তদের অস্থি-মাংসে গঠন সম্ভব? ?
উত্তর: এখানে ৩৫—৪৯ পদে প্রেরিত পৌল যা বলেছিলেন তার উপরই তিনি জোরারোপ করেছেন, যে আমাদের পুনরুত্থিত দেহগুলো আমাদের বর্তমান দেহের চেয়ে আলাদা হবে। পাপ আমাদের দেহে এবং আমাদের স্বভাবে পরিবর্তন এনেছে। অতঃপর, যখন আমরা পুনরুদ্ধারপ্রাপ্ত হয়ে স্বর্গে প্রবেশ করবো,
আমাদের দেহগুলো রূপান্তরিত হবে যেন আমরা স্বর্গের পরিপূর্ণ আনন্দ সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করতে
পারি। “রক্ত ও মাংস” হলো এ পৃথিবীতে থাকাকালীন আমাদের মানব দেহকে নির্দেশ করবার জন্য
একটি ভাষালঙ্কার মাত্র খন আমাদের দেহ বদলে যাবে যেন আমরা স্বর্গের আনন্দ উপভোগ করতে পারি। (মথি ১৬:১৭; গালাতীয় ১:১৬, ১৭; ইফিষীয় ৬:১২ পড়ুন)। খ্রীষ্ট, তাঁর পুনরুত্থিত দেহে, ঘোষণা করলেন যে তিনি সত্যিই “অস্থি ও মাংসময়” ছিলেন (লূক ২৪:৩৯)। আর ফিলিপীয় ৩:২১ অনুযায়ী, আমরাও তাঁর মতো দেহের অধিকারী হবো।
৩। প্রেরিত পিতর কি পবিত্র নগরটির দ্বারের রক্ষী হবেন?
উত্তর: না। প্রকাশিত বাক্য ২১:১২ পদে বাইবেল বলে যে নূতন যিরূশালেমে—অর্থাত্ ঈশ্বরের সেই পবিত্র নগরে—মোট ১২টি দ্বার রয়েছে, এবং সেই দ্বারগুলোতে ১২ জন স্বর্গদূত থাকবে। বাইবেলে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি যে প্রেরিতদের কেউ দ্বারগুলোর রক্ষী হিসেবে থাকবেন।
৪। পবিত্র নগরটি কি সত্যিই এত বড় যে যুগ যুগ ধরে উদ্ধারপ্রাপ্ত সকলের জন্য সেখানে যথেষ্ট স্থান আছে?
উত্তর: উদ্ধারপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে যদি ভূমিতে ১০০ বর্গফুট করে জায়গা দেয়া হতো, তবে সেই নগরে ৩৯০০ কোটি লোকের জন্য জায়গা হতো, যা পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যার চেয়ে বহুগুণ। অনেক পরিসংখ্যানবিদ বিশ্বাস করেন যে এ যাবত্ পৃথিবীতে যত লোক বাস করেছে তাদের সবাই যদি উদ্ধার পায়, তবে পবিত্র নগরে তাদের জন্য প্রচুর জায়গা থাকবে। যদিও বা, শাস্ত্র স্পষ্ট করে বলে, সবাই যে উদ্ধার পাবে এমন নয় (মথি ৭:১৪)। এইভাবে, সেই বিশাল নগরে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি জায়গা থাকবে।
৫। মাঝে মধ্যে আমি ভাবি আমরা যে ত্যাগস্বীকার করি তার যথার্থ মূল্য আছে কি নেই। মনে হয় যেন শয়তান আমাকে প্রায় বিভ্রান্ত করে ফেলবে, বাইবেল কি এ বিষয়ে কোনও আশ্বাস দেয়?
উত্তর: হ্যাঁ। প্রেরিত পৌল যখন লিখেছিলেন, “আমাদের প্রতি যে প্রতাপ প্রকাশিত হইবে, তাহার সঙ্গে এই বর্তমান কালের দুঃখভোগ তুলনার যোগ্য নয়” (রোমীয় ৮:১৮)। সেই অনন্ত রাজ্যে আপনার স্বর্গস্থ পিতা যিনি আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছেন, তাঁকে এক পলক দেখামাত্রই এ পৃথিবীর নিকৃষ্টতম পরীক্ষা ও প্রলোভন শূণ্যে মিলিয়ে যাবে।
৬। যে সব শিশুদের মৃত্যু হয় তাদের কি ঈশ্বরের রাজ্যে নেয়া হবে?
উত্তর:এ প্রশ্নের উত্তর বাইবেলে সরাসরি দেয়া হয় নি, তবে প্রশ্নের উত্তর সরাসরি বাইবেলে নেই, তবে মথি ২:১৬–১৮-এর ভিত্তিতে অনেকেই একথা বিশ্বাস করেন যে শিশুরা রক্ষা পাবে, যেখানে বাইবেল রাজা হেরোদের বৈথলেহমে শিশু পুত্রসন্তানদের হত্যা করার কথা বলে। পুরাতন নিয়ম এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে পূর্বাভাস দিয়েছিল, কিন্তু ঈশ্বর মায়েদের তাদের কান্না থামাতে বলেছিলেন যেহেতু একদিন তাদের সন্তানদের তাদের কাছে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়া হবে। “তোমার রোদনের শব্দ ও চক্ষের জল নিবৃত্ত কর। ... তোমার সন্তানগণ আপনাদের অঞ্চলে ফিরিয়া আসিবে” (যিরমিয় ৩১:১৬, ১৭)।
৭। আমি কি সঠিকভাবে বুঝেছি যে উদ্ধারপ্রাপ্তদের বাড়ি এই পৃথিবীতেই হবে?
উত্তর: হ্যাঁ! যদিও পবিত্র নগরটি এখন ঈশ্বরের নিবাসস্থানে রয়েছে, তিনি নগরটি এই পৃথিবীতে আনতে যাচ্ছেন। পবিত্র নগরটি হবে নতুন পৃথিবীর রাজধানী, আর ঈশ্বর তাঁর সিংহাসন এখানে স্থানান্তরিত করবেন (প্রকাশিত বাক্য ২১:২, ৩; ২২:১, ৩) এবং অনন্তকালব্যাপী উদ্ধারপ্রাপ্তদের সঙ্গে ঠিক এই পৃথিবীতেই বসবাস করবেন। আর প্রভু যেথায় বসবাস করেন, সেটিই স্বর্গ। ঈশ্বরের পরিকল্পনা হলো আদম যা হারিয়েছিল সে অবস্থায় আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া: একটি নিখুঁত গ্রহে একটি নিখুঁত জীবন-যাপনের মহিমা। শয়তান এবং পাপ ঈশ্বরের পরিকল্পনায় বাধা দিয়েছিল, তবে তা এবার সফল হবে। এই নতুন রাজ্যে আমরা সবাই মিলে ভাগাভাগি করে থাকতে পারবো—এটি হাতছাড়া করলে খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাবে! (বাড়তি তথ্যের জন্য সহায়িকা বই ১২ দেখুন।)
৮। কেন অনেকেই মনে করেন যে রক্ষাপ্রাপ্তদের বাড়িটি হবে একটি কুয়াশাচ্ছন্ন স্থান যেখানে ভৌতিক বাসিন্দাগণ বাস করবেন আর কেবল মেঘে ভেসে বেড়িয়ে বীণা বাজানো ব্যতীত আর কিছুই করবেন না?
উত্তর: এই প্রকার শিক্ষার উত্পত্তি শয়তান থেকে, যে সমস্থ মিথ্যার জন্মদাতা (যোহন ৮:৪৪)। সে ঈশ্বরের প্রেমময় পরিকল্পনাকে বিকৃত করতে এবং স্বর্গকে একটি অবাস্তব, “ভুতুড়ে” স্থান হিসেবে উপস্থাপন করতে অধীর আগ্রহী যেন লোকেরা ঈশ্বরের বাক্যে পুরোপুরি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং সন্দেহপ্রবণ হয়। শয়তান জানে যে, বাইবেলে উদ্ধারপ্রাপ্তদের বাড়ির বিষয়ে যে সত্য রয়েছে নর-নারীগণ যখন তা সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারবে, তখন তাদের উপর তার নিয়ন্ত্রণ-ক্ষমতা চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে, কারণ তারা সেই রাজ্যে যাবার পরিকল্পনা করতে শুরু করবে। এ কারণেই সে এ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি জন্মাবার লক্ষ্যে এতটা শ্রম দিয়ে কাজ করে এবং আমাদের স্বর্গীয় বাড়িকে নিয়ে মিথ্যা ছড়ায়।
সারসংক্ষেপ
দয়া করে এই প্রশ্নের সমাধান করার আগে পাঠটি পড়ে নিন। সমস্ত উত্তর আপনি এই সহায়িকা বইটিতে পেয়ে যাবেন।। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দিন। বন্ধনীর সংখ্যাগুলো (১) সঠিক উত্তরের সংখ্যা নির্দেশ করে।
১। মহাকাশের পবিত্র নগরীটি (১)
( ) বাস্তব নয় কিন্তু কেবল রূপক মাত্র।
( ) একটি বাস্তব নগর যা ঈশ্বর তার নিবাসে এখন তৈরি করছেন।
( ) কেবল কিছু লোকের মনের ভেতর ছাড়া আর কোথাও এর অস্তিত্ব নেই।
২। এই পবিত্র নগরিটি (১)
( ) একটি পারমাণবিক বিস্ফোরণ দ্বারা ধ্বংস করা হবে।
( ) শয়তান এবং তার পতিত দূত দ্বারা অধিকার হবে।
( ) এই পৃথিবীতে নেমে আসবে এবং পৃথিবীর নতুন রাজধানী হবে।
৩। নীচে দেওয়া তালিকায় পবিত্র নগরী সম্বন্ধে বাইবেলভিত্তিক সত্য তথ্যটি চিহ্নিত করুন: (৭)
( ) একে নূতন যিরূশালেম বলা হয়।
( ) এর আয়তন লন্ডনের সমান।
( ) এর দেয়ালগুলি পুষ্পরাগমণির।
( ) নগরটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান।
( ) এর রাস্তাগুলো খাঁটি স্বর্ণে নির্মিত।
( ) নগরের ১৪টি ভিত্তিমূল রয়েছে।
( ) প্রেরিত পিতর এর দ্বারে দাঁড়িয়ে আছেন।
( ) এর ১২টি দ্বারের প্রত্যেকটি একটি মুক্তা থেকে তৈরি।
( ) এর পরিসীমা ১,৫০০ মাইল।
( ) এর সমস্ত ভিত্তিমূলগুলো বহুমূল্য পাথর দিয়ে তৈরি।
( ) নগরটির মাপ নিখুঁত অনুপাতে থাকবে।
৪। জীবন বৃক্ষ (১)
( ) একটি বাস্তব বৃক্ষ যা ঈশ্বরের লোকদের অনন্তকালী সুস্বাস্থ্য ও যৌবন দেবে।.
( ) একটি ভাষালঙ্কার যা শুধুমাত্র এটুকুই বোঝায় যে ঈশ্বর তাঁর লোকদের শক্তি যোগাবেন।
( ) আদিতে ছিল কিন্তু নতুন রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে না।
৫। নীচের তালিকায়, যেগুলো ঈশ্বরের নতুন রাজ্যের লোকদের কাছে বাইবেলের দেয়া সত্যিকারের প্রতিশ্রুতি তার সবগুলো চিহ্নিত করুন (৫)
( ) ঈশ্বর প্রতিটি দিনই বিবাহ সম্পাদন করবেন।
( ) জীবন বৃক্ষ ২০ প্রকার ফল ধারণ করবে।
( ) প্রভু স্বয়ং তাঁর লোকদের সঙ্গে বসবাস করবেন।
( ) দশ লক্ষ বছর পর, সাধুগন বিরক্ত বোধ করবেন।
( ) সেখানের কোনও মৃত্যু কিংবা যন্ত্রণা থাকবে না।
( ) লোকেরা কখনও ক্লান্ত হবে না।
( ) পক্ষাঘাতগ্রস্তদের স্বর্গদূতেরা বহন করে ঘুরে বেড়াবে।
( ) স্বর্গদূতেরা চিকিত্সক হিসেবে থাকবেন এবং সব প্রকার অস্ত্রোপচার করবেন।
( ) অন্ধেরা আর অন্ধ থাকবে না।
( ) হিংসা, ভয়, ঘৃণা, মিথ্যাচার, ঈর্ষা, এবং সব ধরণের অপবিত্রতা চিরতরে চলে যাবে।
( ) শিশুরা বৃদ্ধি পাবে না।
৬। নিচের যে যে উক্তিগুলো নতুন পৃথিবীর বিষয়ে সম্বন্ধে সত্য কথা বলে সেগুলো চিহ্নিত করুন (৬)
( ) আজকের সমুদ্রগুলো আর থাকবে না।
( ) মরুভূমিগুলো আরও বড় আকৃতির হবে।
( ) জন্তুগুলোকে মনোরম স্বর্গীয় খাঁচায় রাখা হবে।
( ) টর্নেডো, ভূমিকম্প, এবং বন্যা হবে না।
( ) স্বর্গদূতেরা প্রতিদিন যত্নের সাথে রাস্তা থেকে আবর্জনা সরাবে।
( ) ফুলগুলো এবং গাছপালা শুকনো কিংবা বিবর্ণ হবে না।
( ) এই পৃথিবীতেই স্বর্গ হবে।
( ) দ্বিতীয়বার আর পাপের আবির্ভাব হবে না।
( ) সম্পূর্ণ নতুন পৃথিবীটির মহিমার বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না।
৭। স্বর্গীয় রাজ্যে বসবাসকারী ধার্মিকগণ (১)
( ) ভূত হয়ে মেঘে ভেসে ভেসে বীণা বাজাবেন।రు.
( ) সেখানে অন্যান্য যেসব প্রিয়জন ও বন্ধুরা থাকবেন তাদের চিনতে পারবেন না।
( ) অস্থি মাংসের বাস্তব দেহধারী হবেন এবং একে অপরকে চিনতে পারবেন।
৮। আমরা জানি যে স্বর্গে বসবাসকারী লোকজন বাস্তবে থাকবেন এবং বাস্তব কর্মকাণ্ড করবেন কারণ (১)
( ) বিজ্ঞান একথার চূড়ান্ত প্রমাণ দিয়েছে।
( ) বাইবেল বলে আমরা খ্রীষ্টের মতো হবো, পুনরুত্থানের পর যাঁর অস্থি-মাংসের দেহ ছিল এবং যিনি বাস্তব কর্মকাণ্ড করেছেন।
( ) অনেক প্রচারকই এমনটি হবে বলে জানিয়েছেন।
৯। সেই স্বর্গীয় রাজ্যে আমি একটি স্থান পাব বলে নিশ্চিত হব যদি আমি (১)
( ) প্রতিদিন বলি যে আমি ঈশ্বরকে প্রেম করি।
( ) আমি নরককে যথেষ্ট ভয় পাই।
( ) খ্রীষ্টকে গ্রহন করি, তাঁর পথে থাকি, এবং তাঁর আজ্ঞাগুলো মেনে চলি।
১০। স্বর্গীয় রাজ্যে উদ্ধারপ্রাপ্তরা কী করবে? নিচে তালিকাভুক্ত বাইবেলভিত্তিক সত্য ঘটনাগুলো চিহ্নিত করুন (৫)
( ) গৃহ নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করবে।
( ) দ্রাক্ষাক্ষেত্রে রোপন করবে।
( ) জীব–জন্তু শিকার করে সেগুলো ভক্ষণ করবে।
( ) স্বর্গীয় বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে প্রশংসা গান করবে।
( ) ঈশ্বরের সিংহাসনের সম্মুখে উপাসনা করবে।
( ) নরকের উপর দিয়ে উড়ে উদ্ধার অপ্রাপ্তদের সঙ্গে ব্যঙ্গ করবে।
( ) জীবন বৃক্ষের ফল ভোজন করবে।
১১। আমি যীশুর রাজ্যে তাঁর সঙ্গে চিরকাল বসবাস করার সুযোগ গ্রহন করতে চাই।
( ) হ্যাঁ
( ) না



