Lesson 2
শয়তান কে? অনেকেই মনে করে যে সে একটি কাল্পনিক চরিত্র (ব্যক্তি), কিন্তু বাইবেল বলে তাঁর অস্তিত্ব বাস্তব এবং সে আপনার জীবনকে প্রতারিত ও ধ্বংস করতে মন স্থির করেছে। এই চতুর কিন্তু নিষ্ঠুর জ্ঞানের গুরুর বিষয়ে আপনাকে যা বলা হয়েছে, সে তার চেয়েও জঘন্য। সে এই জগতের দুঃখ ও ব্যথা বৃদ্ধি করতে সে ব্যক্তি, পরিবার, মণ্ডলী, এবং এমন কি সমস্ত জাতিকে ফাঁদে ফেলেছে। এই অন্ধকারের অধিপতির এবং কীভাবে তাকে পরাজিত করবেন সে বিষয়ে এখানে বাইবেলের আশ্চর্য্যজনক তথ্যগুলো দেয়া হলো।
1. কার মাধ্যমে পাপের উৎপত্তি হয়েছিল?
“কেননা দিয়াবল আদি হইতে পাপ করিতেছে” (১ যোহন ৩:৮)। “এ সেই পুরাতন সর্প যাহাকে দিয়াবল ও শয়তান বলা যায়” (প্রকাশিত বাক্য ১২:৯)।
উত্তর: শয়তান, যাকে দিয়াবলও বলা হয়, সেই পাপের জন্মদাতা। বাইবেল ছাড়া পাপের উত্পত্তির ব্যাখ্যা করাই অসম্ভব।

2. শয়তান পাপ করার পূর্বে তার নাম কী ছিল? কোথায় বসবাস করত সে?
“হে প্রভাতি তারা; উষা-নন্দন তুমি তো স্বর্গভ্রষ্ট হইয়াছ!” (যিশাইয় ১৪:১২)। “তিনি [যীশু] তাহাদিগকে কহিলেন, আমি শয়তানকে বিদ্যুতের ন্যায় স্বর্গ হইতে পতিত দেখিতেছিলাম” (লূক ১০:১৮)। “তুমি ঈশ্বরের পবিত্র পর্বতে ছিলে” (যিহিষ্কেল ২৮:১৪)।
উত্তর: শয়তানের নাম ছিল প্রভাতি তারা (লুসিফার), আর সে স্বর্গে বাস করত। যিশাইয় ১৪ অধ্যায়ে “বাবিলের রাজা”কেও লুসিফারের প্রতীক হিসাবে চিিহ্নত করা হয়েছে এবং যিহিষ্কেল ২৮ অধ্যায়ে সোরের অধ্যক্ষ বলা হয়েছে।
3. লুসিফারের উৎপত্তি কোথা থেকে হয়েছিল? বাইবেল কীভাবে তার বর্ণনা দেয়?
লুসিফারকে সৃষ্টি করা হয়েছিল (যিহিষ্কেল ২৮:১৫)। হে মনুষ্য-সন্তান, তুমি সোরের রাজার জন্য বিলাপ কর, ও তাহাকে বল, প্রভু সদাপ্রভু এই কথা কহেন, তুমি পরিমাণের মুদ্রাঙ্ক, তুমি পূর্ণজ্ঞান, তুমি সৌন্দর্য্যে সিদ্ধ; তুমি ঈশ্বরের উদ্যান এদনে ছিলে; সর্ব্বপ্রকার বহুমূল্য প্রস্তর, চূণি, পীতমণি, হীরক, বৈদূর্য্যমণি, গোমেদক, সূর্য্যকান্ত, নীলকান্ত, হরিণ্মণি ও মরকত, এবং স্বর্ণ তোমার আচ্ছাদন ছিল, তোমার ঢাকের ও বাঁশীর কারুকার্য্য তোমার মধ্যে ছিল; তোমার সৃষ্টিদিনে এ সকল প্রস্তুত হইয়াছিল। তোমার সৃষ্টি দিন অবধি তুমি আপন আচারে সিদ্ধ ছিলে; শেষে তোমার মধ্যে অন্যায় পাওয়া গেল” (যিহিষ্কেল ২৮:১২, ১৩, ১৫)। “তুমি অভিষিক্ত আচ্ছাদক করুব ছিলে, আমি তোমাকে স্থাপন করিয়াছিলাম, তুমি ঈশ্বরের পবিত্র পর্ব্বতে ছিলে; তুমি অগ্নিময় প্রস্তর সকলের মধ্যে গমনাগমন করিতে” (যিহিষ্কেল ২৮:১৪)।
উত্তর: ঈশ্বরই লুসিফারকে সৃষ্টি করেছিলেন অন্যান্য দূতগণের মতো (ইফিষীয় ৩:৯)। লুসিফার ছিলেন “আচ্ছাদক” করূব, বা দূত। একজন আচ্ছাদক দূত ঈশ্বরের সিংহাসনের বামে উপবিষ্ট থাকতেন
এবং আর একজন থাকতেন ডান দিকে (গীতসংহিতা ৯৯:১)। তিনি একজন উচ্চপদস্থ দূত এবং একজন দলনেতা ছিলেন। তার সৌন্দর্য ছিল নিখুঁত এবং অসাধারণ। সে ছিল জ্ঞানে সিদ্ধ। তার উজ্জ্বলতা ছিল আশ্চর্য রকমের অনুপ্রেরণাদায়ক। যিহিষ্কেল ২৮:১৩ দেখায় যে তাকে একজন বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ হবার জন্যেই সৃষ্টি করা হয়েছিলো। অনেক পণ্ডিতরা মনে করেন স্বর্গে সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তার।
4. লুসিফারের জীবনে এমন কী ঘটেছিলো যা তাকে পাপকাজে চালিত করেছিলো? কোন্ পাপটি সে করেছিল?
“তোমার চিত্ত তোমার সৌন্দর্য্যে গর্বিত হইয়াছিল; তুমি নিজ দীপ্তি হেতু আপন জ্ঞান নষ্ট করিয়াছ” (যিহিষ্কেল ২৮:১৭)। “তুমি মনে মনে বলিয়াছিলে, আমি স্বর্গারোহণ করিব। ঈশ্বরের নক্ষত্রগনের ঊর্দ্ধে আমার সিংহাসন উন্নত করিব ... আমি পরাৎপরের তুল্য হইব” (যিশাইয় ১৪:১৩, ১৪)।
উত্তর: লুসিফারের অন্তরে অহংকার, হিংসা, ও অসন্তোষ জাগলো। সে চেয়েছিল ঈশ্বরের পরিবর্তে সবাই যেন তার আরাধনা করে।
নোট: কেন ঈশ্বরের উপাসনা করা এত জরুরি? কারণ এটিই হল শয়তান ও ঈশ্বরের মধ্যে নিরন্তর এই যুদ্ধের মূল বিষয়। মানুষ এ জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল যেন তারা কেবলমাত্র ঈশ্বরের আরাধনা করে সুখ এবং পরিপূর্ণতা পায়। এমন কি স্বর্গের দূতকেও উপাসনা করার কথা নয় (প্রকাশিত বাক্য ২২:৮, ৯)। শয়তান স্বার্থপরভাবে সেই আরাধনা পেতে চায় যা শুধু মাত্র ঈশ্বরের। শতশত বছর পর যখন সে যীশুকে প্রান্তরে পরীক্ষা করছিল, তখনও আরাধনাই ছিল শয়তানের আসল ইচ্ছে এবং প্রলুব্ধ করার চাবি (মথি ৪:৮–১১)। এখন, এই শেষ দিনগুলোতে ঈশ্বর যখন সমস্ত লোকদের তাঁর উপাসনা করতে আহ্বান জানান (প্রকাশিত বাক্য ১৪:৬, ৭), এটা শয়তানকে এত ক্রুদ্ধ করে যে সে নিজেকে উপাসনা করাতে লোকদের জোর করতে চেষ্টা চালাবে নতুবা তাদেরকে হত্যা করা হবে (প্রকাশিত বাক্য ১৩:১৫)। প্রত্যেক মানুষই কোন ব্যক্তিকে বা কোন কিছুকে উপাসনা করে: ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, খাবার, আমোদ-প্রমোদ, সম্পত্তি, ইত্যাদি। কিন্তু ঈশ্বর বলেন, “আমার সাক্ষাতে তোমার অন্য দেবতা না থাকুক” (যাত্রা ২০:৩)। আমরা কার আরাধনা করবো সে ব্যাপারে লূসিফারের মত আমাদের একটি মনোনয়ন ক্ষমতা রয়েছে। যদি আমরা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া অন্য কিছু কিংবা অন্য কারও আরাধনা করতে সিদ্ধান্ত নিই, তবে তিনি আমাদের পছন্দকে সম্মান করবেন, কিন্তু সেটা তাঁর বিরুদ্ধে গণনা করা হবে (মথি ১২:৩০)। যদি ঈশ্বর ছাড়া অন্য কিছু বা অন্য কেউ আমাদের জীবনে প্রথম স্থান পায়, তাহলে আমরা পরিশেষে শয়তানের পথ অনুসরণ করতে থাকবো। আপনার জীবনে কি ঈশ্বর প্রথম স্থান পেয়েছেন—নাকি আপনি শয়তানের সেবা করছেন? এটি একটি ভেবে দেখার মতো প্রশ্ন নয় কি?
5. লুসিফারের পাপের পরিণতি হিসেবে স্বর্গে কী ঘটেছিল?
“আর স্বর্গে যুদ্ধ হইল, মীখায়েল ও তাঁহার দূতগন ঐ নাগের সহিত যুদ্ধ করিতে লাগিলেন। তাহাতে সেই নাগ ও তাহার দূতগণও যুদ্ধ করিল, কিন্তু জয়ী হইল না, এবং স্বর্গে তাহাদের স্থান আর পাওয়া গেল না। আর সেই মহা নাগ নিক্ষিপ্ত হইল; এ সেই পুরাতন সর্প যাহাকে দিয়াবল (অপবাদক) এবং শয়তান (বিপক্ষ) বলা যায়, সে সমস্ত নরলোকের ভ্রান্তি জন্মায়, সে পৃথিবীতে নিক্ষিপ্ত হইল ও তাঁহার দূতগণও তাঁহার সহিত” নিক্ষিপ্ত হইল।
(প্রকাশিত বাক্য ১২:৭–৯)।
উত্তর: লুসিফার এক-তৃতীয়াংশ দূতগণকে প্রতারিত করে এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে স্বর্গে বিদ্রোহ করে (প্রকাশিত বাক্য ১২:৩, ৪)। লুসিফার ও অন্য পতিত দূতদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করা ছাড়া আর কোন বিকল্প ছিলনা, কারণ লুসিফারের লক্ষ্য ছিল ঈশ্বরের সিংহাসন দখল করে সকল প্রতিপত্তি নিজের হাতে নেওয়া। এ জন্য তাকে যদি এমন কি হত্যা করারও দরকার হয়, সে তা করবে (যোহন ৮:৪৪)। স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর লুসিফারকে শয়তান, অর্থাত্ “প্রতিপক্ষ,” এবং দিয়াবল অর্থাত্ “নিন্দাকারী” ব্যক্তি বলে ডাকা হলো। আর যে দূতেরা শয়তানকে অনুসরণ করলো তাদের দুষ্ট আত্মা বলে ডাকা হলো।
6. শয়তানের প্রধান কার্যালয় বর্তমানে কোথায়?
মানুষ সম্বন্ধে তার অনুভূতি কী?
“সদাপ্রভু শয়তানকে কহিলেন, তুমি কোথা হইতে আসিলে? শয়তান সদাপ্রভুকে উত্তর করিয়া কহিল, আমি পৃথিবী পর্য্টন ও তথায় ইতস্ততঃ ভ্রমণ করিয়া আসিলাম” (ইয়োব ২:২)। “পৃথিবী ও সমুদ্রের সন্তাপ হইবে; কেননা দিয়াবল তোমাদের নিকটে নামিয়া গিয়াছে; সে অতিশয় রাগান্বিত, সে জানে, তাহার কাল সংক্ষিপ্ত” (প্রকাশিত বাক্য ১২:১২)। তোমরা প্রবুদ্ধ হও, জাগিয়া থাক তোমাদের বিপক্ষ দিয়াবল, গর্জনকারী সিংহের ন্যায়, কাহাকে গ্রাস করিবে, তাহার অন্বেষণ করিয়া বেড়াইতেছে” (১ পিতর ৫:৮)।
উত্তর: বহু প্রচলিত মতের বিপরীত হলেও এ কথা সত্য যে শয়তানের প্রধান কার্যালয় হল এই পৃথিবী, নরক নয়। ঈশ্বর আদম ও হবাকে পৃথিবীর উপরে কর্তৃত্ব দিলেন (আদিপুস্তক ১:২৬)। যখন তারা পাপ করলো, তখন তারা শয়তানের কাছে তাদের কর্তৃত্ব হারালো (রোমীয় ৬:১৬), যে তারপরই জগতের শাসনকর্তা, বা রাজপুত্রে পরিণত হলো (যোহন ১২:৩১)। শয়তান ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট মানুষকে তুচ্ছ করলো। যেহেতু সে সরাসরিভাবে ঈশ্বরের ক্ষতিসাধনা করতে পারবে না, সেহেতু তার ক্রোধকে পৃথিবীতে ঈশ্বরের সন্তানদের উপর বর্তালো। শয়তান ঘৃণ্য এক হত্যাকারী যার লক্ষ্য হলো আপনাকে ধ্বংস করা, আর, এভাবে ঈশ্বরকে কষ্ট দেওয়া।
7. যখন ঈশ্বর আদম হবাকে সৃষ্টি করেছিলেন তখন তাদের কী করতে নিষেধ করেছিলেন? অবাধ্যতার ফল সম্বন্ধে তাদের কি সতর্ক করেছিলেন?
“সদসদ্-জ্ঞানদায়ক যে বৃক্ষ, তাহার ফল ভোজন করিও না, কেননা যেদিন তাহার ফল খাইবে, সেইদিন মরিবেই মরিবে” (আদিপুস্তক ২:১৭)।
উত্তর: ঈশ্বর আদম হবাকে বলেছিলেন সদসদ্-জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল না খেতে। এই গাছের ফল খাওয়ার শাস্তি ছিল মৃত্যু।
নোট: মনে রাখবেন যে ঈশ্বর আদম ও হবাকে তাঁর নিজের হাতে সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাদের সেই সুন্দর বাগানে রেখেছিলেন, যেখানে তারা কেবলমাত্র একটি ব্যতীত সব ধরণের গাছের ফল খেতে পারতেন (আদিপুস্তক ২:৭–৯)। ঈশ্বর থেকে এটি ছিল তাদের মনোয়নয়ন করতে দেয়ার একটি অনুগ্রহযুক্ত উপায়। ঈশ্বরে আস্থা রেখে এবং নিষিদ্ধ গাছের ফল না খেয়ে, তাদের অনন্ত কাল স্বর্গে বসবাস করার কথা ছিলো। শয়তানের কথা শোনার সিদ্ধান্ত নিয়ে, তারা সমস্ত জীবনের উত্স—অর্থাত্ ঈশ্বর হতে দূরে পালিয়ে যেতে মন স্থির করলো—এবং, স্বভাবতই, মৃত্যুর স্বাদ নিলো।
8. কীভাবে শয়তান হবাকে প্রতারিত করেছিল? সে তাকে কী কী মিথ্যা কথা বলেছিল?
“সদাপ্রভু ঈশ্বরের নির্মিত ভূচর প্রাণীদের মধ্যে সর্প সর্বাপেক্ষা খল ছিল। সে ঐ নারীকে কহিল, ঈশ্বর কি বাস্তবিক বলিয়াছেন, তোমরা ঐ উদ্যানের কোনও বৃক্ষের ফল খাইও না?” ... তখন সর্প নারীকে কহিল, কোনও ক্রমে মরিবে না, কেননা ঈশ্বর জানেন, যেদিন তোমরা তাহা খাইবে, সেইদিন তোমাদের চক্ষু খুলিয়া যাইবে, তাহাতে তোমরা ঈশ্বরের সদৃশ সদসদ্–জ্ঞান প্রাপ্ত হইবে” (আদিপুস্তক ৩:১, ৪, ৫ পদ)।
উত্তর: শয়তান হবাকে প্রতারিত করার জন্য সর্পকে—ঈশ্বরের সৃষ্ট সব থেকে ধূর্ত ও সুন্দর জীব-জন্তুদের মধ্যে অন্যতম একটিকে—ব্যবহার করেছিল। কোনও কোনও পণ্ডিতেরা মনে করেন যে শুরুতে সর্পের ডানা ছিল ও সে উড়তে পারত (যিশাইয় ১৪:২৯; ৩০:৬)। স্মরণে রাখবেন, ঈশ্বর সাপকে অভিশাপ না দেয়া পর্যন্ত সে বুকে হাঁটেনি (আদিপুস্তক ৩:১৪)। শয়তানের মিথ্যে কথাগুলি ছিল: (১) তুমি মরবে না, এবং (২) ফল খেলে তুমি বুদ্ধিমান হবে। যে শয়তান মিথ্যের উদ্ভাবন করেছিল (যোহন ৮:৪৪), সেই শয়তানই মিথ্যার সঙ্গে সত্যের মিশ্রণ ঘটিয়ে হবাকে বলেছিল। যে সব মিথ্যার সঙ্গে কিছু সত্য মিশানো থাকে সেগুলো সর্বাধিক কার্যকর হয়। এটা সত্য যে পাপ করার পর তারা খারাপটা “বুঝতে পারবে।” ঈশ্বর ভালোবেসেই মন্দ জ্ঞান তাদের থেকে দূরে রেখেছিলেন, যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দুঃখ, কষ্ট, বেদনা, আর মৃত্যু। শয়তান ঈশ্বরের চরিত্রকে ভুলভাবে তুলে ধরার জন্য মন্দের জ্ঞানকে আকর্ষণীয়রূপে দেখিয়েছে, কারণ সে জানে যদি লোকেরা ঈশ্বরের চরিত্রকে ভুল বোঝে তাহলে সম্ভাবনা হলো যে তারা এক স্নেহময় ঈশ্বর থেকে দূরে সরে যাবে।
9. একটি টুকরো ফল ভক্ষণে কী এমন অপরাধ ছিল যে কারণে আদম ও হবাকে এদন উদ্যান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল?
“যে কেহ সৎকর্ম্ম করিতে জানে, অথচ না করে তাহার পাপ হয়” (যাকোব ৪:১৭)। “যে কেহ পাপচারণ করে, সে ব্যবস্থা লঙ্ঘন করে, আর ব্যবস্থা লঙ্ঘনই হল পাপ” (১ যোহন ৩:৪)। “আর সদাপ্রভু ঈশ্বর কহিলেন দেখ মনুষ্য সদসদ্-জ্ঞান প্রাপ্ত হইবার বিষয়ে আমাদের একের মত হইল, এখন পাছে সে হস্ত বিস্তার করিয়া জীবন বৃক্ষের ফল পাড়িয়া ভোজন করে ও অনন্তজীবী হয়। এই নিমিত্ত সদাপ্রভু ঈশ্বর তাহাকে এদন উদ্যান হইতে বাহির করিয়া দিলেন। এবং জীবন বৃক্ষের পথ রক্ষা করিবার জন্য এদনস্থ উদ্যানের পূর্বদিকে করূবগণকে ঘূর্ণায়মান তেজোময় খড়্গ রাখিলেন” (আদিপুস্তক ৩:২২, ২৪)।

উত্তর: নিষিদ্ধ ফলটি খাওয়া পাপ ছিল, কারণ এটি ঈশ্বরের প্রতি করণীয় কাজগুলোর মধ্যে একটিকে প্রত্যাখ্যান। এটা ছিল ঈশ্বরের নিয়ম এবং কর্তৃত্বের বিপক্ষে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ। ঈশ্বরের আদেশকে অমান্য করার মাধ্যমে আদম ও হবা শয়তানের অনুগামী হতে মন স্থির করলো, অতঃপর, ঈশ্বর ও নিজেদের মধ্যে বিচ্ছেদ নিয়ে এলো (যিশাইয় ৫৯:২)। শয়তানের এটা প্রত্যাশা করাই স্বাভাবিক ছিল যে এই দম্পতি তাদের পাপের পরও জীবন বৃক্ষের ফল ভোজন চলমান রাখবে, অতঃপর পাপী হিসেবে বেঁচে থাকবে, কিন্তু ঈশ্বর তা প্রতিরোধের লক্ষ্যে তাদের বাগান থেকে সরিয়ে দিলেন।
10. মানুষকে আঘাত দেয়ার, প্রতারিত, এবং ধ্বংস করার জন্য শয়তানের ব্যবহৃত কৌশলগুলোর বিষয়ে বাইবেল কী প্রকাশ করে?
উত্তর: বাইবেল প্রকাশ করে যে শয়তান লোকেদের প্রতারিত ও ধ্বংস করার জন্য সব দৃষ্টিকোণ থেকে চেষ্টা করে। শয়তানের দুষ্ট আত্মা নিজেদেরকে ধর্মীয় বলে অভিনয় করতে পারে। শয়তান একদিন মহিমান্বিত স্বর্গের দূতের বেশ ধরে প্রকাশিত হবে এবং নিজের ক্ষমতায় স্বর্গ থেকে আগুন নামাবে। সে এমনকি যীশুর রূপ ধারণ করবে। কিন্তু আপনাকে সতর্ক করা হয়েছে যেন আপনি প্রতারিত না হন। কারণ, যখন যীশু আসবেন, প্রত্যেক চক্ষু তাহাকে দেখবে, (প্রকাশিত বাক্য ১:৭)। তিনি আকাশে মেঘেতেই থাকবেন এবং মাটিতে পা রাখবেন না (১ থিষলনীকীয় ৪:১৭)।
বাইলের বাণী অনুসারে শয়তান যা যা করে ...
| প্রতারণা করে প্রকাশিত বাক্য ১২:৯, ১৩ |
ভুলভাবে বাইবেল থেকে উদ্ধৃতি দেয় মথি ৪:৫, ৬ |
| মিথ্যা অভিযোগ আনে/হত্যা করে প্রকাশিত বাক্য ১২:১০; যোহন ৮:৪৪ |
ফাঁদ পাতে/গ্রাস করে ২ তীমথিয় ২:২৬; ১ পিতর ৫:৮ |
| ঈশ্বরের লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। প্রকাশিত বাক্য ১২:১৭ |
বন্দী বানায়/বিশ্বাসঘাতকতা করে লুক ১৩:১৬; যোহন ১৩:২, ২১ |
| বন্দী গৃহে বা কারাগারে নিক্ষেপ করে প্রকাশিত বাক্য ২:১০ |
নিজের আয়ত্বে নিয়ে আসে/বাঁধা দেয় লূক ২২:৩–৫; ১ থিষলনীকীয় ২:১৮ |
| অলৌকিক কাজ করে/মিথ্যা বলে প্রকাশিত বাক্য ১৬:১৩, ১৪; যোহন ৮:৪৪ | উজ্জল স্বর্গদূতরূপে প্রকাশ হয় ২ করিন্থীয় ১১:১৩–১৫ |
| রোগ বিবাদ আনে/যন্ত্রণা দেয় ইয়োব ২:৭ | মন্দ আত্মা পোষে যারা পুরোহিতের বেশ ধারণ করে ২ করিন্থীয় ১১:১৩–১৫ |
| নিন্দা করে “দিয়াবল” শব্দের অর্থ “নিন্দাকারী” . |
স্বর্গ থেকে আগুন নামায় প্রকাশিত বাক্য ১৩:১৩ |
11. শয়তানের প্রলোভন ও কৌশলগুলো কতটা কার্যকর?
শয়তান যাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিল তারা হলো: এক-তৃতীয়াংশ স্বর্গদূত (প্রকাশিত বাক্য ১২:৩–৯); আদম ও হবা (আদিপুস্তক ৩); জলপ্লাবন এর সময় নোহ ও তার পরিবারের আটজন ব্যতিরেকে পৃথিবীর সব মানুষ (১ পিতর ৩:২০)। প্রায় সারা দুনিয়াই যীশুকে ছেড়ে তাকে অনুসরণ করে (প্রকাশিত বাক্য ১৩:৩)। বহু মানুষ তার মিথ্যে বলার কারণে চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে (মথি ৭:১৪; ২২:১৪)।
উত্তর: শয়তানের সফলতা আশ্চর্যভাবে এত অধিক যে তা প্রায় অবিশ্বাস্য। সে ঈশ্বরের এক-তৃতীয়াংশ স্বর্গদূতকে পথভ্রষ্ট করতে সফল হয়েছিল। নোহের সময়ে আটজন ছাড়া পৃথিবীর বাকি সবাইকে প্রতারিত করেছিল। প্রভু যীশুর দ্বিতীয় আগমনের পূর্বে শয়তান স্বর্গীয় রূপে, যীশুর বেশ ধারণ করে প্রকাশিত হবে। তার প্রতারণার শক্তি এতই প্রবল হবে যে আমাদের একমাত্র রক্ষার উপায় হবে তাকে দেখতে না যাওয়া (মথি ২৪:২৩–২৬)। যদি আমরা তার কথা শুনতে নারাজ হই, যীশু আমাদের তার প্রতারণা থেকে বাঁচাবেন (যোহন ১০:২৯)। (যীশুর দ্বিতীয় আগমন এর বিষয়ে আরো জানতে, ৮ নম্বর গাইড দেখুন।)
12. কখন এবং কী প্রকারে শয়তান তার শাস্তি ভোগ করবে? কী শাস্তি পাবে সে?
“তেমনি যুগান্তে হইবে। মনুষ্যপুত্র আপন দূতগণকে প্রেরণ করিবেন; তাঁহারা তাঁহার রাজ্য
হইতে সমস্ত বিঘ্নজনক বিষয় ও অধর্মাচারীদিগকে সংগ্রহ করিবেন, এবং তাহাদিগকে অগ্নিকুণ্ডে ফেলিয়া
দিবেন” (মথি ১৩:৪০–৪২)। “আর তাহাদের ভ্রান্তিজনক দিয়াবল “অগ্নি ও গন্ধকের” হ্রদে নিক্ষিপ্ত হইল”
(প্রকাশিত বাক্য ২০:১০)। “ওহে শাপগ্রস্ত সকল, আমার নিকট হইতে দূর হও, দিয়াবলের ও তাহার দূতগণের জন্য যে অনন্ত অগ্নি প্রস্তুত করা গিয়াছে, তাহার মধ্যে যাও” (মথি ২৫:৪১)। “আমি তোমার মধ্য হইতে অগ্নি বাহির করিলাম, সে তোমাকে গ্রাস করিল; এবং আমি তোমাকে দর্শনকারী সকলের সাক্ষাতে ভস্ম করিয়া ভূমিতে ফেলিয়া দিলাম। ... তুমি ... কোনও কালে আর হইবে না” (যিহিষ্কেল ২৮:১৮, ১৯)।

উত্তর: জগতের শেষে শয়তানকে এই পৃথিবীতেই পাপ ধ্বংসকারী আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। শয়তানকে ঈশ্বর তার পাপের জন্য, পাপে অন্যদের প্রলুব্ধ করার জন্য, এবং ঈশ্বর যাদের ভালোবাসেন তাদের আঘাত ও ধ্বংস করার জন্য দণ্ড দেবেন।
নোট: ঈশ্বর তাঁর নিজেরই সৃষ্ট শয়তানকে এই আগুনে নিক্ষেপ করার সময় যে মনোবেদনা অনুভব করবেন তা যথাযথভাবে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। এটা যারা আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে কেবল তাদের জন্যই যে খুব বেদনাদায়ক হবে, তা নয়, বরং ঈশ্বরের জন্যও হবে যিনি শুরুতে ভালোবেসে তাদের সৃষ্টি করেছেন। (নরক সম্পর্কে আরো জানতে সহায়িকা বই নং ১১ দেখুন।)
13. পরিশেষে পাপের ভয়াবহ সমস্যার কী সমাধান হবে? পুনরায় কি পাপের উত্থান ঘটবে?
“প্রভু কহিতেছেন, আমার জীবনের দিব্য, আমার কাছে প্রত্যেক জানু পাতিত হইবে, এবং প্রত্যেক জিহ্বা ঈশ্বরের গৌরব স্বীকার করিবে” (রোমীয় ১৪:১১; তাছাড়া ফিলিপীয় ২:১০, ১১; যিশাইয় ৪৫:২৩ দেখুন)। দ্বিতীয়বার সঙ্কট উপস্থিত হইবে না (নহূম ১:৯)।
উত্তর: এই পাপ সমস্যার সমাধান হবে দুটি বিশেষ ঘটনার মাধ্যমে:
প্রথমত,শয়তান এবং তার মন্দ দূতগণসহ স্বর্গ ও পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী তাদের নিজস্ব স্বাধীন মনোনয়নের দ্বারা ঈশ্বরের সামনে নতজানু হবে এবং প্রকাশ্যে স্বীকার করবে যে তিনি সত্য, ন্যায্য এবং ধার্মিক। কোন প্রশ্নই উত্তরবিহীন থাকবে না। সমস্ত পাপীরা স্বীকার করবে যে তারা ঈশ্বরের ভালোবাসা এবং পরিত্রাণ গ্রহণ করতে অস্বীকার করার কারণে হারিয়ে গেছে। তারা সকলেই স্বীকার করবে যে তারা অনন্ত মৃত্যুর যোগ্য।
দ্বিতীয়ত, যারা পাপকে বেছে নেয় যেমন: শয়তান, মন্দ আত্মাগণ, এবং যারা তাকে অনুসরণ করেছে, তাদের সকলের স্থায়ী ধ্বংসের মাধ্যমে মহাবিশ্ব থেকে পাপ চিরতরে মুছে ফেলা হবে। ঈশ্বরের বাক্য এই ব্যাপারে স্পষ্ট; পাপ আর কখনও তাঁর সৃষ্টির কিংবা তাঁর লোকদের ক্ষতি করার জন্য উত্থিত হবে না।
14. এই বিশ্ব থেকে পাপকে চিরতরে নির্মূল করবেন কে?
“ঈশ্বরের পুত্র এই জন্যই প্রকাশিত হইলেন, যেন দিয়াবলের কার্য সকল লোপ করেন” (১ যোহন ৩:৮)। “ভাল, সেই সন্তানগণ যখন রক্তমাংসের ভাগী, তখন তিনি নিজেও তদ্রূপ তাহার ভাগী হইলেন; যেন মৃত্যু দ্বারা মৃত্যুর কর্তৃত্ববিশিষ্ট ব্যক্তিকে অর্থাৎ দিয়াবলকে শক্তিহীন করেন” (ইব্রীয় ২:১৪, ১৫)।
উত্তর: যীশু তাঁর জীবন, মৃত্যু, ও পুনরুত্থান দ্বারাই পাপের নির্মূল সুনিশ্চিত করেছেন। .
15. মানুষদের জন্য ঈশ্বরের প্রকৃত অনুভূতি কী?
“কারণ পিতা আপনি তোমাদিগকে ভালবাসেন” (যোহন ১৬:২৭; তাছাড়াও যোহন ৩:১৬; ১৭:২২, ২৩ দেখুন)।
উত্তর: যীশু আমাদের যতটুকু ভালোবাসেন পিতা ঈশ্বরও আমাদের ততটুকু ভালোবাসেন। যীশুর জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল তাঁর পিতার চরিত্রকে প্রকাশ করা যেন লোকে জানতে পারে ঈশ্বর সত্যি কত প্রেমময়, আপন, এবং যত্নশীল (যোহন ৫:১৯)।
শয়তান পিতাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে
শয়তান ঈশ্বরকে অনুভূতিহীন, বিচ্ছিন্ন, খুঁতখুঁতে, কঠোর, এবং নাগালবহির্ভূত হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে। এমনকি শয়তান তার নিজের কুত্সিত, বিপর্যয়কর সহিংসতাকে “দৈব/ঐশ্বরিক কাজ বলে নাম দেয়। যীশু তাঁর পিতার নাম থেকে এই অপবাদ মুছে ফেলার এবং একজন মা তার সন্তানকে যতটা ভালবাসেন, স্বর্গীয় পিতা আমাদের তার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন, এটা দেখাবার জন্য এসেছিলেন (যিশাইয় ৪৯:১৫)। যীশুর মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল এই ঈশ্বরের ধৈর্য, মৃদুতা, অফুরন্ত দয়া।
পিতা ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করেন আপনাকে খুশি করার একমাত্র উদ্দেশ্যে, আমাদের স্বর্গীয় পিতা আমাদের জন্য একটি দুর্দান্ত চিরন্তন গৃহ নির্মাণ করেছেন। যীশু আমাদের স্বাগত জানানোর জন্য এমন কিছু নিয়ে অপেক্ষা করছেন যা আমাদের কল্পনার অতীত। আসুন বার্তাটি ছড়িয়ে দেওয়া যাক! আর আমরা প্রস্তুত থাকি কারণ এখন আর বেশি সময় নেই!
আপনাকে খুশি করার একমাত্র উদ্দেশ্যে, আমাদের স্বর্গীয় পিতা আমাদের জন্য একটি দুর্দান্ত চিরন্তন গৃহ নির্মাণ করেছেন। যীশু আমাদের স্বাগত জানানোর জন্য এমন কিছু নিয়ে অপেক্ষা করছেন যা আমাদের কল্পনার অতীত। আসুন বার্তাটি ছড়িয়ে দেওয়া যাক! আর আমরা প্রস্তুত থাকি কারণ এখন আর বেশি সময় নেই!
16. আপনি কি বিশ্বাস করেন যে, পিতা ঈশ্বর আপনাকে যীশুর সমপরিমাণ ভালোবাসেন, এটা সুসংবাদ?
আপনার উত্তর:
আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর
1. আদম এবং হবা যে ফল খেয়েছিল সেটা কি একটি আপেল?
উত্তর: আমরা জানি না। বাইবেল ফলের নাম বলেনি।
2. শয়তানকে শৃঙ্গ ও লেজবিশিষ্ট রক্তবর্ণ, অর্ধেক মানব এবং অর্ধেক পশুর ন্যায় চিত্রিত করতে হবে-এ ধারণা কোথা থেকে?
উত্তর: এটি পৌত্তলিক পুরাণ থেকে এসেছে এবং এই ভুল ধারণা শয়তানকে খুশি করে। সে জানে যুক্তিবাদী লোকেরা দানবাকৃতি, কল্পকাহিনী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে, এবং তাই এটি তাদেরকে তার অস্তিত্ব অস্বীকার করতে প্রভাবিত করবে। যারা শয়তানে বিশ্বাস করে না তারা সহজে প্রতারণার দ্বারা ধরা পড়ে।
3. ঈশ্বর আদম ও হবাকে বলেন, “যে দিন তাহার ফল খাইবে, সেই দিন মরিবেই মরিবে” (আদিপুস্তক ২:১৭)। কেন তারা ঐ দিন মরেনি?
উত্তর: আদিপুস্তক ২:১৭-তে উক্ত “মারা যাবে” শব্দের তাত্পর্য “মরতে থাকবে” (অর্থাত্ ধীরে ধীরে মরবে) যা অনেক বাইবেলের পৃষ্ঠার প্রান্তভাগে ছাপা থাকে। এর অর্থ আদম ও হবা মৃত্যুর প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করবে। পাপ করার আগে দম্পতিটি এক অমর, পাপবিহীন স্বভাবের অধিকারী ছিলো। এই স্বভাবটি চলমান রাখার জন্য তাদের জীবন বৃক্ষের ফল খাওয়ার প্রয়োজন ছিলো। পাপ করার মুহূর্ত থেকে তাদের স্বভাব মরণশীল, পাপময় স্বভাবে পরিণত হলো। এটাই ঘটবে বলে ঈশ্বর তাদেরকে বলেছিলেন। যেহেতু তাদের জীবন বৃক্ষের কাছে আসার পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো, দেহের ক্ষয় এবং অবনতি—মৃত্যুর দিকে অগ্রসরের প্রক্রিয়া—তত্ক্ষণাত্ আরম্ভ হয়ে গেল। কবর তাদের জন্য সুনিশ্চিত হয়ে গেল। পরবর্তীতে ঈশ্বর এই কথায় জোর দিয়েছিলেন যখন তিনি তাকে বললেন, “কেননা তুমি ধূলি, এবং ধূলিতে প্রতিগমন করিবে” (আদিপুস্তক ৩:১৯)।
4. যেহেতু ঈশ্বর লুসিফারকে সৃষ্টি করেছিলেন, তাই তার পাপের জন্য তিনিই কি দায়ী নন?
উত্তর: মোটেই না। ঈশ্বর লুসিফারকে একটি নিখুঁত নিষ্পাপ স্বর্গদূতরূপে সৃষ্টি করেছিলেন। লুসিফার নিজেকে শয়তানে পরিণত করে। মনোনয়নের স্বাধীনতা হলো ঈশ্বরের বিধানের মূল ভিত্তি। ঈশ্বর যখন লুসিফারকে সৃষ্টি করেছিলেন তখন তিনি জানতেন যে সে পাপ করবে। সেই মুহূর্তে ঈশ্বর যদি লুসিফারকে সৃষ্টি করতে অসম্মত হতেন, তাহলে তিনি তাঁর নিজের ভালবাসার একটি বৈশিষ্ট্যকে, অর্থাত্ নির্বাচন করার স্বাধীনতা অস্বীকার করতেন।
মনোনয়েনের স্বাধীনতা হলো ঈশ্বরের পদ্ধতি
লুসিফার কী করবে, তা পুরোপুরি জেনেও ঈশ্বর তাকে সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি আদম ও হবার ক্ষেত্রে—এবং আপনার ক্ষেত্রেও একই কাজ করেছেন! আপনার জন্মেরও আগে থেকে ঈশ্বর জানতেন আপনি কীভাবে জীবন যাপন করবেন, কিন্তু তবুও, তিনি আপনাকে বেঁচে থাকার অনুমতি দেন যেন আপনি হয় ঈশ্বর কিংবা শয়তানকে মনোনয়ন করে নিতে পারেন। প্রত্যেক ব্যক্তি যেন স্বাধীনভাবে বেছে নিতে সময় পায় সে কাকে অনুসরণ করবে, সে সুযোগ দেয়ার কারণে ঈশ্বর ভুল বোঝাবুঝি এবং মিথ্যা অভিযোগের স্বীকার হতে পিছপা নন, বরং তিনি ইচ্ছুক।
কেবলমাত্র একজন প্রেমিক ঈশ্বরই সকলকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারেন
স্বাধীনতার এই গৌরবোজ্জ্বল এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপহারটি কেবলমাত্র একজন ন্যায়পরায়ণ, স্বচ্ছ, এবং প্রেমময় ঈশ্বর থেকেই আসতে পারে। এ রকম একজন সৃষ্টিকর্তা, প্রভু, এবং বন্ধুর সেবা করা সম্মান ও আনন্দের একটি বিষয়!
ঈশ্বরের সেবা করতে মনোনয়ন করুন
পাপের সমস্যা শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে। শুরুতে সবকিছু “অতি উত্তম” ছিল (আদিপুস্তক ১:৩১)। এখন “সমস্ত জগত্ সেই পাপাত্মার মধ্যে শুইয়া রহিয়াছ” (১ যোহন ৫:১৯)। সমস্ত লোক ঈশ্বর না হয় শয়তানের সেবা করতে মনোনয়ন করছে। আপনার ঈশ্বর-দত্ত স্বাধীনতা ব্যবহার করে সদাপ্রভুর সেবা করা মনোনয়ন করুন!
5. ঈশ্বর কেন লুসিফার যখন পাপ করেছিলো তৎক্ষণাৎ তাকে ধ্বংস করেননি এবং সমস্যাটি অবিলম্বে শেষ করেননি?
উত্তর: কারণ ঈশ্বরের সৃষ্টির মাঝে পাপ সম্পূর্ণ নতুন একটা বিষয় ছিল এবং পৃথিবীর বাসিন্দারা সেটি বুঝতে পারেনি। এমনকি সম্ভবত লুসিফারও প্রথমে এটি পুরোপুরি বুঝতে পারেনি। লুসিফার ছিলেন একজন উজ্জ্বল, একজন অত্যন্ত সম্মানিত দেবদূত নেতা। তার দৃষ্টিভঙ্গি দেখে মনে হবে যে সে স্বর্গ এবং দূতগণকে নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। তার বার্তা হয়তো এরূপ ছিল: “স্বর্গ ভালো একটি জায়গা, তবে এখানে দূতগণের মতামত আরও বেশি করে নিলে এটি উন্নতিলাভ করতো। এখানে অতিরিক্ত একতরফা কর্তৃত্ব, পিতা যেন নেতৃবৃন্দকে বাস্তব জীবন থেকে অন্ধ করে রেখেছেন। ঈশ্বর জানেন যে আমার পরামর্শগুলি সঠিক, কিন্তু তিনি আমাকে হুমকি হিসেবে মনে করছেন। আমরা আমাদের এমন এক নেতাকে স্বর্গে আমাদের সুখকে এবং আমাদের স্থানটিকে বিপন্ন করতে অনুমতি দেব না যিনি আমাদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকেন। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলি ঈশ্বর আমাদের কথা শুনবেন। আমাদের কিছু একটা করা উচিত। তা না হলে আমরা সকলে এমন একটি প্রশাসন দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হব যিনি আমাদের মূল্যায়ন করেন না।”
এক-তৃতীয়াংশ স্বর্গদূত লুসিফারের সঙ্গে যুক্ত হলো (প্রকাশিত বাক্য ১২:৩, ৪)
লুসিফারের যুক্তিতে অনেক দূত সম্মত হল, এবং এক-তৃতীয়াংশ তার সঙ্গে বিদ্রোহে যোগ দিল। ঈশ্বর যদি লুসিফারকে তত্ক্ষণাত্ ধ্বংস করে দিতেন, তাহলে যারা ঈশ্বরের চরিত্র সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারেনি, এমন কিছু দূত প্রেমের পরিবর্তে ভয়ে ঈশ্বরের অনুগত হতে শুরু করত এই বলে, “তাহলে কি লুসিফার ঠিকই ছিলো? এটি এখনই জানা যাবে না। তোমরা সাবধান থাক। তোমরা যদি ঈশ্বরের বিধানের বিষয়ে তাঁকে কোনও প্রশ্ন কর, তিনি তোমাদের ধ্বংস করে দিতে পারেন।” ঈশ্বর যদি লুসিফারকে তত্ক্ষণাত্ ধ্বংস করে দিতেন তাহলে তাঁর সৃষ্ট প্রাণীরা কোনও সিদ্ধান্তেই আসতে পারতো না।
ঈশ্বর কেবলমাত্র প্রেম থেকে নির্গত, স্বেচ্ছাকৃত সেবা আকাঙ্ক্ষা করেন
একমাত্র যে সেবা ঈশ্বর আকাঙ্ক্ষা করেন তা হলো প্রফুল্লচিত্ত, স্বেচ্ছাকৃত সেবা যা প্রকৃত ভালবাসা দ্বারা প্রণোদিত। তিনি জানেন, যে আনুগত্য ভয় কিংবা ঐ ধরণের অন্য কিছু দ্বারা অনুপ্রাণিত, তা অকার্যকর এবং কালক্রমে তা পাপের দিকে নিয়ে যাবে।
ঈশ্বর শয়তানকে তার নীতিমালা প্রদর্শনের জন্য সময় দিচ্ছেন
শয়তানের দাবী এই যে তার কাছে মহাবিশ্বের জন্য আরও উত্তম একটি পরিকল্পনা আছে। ঈশ্বর তাকে তার নিজের নীতিমালাগুলোকে প্রদর্শনের জন্য সময় দিচ্ছেন। শয়তানের প্রশাসন অন্যায্য, ঘৃণাজনক, নির্মম, মিথ্যাবাদী, এবং ধ্বংসাত্মক—এই সত্যটি যখন এই ব্রহ্মাণ্ডের প্রত্যেক জীব জানবে, ঈশ্বর তখনই পাপকে নির্মূল করবেন।
মহাবিশ্ব এই জগতকে দেখছে
বাইবেল বলে, “আমরা জগতের ও দূতগণের ও মনুষ্যদের কৌতুকাস্পদ [কোন কোন মার্জিন বাইবেল অনুযায়ী “নাট্যশালা”] হইয়াছি” (১ করিন্থীয় ৪:৯)। আমরা এক এক জন যখন খ্রীষ্ট এবং শয়তানের মধ্যকার সংঘর্ষে এক একটি ভূমিকা পালন করি তখন সমগ্র মহাবিশ্ব দেখছে। সংঘর্ষটি শেষ হতেই প্রতিটি প্রাণ উভয় রাজ্যের নীতিমালাগুলো সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারবে এবং হয় খ্রীষ্ট নয় তো শয়তানকে মনোনয়ন করে নেবে। যারা শয়তানের সঙ্গে মৈত্রী মনোনয়ন করবে তারা মহাবিশ্বের নিরাপত্তার জন্য তার সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাবে, এবং ঈশ্বরের লোকেরা অবশেষে স্বর্গে তাদের বাড়ির অনন্ত নিরাপত্তা উপভোগ করতে সক্ষম হবে।
সারসংক্ষেপ
দয়া করে এই প্রশ্নের সমাধান করার আগে পাঠটি পড়ে নিন। সমস্ত উত্তর আপনি এই সহায়িকা বইটিতে পেয়ে যাবেন।। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দিন। বন্ধনীর সংখ্যাগুলো (১) সঠিক উত্তরের সংখ্যা নির্দেশ করে।
1) কার মাধ্যমে পাপের প্রথম সূচনা হয়? (১)
( ) মিখায়েল
( ) লুসিফার
( ) গাব্রিয়েল
2) লুসিফার প্রথম যখন পাপ করে তখন সে কোথায় বাস করতো? (১)
( ) পৃথিবীতে
( ) স্বর্গে
( ) উত্তর নক্ষত্রে
3) একদা লুসিফারের কী কী গুণ ছিল? (৬)
( ) ঈশ্বর-সৃষ্ট স্বর্গদূত
( ) জ্ঞানে পরিপূর্ণ
( ) স্বর্গীয় সাদা ঘোড়া চালক
( ) নিজের সমস্ত পথে সঠিক
( ) স্বর্গের দ্বার রক্ষক
( ) বিশিষ্ট সঙ্গীতকার
( ) সৌন্দর্যে নিখুঁত
( ) আচ্ছাদক করূব
4) লুসিফারের বিদ্রোহের বিষয় কোনগুলো সত্য? (৫)
( ) তাকে স্বর্গ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিল।
( ) সে অনুতপ্ত হয়ে স্বর্গেই থেকে গিয়েছিল।
( ) সে একটি প্রাসাদের ভেতরে লুকিয়েছিলা।
( ) তার নাম হয়ে গেল শয়তান।
( ) সে প্রথম পাপী ছিল। .
( ) যীশু তাকে স্বর্গ থেকে নিক্ষিপ্ত হতে দেখেছিলেন।
( ) এক-তৃতীয়াংশ স্বর্গদূত তার সঙ্গে স্বর্গচ্যুত হয়েছিল।
5) লুসিফার কী চেয়েছিল? (২)
( ) আরাধনা পেতে
( ) ঈশ্বরকে সরিয়ে তাঁর আসনে বসতে
( ) সমগ্র বিশ্বের উপর দিয়ে উড়ে চলতে
6) সেই দিয়াবল, শয়তানের ক্ষেত্রে কোন্ তথ্যগুলো সত্য? (৪)
( ) তার গায়ের রং লাল, আর তার শিং এবং খুর আছে।
( ) তার বাসভবন নরকে।
( ) সে মানুষকে ভালোবাসে।
( ) সে স্বর্গদূতের বেশ ধারণ করতে পারে।
( ) সে অলৌকিক কাজ করতে পারে না।
( ) সে একজন মিথ্যাবাদী এবং হত্যাকারী।
( ) সে স্বর্গ থেকে অগ্নি নামাতে পারে।
( ) বেশিরভাগ লোক তার অনুসরণ করবে এবং হারিয়ে যাবে।
7)আদম ও হবার অধঃপতনের বিষয়ে নীচের কোন্ তথ্যটি সঠিক? (৩)
( ) শয়তান একজন স্বর্গদূতের ছদ্মবেশ ধারণ করে ছিল।
( ) শয়তান ঈশ্বরকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
( ) আমরা জানি যে শয়তান তাদেরকে আপেল দিয়েছিল।
( ) শয়তান প্রথমে আদমের কাছে এসেছিল।
( ) শয়তান আশা করেছিল যে তারা পাপী হিসেবে অমর হয়ে থাকবে।
( ) তাদেরকে প্রলুব্ধ করার জন্য শয়তান মিথ্যা এবং সত্যের মিশ্রণ ঘটিয়েছিল।
8)শয়তানের চূড়ান্ত শাস্তি সম্বন্ধে সত্যটি কী ? (৪)
( ) তাকে অগ্নিতে নিক্ষেপ করা হবে।
( ) তার দূতেরা পালিয়ে যাবে।
( ) অগ্নিকাণ্ডটি স্বর্গে ঘটবে।
( ) শয়তান এবং তার দূতের স্বীকার করবে যে তাদের ভুল হয়েছিল।
( ) পাপীদের অগ্নিহ্রদে নিক্ষেপ করা হবে।
( ) শয়তান ঈশ্বরের ন্যায়বিচার স্বীকার করবে।
9) ঈশ্বর কেন লুসিফারকে তখনই শেষ করে দেননি যখন সে পাপ করেছিল? (৪)
( ) স্বর্গদূতেরা হয়তো ঈশ্বরকে ভুল বুঝতো।
( ) কেউ কেউ হয়তো ঈশ্বরকে ভয় পেতো।
( ) লুসিফার ঈশ্বরের চেয়ে অত্যধিক শক্তিশালী ছিল।
( ) ভাল স্বর্গদূতেরা তাঁকে তা করতে দেয়নি।
( ) লুসিফারের পরিকল্পনা প্রদর্শনের জন্য সময়ের দরকার ছিল।
( ) ঈশ্বরের পরিকল্পনাকে প্রমাণ করার জন্য সময় প্রয়োজন ছিল।
10) অবশেষে কোন একটি জিনিস ঈশ্বরের প্রশাসনকে যথার্থ বলে প্রমাণ করবে? (১)
( ) ঈশ্বর কিছু অলৌকিক কাজ করবেন।
( ) বিশ্বের প্রতিটি প্রাণ ঈশ্বরের ভালোবাসা এবং ন্যায়বিচার স্বীকারপূর্বক নতজানু হবে।
( ) স্বর্গের দূতেরা প্রত্যেককে ঈশ্বরের সেবা করতে বলবে।
11) পাপের বিষয়ে নিচের কোন্ কোন্ তথ্যগুলো সত্য? (৫)
( ) যীশু পাপের বিনাশ সুনিশ্চিত করেছেন।
( ) ঈশ্বরের ব্যবস্থা লঙ্ঘনই পাপ।
( ) পাপ আমাদের ঈশ্বর থেকে আলাদা করে।
( ) পাপকে পরাজিত করা খুব সহজ।
( ) শয়তান মিথ্যা বলার পাপটি উদ্ভাবন করেছে।
( ) পাপ একবার ধ্বংস হয়ে গেলে, পুনরায় উত্থিত হবেনা।
12)নিচের কোন্ কোন্ বিষয়গুলো সত্য? (৫)
( ) শয়তান তার নিজের বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্য ঈশ্বরকে কৃতিত্ব দেয়।
( ) ঈশ্বর আমাদের পিতা-মাতার চেয়েও আমাদের বেশি ভালোবাসেন।
( ) তথাকথিত “দৈব ঘটনাগুলো” হলো শয়তানের কাজ।
( ) যীশুর জীবন ঈশ্বরের চরিত্রকে প্রকাশ করেছে।
( ) পিতা ঈশ্বর কঠোর।
( ) অধিকাংশ লোক ঈশ্বরকে ভুল বোঝেন।
13) আমি একথা জেনে অত্যন্ত আনন্দিত যে পিতা আমাকে যীশুর সমপরিমাণই ভালোবাসেন?
( ) হা।
( ) না।


