Lesson 10

মৃত্যু আজ মানুষের কাছে খুবই অস্পষ্ট ও রহস্যাবৃত একটি বিষয়। অনেকের কাছে মৃত্যু মানেই ভয়, হতাশা, এবং অনিশ্চয়তা। অনেকে আবার ভাবেন তাদের মৃত প্রিয়জনেরা মোটেই মৃত নন, বরং তাদের চোখের অন্তরালে তাদের সঙ্গেই বসবাস করেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ দেহ, আত্মা, এবং প্রাণের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্কের বিষয়ে বিভ্রান্ত। কিন্তু আপনি কী বিশ্বাস করেন, তা’তে কি কিছু যায়-আসে? হ্যাঁ—অবশ্যই! আপনি মৃতদের সম্বন্ধে যা বিশ্বাস করেন তা আপনার অদূর ভবিষ্যৎ জীবনে কী ঘটবে তার উপর প্রভাব ফেলবে। অনুমান করার কোনও অবকাশ নেই! এই সহায়িকা বইটি আপনাকে সেটিই দেবে যেটি ঈশ্বর এ বিষয়টি নিয়ে বলেন। বাস্তবিকই আপনার চোখ খুলে দেবে, তৈরী হোন!

Adam was created by God in the beginning.

1. মানুষ সর্বপ্রথম কীভাবে জগতে এলো?

“সদাপ্রভু ঈশ্বর মৃত্তিকার ধূলিতে আদমকে (অর্থাৎ মনুষ্যকে) নির্মাণ করিলেন, এবং
তাহার নাসিকায় ফুঁ দিয়া প্রাণবায়ু প্রবেশ করাইলেন; তাহাতে মনুষ্য সজীব প্রাণী হইল”
(আদিপুস্তক ২:৭)।

উত্তর: আদিতে ঈশ্বর মৃত্তিকার ধূলিকণা থেকে আমদের সৃষ্টি করেছিলেন।

2. What happens when a person dies?

2. একজন ব্যক্তির মৃত্যুর পর কী ঘটে?

“আর ধূলি পূর্ববৎ মৃত্তিকাতে প্রতিগমন করিবে; এবং আত্মা যাঁহার দান, সেই ঈশ্বরের কাছে প্রতিগমন করিবে” (উপদেশক ১২:৭)।

উত্তর: মনুষ্যদেহ পুনরায় মাটিতে মিশে যায়, আর আত্মা, ঈশ্বরের কাছে ফিরে যায়, যিনি এটি দিয়েছিলেন। উদ্ধারপ্রাপ্ত কি উদ্ধার-অপ্রাপ্ত—প্রতিটি মানুষেরই আত্মা—মৃত্যুর পর ঈশ্বরের কাছে ফিরে যায়।

3. মৃত্যুতে যে “আত্মা” ঈশ্বরের কাছে ফিরে যায় সেটা কী?

“আত্মাবিহীন দেহ মৃত” (যাকোব ২:২৬)। “আমার নাসিকায় ঈশ্বরীয় প্রাণবায়ু আছে” (ইয়োব ২৭:৩)।

উত্তর: যে আত্মা ঈশ্বরের কাছে প্রতিগমন করে সেটি হলো প্রাণবায়ু। পুরো বাইবেলের কোথায়ও বলা নেই যে এক ব্যক্তিরমৃত্যুর পর এই “আত্মা’র” জীবন, জ্ঞান, কিংবা কোনও অনুভূতি বলতে কিছু আছে। এটি কেবলই “প্রানবায়ু” আর বেশি কিছু নয়।

4. আত্মা (প্রাণী) কী?

“সদাপ্রভু ঈশ্বর মৃত্তিকার ধূলিতে আদমকে (অর্থাৎ মনুষ্যকে) নির্মাণ করিলেন, এবং তাহার নাসিকায় ফুঁ দিয়া প্রাণবায়ু প্রবেশ করাইলেন; তাহাতে মনুষ্য সজীব প্রাণী হইল” (আদি ২:৭)।

উত্তর: আত্মা বলতে একটি সজীব প্রাণীকে বোঝানো হয়েছে। একটি আত্মা দু’টি বিষয়ের সমন্বয়: দেহ ও প্রাণবায়ু। দেহ ও আত্মার সমন্বয় ব্যতীত আত্মার (প্রাণীর) অস্তিত্ব থাকতে পারে না। ঈশ্বর বাক্য শেখায় যে আমরাই হলাম আত্মা—এটা শেখায় না যে, আমাদের আত্মা আছে।

Body(Dust) - Breath(Spirit) = Death (No Soul)

5.আত্মার কি মৃত্যু ঘটে?

“যে প্রাণী পাপ করে, সেই মরিবে” (যিহিষ্কেল ১৮:২০)।
“ সমস্ত জীবিত প্রাণী, সমুদ্রের সমস্ত প্রাণী, মরিল”
(প্রকাশিত বাক্য ১৬:৩)।

উত্তর: ঈশ্বরের বাক্যানুসারে, আত্মার মৃত্যু ঘটে! আমরাই আত্মা, এবং আত্মার মৃত্যু হয়। মানুষ মরণশীল (ইয়োব ৪:১৭)। একমাত্র ঈশ্বর অমর/অবিনশ্বর (১ তীমথি ৬:১৫, ১৬)। অমর/অবিনশ্বর আত্মার ধারণাটি বাইবেলে কোথায়ও নেই, বাইবেল শিক্ষা দেয় যে আত্মার মৃত্যু আছে।

The Bible suggests that King David will be in God’s kingdom, but that he is in his grave now, where he awaits the resurrection.

6. বিশ্বাসীগণ কি মৃত্যুর পরে স্বর্গে গমন করেন?

“কবরস্থ সকলে তাঁহার রব শুনিবে, এবং ... বাহির হইয়া আসিবে” (যোহন ৫:২৮, ২৯)।
“[দায়ূদ] ... প্রাণত্যাগ করিয়াছেন এবং কবরপ্রাপ্তও হইয়াছেন, আর তাঁহার কবর আজ পর্যন্ত আমাদের নিকটে রহিয়াছে। ... কেননা দায়ূদ স্বর্গারোহণ করেন নাই” (প্রেরিত ২:২৯, ৩৪)। “যদি আমার ঘর বলিয়া পাতালের অপেক্ষা করি” (ইয়োব ১৭:১৩)

উত্তর: না! মৃত্যুতে মানুষ স্বর্গ বা পাতালে কোথাও যায় না—কিন্তু তারা কবরে নিদ্রাগত থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের পুনরুত্থান না ঘটে। বাইবেল উল্লেখ করে যে, রাজা দায়ূদ স্বর্গ রাজ্যে নীত হবেন, কিন্তু এখন তিনি তাঁর কবরে নিদ্রাগত আছেন, যেখানে তিনি তাঁর পুনরুত্থানের জন্য অপেক্ষা করছেন।

7. How much does one know or comprehend after death?

7. মৃত্যুর পর মানুষের কতখানি জ্ঞান থাকে কিংবা সে কতখানি হৃদয়ঙ্গম করতে পারে?

“জীবিত লোকেরা জানে যে, তাহারা মরিবে; কিন্তু মৃতেরা কিছুই জানে না, এবং তাহাদের আর কোন ফলও হয় না, কারণ লোকে তাহাদের বিষয় ভুলিয়া গিয়াছে। তাহাদের প্রেম, তাহাদের দ্বেষ ও তাহাদের ঈর্ষা সকলই বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে; সূর্যের নিচে যে কোন কার্য করা যায়, তাহাতে কোন কালেও তাহাদের আর কোন অধিকার হইবে না। ... তুমি যে স্থানে যাইতেছ, সেই পাতালে কোন কার্য কি সঙ্কল্প, কি বিদ্যা কি প্রজ্ঞা, কিছুই নাই” (উপদেশক ৯:৫, ৬, ১০)। “মৃতেরা সদাপ্রভুর প্রশংসা করে না” (গীতসংহিতা ১১৫:১৭)।

উত্তর: ঈশ্বর বলেছেন যে মৃতেরা কিছুই জানে না!

Though millions think it is possible, the dead cannot communicate with the living.

8.মৃতেরা কি জীবিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে? তারা কি জীবিতরা যা করছে সে বিষয়ে সচেতন?

“মনুষ্য শয়ন করিলে আর উঠে না, যাবৎ আকাশ লুপ্ত না হয়, সে জাগিবে না, নিদ্রা হইতে জাগরিত হইবে না। ... তাহার সন্তানগণ গৌরবান্বিত হইলে সে তাহা জানে না, তাহারা অবনত হইলে সে তাহা টের পায় না” (ইয়োব ১৪:১২, ২১)। “সূর্যের নিচে যে কোন কার্য করা যায়, তাহাতে কোন কালেও তাহাদের আর কোন অধিকার হইবে না”
(উপদেশক ৯:৬)।

উত্তর: না। মৃতেরা জীবিতগণের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না, জীবিতগণ কী করছে তাও তারা জানে না। তারা মৃত। তাদের চিন্তাধারা বিলুপ্ত হয়েছে (গীতসংহিতা ১৪৬:৪)।

9. Jesus called the unconscious state of the dead “sleep” in John 11:11–14. How long will they sleep?

9. যীশু যোহন ১১:১১—১৪ পদে মৃতের অচেতন অবস্থাকে “নিদ্রার” সঙ্গে তুলনা করেছেন। মৃতেরা কতকাল নিদ্রাগত থাকবে?

“ মনুষ্য শয়ন করিলে আর উঠে না, যাবৎ আকাশ লুপ্ত না হয়” (ইয়োব ১৪:১২)। “প্রভুর দিন ... আসিবে; তখন আকাশমণ্ডল হূহূ শব্দ করিয়া উড়িয়া যাইবে”
(২ পিতর ৩:১০)।

উত্তর: মৃতেরা নিদ্রাগত থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না খ্রীষ্টের আগমন হয়। মৃতেরা সম্পূর্ণ অচেতন থাকে, তাদের কোনও প্রকার জ্ঞান ও কাজকর্ম থাকে না।

10. What happens to the righteous dead at the second coming of Christ?

10. খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমনে বিশ্বাসী মৃতগণের কী পরিণতি হবে?

“দেখ, আমি শীঘ্র আসিতেছি; এবং আমার দাতব্য পুরস্কার আমার সহবর্তী, যাহার যেমন কার্য, তাহাকে তেমন ফল দিব” (প্রকাশিত বাক্য ২২:১২)। “প্রভু স্বয়ং আনন্দধ্বনি সহ ... স্বর্গ হইতে নামিয়া আসিবেন, আর যাহারা খ্রীষ্টে মরিয়াছে, তাহারা ... উঠিবে। ... আর এইরূপে সতত প্রভুর সঙ্গে থাকিব।” (১ থিষলনীকীয় ৪:১৬, ১৭)। “আমরা ... সকলে রূপান্তরীকৃত হইব—এক মুহূর্তের মধ্যে, চক্ষুর পলকে ... মৃতেরা অক্ষয় হইয়া উত্থাপিত হইবে। ... কারণ এই ক্ষয়ণীয়কে অক্ষয়তা পরিধান করিতে হইবে, এবং এই মর্ত্যকে অমরতা পরিধান করিতে হইবে।” (১ করিন্থীয় ১৫:৫১—৫৩)।

উত্তর: তারা পুরষ্কৃত হবে। তাদের নিদ্রা থেকে উত্থাপন করে, অক্ষয় দেহ দেয়া হবে, এবং আকাশে প্রভুর সঙ্গে নেয়া হবে। মৃত্যুতেই যদি স্বর্গারোহণ হত, তবে পুনরুত্থানের কোন প্রশ্নই উঠত না।

11. What was the devil’s first lie on Earth?

11. পৃথিবীতে শয়তানের প্রথম মিথ্যা কথা কী ছিল?

“সর্প নারীকে কহিল, কোন ক্রমে মরিবে না” (আদিপুস্তক ৩:৪)। “সেই পুরাতন সর্প, যাহাকে দিয়াবল [অপবাদক] এবং শয়তান [বিপক্ষ] বলা যায়” (প্রকাশিত বাক্য ১২:৯)।

উত্তর: তুমি কখনোই মরবে না।
12.দিয়াবল কেন হবাকে মৃত্যু সম্বন্ধে মিথ্যা বলেছিল? বিষয়টির গুরুত্ব কি আমাদের ধারণারও বাইরে হতে পারে?

উত্তর: আমরা কখনো মরবো না—শয়তানের এই মিথ্যাটি হল তার শিক্ষামালার অন্যতম এক ভিত্তি। হাজার হাজার বছর ধরে সে মানুষকে প্রতারণামূলক অলৌকিক কাজের মাধ্যমে এই বলে ঠকিয়েছে যে তারা মৃতগণের আত্মার কাছ থেকে খবরাখবর পেতে পারেন। (কিছু উদাহরণ: মিশরের জাদুকরেরা—যাত্রাপুস্তক ৭:১১; ঐন্দোরের স্ত্রীলোক—১ শমূয়েল ২৮:৩-২৫; মায়াবীগণ—দানিয়েল ২:২; এক ক্রীতদাসী—প্রেরিত ১৬:১৬—১৮।)

একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা

অদূর ভবিষ্যতে, শয়তান বিশ্বের মানুষকে প্রতারিত করার লক্ষ্যে পুনরায় কাল যাদু ব্যবহার করবে—যেমন সে দানিয়েলের সময়ে করেছিল। (প্রকাশিত বাক্য ১৮:২৩)। যাদুবিদ্যা এমন এক অতিপ্রাকৃত মাধ্যম যার ক্ষমতা এবং জ্ঞান মৃতদের আত্মা থেকে প্রাপ্ত বলে দাবী করা হয়।

খ্রীষ্টের শিষ্য হিসেবে দাবী করা

ধার্মিক প্রিয়জন যারা মারা গেছেন, সাধু বা যাজক যারা এখন মৃত, যারা বাইবেলের ভাববাদী, বা এমন কি খ্রীষ্টের প্রেরিত হিসাবে নিজেদের দাবী করে (২ করিন্থীয় ১১:১৩), শয়তান ও তাঁর দূতগণ লক্ষ কোটি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করবে। যারা বিশ্বাস করে যে মৃতগণ কোনও না কোনও রূপ নিয়ে বেঁচে আছে, তাদেরই প্রতারিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

All miracle working is not from God, because devils also work miracles.13. দিয়াবল কি সত্যিই অলৌকিক কার্য্যাদি সম্পাদন করে থাকে?

“তাহারা ভূতদের আত্মা, নানা চিহ্ন-কার্য করে” (প্রকাশিত বাক্য ১৬:১৪)। “ভাক্ত খ্রীষ্টেরা ও ভাক্ত ভাববাদীরা উঠিবে, এবং এমন মহৎ মহৎ চিহ্ন ও অদ্ভুত অদ্ভুত লক্ষণ দেখাইবে যে, যদি হইতে পারে, তবে মনোনীতদিগকেও ভুলাইবে” (মথি ২৪:২৪)।

উত্তর: নিঃসন্দেহে হ্যাঁ! শয়তান অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য আশ্চর্য কাজ করে (প্রকাশিত বাক্য ১৩:১৩, ১৪)। শয়তান উজ্জ্বল দূতের(২ করিন্থীয় ১১:১৪) এবং, এমন কি খ্রীষ্টের (মথি ২৪:২৩, ২৪) বেশ ধারণ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে। বিশ্বের সবাই অনুভব করবে যে খ্রীষ্ট এবং তাঁর দূত বিশ্বব্যাপী চমত্কার একটি উদ্দীপনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গোটা ঘটনাগুলো এত চমকপ্রদ হবে যে কেবলমাত্র ঈশ্বরের লোকেরা বিভ্রান্ত হবে না।

14. কেন ঈশ্বরের লোকেরা প্রতারিত হবে না?

“ইহারা সম্পূর্ণ আগ্রহপূর্বক বাক্য গ্রহণ করিল, আর এই সকল বাস্তবিকই এইরূপ কি না, তাহা জানিবার জন্য প্রতিদিন শাস্ত্র পরীক্ষা করিতে লাগিল” (প্রেরিত ১৭:১১)। “ইহার অনুরূপ কথা যদি তাহারা না বলে, তবে তাহাদের পক্ষে অরুণোদয় নাই।”
(যিশাইয় ৮:২০)।

উত্তর: ঈশ্বরের লোকেরা বাইবেল অনুসন্ধান করে জানবে যে মৃতরা মৃতই, জীবিত নয়। তারা জানবে যে কোনও “আত্মা” যদি নিজেকে তাদের কোনও মৃত প্রিয়জন বলে দাবী করে তাবে সে প্রকৃতপক্ষে শয়তান! যে সব শিক্ষকগণ এবং অলৌকিক কাজ সাধকগণ মৃতদের আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশেষ “আলো” পেয়েছে কিংবা অলৌকিক কাজ সাধন করেছে বলে দাবী করে, ঈশ্বরের অনুগামীরা তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। আর একইভাব যে কোনও স্থানে, যে কোনও আকৃতিতে হোক, মৃতরা জীবিত আছে বলে যত শিক্ষা দাবী করে, ঈশ্বরের লোক সেগুলো বিপজ্জনক ও মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করবে।

15. Back in Moses’ day, what did God command should be done to people who taught that the dead were alive?

15. মোশির সময়ে যারা শেখাতো যে মৃতরা বেঁচে থাকে, তাঁদের প্রতি ঈশ্বর কী করার আদেশ দিয়েছিলেন?

“পুরুষের কিম্বা স্ত্রীর মধ্যে যে কেহ ভূতড়িয়া কিম্বা গুনিন হয়, তাহার প্রাণদণ্ড অবশ্য হইবে; লোকে তাহাদিগকে প্রস্তরাঘাতে বধ করিবে” (লেবীয় ২০:২৭)।

উত্তর: ঈশ্বর জোর দিয়ে বলেছেন যে “প্রেতাত্মা” চর্চাকারী কিংবা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের (যারা মৃতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে দাবী করে) পাথর মেরে হত্যা করা উচিত। এতে স্পষ্ট যে মৃতদের জীবিত থাকার বিষয়ে যারা প্রচার করে তাদের প্রতি ঈশ্বর কী মনোভাব পোষন করেন।

16. পুনরুত্থানে যে ধার্ম্মিক ব্যক্তিদের জাগানো হবে তাদের কি কখনও পুনরায় মৃত্যু হবে?

“যাহারা সেই জগতের, এবং মৃতগণের মধ্য হইতে পুনরুত্থানের অধিকারী হইবার যোগ্য গণিত হইয়াছে ... তাহারা আর মরিতেও পারে না” (লুক ২০:৩৫, ৩৬)। “তিনি তাহাদের সমস্ত নেত্রজল মুছাইয়া দিবেন; এবং মৃত্যু আর হইবে না; শোক বা আর্তনাদ বা ব্যথাও আর হইবে না; কারণ প্রথম বিষয় সকল লুপ্ত হইল” (প্রকাশিত বাক্য ২১:৪)।

Answer

উত্তর: না! ঈশ্বরের নতুন রাজ্যে দুঃখ, রোদন, যন্ত্রণা, এবং মৃত্যু কখনও প্রবেশ করবে না। “এই ক্ষয়ণীয় যখন অক্ষয়তা পরিহিত হইবে, এবং এই মর্ত্য যখন অমরতা পরিহিত হইবে, তখন এই যে কথা লিখিত আছে, তাহা সফল হইবে, ‘মৃত্যু জয়ে কবলিত হইল।’” (১ করিন্থীয় ১৫:৫৪)।

17. Belief in reincarnation is expanding rapidly today. Is this teaching biblical?

17. পুনর্জন্মবাদে বিশ্বাস বর্তমানে ব্যাপকভাবে প্রসারলাভ করছে। এই শিক্ষা কি বাইবেল সম্মত?

“জীবিত লোকেরা জানে যে, তাহারা মরিবে; কিন্তু মৃতেরা কিছুই জানে না। ... সূর্যের নিচে যে কোন কার্য করা যায়, তাহাতে কোন কালেও তাহাদের আর কোন অধিকার হইবে না” (উপদেশক ৯:৫, ৬)।

উত্তর: এই পৃথিবীতে বসবাসকারীদের এক-তৃতীয়াংশ লোক পুনর্জন্ম মতবাদে বিশ্বাসী—যা বলে যে আত্মা কখনও মরে না বরং বংশপরম্পরায় ক্রমাগত নতুন দেহে পুনর্জন্ম নিতে থাকে নেয়। কিন্তু এই শিক্ষাটি ভ্রান্ত, শাস্ত্রের বিপরীত।

বাইবেল বলে : মৃত্যুর পর একজন মানুষ: ধূলিতে মিশে যায়
(গীতসংহিতা ১০৪:২৯), কিছুই জানে না (উপদেশক ৯:৫), কোনও মানসিক ক্ষমতা ধারণ করে না (গীতসংহিতা ১৪৬:৪)।, এ পৃথিবীর কোন কাজের অংশীদার হয় না (উপদেশক ৯:৬), বেঁচে থাকে না (২ রাজাবলী ২০:১), কবরে অপেক্ষমান থাকে (ইয়োব ১৭:১৩), নিঃশ্চল হয় (ইয়োবঃ ১৪:১, ২)।

শয়তানের উদ্ভাবন আমরা ইতিমধ্যেই জ্ঞাত হয়েছি যে মৃতরা জীবিত থাকে—এ শিক্ষাটি শয়তানের উদ্ভাবন। পুনর্জন্ম, মৃতের আত্মার মাধ্যমের ব্যবহার, প্রেতাত্মার সঙ্গে যোগাযোগ, আত্মার উপাসনা, এবং অমর আত্মার কল্পকথা—এসব হলো শয়তানের উদ্ভাবন, যার একটাই লক্ষ্য—লোকদের বোঝানো যে যখন আপনার মৃত্যু হয়, তখন আপনি আসলে মৃত নন। যখন লোকে বিশ্বাস করে যে মৃতরা বেঁচে আছে, তখন শয়তান “মন্দ আত্মাদের ব্যবহার করে অলৌকিক কাজ করতে” সক্ষম হয়ে (প্রকাশিত বাক্য ১৬:১৪) ক্ষমতার সঙ্গে তাদের প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করবে (মথি ২৪:২৪)।

18. আপনি কি কৃতজ্ঞ যে মৃত্যুর মত স্পর্শকাতর এ বিষয়টি নিয়ে বাইবেল আমাদের সত্য তথ্য দেয়?

আপনার উত্তর: ___________


আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর


 

১। ক্রুশে ঝুলন্ত তস্করটি কি খ্রীষ্টের মৃত্যুর দিনে তাঁর সঙ্গে স্বর্গারোহণ করেছিল?

উত্তর: না। প্রকৃতপক্ষে রবিবার সকালে যীশু মরিয়মকে বলেছিলেন, “এখনও আমি ঊর্ধ্বে পিতার নিকটে যাই নাই” (যোহন ২০:১৭)। এতে বোঝা যায় যে যীশু মৃত্যুতেই স্বর্গে যান নি। “তিনি তাঁহাকে কহিলেন, আমি তোমাকে সত্য বলিতেছি, অদ্যই তুমি পরমদেশে আমার সঙ্গে উপস্থিত হবে” (লুক ২৩:৪৩)। এখানে “অদ্য” শব্দটির অর্থ হলো, “আজ—যখন মনে হচ্ছে একজন দস্যু হিসেবে ক্রুশে ঝুলে থাকা অবস্থায় কেউকে রক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তখন—আমি বলছি, তুমি একদিন আমার সঙ্গে স্বর্গ রাজ্যে উপস্থিত থাকবে” কারণ তিনি স্বয়ং সেই রাতে কবরে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ঈশ্বরের ইচ্ছায় স্বর্গারোহন করেছেন। খ্রীষ্টের গৌরবের রাজ্য স্থাপন করা হবে তাঁর দ্বিতীয় আগমনে (মথি ২৫:৩১), তার আগে নয়। যীশুর দ্বিতীয় আগমনে সর্ব যুগের ধার্মিকগণই স্বর্গরাজ্যে গৃহীত (১ থিষলনীকীয় ৪:১৫—১৭), তাঁর মৃত্যুর সময়ে নয়।

২। বাইবেল কি “অক্ষয়,” “অমর” আত্মার কথা উল্লেখ করে না?

উত্তর: না। এ কথা বাইবেলে উল্লেখ নেই। “অক্ষয় অদৃশ্য একমাত্র ঈশ্বর” (১ তীম ১:১৭)। এখানে “অক্ষয়” শব্দটি ঈশ্বরকে উদ্দেশ্য করেই বলা হয়েছে।

৩। মৃত্যুতে দেহ মাটিতে মিশে যায়, আত্মা (প্রাণবায়ু) ঈশ্বরের কাছে ফিরে যায়, কিন্তু আত্মা (জীবাত্মা) কোথায় যায়?

উত্তর: কোথাও যায় না। বরং, সহজভাবে বললে, এর অস্তিত্বই থাকে না। জীবন বা জীবাত্মা হতে হলে দু’টো জিনিসের সংমিশ্রণ আবশ্যক: দেহ এবং প্রাণবায়ু। যখন প্রাণবায়ু বেরিয়ে যায়, তখন জীবাত্মার অস্তিত্ব থাকে না কারণ তা দুটি জিনিসের সংমিশ্রণ। যখন আপনি বাতির সুইচ অফ করেন, তখন জ্যোতি কোথায় যায়? এটা কোথাও যায় না। এর অস্থিত্বই থাকে না। দুটি জিনিস একত্র করলে জ্যোতি বা আলো হয়: বাল্ব এবং বিদ্যুৎ। এই দুটি এক না হলে আলো জ্বলে না। জীবাত্মার ক্ষেত্রেও ঠিক একই; যতক্ষন দেহ ও প্রাণবায়ুকে যুক্ত করা না হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো জীবাত্মা বলে কিছুই থাকে না। “বিচ্ছিন্ন আত্মা” বলে কিছুই নেই।

৪। “জীবাত্মা” শব্দটি দ্বারা কখনও কি জীবিত মানুষ ছাড়া অন্য কিছু বোঝায়?

উত্তর: হাঁ। এর আরও অর্থ হতে পারে (১) জীবন, কিংবা (২) মনন, বা বুদ্ধিমত্তা। যাই বোঝানো হোক না কেন, তথাপী সেই জীবাত্মা হল দুটি জিনিসের সংমিশ্রণ (দেহ এবং প্রাণবায়ু), এবং মৃত্যুতে এর অস্তিত্ব থাকে না।

৫। “যে কেহ জীবিত আছে, এবং আমাতে বিশ্বাস করে, সে কখনও মরিবে না” (যোহন ১১:২৬) কথাটি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

উত্তর: কথাটি দ্বারা প্রথম মৃত্যু বোঝায় না, যে মৃত্যু সব লোকের হয় (ইব্রীয় ৯:২৭), কিন্তু বোঝানো হয়েছে দ্বিতীয় মৃত্যুকে যা শুধুমাত্র দুষ্টদেরই হবে আর যা থেকে কোনও পুনরুত্থান নেই
(প্রকাশিতবাক্য ২:১১; ২১:৮)।

৬। মথি ১০:২৮ পদ বলে “যাহারা শরীর বধ করে, কিন্তু আত্মা বধ করিতে পারে না, তাহাদিগকে ভয় করিও না।” এর অর্থ কি এই নয় যে আত্মা অবিনশ্বর?

উত্তর: না। এর অর্থ ঠিক বিপরীত। একই পদের শেষাংশ প্রমাণ দেয় যে আত্মার মৃত্যু হয়। সেখানে লেখা আছে, “কিন্তু যিনি আত্মা ও শরীর উভয়ই নরকে বিনষ্ট করিতে পারেন, বরং তাঁহাকেই ভয় কর।” এখানে “আত্মা” শব্দটির অর্থ জীবন, যা অনন্ত জীবনকে নির্দেশ করে, যেটি এমন একটি উপহার (রোমীয় ৬:২৩) যা শেষ দিনে ধার্মিকগণকে দেয়া হবে (যোহন ৬:৫৪)। ঈশ্বরের যে অনন্ত জীবন দেন তা কেউ হরণ করতে পারে না। (লুক ১২:৪, ৫ দেখুন।)

৭। ১ পিতর ৪:৬ পদ কি বলে না যে মৃতগণের কাছেও সুসমাচার প্রচারিত হয়েছিল?

উত্তর: না। এর অর্থ হল যারা “আজ” মৃত, এক সময় তাদের কাছেও প্রচার করা “হয়েছিল” যখন তারা বেঁচে ছিলেন।

সারসংক্ষেপ

দয়া করে এই প্রশ্নের সমাধান করার আগে পাঠটি পড়ে নিন। সমস্ত উত্তর আপনি এই সহায়িকা বইটিতে পেয়ে যাবেন।। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দিন। বন্ধনীর সংখ্যাগুলো (১) সঠিক উত্তরের সংখ্যা নির্দেশ করে।

১। বাইবেল অনুসারে মৃত্যু হলো (১)

( ) একটি নিদ্রা।

( ) জীবনের একটি অন্য পর্যায়ে রূপান্তর।

( ) একটি অনির্বচনীয় রহস্য।

২। যে “আত্মা” মৃত্যুতে ঈশ্বরের কাছে প্রত্যাবর্তন করে তা হলো (১)

( ) মানুষের প্রকৃত স্বত্তা।

( ) জীবাত্মা।

( ) প্রাণবায়ু।

৩। যার মৃত্যু হয় তিনি (১)

( ) স্বর্গে কিংবা নরকে যান।

( ) কবরে যান।

( ) প্রায়শ্চিত্তের স্থানে যান।

৪। জীবাত্মা হলো (১)

( ) একজন মানুষের আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্য।

( ) একজন মানুষের অমর দেহাংশ।

( ) একজন সজীব ব্যক্তি।

৫। জীবাত্মার কি মৃত্যু হয়? (১)

( ) হ্যাঁ

( ) না

৬। কখন পবিত্রগণ পুরস্কৃত হবে? (১)

( ) এই জীবনে

( ) মৃত্যুতে।

( ) খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমনে।

৭। মৃতরা মৃত নয়, এটা বলে শয়তান কেন লোকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে? (১)

( ) যেন তারা তার অলৌকিক কাজে বিশ্বাস করে চিরতরে বিনষ্ট হয়।

( ) কারণ মানুষের যন্ত্রণা তাকে পীড়া দেয়।

( ) কারণ সে অত্যন্ত নীচ ও দুষ্ট।

৮। যে ব্যক্তিগণ মৃতদের সঙ্গে “যোগাযোগ” করে তারা আসলে (১)

( ) অমর আত্মাদের সঙ্গে কথা বলছে।

( ) পবিত্র দূতদের সঙ্গে কথা বলছে।

( ) মন্দাত্মারূপী মৃতদের সঙ্গে কথা বলছে।

৯। মোশির সময়ে যারা শেখাতো যে মৃতরা বেঁচে থাকে, ঈশ্বর (১)

( ) তাদের যাজকে পরিণত করতে বলেন। .

( ) তাদের জ্ঞানের জন্য পুরস্কৃত করতে বলেন।

( ) হত্যা করতে বলেছিলেন।

১০। মানুষ কীভাবে সুনিশ্চিত হতে পারে যে সে সুরক্ষিত এবং সঠিক? (১) (

( ) ঈশ্বরের কাছে স্বর্গ থেকে বিশেষ এক চিহ্নের জন্য অনুরোধ করতে হবে।

( ) আপনার যাজক বা শিক্ষাগুরু যা আদেশ দেন সেটিই করতে হবে।

( ) সযত্নে এবং প্রার্থনা সহকারে বাইবেল পাঠ ও অনুসরণ করতে হবে।

১১। যখন একজন মানুষ মারা যায় (১)

( ) তার আত্মা, কিংবা জীবাত্মা সজীব থাকে।

( ) জীবিতদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখতে পারে।

( ) সে সর্বত্রভাবে মৃত—তার শরীর মৃত, তার আত্মা অস্তিত্ব হারায়, এবং জীবিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না

১২। অলৌকিক কার্য্যাদি কি এটা প্রমাণ করে যে ঈশ্বর থেকে কিছু ঘটছে? (১)

( ) হ্যাঁ। কেবল ঈশ্বরই অলৌকিক কাজ করেন।

( ) না। শয়তানও মহৎ অলৌকিক কার্য্য করে।

১৩। আমি সেই বাইবেলের জন্য কৃতজ্ঞ, যা আমাদেরকে মৃত্যুর মত এই সংবেদনশীল
বিষয়ে সঠিক তথ্য দেয়।

( ) হ্যাঁ।

( ) না।