Lesson 12
আপনিনিশ্চিত থাকতে পারেন যে, যীশুর আগমনের পর অবিশ্বাস্য এক সহস্র বছর আসতে চলেছে। আর দিয়াবল চায় না যে, এই খবর, অর্থাৎ, তার হাজার বছরের কারাদণ্ডের সময়টি আপনি জানেন, কারণ সে আশঙ্কা করছে যে, তখন তার আসল চরিত্রটি প্রকাশ পাবে। প্রকৃতপক্ষে শয়তান কেবল আপনাকেেই প্রতারিত করতে এই সহস্রাব্দের বিষয়ে মনগড়া একটি নকল বার্তা এনেছে! আমরা একটি অসাধারণ, চিত্তাকর্ষক বিষয়ে আলোচনা করবো যা আপনি এ যাবৎ যা কিছু জেনেছেন সব বদলে দিতে পারে। তবে আপাতত আপনি অবিলম্বে আসন্ন ১,০০০ বছরের বিষয়ে বাইবেলের বিস্ময়কর সত্যগুলো সম্বন্ধে জানতে পারেন!
1. এই ১,০০০ বছরের শুরুতে কী ঘটনা ঘটে?
“তাহারা জীবিত হইয়া সহস্র বৎসর খ্রীষ্টের সহিত রাজত্ব করিল” (প্রকাশিত বাক্য ২০:৪)। (মৃত্যুর সম্বন্ধে আরও জানতে হলে আমাদের ১০ নম্বর সহায়িকা বইটি দেখুন।)
উত্তর: ১,০০০ বছর-কালের শুরু হয় একটি পুনরুত্থানের মাধ্যমে।
2. এই পুনরুত্থানকে কী বলা হয়? এতে কারা উত্থিত হবে?
“ইহা প্রথম পুনরুত্থান। যে কেহ এই প্রথম পুরুত্থানের অংশী হয়, সে ধন্য ও পবিত্র” (প্রকাশিত বাক্য ২০:৫, ৬)।
উত্তর: একে প্রথম পুনরুত্থান বলা হয়। যারা উদ্ধারপ্রাপ্ত—সকল বয়সের “ধন্য ও পবিত্র” তারা—এ সময়ে উত্থিত হবেন।

“যে পর্যন্ত সেই সহস্র বৎসর সমাপ্ত না হইল, সেই পর্যন্ত অবশিষ্ট মৃতেরা জীবিত হইল না”
(প্রকাশিত বাক্য ২০:৫)। “কবরস্থ সকলে তাঁহার রব শুনিবে, এবং যাহারা সৎকার্য করিয়াছে, তাহারা জীবনের পুনরুত্থানের জন্য, ও যাহারা অসৎকার্য করিয়াছে, তাহারা বিচারের পুনরুত্থানের জন্য বাহির হইয়া আসিবে” (যোহন ৫:২৮, ২৯)।
উত্তর: দ্বিতীয় পুনরুত্থান তখন হবে যখন ১,০০০ বছর শেষ হবে। এই পুনরুত্থানে অবিশ্বাসীগণ উত্থিত হবে। একেই বিচারের পুনরুত্থান বলা হয়।
দয়া করে লক্ষ্য করুন:
ধার্মিকদের পুনরুত্থানে ১,০০০ বছরের সুচনা হয়। আর অধার্মিকদের পুনরুত্থানে হয় ১,০০০ বছরের সমাপ্তি।

“দেখ, তিনি “মেঘ সহকারে আসিতেছেন,” আর প্রত্যেক চক্ষু তাঁহাকে দেখিবে” (প্রকাশিত বাক্য ১:৭)। “প্রভু স্বয়ং আনন্দধ্বনি সহ, ...
স্বর্গ হইতে নামিয়া আসিবেন, আর যাহারা খ্রীষ্টে মরিয়াছে, তাহারা প্রথমে উঠিবে। পরে আমরা যাহারা জীবিত আছি, যাহারা অবশিষ্ট থাকিব, আমরা আকাশে প্রভুর সহিত সাক্ষাৎ করিবার নিমিত্ত একসঙ্গে তাহাদের সহিত মেঘযোগে নীত হইব” (১ থিষলনীকীয় ৪:১৬, ১৭)। “এক মহাভূমিকম্প হইল, পৃথিবীতে মনুষ্যের উৎপত্তিকাল অবধি যেমন কখনও হয় নাই, এমন প্রচণ্ড মহাভূমিকম্প হইল। ... আর আকাশ হইতে মনুষ্যদের উপরে বৃহৎ বৃহৎ শিলাবর্ষণ হইল, তাহার এক একটি এক এক তালন্ত পরিমিত” (প্রকাশিত বাক্য ১৬:১৮, ২১)।
(এ ছাড়াও যিরমিয় ৪:২৩—২৬; যিশাইয় ২৪:১, ৩, ১৯, ২০ যিশাইয় ২:২১ পদ দেখুন।) বিদ্বানগণ এক তালন্তের ওজন ৫৮ থেকে ১০০ পাউন্ড পর্যন্ত অনুমান করেন!
উত্তর: ১,০০০ বছরের প্রারম্ভে অন্যান্য যে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো ঘটবে সেগুলো হল: পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বিধ্বংসী ভুমিকম্প এবং শিলাবৃষ্টি হবে; যীশু তাঁর লোকদের জন্য মেঘরথে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন; আর সমস্ত বিশ্বাসীগণকে যীশুর সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য মেঘরথে নেওয়া হবে। (খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমনের বিষয়ে আরও জানার ৮ নম্বর সহায়িকা বইটি দেখুন)।

5.যারা রক্ষা পাবে না—জীবিত থাকুক কিংবা মৃত হোক—তাদের কী অবস্থা হবে?
“তিনি ... আপন ওষ্ঠাধরের নিশ্বাস দ্বারা দুষ্টকে বধ করিবেন” (যিশাইয় ১১:৪)।
“যখন প্রভু যীশু স্বর্গ হইতে তাঁহার পরাক্রমশালী দূতগণের সহিত জ্বলন্ত অগ্নিবেষ্টনে প্রকাশিত হইবেন, এবং যাহারা ঈশ্বরকে জানে না ... তাহাদিগকে সমুচিত দণ্ড দিবেন” (২ থিষলনীকীয় ১:৭, ৮)। “ঈশ্বরের সম্মুখে দুষ্টগণ বিনষ্ট হউক” (গীতসংহিতা ৬৮:২ পদ)। “যে পর্যন্ত সেই সহস্র বৎসর সমাপ্ত না হইল, সেই পর্যন্ত অবশিষ্ট মৃতেরা জীবিত হইল না” (প্রকাশিত বাক্য ২০:৫)।
উত্তর: যে সমস্ত জীবিতরা রক্ষা পাবে না, খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমনে তাঁর মহিমায় তাদের মৃত্যু হবে। যীশুর কবরে যখন এক স্বর্গদূতের আবির্ভাব হয়, তখন রোমীয় প্রহরীদের সম্পূর্ণ দলটিই ভয়ে কম্পিত হয়ে মৃত মানুষের মতো হয়ে পড়ে যায় (মথি ২৮:২, ৪)। যখন সব স্বর্গদূতগণ, সেই সঙ্গে পিতা ঈশ্বর, এবং পুত্রের উজ্জ্বলতার তেজ একসঙ্গে মিলিত হবে, তখন পাপী মানুষদের মৃত্যু হবে যেন বজ্র তাদের আঘাত করেছে। আর যীশুর আগমনের সময়ে যারা পূর্ব থেকেই মৃত ছিলো তারা ১,০০০ বছরের শেষ পর্যন্ত নিজ নিজ কবরেই থাকবে।
6. অনেকে মনে করেন অবিশ্বাসীরা হয়তো ঐ ১,০০০ বছর ব্যাপী অনুতপ্ত হওয়ার একটি সুযোগ পাবে। বাইবেল এ সম্বন্ধে কী বলে?
“সদাপ্রভুর নিহত লোক সকল পৃথিবীর এক প্রান্ত হইতে পৃথিবীর অন্য প্রান্ত পর্যন্ত দেখা যাইবে; কেহ তাহাদের নিমিত্ত বিলাপ করিবে না, এবং তাহাদিগকে সংগ্রহ করা কি কবর দেওয়া যাইবে না, তাহারা ভূমির উপরে সারের ন্যায় পতিত থাকিবে” (যিরমিয় ২৫:৩৩)। “ আমি দৃষ্টিপাত করিলাম, আর দেখ, মনুষ্যমাত্র নাই” (যিরমিয় ৪:২৫)।

উত্তর: ঐ ১,০০০ বছর ব্যাপী কারও পক্ষে অনুতপ্ত হওয়া অসম্ভব কারণ পৃথিবীতে একটি মানুষও জীবিত থাকবে না। ধার্মিকগণ সবাই স্বর্গে থাকবেন। দুষ্টগণ সবাই পৃথিবীর উপর মৃত পড়ে থাকবে। প্রকাশিত বাক্য ২২:১১, ১২ এটা স্পষ্ট বলে যে যীশু আসার আগে প্রত্যেক ব্যক্তির বিচার সম্পূর্ণ হবে। যারা খ্রীষ্টকে গ্রহণ করতে ১,০০০ বছরের শুরু পর্যন্ত দেরী করবে তাদের খুব বেশী বিলম্ব হয়ে যাবে।
7. বাইবেল বলে যে শয়তান ঐ ১,০০০ বছর “অগাধলোকে” আবদ্ধ থাকবে। এই অগাধলোকটি কী?
“আমি স্বর্গ হইতে এক দূতকে নামিয়া আসিতে দেখিলাম, তাঁহার হস্তে অগাধলোকের চাবি ... ছিল। তিনি সেই নাগকে ধরিলেন; এ সেই পুরাতন সর্প, এ দিয়াবল [অপবাদক] এবং শয়তান [বিপক্ষ]; তিনি তাহাকে সহস্র বৎসর বদ্ধ রাখিলেন, আর তাহাকে অগাধলোকের মধ্যে ফেলিয়া [দিলেন] ... ঐ সহস্র বৎসর সম্পূর্ণ না [হওয়া পর্যন্ত]” (প্রকাশিত বাক্য ২০:১—৩)।
উত্তর: “অগাধলোক”-এর মূল গ্রীক শব্দ হল “অবিয়ূসস,” বা “অ্যাবিস।” এটিই গ্রীক অনুবাদে আদিপুস্তক ১:২ পদে পৃথিবী সৃষ্টির ঘটনায় ব্যবহার করা হয়, কিন্তু সেটিকে “জলধি” শব্দে অনুবাদ করা হয়। “পৃথিবী ঘোর ও শূন্য ছিল, এবং অন্ধকার জলধির উপরে ছিল।” এখানে “জলধি,” “অগাধলোক,” এবং “অবিয়ূসস” শব্দ তিনটি একই জিনিসকে বোঝায়—যা ঈশ্বর পৃথিবীকে সুশৃঙ্খল করার আগে পৃথিবীর অন্ধকারাচ্ছন্ন, অপরিপাটি অবস্থা। এই ১,০০০ বছর ব্যাপী পৃথিবী কেমন থাকবে, তা বোঝাতে যিরমিয় আদিপুস্তক ১:২-এর সেই একই অর্থবোধক শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন: “ঘোর ও শূন্য,” “অন্ধকার,” “দীপ্তি ছিল না,” “মনুষ্যমাত্র নাই,” “কৃষ্ণবর্ণ (যিরমিয় ৪:২৩, ২৫, ২৮)। সুতরাং জীবিত জনমানব শূন্য এই আঘাতপ্রাপ্ত, অন্ধকার পৃথিবীকে ঐ ১,০০০ বছর ব্যাপী অগাধলোক, কিংবা, অ্যাবিস বলা হবে, ঠিক যেমন সৃষ্টির শুরুতে ছিল। তাছাড়া যিশাইয় ২৪:২২ পদ ঐ ১,০০০ বছর ব্যাপী দিয়াবল ও তার দূতদের “কূপে একত্রীকৃত” এবং “কারাগারে বদ্ধ” থাকার কথা বলে।

“এক দূতকে ... দেখিলাম ... তাঁহার হস্তে ... বড় এক শৃঙ্খল ছিল। তিনি সেই নাগকে [অর্থাৎ শয়তানকে] ধরিলেন ... এবং ... তাহাকে সহস্র বৎসর বদ্ধ রাখিলেন, আর ... সেই স্থানের মুখ বদ্ধ করিয়া মুদ্রাঙ্কিত করিলেন; যেন ঐ সহস্র বৎসর সম্পূর্ণ না হইলে সে জাতিবৃন্দকে আর ভ্রান্ত করিতে না পারে” (প্রকাশিত বাক্য ২০:১-৩)।

উত্তর: শৃঙ্খল একটি প্রতীক—যা ঘটনার পরিস্থিতিকে বোঝায়। এক অলৌকিক প্রাণীকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা অসম্ভব। শয়তান শৃঙ্খলিত কারণ সেখানে সে বিভ্রান্ত করার জন্য আর কাউকে পাবে না। তখন অবিশ্বাসীগণ সকলেই মৃত থাকবে এবং বিশ্বাসীগণ সকলে স্বর্গে বসবাস করতে থাকবে। ঈশ্বর শয়তানকে পৃথিবীতে বদ্ধ রাখেন যেন সে পৃথিবীতে কাউকে প্রতারিত করার জন্য খুঁজে না বেড়াতে পারে। শয়তানের জন্য, তার দূতেদের সঙ্গে হাজার বছর এই পৃথিবীতে, কাউকে প্রতারিত করতে না পারার শাস্তি থেকে তার আর কী বড় শাস্তি হতে পারে।
- মহাভূমিকম্প ও প্রবল শিলা বৃষ্টি হবে (প্রকাশিত বাক্য ১৬:১৮—২১)
- ধার্মিকগণকে সঙ্গী করার জন্য যীশু দ্বিতীয়বার আসবেন (মথি ২৪:৩০, ৩১)
- মৃত বিশ্বাসীগণ পুনরুজ্জীবিত হবে (১ থিষলনীকীয় ৪:১৬)
- বিশ্বাসীগণ অমরত্ব লাভ করবে (১ করিন্থীয় ১৫:৫১—৫৫)
- বিশ্বাসীগণ যীশুর মতো দেহ লাভ করবে (১ যোহন ৩:২; ফিলিপীয় ৩:২০, ২১)
- সব বিশ্বাসীগণ যীশুর কাছে মেঘে নীত হবে (১ থিষলনীকীয় ৪:১৭)
- ঈশ্বরের মুখ-নির্গত নিঃশ্বাসে জীবিত অবিশ্বাসীদের মৃত্যু হবে (যিশাইয় ১১:৪)
- অবিশ্বাসী মৃতেরা ১,০০০ বছর শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কবরেই থাকবে (প্রকাশিত বাক্য ২০:৫)
- যীশু ধার্মিকদের স্বর্গে নিয়ে যাবেন (যোহন ১৩:৩৩, ৩৬; ১৪:২, ৩)
- শয়তান অবরুদ্ধ হবে (প্রকাশিত বাক্য ২০:১—৩)

“আমি কয়েকটি সিংহাসন দেখিলাম; সেইগুলির উপরে কেহ কেহ বসিলেন, তাঁহাদিগকে বিচার করিবার ভার
দত্ত হইল ... তাহারা জীবিত হইয়া সহস্র বৎসর খ্রীষ্টের সহিত রাজত্ব করিল” (প্রকাশিত বাক্য ২০:৪)। “তোমরা কি জান না যে, পবিত্রগণ জগতের বিচার করিবেন? ... তোমরা কি জান না যে, আমরা দূতগণের বিচার করিব?” (১ করিন্থীয় ৬:২, ৩)।
উত্তর: সব সুরক্ষিত বিশ্বাসীগণ, এমন কি দূতেরাও ১,০০০ বছরের ঐ বিচারে অংশগ্রহণ করবে। সব দুষ্ট লোক, সেই সঙ্গে শয়তান ও তার দূতদের ইতিবৃত্ত পর্যালোচনা করা হবে। যারা উদ্ধার পায়নি, তাদের ব্যাপারে উদ্ধারপ্রাপ্তদের মনে যদি কোন প্রশ্ন থেকে থাকে, এই বিচারে তার সব উত্তর স্পষ্ট হয়ে যাবে। পরিশেষে সবাই দেখবে কেবল তারাই স্বর্গ বহির্ভূত যারা যীশুর মতো চলতে চায়নি কিংবা তাঁর সঙ্গ লাভ করতে চায়নি।
- ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প ও বিশাল বিশাল শিলাবর্ষণের কারণে পৃথিবীর ভগ্নদশা হবে (প্রকাশিত বাক্য ১৬:১৮—২১)
- পৃথিবী সম্পূর্ণ অন্ধকারময় এবং জনশূন্য হবে, যেন এক “অগাধলোক” (যিরমিয় ৪:২৩, ২৮)
- শয়তানকে পৃথিবীতে থাকতে বাধ্য করা হবে জন্য (প্রকাশিত বাক্য ২০:১—৩)
- স্বর্গে উপস্থিত বিশ্বাসীগণ বিচারে অংশগ্রহণ করবে (প্রকাশিত বাক্য ২০:৪)
- সব দুষ্টগণের মৃত্যু হবে (যিরমিয় ৪:২৫; যিশাইয় ১১:৪)
এ যাবৎ যারা পৃথিবীতে এসেছেন, তারা ১,০০০ বছর চলাকালীন দু’টো স্থানের যে কোনও একটিতে থাকবেন:
(1) এ পৃথিবীতে, মৃত এবং অবিশ্বাসী হয়ে, কিংবা
(2) স্বর্গে, বিচারে অংশগ্রহনরত। প্রভু আপনাকে স্বর্গে আহ্বান করছেন। দয়া করে এই আহ্বানে সাড়া দিন।

“আমি দেখিলাম, পবিত্র নগরী, নূতন যিরূশালেম, স্বর্গ হইতে, ঈশ্বরের নিকট হইতে নামিয়া আসিতেছে। ... পরে আমি সিংহাসন হইতে এই উচ্চ বাণী শুনিলাম, ‘দেখ, মনুষ্যদের সহিত ঈশ্বরের আবাস’” (প্রকাশিত বাক্য ২১:২, ৩)। “দেখ, সদাপ্রভুর এক দিন আসিতেছে। ... আর সেই দিন তাঁহার চরণ সেই জৈতুন পর্বতের উপরে দাঁড়াইবে, যাহা যিরূশালেমের সম্মুখে পূর্বদিকে অবস্থিত; তাহাতে জৈতুন পর্বতের মধ্যদেশ পূর্বদিকে ও পশ্চিমদিকে বিদীর্ণ হইয়া ... যাইবে ... আর আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু আসিবেন, তোমার সঙ্গে পবিত্রগণ সকলেই আসিবেন। ... গেবা অবধি যিরূশালেমের দক্ষিণস্থ রিম্মোণ পর্যন্ত সমস্ত দেশ রূপান্তর প্রাপ্ত হইয়া অরাবা তলভূমির ন্যায় হইবে”
(সখরিয় ১৪:১, ৪, ৫, ১০)।
উত্তর: নতুন যিরূশালেমটি এখন জৈতুন পর্বত যেখানে আছে সেখানে স্থাপিত হবে। পাহাড় সমতল হয়ে এক সমভূমি তৈরী হবে যেখানে শহরটি এসে স্থাপিত হবে। আর সব যুগের সমস্ত ধার্মিক ব্যক্তিগণ (সখরিয় ১৪:৫), স্বর্গের দূতগণ (মথি ২৫:৩১), পিতা ঈশ্বর (প্রকাশিত বাক্য ২১:২, ৩), এবং পুত্র ঈশ্বর (মথি ২৫:৩১) যীশুর তৃতীয় বিশেষ আগমনের সময়ে পবিত্র নগরকে সঙ্গে নিয়ে এই পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। দ্বিতীয় আগমনটি হবে ধার্মিকদের জন্য, এবং তৃতীয় আগমনটি হবে ধার্মিকদের সঙ্গে নিয়ে।
যীশুর তিনটি আগমন:
![]() প্রথম আগমন: বৈথলেহমেএক যাবপাত্রে |
![]() দ্বিতীয় আগমন: ১,০০০ বছরের প্রাক্কালে তাঁর বিশ্বাসীগণকে সঙ্গে নিয়ে যাবার উদ্দেশ্যে। |
![]() তৃতীয় আগমন: ১,০০০ বছরের সমাপ্তিতে পবিত্র নগর এবং সব ধার্মিক লোকদের সঙ্গে নিয়ে। |
11.এই সময়ে অবিশ্বাসী মৃতগণের অবস্থা কী হবে? শয়তানকে তা কীভাবে প্রভাবিত করবে?
“যে পর্যন্ত সেই সহস্র বৎসর সমাপ্ত না হইল, সেই পর্যন্ত অবশিষ্ট মৃতেরা জীবিত হইল না। ... সেই সহস্র বৎসর সমাপ্ত হইলে শয়তানকে তাহার কারাগার হইতে মুক্ত করা যাইবে। তাহাতে সে ... জাতিগণকে ... ভ্রান্ত ... করিবার জন্য বাহির হইবে” (প্রকাশিত বাক্য ২০:৫, ৭, ৮)।
উত্তর: ১,০০০ বছরের শেষে (যীশু যখন তৃতীয় বার আসবেন), অবিশ্বাসীদের পুনরুজ্জীবিত করা হবে। শয়তান কারামুক্ত হয়ে সে লোকে পরিপূর্ণ একটি পৃথিবী (অর্থাত্ পৃথিবীর সমস্ত জাতিবৃন্দকে) পেয়ে তাদের প্রতারিত করার চেষ্টা করবে।
12. তখন শয়তান কী করবে?
“সে [শয়তান] পৃথিবীর ... জাতিগণকে ... ভ্রান্ত করিয়া যুদ্ধে একত্র করিবার জন্য বাহির হইবে; তাহাদের সংখ্যা সমুদ্রের বালুকার তুল্য। তাহারা পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল হইতে অগ্রসর হইয়া পবিত্রগণের শিবির এবং প্রিয় নগরটি ঘেরিল” (প্রকাশিত বাক্য ২০:৭—৯)।
উত্তর: শয়তান, তার স্বভাব সুলভ ভাবে, পৃথিবীতে অবশিষ্ট মানুষদের বিভ্রান্ত করতে শুরু করবে। (শয়তানের উতপত্তি সম্বন্ধে আরও জানার জন্য ২ নম্বর সহায়িকা বইটি দেখুন।) সে এটা দাবী করতে পারে যে নগরটি তারই, তাকে অন্যায় ভাবে স্বর্গ থেকে পদচ্যুত করা হয়েছে, ঈশ্বর ক্ষমতালোভী ও নিষ্ঠুর, ইত্যাদি। সে তাদের এটা বিশ্বাস করাতে চাইবে যে, যদি তারা একজোট হয়, তাহলে ঈশ্বর কোন কিছু করার সুযোগই পাবেন না। একটি নগরের বিরুদ্ধে সমগ্র পৃথিবী এক হলে, তাদের জয় আপাতদৃষ্টিতে সুনিশ্চিত মনে হবে। তখন জাতিগণ সেই নগরটি ঘেরাও করার জন্য একজোট হবে আর তাদের সেনাবাহিনীকে শ্রেণীবদ্ধ করবে।

“স্বর্গ হইতে অগ্নি পড়িয়া তাহাদিগকে গ্রাস করিল।” আর তাহাদের ভ্রান্তিজনক দিয়াবল “অগ্নি ও গন্ধকের” হ্রদে নিক্ষিপ্ত হইল, ... ইহাই দ্বিতীয় মৃত্যু” (প্রকাশিত বাক্য ২০:৯; ১০; ২১:৮ পদ)। “তোমরা দুষ্ট লোকদিগকে মর্দন করিবে; কেননা আমার কার্য করিবার দিনে তাহারা তোমাদের পদতলের অধঃস্থিত ভস্ম হইবে, ইহা বাহিনীগণের সদাপ্রভু কহেন।” (মালাখি ৪:৩)।
উত্তর: দুষ্টদের উপর হঠাত্ করে আকাশ থেকে অগ্নি বর্ষণ শুরু হবে (নরক থেকে নয়, যা অনেকে বিশ্বাস করে) এবং সেই আগুনে দিয়াবল ও তার দূতগণসহ সকলেই পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যাবে” (মথি ২৫:৪১)। এই আগুন যখন পাপকে এবং পাপীদের বিনাশ করবে, সেটিই হবে দ্বিতীয় মৃত্যু। এ মৃত্যু খেকে আর কোনওদিন পুনরুত্থান হবে না। এটিই চূড়ান্ত। লক্ষ্য করুন দিয়াবল এ আগুনের দেখাশুনা করবে না, যা জনসাধারণ বিশ্বাস করে। দিয়াবল নিজে এ আগুনে পুড়ে নিঃশেষ হবে। (এই আগুনের, অর্থাত্ নরকের বিষয়ে পুরোপুরি জানার জন্য ১১ নম্বর সহায়িকা বইটি দেখুন। তাছাড়া মৃত্যুর বিষয়ে তথ্য পেতে, ১০ নম্বর সহায়িকা বইটি দেখুন)।

“দেখ, আমি নূতন আকাশমণ্ডলের ও নূতন পৃথিবীর সৃষ্টি করি”(যিশাইয় ৬৫:১৭)। “এমন নূতন আকাশমণ্ডলের ও নূতন পৃথিবীর অপেক্ষায় আছি, যাহার মধ্যে ধার্মিকতা বসতি করে” (২ পিতর ৩:১৩)। “যিনি সিংহাসনে বসিয়া আছেন, তিনি কহিলেন, ‘দেখ, আমি সকলই নূতন করিতেছি’” (প্রকাশিত বাক্য ২১:৫)। “মনুষ্যদের সহিত ঈশ্বরের আবাস; তিনি তাহাদের সহিত বাস করিবেন, এবং তাহারা তাঁহার প্রজা হইবে; এবং ঈশ্বর আপনি তাহাদের সঙ্গে থাকিবেন, ও তাহাদের ঈশ্বর হইবেন (প্রকাশিত বাক্য ২১:৩)।
উত্তর: ঈশ্বর নতুন আকাশমণ্ডল ও নতুন পৃথিবী রচনা করবেন, এবং নতুন যিরূশালেম হবে সেই নতুনীকৃত পৃথিবীর রাজধানী। পাপ ও এর কুত্সিত রূপ চিরতরে দূর হবে। অবশেষে ঈশ্বরের লোকেরা তাদের কাছে প্রতিশ্রুত সেই রাজ্যে প্রবেশ করবে। “তাহারা আমোদ ও আনন্দ প্রাপ্ত হইবে” (যিশাইয় ৩৫:১০)। রাজ্যটি বর্ণনাতীভাবে চমত্কার এবং এত গৌরবোজ্জ্বল যে হাতছাড়া করা যায় না! সেখানে ঈশ্বর আপনার জন্যও একটি স্থান প্রস্তুত রেখেছেন (যোহন ১৪:১—৩)। এখনই পরিকল্পনা করুন সেখানে বাস করার জন্য। যীশু আপনার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। (স্বর্গের বিষয়ে পুরো তথ্য পেতে, সহায়িকা বই ৪ দেখুন।)

- বিশ্বাসী সাধুগণকে সঙ্গে নিয়ে যীশুর তৃতীয় আগমন (সখরিয় ১৪:৫)।
- জৈতুন পর্বতের উপর পবিত্র নগর প্রতিষ্ঠিত হয়, যা এক বিশাল উপত্যকায় পরিণত হয় (সখরিয় ১৪:৪, ১০)।
- পিতা, ও তাঁর স্বর্গদূতগণ, এবং সব ধার্ম্মিকগণ যীশুর সঙ্গে আসবেন (প্রকাশিত বাক্য ২১:১—৩;
মথি ২৫:৩১; সখরিয় ১৪:৫)। - মৃত অধার্ম্মিকেরা উত্থিত হবে, ও শয়তানকে কারাগার থেকে মুক্ত করা হবে (প্রকাশিত বাক্য ২০:৫, ৭)।
- শয়তান সমগ্র পৃথিবীর সঙ্গে প্রতারণা করবে (প্রকাশিত বাক্য ২০:৮)।
- দুষ্টেরা পবিত্র নগরটি বেষ্টন করবে (প্রকাশিত বাক্য ২০:৯)।
- দুষ্টেরা অগ্নি দ্বারা বিনষ্ট হবে (প্রকাশিত বাক্য ২০:৯)।
- নতুন আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী রচিত হবে (যিশাইয় ৬৫:১৭; ২ পিতর ৩:১৩; প্রকাশিত বাক্য ২১:১)।
- নতুন পৃথিবীতে ঈশ্বরের সন্তানেরা অমরত্ব লাভ করবে (প্রকাশিত বাক্য ২১:২—৪)।

“তোমরা ঐ সকল ঘটনা দেখিলেই জানিবে, তিনি সন্নিকট, এমন কি, দ্বারে উপস্থিত” (মথি ২৪:৩৩)। “এই সকল ঘটনা আরম্ভ হইলে তোমরা ঊর্ধ্বদৃষ্টি করিও, মাথা তুলিও, কেননা তোমাদের মুক্তি সন্নিকট” (লুক ২১:২৮)। “যেহেতু প্রভু পৃথিবীতে আপন বাক্য সাধন করিবেন, তাহা সম্পূর্ণ ও সংক্ষিপ্ত করিবেন” (রোমীয় ৯:২৮)। “লোকে যখন বলে, শান্তি ও অভয়, তখনই তাহাদের কাছে ... আকস্মিক বিনাশ উপস্থিত হয়” (১ থিষলনীকীয় ৫:৩)।
উত্তর: যীশু বলেছেন, যখন তাঁর আগমনের লক্ষণগুলো অতি দ্রুত প্রকাশ পাবে, যেমন বর্তমানে হচ্ছে, আমরা যেন একথা ভেবে আনন্দিত হই যে পাপময় এই পৃথিবীর শেষ সন্নিকট—এমনকি দোরগোড়ায়। প্রেরিত পৌল বলেন যখন পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এক বিরাট আন্দোলন হবে তখন আমরা জানব তাঁর আগমন অতি সন্নিকট। পরিশেষে, বাইবেল বলে ঈশ্বর তাঁর কার্য্য সংক্ষিপ্ত করবেন (রোমীয় ৯:২৮)। তাই নিঃসন্দেহে, আমরা যে সময়ে বসবাস করছি তা ঈশ্বর আমাদের ঋণ হিসেবে দিয়েছেন। ঈশ্বর এমন এক সময়ে—হঠাত্ এবং অপ্রত্যাশিতভাবে—আসবেন, যা কেউই জানে না, কেবল পিতা ঈশ্বর জানেন (মথি ২৪:৩৬; প্রেরিত ১:৭)। কেবলমাত্র প্রস্তুতিই আমাদেরকে নিরাপত্তা দিতে পারে।

আপনার উত্তর: __________-
আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর
১। পবিত্র নগর নেমে আসার পর দুষ্টদের ধ্বংস হতে আর কত সময় লাগবে?
উত্তর: বাইবেল বলে, “অল্প কালের নিমিত্ত” (প্রকাশিত বাক্য ২০:৩)। লোকদের তার পরিকল্কপনা অনুসরণ করতে রাজী করাতে এবং যুদ্ধের জন্য অস্ত্র প্রস্তুত করতে শয়তানের যথেষ্ট সময় দরকার হবে। শাস্ত্রে নির্দিষ্টি কোন সময়কালের কথা প্রকাশ করা হয়নি।
২। ঈশ্বরের নতুন রাজ্যে মানুষ কোন প্রকার দেহের অধিকারী হবে?
উত্তর: বাইবেল বলে যে পবিত্রগণ যীশুর ন্যায় দেহের অধিকারী হবে (ফিলিপীয় ৩:২০, ২১)। যীশুর পুনরুত্থানের পর তাঁর অস্থি ও মাংসের দেহ ছিল (লুক ২৪:৩৬—৪৩)। পরিত্রাণপ্রাপ্তগণ অশরীরি আত্মা হবেন না। তারা বাস্তব দেহধারী মানুষ হবেন, ঠিক যেমন আদম ও হবা ছিল।
৩। বাইবেল কি বলে, যীশুর দ্বিতীয় আগমনে দুষ্টদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে?
উত্তর: হ্যাঁ। বাইবেল বলে তারা “পর্বত ও শৈল সকলকে কহিতে লাগিল, আমাদের উপরে পতিত হও, যিনি সিংহাসনে বসিয়া আছেন, তাঁহার সম্মুখ হইতে এবং মেষশাবকের ক্রোধ হইতে আমাদিগকে লুকাইয়া রাখ; কেননা তাঁহাদের ক্রোধের মহাদিন আসিয়া পড়িল, আর কে দাঁড়াইতে পারে?”
(প্রকাশিত বাক্য ৬:১৬, ১৭)। (তা ছাড়াও ১৪ এবং ১৫ পদ দেখুন।) অন্য দিকে, ধার্মিকগণ বলবেন, “এই দেখ, ইনিই আমাদের ঈশ্বর; আমরা ইঁহারই অপেক্ষায় ছিলাম, ইনি আমাদিগকে ত্রাণ করিবেন; ইনিই সদাপ্রভু; আমরা ইঁহারই অপেক্ষায় ছিলাম, আমরা ইঁহার কৃত পরিত্রাণে উল্লসিত হইব, আনন্দ করিব” (যিশাইয় ২৫:৯)।
৪। দুষ্টেরা কি নতুন যিরূশালেমের ভিতরে অবস্থানকারী পবিত্রগণকে দেখতে পা্বে?
উত্তর: সে কথা আমাদের নিশ্চিত করে জানানো হয়নি, তবে বাইবেল এ কথা বলে যে নগরটির প্রাচীর স্বচ্ছ স্ফটিকের মত হবে (প্রকাশিত বাক্য ২১:১১, ১৮)। আবার গীতসংহিতা ৩৭:৩৪ এবং লুক ১৩:২৮ পড়ে কেউ কেউ বিশ্বাস করছেন যে দুষ্ট ও ধার্ম্মিকগণ ওই স্বচ্ছ প্রাচীরের মধ্য দিয়ে পরস্পরকে দেখতে পাবে।
৫। বাইবেল বলে যে ঈশ্বর তাঁর সন্তানদের সমস্ত নেত্রজল মুছে দেবেন, এবং সেখানে কোনও মৃত্যু, যন্ত্রণা, কিংবা দুঃখ থাকবে না। এটি কখন ঘটবে?
উত্তর:প্রকাশিত বাক্য ২১:১—৪ এবং যিশাইয় ৬৫:১৭ পদ অনুসারে বোঝা যায় যে যখন পৃথিবী থেকে পাপ যখন সম্পূর্ণরূপে দূর হবে, তখন এমনটি ঘটবে। শেষ বিচার এবং অগ্নি দ্বারা পাপ ভস্মিভূত হবার সময়ে, ঈশ্বরের লোকেদের গভীর দুঃখ প্রকাশের যথেষ্ট কারণ থাকবে। কারণ যখন তারা অনুভব করবে যে তারা আত্মীয় এবং বন্ধু-বান্ধবদের হারিয়েছে এবং যাদেরকে তারা ভালোবাসতো, তারা অগ্নি দ্বারা বিনষ্ট হচ্ছে, তখন দুঃখ-কষ্টে ঈশ্বরের লোকদের চোখে জল আসবে, ব্যথায় বুক ভরে যাবে, এতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু আগুন নিভে গেলে ঈশ্বর তাদের নেত্রজল মুছে দেবেন। তিনি তখন তাঁর সন্তানদের জন্য নতুন পৃথিবী ও নতুন আকাশমণ্ডল সৃষ্টি করবেন, যা তাদের অবর্ণনীয় আনন্দ ও পরিপূর্ণতা দেবে। আর দুঃখ, কষ্ট, কান্না, ও বেদনা চিরতরে ঘুচে যাবে।(ঈশ্বরের সন্তানদের স্বর্গীয় আবাস সম্পর্কে আরো জানতে হলে, ৪ নম্বর সহায়িকা বইটি দেখুন।)
৬। মন্দ দূতগণ এবং দুষ্ট লোকদের বিনাশে, পিতা ঈশ্বর ও তাঁর পুত্রের উপর কী প্রভাব পড়বে?
উত্তর: নিঃসন্দেহে তারা এতে স্বস্তি এবং আনন্দ পাবেন যে কুত্সিত ক্যান্সারের মত এই পাপের চিরতরে বিনাশ হয়েছে এবং এই বিশ্ব চিরদিনের জন্য নিরাপদ হয়েছে। কিন্তু একই ভাবে এটাও সুনিশ্চিতেয তাঁরা গভীর ভাবে দুঃখ পাবেন, কারণ যাদের জন্য খ্রীষ্ট মরলেন, তাদের এমন ভালবাসার মানুষগুলো পাপে আঁকড়ে থাকলো এবং পরিত্রাণকে অগ্রাহ্য করলো। একদা শয়তান তাদের বন্ধু ছিল, আর যারা আগুনে পুড়ছে তাদের মধ্যে অনেকেই তাদের প্রিয় সন্তানগণ। নিজের বিপথগামী সন্তানের মৃত্যু দেখা কতই না বেদনাদায়ক। পাপের সূচনা থেকেই এটি পিতা ও পুত্র উভয়ের উপর ভারী একটি বোঝাস্বরূপ ছিল। তাঁদের লক্ষ্য ছিলো মানুষকে ভালোবেসে মৃদুভাবে পরিত্রাণের সংস্পর্শে নিয়ে আসা। তাঁদের অনুভূতিগুলো হোশেয় ১১:৮ পদে এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে, “হে ইফ্রয়িম, আমি কিরূপে তোমাকে ত্যাগ করিব? হে ইস্রায়েল, কিরূপে তোমাকে পরহস্তে সমর্পণ করিব? ... আমার মধ্যে অন্তঃকরণ ব্যাকুল হইতেছে, আমার করুণাসমষ্টি একসঙ্গে প্রজ্বলিত হইতেছে।”
৭। যীশুর দেহটি কী ধরনের?
উত্তর: যীশুর দেহ অস্থি ও মাংসের দেহ। তাঁর পুনরুত্থানের পরে তিনি তাঁর শিষ্যদের কাছে প্রকাশ হলেন (লুক ২৪:৩৬—৪৩) এবং নিজেকে ছুঁয়ে দেখতে বললেন এবং মাছ ও মধু খেলেন যেন তারা বুঝতে পারেন যেন তাঁর দেহ অস্থি ও মাংসের দেহ।
যীশু ঊর্ধ্বে গমন করেন
এর পর তিনি হেঁটে তাদের সঙ্গে বৈথনিয়া পর্যন্ত গেলেন এবং, কথা সাঙ্গ করে স্বর্গে আরোহণ করলেন
(লুক ২৪:৫০, ৫১)। যীশু ঊর্ধ্বে নীত হওয়ার সময় যে স্বর্গ দূত শিষ্যদের কাছে প্রকাশ হন তিনি এভাবে ব্যাখ্যা করলেন, “এই যে যীশু তোমাদের নিকট হইতে স্বর্গে ঊর্ধ্বে নীত হইলেন, উহাঁকে যেরূপে স্বর্গে গমন করিতে দেখিলে, সেইরূপে উনি আগমন করিবেন” (প্রেরিত ১:১১)।
সেই যীশুই ফিরবেন
স্বর্গদূত জোর দিয়ে বলেছিলেন যে সেই একই যীশু (অস্থি-মাংসে)পুনরায় আসবেন। তিনি বাস্তব হবেন, কোন ভৌতিক নয়, এবং পুনরুত্থিত ধার্মিকগণও তাঁর ন্যায় দেহ প্রাপ্ত হবে (ফিলিপীয় ৩:২০, ২১;
১ যোহন ৩:২)। ধার্মিকগণের নতুন দেহও অক্ষয় ও অমরতা লাভ করবে (১ করিন্থীয় ১৫:৫১—৫৫)।
সারসংক্ষেপ
দয়া করে এই প্রশ্নের সমাধান করার আগে পাঠটি পড়ে নিন। সমস্ত উত্তর আপনি এই সহায়িকা বইটিতে পেয়ে যাবেন।। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দিন। বন্ধনীর সংখ্যাগুলো (১) সঠিক উত্তরের সংখ্যা নির্দেশ করে।
১। প্রকাশিত ২০ অধ্যায়ের ১,০০০ বছরের শুরুতে যা যা ঘটবে, সেগুলো চিহ্নিত
করুন: (১০)
( ) যীশুর দ্বিতীয় আগমন
( ) প্রবল ভূমিকম্প ও শিলা বৃষ্টি
( ) মৃত ধার্মিকদের উত্থান
( ) শয়তানের বন্দিত্ব
( ) জীবন্ত পাপীদের মৃত্যু
( ) ধার্মিকদের অমরত্ব লাভ
( ) পবিত্র নগরের অবতরণ
( ) ধার্মিকগণ স্বর্গে নীত হবেন
( ) কবরের দুষ্টেরা মৃত অবস্থায় থাকবে
( ) ধার্মিকদের যীশুর মত দেহ প্রাপ্তি
( ) ধার্মিকেরা মেঘে নীত হবে
( ) কিছু ধার্মিককে এই পৃথিবীতে রেখে দেওয়া হবে
২। যীশুর দ্বিতীয় আগমনে প্রত্যেক জীবিত ব্যক্তি তাঁকে দেখবে। (১)
( ) সত্য
( ) মিথ্যা
৩। স্বর্গে ধার্মিকগণ ভৌতিক দেহ লাভ করবে। (১)
( ) সত্য
( ) মিথ্যা
৪। ১,০০০-বছর ব্যাপী সময়ের বিষয়ে পরবর্তী তথ্যগুলোর কোনটি সত্য? (২)
( ) অনেক পাপী মন পরিবর্তন করবে।
( ) শয়তান ও তার সঙ্গীদের পৃথিবীতে থাকতে বাধ্য করা হবে।
( ) শয়তান এই কারণে বাঁধা থাকবে যে দেখার জন্য কোন টেলিভিশন থাকবে না।
( ) ১,০০০ বছর ব্যাপী পৃথিবী রৌদ্রোজ্জ্বল থাকবে।
( ) শয়তান মৃত দুষ্টদের জীবিত করে তার সঙ্গী করবে।
( ) ধার্মিকেরা স্বর্গে বিচার সভায় অংশগ্রহণ করবে
৫। ১,০০০-বছর সমাপ্তির বিষয়ে পরবর্তী তথ্যগুলোর কোনটি সত্য? (৪)
( )খ্রীষ্ট পঞ্চম বারের জন্য আসবেন।
( ) পবিত্র নগর ওয়াশিংটন শহরে নেমে আসবে।
( ) পিতা, দূতগণ, এবং সাধুগণ সহ যীশু আসবেন।
( ) অধার্মিকেরা উত্থিত হবে।
( ) যীশু তাঁর সাধুদের সঙ্গে আসবেন।
( ) ঈশ্বর অবশেষে পাপীদের উত্থিত না করার সিদ্ধান্ত নেবেন।
( ) ক্রুদ্ধ দুষ্ট দূতেরা পাপীদের বিনষ্ট করবে।
( )ঈশ্বর নতুন আকাশমণ্ডল ও এক নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করবেন।
( ) ঈশ্বর শয়তানকে বিশ্বের এক প্রান্তে তাড়িয়ে দিবেন।
( ) শয়তান আধুনিক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পবিত্র নগরটি নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
৬। যে শৃঙ্খলে শয়তান বদ্ধ হবে সেটি (৩)
( ) প্রতীকি—পরিস্থিতির একটি শৃঙ্খল হবে।
( ) তাকে পৃথিবীতে থাকতে বাধ্য করবে।
( ) একটি অত্যাধুনিক, অতি শক্ত ধাতুনির্মিত হবে।
( ) ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শয়তান ভেঙ্গে ফেলবে।
( ) স্বর্গে অবস্থিত ঈশ্বরের লোকেদের প্রলোভিত করতে তাকে বাঁধা দেবে।
৭। অগাধলোক সম্বন্ধে কোন উক্তিগুলো সত্য? (২)
( ) এটি পৃথিবীর অতল গভীরে প্রকাণ্ড একটি গর্ত।
( ) এর অর্থ “পাতাল।”
( ) এটি পৃথিবীকে বোঝায়—অন্ধকারময়, নিরাকার, এবং শূন্য।
( ) এটি নরকের আর একটি নাম।
৮। যীশুর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় আগমন সম্বন্ধে কোন তথ্যগুলো সত্য? (৩)
( ) প্রথম আগমন বৈথলেহমে শিশুর বেশে জন্মগ্রহণ।
( ) প্রথম আগমন হয় নোহের সময়ে।
( ) দ্বিতীয় আগমন হয় মার্টিন লুথারের সময়ে।
( ) দ্বিতীয় আগমন হবে ১,০০০ বছরের প্রারম্ভে।
( ) তৃতীয় আগমন হবে ১,০০০ বছরের সমাপ্তিতে।
( ) তৃতীয় আগমন হবে নতুন পৃথিবী সৃষ্টির পর।
৯। অগ্নি হ্রদে অধার্মিকদের মৃত্যু হলো তাদের দ্বিতীয় মৃত্যু। (১)
( ) সত্য
( ) মিথ্যা
1১০। আমি সুনিশ্চিত যে আমি সেই চমৎকার এবং বিশেষভাবে নির্মিত বাড়িটিতে বসবাস করার পরিকল্পনা করছি যেটি যীশু স্বর্গে আমার জন্য প্রস্তুত করছেন।
( ) হ্যাঁ
( ) না





