Lesson 24

যদি কোন স্বঘোষিত ভাববানী এসে হঠাৎ করে জনসমাগম করে বিভিন্ন আলৌকিক কার্য্য সম্পাদন করতে শুরু করে, অসুস্থদের সুস্থকরা, স্বর্গ থেকে আগুন নামায় মৃতদের জীবন দান করা। মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয় বিষয়গুলি অকপটে প্রকাশ্যে আনা, ইত্যাদি বিষয় সফল ভাবে করতে সক্ষম হয় – তবে আপনি সেই নারী বা পুরুষকে বিশ্বাস করবেন? আপনাকে কি বিশ্বাস করা উচিত? ঈশ্বর আপনাকে সেই জ্ঞান দিয়েছেন যা দ্বারা আপনি প্রকৃত ও ভ্রান্ত ভাববাদী, যাজকদের পৃথক করতে পারবেন। আসুন এ বিষয়ে বাইবেল কি বলে, তার প্রতি মনোনিবেশ করি।

1. শেষকালে পৃথিবীতে কি সত্যি, যথার্থ ভাববাদীদের আবির্ভাব ঘটবে, এ বিষয়ে বাইবেল কি জ্ঞাত করে?

“ঈশ্বর বলে, শেষকালে এইরূপ হইবে, তাহা ঈশ্বর বলিতেছেন, আমি মর্ত্ত্য মাত্রের উপরে আপন আত্মা সেচন করিব, তাহাতে তোমাদের পুত্রগন ও তোমাদের কন্যাগন ভাববানী বলিবে। আর তোমাদের যুবকেরা দর্শন পাইবে। আর তোমাদের প্রাচীনেরা স্বপ্ন দেখিবে” (প্রেরিত ২:১৭)।

উত্তর: হ্যাঁ, শেষকালে নর ও নারী উভয়েই ভাববানী বলবে (যোয়েল ২:২৮–৩২)।

2. যীশুর উত্তরনের সময় মন্ডলীকে তিনি ভাববানী উপহার দিয়েছিলেন সঙ্গে আরও ৪ টি উপহার দিয়েছিলেন, যাজক, সুসমাচার প্রচারকারী, পুরোহিত ও শিক্ষকদের, (ইফিষীয় ৪:৭-১১) কেন ঈশ্বর এহেন উপহার দিয়েছেন?

“পবিত্রগনকে পরিপক্ক করিবার নিমিত্ত করিয়াছেন, যেন পরিচর্য্যা – কার্য্য সাধিত হয়। যেন খ্রীষ্টের দেহকে গাঁথিয়া তোলা হয়” (ইফিষীয় ৪:১২)।

উত্তর: ঈশ্বর এ সকল উপহার দিয়েছেন তাঁর পবিত্র সন্তানদের পরিপক্কতার জন্য। যেন শেষকালে সমৃদ্ধ হয়ে মন্ডলীকে তাঁরা সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারে। এই পাঁচ বরদানের মধ্য একটি বিলুপ্ত হলে মন্ডলী সুসজ্জিত হবে না।

3. বাইবেলের সময়কালে ভাববানী কি পুরুষদের জন্য সীমিত ছিল?

উত্তর: না। এমন নয় বহু পুরুষ ছাড়াও মহিলারাও ভাববানীর উপহার পেয়েছেন, আটজন রমনী এই উপহার পেয়েছেন যেমন, হান্না (লুক ২:৩৬–৩৮), মরিয়ম (যাএাপুস্তক ১৫:২০), দবোরা (বিচারকর্ত্তৃগণ ৪:৪) হুলদা (২ রাজাবলি ২২:১৪) ও প্রচারক রূপে ফিলিপের চার কন্যারা (প্রেরিত ২১:৮, ৯)।

4. How long were these gifts to remain in God’s church?

4. ঈশ্বরের মন্ডলীতে কতদিন পর্য্যন্ত এই উপহারাদি অবশিষ্ট থাকবে?

“যাবৎ আমরা সকলে ঈশ্বরের পুএ বিষয়ক বিশ্বাসের ও তত্ত্ব জ্ঞানের ঐক্য পর্য্যন্ত, সিদ্ধ পুরুষদের, অবস্থা পর্য্যন্ত, খ্রীষ্টের পূর্নতার আকারের পরিমান পর্য্যন্ত অগ্রসর না হই” (ইফিষীয় ৪:১৩)।

উত্তর: ততদিন পর্য্যন্ত না ঈশ্বরের পবিত্র লোকেরা একএিত হবে ও শক্তিশালী খ্রীষ্টানে পরিনত না হবে, ততদিন অবধি। অবশ্যই শেষকালীন সময় পর্য্যন্ত।

5. From what source do true prophets obtain their information?

5.কোন্ উৎস থেকে ভাববাদীগন তাঁদের তথ্যাদি লাভ করতেন?

“কারন ভাববাদী কখনোও মনুষ্যের ইচ্ছাক্রমে উপনীত হয় নাই কিন্তু মনুষ্যরা পবিত্র আত্মা দ্বারা চালিত হইয়া। ঈশ্বর ইহাতে যাহা পাইয়াছেন। তাহাই বলিয়াছেন” (২ পিতর ১:২১)।

উত্তর: প্রেরিতগন কখনোই তাঁদের নিজস্ব মতামত দেননা আধ্যাত্মিক বিষয়ে। তাঁদের সকল চিন্তা – ভাবনা পবিত্র আত্মার মাধ্যমে যীশুর কাছে থেকেই পরিচালিত হয়।

6. প্রেরিতদের সঙ্গে যীশু / ঈশ্বর ভিন্ন তিন পদ্ধতিতে কথা বলেন এই তিন পদ্ধতি কি কি?

“তোমরা আমার বাক্যশুন, তোমাদের মধ্যে যদি কেহ ভাববাদী হয়, তবে আমি সদাপ্রভু তাহার নিকটে কোন্ দর্শন দ্বারা আপনার পরিচয় দিব স্বপ্নে তাহার সহিত কথা কহিব, এবং সে সদাপ্রভুর মূর্ত্তি দর্শন করিবে” (গননাপুস্তক ১২:৬, ৮)।

উত্তর: পদ্ধতি তিনটি হল, দর্শন, স্বপ্ন ও প্রকাশ্যরূপে অর্থাত্ সামনা সামনি।

7. What are the physical evidences of a true prophet in vision?

7. দর্শনের ক্ষেত্রে একজন প্রকৃত প্রেরিতের কি কি দৈহিক পরিবর্ত্তন লক্ষ্য করা যায়?

উত্তর: এই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট লক্ষণীয়।

ক। প্রাথমিক ভাবে সে দৈহিক শক্তি খানিকটা হারাবে (দানিয়েল ১০:৮)।

খ। পরবর্ত্তীতে অলৌকিক শক্তিতে সবল হবেন (দানিয়েল ১০:১৮, ১৯)।

গ। দেহে শ্বাস বায়ু নেই এমন অবস্থা (দানিয়েল ১০:১৭)।

ঘ। কথা বলতে পারবে (দানিয়েল ১০:১৬)।

ঙ। পার্থিব বিষয়ে অচেতনতা (দানিয়েল ১০:৫–৮; ২ করিন্থীয় ১২:২-৪)।

চ। চোখগুলি উন্মুক্ত থাকবে - (গননাপুস্তক ২৪:৪)।

এই ছয়টি দৈহিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় যখন একজন ভাববাদী দর্শন প্রাপ্ত হন তখন, তবে সবসময়েই একসঙ্গে এই পরিবর্তন ঘটবে তা নয়। পর্য্যায় ক্রমেও ঘটতে পারে। এক ভবিষ্যত্ বক্তার একসাথে ছয়টি শারীরিক সাক্ষ্য বিনা সত্য ভাববাদী হতে পারে।

8. Is the working of great miracles proof that a prophet is of God?

8. অলৌকিক কার্য্যাদি দেখে, এটা প্রমানিত হয় না যে, একজন ভবিষ্যৎ বক্তা ঈশ্বর থেকে প্রেরিত?

“তাহারা ভূতেদের আত্মা। নানা চিহ্ন কার্য্য করে। তাহারা জগৎ সমুদয়ের রাজাদের নিকটে গিয়া সর্ব্বশক্তিমান ঈশ্বরের সেই মহাদিনের যুদ্ধার্থে তাহাদিগকে একত্র করে” (প্রকাশিতবাক্য ১৬:১৪)।

উত্তর: না। দিয়াবল ও তাঁর ভ্রান্ত দূতগনের আলৌকিক ক্ষমতা আছে। চমত্কার শুধু একটি জিনিস প্রমাণ করে: অলৌকিক শক্তি। অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতাতেই আলৌকিক কার্য্য সম্পাদিত হয়, কিন্তু ঐ ক্ষমতা ঈশ্বর ও শয়তান উভয়ের থেকেই পাওয়া যায়। (দ্বিতীয় বিবরন ১৩:১–৫; প্রকাশিতবাক্য ১৩:১৩, ১৪ পদ)।

9. শেষকালীন কোন্ ভয়ঙ্কর বিপদ্ সম্বন্ধে যীশু আমাদের সতর্ক করেছেন?

“কেননা ভাক্ত খ্রীষ্টেরা ও ভাক্ত ভাববাদীরা উঠিবে, এবং এমন মহৎ চিহ্ন ও অদ্ভুত অদ্ভুত লক্ষন দেখাইবে যে, যদি হইতে পারে, তবে মনোনীত দিগকেও ভুলাইবে (মথি ২৪:২৪)।

উত্তর: সে সকল ভ্রান্ত খ্রীষ্টেরা ও ভাক্ত ভাববাদীরা আলৌকিক কার্য্যাদি সম্পাদন করলেও তাতে বিভ্রান্ত না হতে যীশু পরামর্শ দিয়েছেন। কেবলমাত্র ঈশ্বরের বেছে নেওয়া লোক ছাড়া সকলকে বিভ্রান্ত করবে। অনেক লোককে ভুলাবে, আর তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।

10.একজন ভাববাদী সত্য না মিথ্যা তা কি প্রকারে নির্ধারন করব? বা করতে পারব?

“ব্যবস্থার কাছে ও সাক্ষ্যের কাছে অন্বেষন কর, ইহার অনুরূপ কথা যদি তাহারা না বলে তবে তাহাদের পক্ষে অরুনোদয় নাই” (যিশাইয় ৮:২০)।

 উত্তর: ঈশ্বরের বাক্য অনুসারে যদি তাঁরা কার্য্য সম্পাদন করেন যা বাইবেল উল্লেখিত হয়েছে, তবে বুঝতে হবে তাঁরা যথার্থ, যদি শাস্ত্রানুযায়ী কার্য্য বা শিক্ষা প্রদান না করেন, তবে তাঁরা অবশ্যই মিথ্যা ভাববাদী হিসাবে চিহ্নিত হবে। তাদের মধ্য কোনো জ্যোতি নেই।

11. কিছু কি ভিন্ন প্রকারের ভাক্তভাববাদীদের নাম উল্লেখিত হয়েছে ও তাদের দণ্ডীত করা হয়েছে? বাইবেলে কি বলে।

উত্তর: হ্যাঁ, উল্লেখিত হয়েছে। (দ্বিতীয় বিবরন ১৮:১০–১২); এবং (প্রকাশিত বাক্য ২১:৮) ভাক্ত ভাববাদীদের প্রকৃতির বিরুদ্ধে আমাদের জ্ঞাত করে:

ক। ভবিষ্যত্ জানানো - জ্যোতিষ বিদ।

খ। ওঝা - মৃতগনের আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ কারীগন।

গ। মাধ্যম – যাঁরা মৃতগনের আত্মার সঙ্গে কথপোকথন করতে পারেন।

ঘ। প্রেত সাধনা – যাঁরা দুষ্ট আত্মাদের সাহায্যে ভাগ্য জানায়।

ঙ। মন্ত্রবিদ - অশুভ শক্তির দ্বারা অলৌকিক কার্য্য সম্পাদনকারীগন।

চ। আত্মাবাদী -, মৃতদেহ আত্মার সঙ্গে যাঁরা বার্তালাপ করতে পারে বলে দাবী করে

ছ।ডাইনী : যে সব মহিলা অশুভ আত্মা দ্বারা কার্য্য সাধন করে।

অধিকাংশ ভাক্তভাববাদীরা দাবী করে যে তাঁরা মৃতগনের আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম বলে দাবি করে। যেখানে বাইবেল স্পষ্ট জানায় যে জীবিতরা কখনোই মৃতদের সঙ্গে কোন প্রকার যোগাযোগ করতে পারে না (অধ্যায়ন পুস্তিকা ১০ পড়ুন)। যাঁরা এ সকল করে তাঁরা দুষ্ট আত্মা - শয়তানের দ্বারাই করতে পারে (প্রকাশিত বাক্য ১৬:১৩, ১৪)। বশিকরন, হাতের রেখা পড়া, পাতা চালা, জ্যোতিষ, ইত্যাদি ইত্যাদি ঈশ্বরের পথ নয়।যাঁরা এই প্রকার মন্দো আত্মার সাথে জড়িত শাস্ত্র স্পষ্ট ভাবে বলে যে এগুলি ঘৃণিত বস্তু, (দ্বিতীয় বিবরন ১৮:১২)। আর সবথেকে ভয়ংকর হল যারা এর সাথে জড়িত থাকবে, তাঁদের জন্য ঈশ্বরের রাজ্যের পথ চিরতরে রুদ্ধ হবে (গালাতীয় ৫:১৯-২১; প্রকাশিতবাক্য ২১:৮; ২২:১৪, ১৫)।

12. সত্য ভাববাদীদের প্রাথমিক কাজ কি মন্ডলীর প্রতি নাকি অবিশ্বাসীদের প্রতি সেবা করা?

“এই বিশেষ বিশেষ ভাষা বিশ্বাসীদের নিমিত্ত নয়, বরং অবিশ্বাসীদেরই নিমিত্ত চিহ্ন স্বরুপ; কিন্তু ভাববানী অবিশ্বাসীদের নিমিত্ত নয়, বরং বিশ্বাসীদের নিমিত্ত” (১ করিন্থীয় ১৪:২২)।

উত্তর: বাইবেল স্পষ্ট। ভবিষ্যত্ বক্তার বার্তা কখন কখন জনতা কে সঠিক পথে চালিত করার জন্য হতে পারে, কিন্তু ভাববানীর মূল উদ্দেশ্য হল মন্ডলীকে পরিচর্যা করা।

13. শেষকালীন মন্ডলীতে কি ভাববানীর উপহার দত্ত আছে?

উত্তর: আমরা অধ্যায়ন পুস্তিকা ২৩ এ দেখেছি যে যীশু শেষ মন্ডলীর জন্য ৬টি বিষয়ের বিবরণ দেয়। আসুন ত লক্ষ্য করা যাক:

ক। এটি খ্রী: পূ: ৫৩৮ এবং ১৭৯৮ এর মধ্যে আবির্ভূত হবে না।

খ। ১৭৯৮। ... র পরে আবির্ভূত হবে এবং কার্য্য শুরু করবে।

গ। শাব্বাথ পালন শনিবার করে ও ১০ আজ্ঞা যথাযথভাবে পালন করে।

ঘ। ভাববানীর উপহার দত্ত হবে।

ঙ। বিশ্বব্যাপী মিশনারী মন্ডলী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

চ। তিন স্বর্গদূতের বার্তা সঠিকভাবে শিক্ষাদান করে ও প্রচার করে (প্রকাশিত বাক্য ১৪:৬-১৪)।

স্মরনে রাখতে হবে যে শেষকালে অবশিষ্ট মন্ডলী উপরে বর্ণিত সবকটি বৈশিষ্ট্যই বহন করবে, এবং ভাববানীর উপহারও লাভ করবে। তাদের এক ভবিষ্যত্ বক্তা থাকবে।

14.যখন আপনি খ্রীষ্টের শেষ মন্ডলীতে যোগ দেন, যাতে সকল বর দত্ত আছে, এটি কি প্রকারে আপনাকে প্রভাবিত করবে?

“যেন আমারা আর বালক না থাকি, মনুষ্যদের ঠকামিতে ধূর্ত্ততায়, ভ্রান্তির চাতুরীক্রমে তরঙ্গাহত এবং যে সে শিক্ষা বায়ুতে ইতস্ততঃ পরিচালিত না হই” (ইফিষীয় ৪:১৪)।

উত্তর: আপনি আত্মিকভাবে এক ধাপ আগে সুনিশ্চিত ও স্থিতিশীল থাকবেন। আপনি বিশ্বাসে নিশ্চিত হবেন।

15. প্রেরিত পৌল (১ করিন্থীয় ১২:১–১৮) পদে যীশু দেহের বিভিন্নংশের কথা বলেছেন, দেহের কোন্ অংশ ভাববানী দানের সর্বোত্তম বলে বিবেচিত হতে পারে?

“পূর্ব্বকালে ইস্রায়েলের মধ্যে ঈশ্বরের নিকটে জিজ্ঞাসা করনার্থে যাইতে হইলে লোকে এইরূপ বলিত, চল,
আমরা দর্শকের নিকটে যাই; কেননা সম্প্রতি যাঁহাকে ভাববাদী বলা যায়, পূর্ব্বকালে তাঁহাকে দর্শক বলা
যাইত” (১ শমূয়েল ৯:৯)। পদ

উত্তর: ভাববাদীকে কখোন দর্শক বলা হত, (কারন তাঁরা ভবিষ্যত্ দেখতে পান)। এই চক্ষুকেই ভাববানীর দান হিসাবে গ্রহণ করা যায়।

16. যেহেতু ভাববানী মন্ডলীর চোখ, সে কারনে ভাববানীর এই দান বিহীন মন্ডলীর কি দশা হবে?

উত্তর: মন্ডলীটি আলোকহীন হয়ে পড়বে। দীপ্তিহীন হবে তাঁর কার্য্যাদি সকল। এজন্যই সদাপ্রভু সতর্ক করে বলেছেন – “উহাদিগকে থাকিতে দেও, উহারা অন্ধদের অন্ধপথ দর্শক, যদি অন্ধ অন্ধকে পথ দেখায় উভয়েই গর্ত্তে পড়িবে” (মথি ১৫:১৪)।

17. ঈশ্বরের অবশিষ্ট মন্ডলী ঈশ্বর যে দান দিয়েছেন সে গুলি সমন্বিত কি হতেই হবে?

উত্তর: হ্যাঁ। অবশ্যই পবিত্র শাস্ত্র স্পষ্ট ভাবে বলে যে ঈশ্বরের শেষ সময়ের মন্ডলী অনুগ্রহদান সমন্বিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে, । মন্ডলীতে, প্রেরিত, ভাববাদী, সুসমাচার প্রচারক, পুরোহিত, শিক্ষা – গুরু সমন্বিত হবে, (১ করিন্থীয় ১:৫-৮)। এ স্বভাবত সেখানে ভাববানীর দান বা উপহার দত্ত হবে।

খ্রীষ্টের বানী প্রচারক, ভাববাদীরা, ধর্মপ্রচারক, যাজক , যাজক

18. (প্রকাশিত বাক্য ১২:১৭) বলে যে শেষকালে অবশিষ্ট মন্ডলী যীশুর সাক্ষ্য বহন করবে,
(প্রকাশিত বাক্য ১৯:১০) বলে যে যীশুর সাক্ষ্যই হল ভাববানীর আত্মা; এর অর্থ কি মন্ডলী অবশ্যই একজন ভাববাদী লাভ করবে?

উত্তর: হযাঁ। স্বর্গদূত যোহনকে বলেছিলেন, “তাহাতে তিনি আমাকে কহিলেন, দেখিও এমন কার্য্য করিও না আমি তোমার সহদাস এবং তোমার যে ভ্রাতৃগন যীশুর সাক্ষ্য ধারন করে, তাহাদের ও সহদাস, ঈশ্বরেরই ভজনা কর। কেননা যীশুর যে সাক্ষ্য, তাহাই ভাববানীর আত্মা।” (প্রকাশিত বাক্য ১৯:১০) “সেই স্বর্গদূত
(প্রকাশিত বাক্য ২২:৯) বলে দেখিও এমন কর্ম্ম করিও না, আমি তোমার সহদাস এবং তোমার ভ্রাতা ভাববাদীগনের ও এই গ্রন্থে লিখিত বচন পালনকারীগনের সহদাস; ঈশ্বরেরই ভজনা কর।” লক্ষ্য করুন, তিনি স্বয়ং যীশুর সাক্ষীর বদলে ভবিষ্যত্ বক্তা বলেছেন। এই জন্য “যীশুর সাক্ষ্য ও ভবিষ্যত্ বক্তা মানে একই।

19.“যীশুর সাক্ষ্য” বলতে কি বিশেষ তাৎপর্য বোঝান হয়েছে?

উত্তর: যীশুর সাক্ষ্য বলতে একজন ভাববাদীর বাক্য যীশুর কাছ থেকে আসে সেই হেতু ভাববাদী যে বার্তা প্রদান করেন আমাদের জন্য, সেই বার্তা যীশুর বার্তা বলে মান্য করা উচিত -
(প্রকাশিত বাক্য ১:১; আমোষ ৩:৭)। এইজন্য এক সত্য ভবিষ্যত বক্তাকে অবমাননা করা উচিত্ নয়।এটি যীশুকে অপমান করার মতোই হয়। যাকে তিনি পাঠান ও নির্দেশ দান করেন। আশ্চার্য্য হবার কোনো কথা নেই,” এজন্য যীশু বলেছেন – “আমার অভিষিক্ত ব্যক্তিদিগকে স্পর্শ করিও না আমার ভাববাদীগনের অপকার করিও না” (গীতসংহিতা ১০৫:১৫)।

20. একজন প্রকৃত ভাববাদীর বাইবেল উল্লেখিত গুনাবলী কি?

উত্তর: একজন প্রকৃত ভাববাদী হিসেবে বাইবেল থেকে তার পরীক্ষার উত্তর হল:

ক। ঈশ্বর বর্নিত জীবন যাপন (মথি ৭:১৫–২০)।

খ। ঈশ্বর কর্তৃক আহুত ও পরিচালিত (যিশাইয় ৬:১–১০; যিরমিয় ১:৫–১০; আমোষ ৭:১৪, ১৫)।
গ। বাইবেল সহযোগে বলা ও লেখা (যিশাইয় ৮:১৯, ২০)।

ঘ। তার ভাববাণী সত্য প্রমানিত হয় (দ্বিতীয় বিবরন ১৮:২০–২২)।

ঙ।তিনি দর্শন দেখেন (গননাপুস্তক ১২:৬)।

21. শেষকালে অবশিষ্ট মন্ডলীতে যীশু কি কোন ভাববাদী প্রেরন করবেন?

Answer

উত্তর: হ্যাঁ - তিনি পাঠিয়েছেন! এখানে সংক্ষিপ্ত বিবরণ আছে:

ঈশ্বরের একজন তরুণীর আহ্বান:

ঈশ্বরের শেষ সময়ের মণ্ডলী ১৮৪০ এর দশকের গোড়ার দিকে গঠন করা শুরু হয় এবং কঠোরভাবে নির্দেশিকা প্রয়োজন ছিল। তাই, (আমোষ ৩:৭) পদের তাঁর প্রতিশ্রুতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে, ঈশ্বর এলেন হারমন নামে এক যুবতী মহিলাকে তাঁর ভাববাদী হিসেবে ডাকলেন। এলেন আহ্বান গ্রহণ করলেন। তিনি নয় বছর বয়সে একটি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন এবং মাত্র তিন বছরের প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে তাকে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। ১৭ বছর বয়সে ঈশ্বরের দ্বারা ডাকা পর্যন্ত তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, তখন তার ওজন ছিল মাত্র ৭০ পাউন্ড বা ৩২ কেজি এবং তাকে মৃত্যুর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি ৭০ বছর ঈশ্বরের সেবা করেছিলেন:

এলেন ঈশ্বরের আহ্বান বোঝার সাথে গ্রহণ করেছিলেন যে তিনি তাকে শারীরিকভাবে সক্ষম করবেন এবং তাকে নম্র রাখবেন। তিনি অতিরিক্ত ৭০ বছর বেঁচে ছিলেন এবং ৮৭ বছর বয়সে মারা যান। তিনি জোর দিয়েছিলেন যে তার লক্ষ্য এবং কাজ ছিল মণ্ডলী এবং এর সদস্যদেরকে বাইবেলের দিকে নির্দেশ করা- যা তার-এবং যীশুর ধার্মিকতার বিনামূল্যে উপহার। এলেন এই স্টাডি গাইডে উল্লিখিত একজন ভবিষ্যত্ বক্তার প্রতিটি পরীক্ষা পূরণ করেছেন।

তার বই এর এবং কলমের নাম:

এলেন জেমস হোয়াইট নামে একজন পাদ্রীকে বিয়ে করেন এবং এলেন জি হোয়াইট নামে লেখেন। তিনি বিশ্বের লেখকদের মধ্যে একজন সবচেয়ে জনপ্রিয় মহিলা লেখিকা হয়ে ওঠেন। তার বই, বিশ্বব্যাপী পড়া, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মিতাচার, খ্রীষ্টীয় বাড়ি, পিতা-মাতা, প্রকাশনা এবং লেখা, অভাবীদের সহায়তা, তত্ত্বাবোধায়ক, ধর্মপ্রচার, খ্রীষ্টীয় জীবনযাপন এবং আরও অনেক কিছু সম্পর্কে অনুপ্রাণিত পরামর্শ দেন। তার শিক্ষা বইটি তার ক্ষেত্রে একটি কর্তৃপক্ষ হিসাবে বিবেচিত হয়। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের “শিক্ষার” প্রাক্তন অধ্যাপক ডঃ ফ্লোরেন্স স্ট্রেটমেয়ার বলেছেন যে বইটিতে “উন্নত শিক্ষাগত ধারণা” রয়েছে এবং “তার সময়ের চেয়ে পঞ্চাশ বছরেরও বেশি এগিয়ে ছিল।” কর্নেল ইউনিভার্সিটির পুষ্টির প্রাক্তন অধ্যাপক ডাঃ ক্লাইভ ম্যাককে স্বাস্থ্যের উপর তার লেখা সম্পর্কে বলেছেন: “যদিও মিসেস হোয়াইটের কাজগুলি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পুষ্টির আবির্ভাবের অনেক আগে লেখা হয়েছিল, তবুও এর চেয়ে ভাল সামগ্রিক নির্দেশিকা আর পাওয়া যায় না। আজ.” প্রয়াত বেতার সংবাদ প্রচারক পল হার্ভে বলেছিলেন যে তিনি “পুষ্টির বিষয়ে এত গভীর বোঝার সাথে লিখেছিলেন যে তিনি যে দুটি নীতির প্রতি সমর্থন করেছিলেন তার সবগুলি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” খ্রীষ্টের জীবনের উপর তার বই সর্ব যূগের বাসনা, লন্ডনের স্টেশনার্স হল দ্বারা একটি “ইংরেজি সেরাগ্রন্থ” হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি বর্ণনার বাইরে হৃদয়গ্রাহী এবং উত্থানকারী। তিনি বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে বলেছিলেন যে একজন ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা বাড়ানো যেতে পারে - বিশেষজ্ঞরা সম্মত হওয়ার অনেক আগে। তিনি ১৯০৫ সালে বলেছিলেন যে ক্যান্সার একটি জীবাণু (বা ভাইরাস), যা চিকিত্সা বিজ্ঞান শুধুমাত্র ১৯৫০ এর দশকে অনুমোদন করতে শুরু করে। এলেনকে সর্বকালের চতুর্থ-সবচেয়ে অনুবাদিত লেখক বলা হয়। খ্রীষ্টান জীবনযাত্রার উপর তার বই, খ্রীষ্টের পদক্ষেপ, ১৫০ টিরও বেশি ভাষা এবং উপভাষায় অনুবাদ হয়েছে। (এই অনুপ্রেরণামূলক বইটির একটি বিনামূল্যের অনুলিপির জন্য, অনুগ্রহ করে লিখুন Amazing Facts india তে)।

22. এলেন জী হোয়াইট কি দর্শন পেয়েছিলেন?

Answer

উত্তর: হ্যাঁ। তিনি অনেক দর্শন পেয়েছেন বহুবার, কখনো ও কয়েক মিনিট আবার কখনো কয়েক ঘন্টা, এমনকি ৬ ঘন্টা পর্য্যন্ত, তার ব্যাপ্তি ছিল। এবিষয়ে আমরা জেনেছি সেই শর্তাবলী সম্বন্ধে যা আমরা প্রশ্ন ৭ এ দেখেছিলাম একজন ভাববাদীর ক্ষেত্রে আবশ্যক, তার প্রতিটিই ইলেন. জী. হোয়াইটের মধ্যে ছিল।

23.ইলেন. জী হোয়াইটের বাক্যগুলি কি বাইবেল সমৃদ্ধ না, বাইবেলবহির্ভূত কি কোন সংযোজন আছে তাঁর লেখায়?

উত্তর: একেবারেই নয়, তাঁর লেখার সমস্ত ভিত্তি হল বাইবেলের মতবাদ। শেষকালীন এই ভাববাদীনী হিসেবে তার উদ্দেশ্য ছিল যীশুর প্রেম ও তাঁর আগমনের উপর জোর দেওয়া। তাঁর লক্ষ্য ছিল যীশুর প্রেমও তাঁর আগমন সম্বন্ধে মানুষদের জ্ঞাত করে সচেতন করা। যীশুর পবিত্রতা বিনামূল্যে লাভ করতে ও যীশুর
কাজে অগ্রবর্তী হতে তিনি মানুষকে আহ্বান করেন। শেষকালীন ভাববানী ও ঐ তিনদূতের ভাববানীর প্রতি তিনি সকলকে গুরুত্ব দিতে আবেদন করেন। এই বার্তার জন্য তার কথায় অনেকে ধ্যান করেছেন
(প্রকাশিত বাক্য ১৪:৬–১৪) ঐ বার্তা সকল বিশ্বব্যাপী দ্রুত প্রচার করতে প্রতিটি খ্রীষ্টানকে তিনি আহ্বান করেছেন।

24. Did Ellen White speak in harmony with the Scriptures?

24. শাস্ত্রের সঙ্গে ইলেন জী. হোয়াইটের লেখা কি সঙ্গতিপূর্ন

উত্তর: হ্যাঁ। অবশ্যই সঙ্গতিপূর্ন, তাঁর লেখা প্রতিটি বিষয় বাইবেল ভিত্তিক। তাঁর উদ্দেশ্যই ছিল যেন মানুষ বাইবেলের প্রতি আকর্ষিত হয়, তাঁদের জীবন যেন বাইবেল ভিত্তিক হয়। কখনোই তাঁর কোন লেখাই ঈশ্বরের বাক্যের বিরুদ্ধাচারন করেনি।

25. ইলেন জী. হোয়াইটকে একজন প্রকৃত ভাববাদী হিসাবে কি প্রকারে আমিগ্রহন করতে পারি,
যেহেতু তাঁর লেখা সম্বন্ধে আমি কিছুই জানিনা?

উত্তর: আপনি যতক্ষন পর্য্যন্ত না তাঁর লেখা বই পড়বেন, বুঝতেই পারবে না তাঁর মহত্ব সম্বন্ধে কারন তিনিই ঈশ্বর নির্বাচিত শেষ ভাববাদী। যেহেতু আপনি জানতে পারেন:
১। অবশিষ্ট মন্ডলীতে একজন ভাববাদী হতে হবে।
২। ইলেন জী হোয়াইট একজন ভাববাদী হিসাবে সমস্ত পরীক্ষার মাধ্যম দিয়ে মনোনীত হন। আর
৩। তিনি একজন ভাববাদীর দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করেন। আমি আপনাকে বিনতি করতে পারি কি আপনি তাঁর লেখা বইগুলি পড়ুন ও বুঝুন। দেখবেন বাইবেল তথ্যাদি কত সহজে বুঝতে পারবেন।
(DESIRE OF AGES - সর্ব যুগের বাসনা), খ্রীষ্টের প্রতি পদক্ষেপ ইত্যাদি যা আপনি স্বল্প মূল্য পেয়ে যাবেন। পড়ুন আর দেখুন এগুলি আপনাকে খ্রীষ্টের আরও কাছে আকর্ষিত করবে। এটি আপনার জন্য লেখা হয়েছিল।

26. সাধুপৌল ভাববাদী প্রসঙ্গে কোন্ তিনটি বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন?

“সর্ব্ববিষয়ের পরীক্ষা কর। ভাববানী তুচ্ছ করিও না, যাহা ভালো। তাহা ধরিয়া রাখ। সর্ব্বপ্রকার মন্দ বিষয় হইতে দূরে থাক” (১ থিষলনীকীয় ৫:২০, ২১.)।

উত্তর: সাধু পৌল বলেছেন কোন ভাববাদীকে যেন আমারা অবজ্ঞা না করি। বরং বাইবেল দ্বারা তাঁর বক্তব্য ও কার্য্যা অনুসন্ধান বা পরীক্ষা করা উচিত্। যা ভবিষ্যত্বক্তা বলে ও করে। যদি তাঁর বাক্য ও কার্য্য বাইবেল সম্মত হয় তবে আমরা যেন তা অবশ্যই মান্যতা সহকারে গ্রহন করি। একথা যীশু শেষকালে আমাদের জানিয়েছেন।

27. প্রকৃত ভাববাদীদের যাঁরা খারিজ করবে বা অমর্যদা করবে তাঁদের প্রতি যীশু কেমন অনুভব করবেন?

উত্তর: যীশু বলেছেন যাঁরা ভাববানী ও ভাববাদীদের অস্বীকার করে তাঁরা প্রকারন্তরে ঈশ্বরের ইচ্ছাকেই অস্বীকার করে (লুক ৭:২৮-৩০)। যীশু তাঁদের নির্দোষ রাখবেন না। এ ছাড়াও, আত্মিক বুদ্ধিলাভ করে এবং তাঁর ভবিষ্যত্ বক্তার উপর বিশ্বাস করতে শেখায় (২ বংশাবলি ২০:২০)।

28. শেষকালীন ভাববাদী কি নতুন মতবাদ ব্যক্ত করেছে,? নাকি মতবাদ শুধুমাত্র বাইবেল থেকেই গৃহীত?

উত্তর: ভাববাদীরা কখনোই কোন মতবাদ দেননা, সমস্ত মতবাদই বাইবেল সমৃদ্ধ (প্রকাশিতবাক্য ২২:১৮, ১৯)। যথার্থ ভাববাদীরা নিম্নোক্ত কার্য্য সাধন করে :

ক।শাস্ত্রীর মতবাদের আশ্চর্য্যজনক দিক্ গুলির প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করে (আমোষ ৩:৭)।

খ। ঈশ্বরের লোকেদের পবিত্র বাক্য অনুধাবনের মাধ্যমে যীশুর নিকটবর্ত্তী করতে উদ্যোগী করে।

গ।জটিল, অস্পষ্ট, অদেখা বিষয় গুলিকে স্পষ্টতর করে বাইবেল নিষ্ঠ হতে সাহায্য করে, যেন তা আমাদের জীবনে পূর্ন হয় ও অনেক খুশি প্রদান করে।

ঘ।ঈশ্বরের লোকেদের ধর্ম্মান্ধতা, বিভ্রান্তি, আত্মিক দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে।

ঙ। ঈশ্বরের লোকেদের শেষকালীন ভবানীর অর্থ বুঝতে সাহায্য করে, যা যাচাই করে প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনার মাধ্যমে, আর হঠাত্ই নতুন মানে ব্যক্ত করে।

চ।যীশুর দ্বিতীয় আগমনের নিঃশ্চয়তা এবং আগমন যে সন্নিকট ও পৃথিবীর শেষ ও যে আসন্ন একথা বুঝতে সহায়তা করে।

যীশুর প্রতি গভীর ভালোবাসা বাইবেল সম্পর্কে একটি প্রাণবন্ত নতুন অনুভূতি এবং বাইবেলের ভাবোবাণী গুলির নতুন ভাবে বোঝার জন্য, ঈশ্বরের শেষকালীন ভাববাদী গণের কথা শুনুন। আপনি গৌরবময় জীবন খুঁজে পাবেন এবং নতুন মাত্রায় তা গ্রহণ করতে পারবেন। মনে রাখবেন যীশু বলেছেন যে অন্তিম মন্ডলীকে সাহায্য করবেন ভাববাণীর বাক্য দ্বারা আশীর্বাদও করবেন, ঈশ্বরের প্রশংসা হোউক। তিনি তাঁর শেষ কালের লোকদের জন্য স্বর্গে যা করতে পারতেন তা করেছেন। তিনি তাঁর লোকদের রক্ষা করতে চান এবং তাদের অনন্তকাল স্থায়ী রাজ্যে নিয়ে যেতে চান। যারা তাঁকে অনুসরণ করে তাদের স্বর্গে প্রবেশের নিশ্চয়তা রয়েছে (মথি ১৯:২৭-২৯)।

দ্রষ্টব্য: এটি (প্রকাশিত বাক্য ১৪:৬-১৪) পদের তিন দূতিয় বার্তার বিষয়ে নবম এবং চূড়ান্ত অধ্যয়ন নির্দেশিকা। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তিনটি আকর্ষণীয় অধ্যায় নির্দেশিকায় রয়ে গেছে।

29. ইলেন. জী. হোয়াইটের লেখা শাস্ত্র দ্বারা পরীক্ষা করে যদি সঠিক শাস্ত্র সম্মত দেখেন তবে কি সেটি আপনি স্বীকার করতে ইচ্ছুক?

আপনার উত্তর: ______________


আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর

১। মন্ডলীতে ভাববাদী না থাকলে কি হয়?

উত্তর: যেখানে দর্শন (ভবিষ্যৎ বক্তা) না থাকে সেখানে লোকেরা বিনষ্ট হয়, “দর্শনের অভাবে প্রজাগণ উচ্ছৃঙ্খল হয়, কিন্তু যে ব্যবস্থা মানে সে ধন্য” (হিতোপদেশ ২৯:১৮)। যখন এক মন্ডলীর কাছে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য, সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য, আর যীশুর আরও কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য যদি কোনো ভাববাদী না থাকে তবে লোকেরা ভুল করবে (গীতসংহিতা ৭৪:৯, ১০) ও পরে একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে।

২। এখনকার সময় ও যীশুর দ্বিতীয় আগমনের মধ্যবর্তী সময়ে কি কোন সত্য ভাববাদীর উদ্ভব হবে?

উত্তর: অবশ্যই উদ্ভব হতে পারে সত্য ভাববাদীদের, - (যোয়েল ২:২৮, ২৯) অনুসারে। তবে বহু ভাক্ত ভাববাদীদের ও উত্থান ঘটবে (মথি ৭:১৫; ২৪:১১, ২৪)। আমরা অবশ্যই বাইবেল অনুসারে পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের যথার্থতা যাচাই করেই তাঁদের গ্রহন বা বর্জন করব (যিশাইয় ৮:১৯,২০; ২ তীমথি ২:১৫)। ঈশ্বর ভাববাদীদের মাধ্যমেই আমাদের যীশুর নিকটবর্তী করেন, ও সতর্ক করেন। তিনি তার লোকেদের মিশর থেকে বাহির করার জন্য ভাববাদী মোশীকে পাঠান (হোশেয় ১২:১৩)। তিনি যীশুর প্রথম আগমনের আগে যোহন ভাববাদীকে পাঠান লোকদের যীশুর আগমনের জন্য তৈরি করার হেতু (মার্ক ১:১-৮)। তিনি এই শেষের সময়ের জন্যও ভাববাদী দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। ঈশ্বর আমাদের বাইবেল বাপ্তিস্মক; আমাদের শক্তিশালী করার জন্য, উত্সাহিত ও আশ্বাস দেওয়ার জন্য, আর আমাদের এবং এর শেষ দিনের ভাববাণী গুলোর দিকে নির্দেশ করার জন্য ভাববাদীগণদের পাঠান।

৩। বর্তমানে অধিকাংশ মন্ডলীতে কেন ভাববাদীর দান নেই?

উত্তর: (বিলাপ ২:৯) পদ বলে – ব্যবস্থা আর নাই। “তাহার ভাববাদীগন ও সদাপ্রভু হইতে কোন দর্শন পায় না”। লোকেরা সরাসরি ঈশ্বরের আজ্ঞা সকলের অবমাননা করে সে জন্যই ভাববাদীরা আর দর্শন পান না। (যিহিস্কেল ৭:২৬; যিরমিয় ২৬:৪-৬; যিহিস্কেল ২০:১২-১৬; হিতোপদেশ ২৯:১৮) পদ দেখায় যে যারা ঈশ্বরের আজ্ঞাকে সরাসরি উপেক্ষা করে, তাহার ভাববাদীরা দর্শন পায় না। যখন মানুষরা তাঁর অনুগত হয় তখন তিনি তাঁদের উত্সাহ বাড়াতে ও সঠিক পথ নির্দেশ দিতে ভাববাদীদের প্রেরন করেন। শেষকালে অবশিষ্ট মন্ডলী তাঁর আজ্ঞাসকল মূলত শাব্বাথ পালন নিষ্ঠাভরে করে। তাই তিনি ভাববাদী প্রেরন করেছেন, মানুষের সাহার্য্যাথে। এবং সঠিক সময়ে ভাববাদী পাঠিয়েছেন।

৪। ভবানীর দান অর্থবহ করে তুলতে আপনি কি করতে পারেন:

উত্তর: নিজের জন্য এটি অধ্যায়ন করুন এবং প্রার্থনা সহকারে এটি অনুসরণ করুন যাতে যীশু তাঁর আগমনের জন্য আপনাকে রক্ষা করতে এবং প্রস্তুত করতে পারেন। আমি সর্বদা আমার ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই যে আপনি তার দ্বারা সবকিছুতে সমৃদ্ধ হয়েছেন ... এমনকি খ্রীষ্টের সাক্ষ্য হিসেবে (ভাববানীর আত্মা) আপনার মধ্যে নিশ্চিত করেছেন, যাতে আপনার কোন ও উপহারের অভাব না হয়। আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের প্রকাশের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন যিনি আপনাকে শেষ পর্যন্ত স্থির রাখবেন, যাতে আপনি আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের দিনে নির্দোষ হতে পারেন (১ করিন্থীয় ১:৪-৮)।

৫। ভাববানীর দান, বা নানা ভাষার দান কি ঈশ্বরের অবশিষ্ট মন্ডলীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে?

 উত্তর: শেষকালে ভাববানীর দানের গুরুত্ব অপরিসীম।(১ করিন্থীয় ১২:২৮) এ ভাববাদীকে প্রথম স্থানে পরে ভিন্ন ভাষার বরদানকে রাখা হয়েছে। ভাববাদীর বরদান ছাড়া মন্ডলী অন্ধকারে থাকবে। যীশু প্রকৃত ভাবে এই অন্ধকার বিপদ থেকে শেষ সময়ে সতর্ক করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাঁর চোখের স্বর্গীয় কাজল দিয়ে অভিষেক করেছেন যেন দেখতে পায় (প্রকাশিত বাক্য ৩:১৭, ১৮)। চোখের কাজল পবিত্র আত্মার প্রতীক (১ যোহন ২:২০, ২৭; যোহন ১৪:২৬), এর দ্বারাই সকলে সঠিক পথে চলবে, ভাববাদীরা মানুষের কর্তব্য সম্বন্ধে দিক্ নির্দেশ করবেন। ভাষার দানে ও মানুষ উপকৃত হবে, ভাববাদীরা বাইবেলের বাক্য সকল সরলভাবে বুঝতে সাহায্য করবেন, থাকবেনা কোন অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি বা সন্দেহ। (১ করিন্থীয় ১২:৪, ৭-১১)।

৬। আমরা যদি শুধু বাইবেল, শুধু মাত্র বাইবেলই বিশ্বাস করি, তবে কি আমাদের বর্তমান দিনের ভাববাদীদের বাদ দেওয়া উচিৎ নয়?

উত্তর:খ্রীষ্টীয় মতবাদের মূল উত্স বাইবেল, সেই বাইবেলে কিন্তু উল্লেখ করা হয়েছে যে, শেষ সময় পর্য্যন্ত ভাববানীর দান মন্ডলীতে উপস্থিত থাকবে (ইফিষীয় ৪:১১, ১৩; প্রকাশিত বাক্য ১২:১৭; ১৯:১০; ২২:৯)। ভাববাদীকে অস্বীকার করার অর্থই হল প্রকারন্তরে ঈশ্বরকে অস্বীকার করা (লুক ৭:২৮-৩০)। ঈশ্বর আমাদের পরীক্ষার দ্বারা যথার্থ ভাববাদীদের নিশ্চিত করতে আজ্ঞা দিয়েছেন। ও যথার্থ ভাববাদীদের পথ নির্দেশ মান্য করে চলতে আজ্ঞা দিয়েছেন (১ থিসলনীকীয় ৫:২০, ২১)। যদি এহেন কাজ করি তবে আমাদের ভাববাদীর উপর ও বিশ্বাস করতে হবে। প্রকৃত ভাববাদী বাইবেল অনুসারে কথা বলবে। যে ভাববাদী ঈশ্বরের বাক্যর বিরুদ্ধে বলে সে মিথ্যা, আর তাকে ত্যাগ করা উচিত। যদি আমরা ভাববাদীর কথা শুনতে ও পরীক্ষা করতে অসফল হই, আমরা বাইবেলের উপর আমাদের বিশ্বাস স্থাপন করছিনা।

মর্মার্থ পত্র

দয়া করে এই প্রশ্নের সমাধান করার আগে পাঠটি পড়ে নিন। সমস্ত উত্তর আপনি এই সহায়িকা বইটিতে পেয়ে যাবেন।। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দিন। বন্ধনীর সংখ্যাগুলো (১) সঠিক উত্তরের সংখ্যা নির্দেশ করে।

১। নীচের যে বিষয়গুলি একই অর্থ বহন করে, সেগুলি চিহ্নিত করুন: (৪)

( ) যীশুর সাক্ষ্য

( ) ভাষার দান

( ) ভাববানীর আত্মা

( ) মন্ত্রবেত্তাদের ভাববানী

( ) ভাববানীর দান

( ) আত্মাদের সঙ্গে বার্তালাপ

( ) মন্ডলীতে ভাববাদীর বক্তব্য

২। ভাববানীর দান কি ঈশ্বর স্ত্রী পুরুষ উভয়কেই দিয়েছেন? (১)

( ) হ্যাঁ

( ) না

3) ৩। ইফিসীয় ৪ অধ্যায় অনুসারে স্বর্গারোহনের সময় কোন্ ৫ টি দান যীশু মন্ডলীকে দিয়েছেন? (৫)

( ) প্রেরিত

( ) শিক্ষাগুরু

( ) গান গাওয়া

( ) দরিদ্রদের সঙ্গে সহভাগিতা

( ) পুরোহিতগন

( ) যাজকগন

( ) সাক্ষ্য

( ) সুসমাচার

৪। প্রেরিত সহ ৫ টি দান সহ বিষয় কতদিন মন্ডলীতে থাকবে? (১)

( ) যতদিন পর্য্যন্ত নতুন নিয়মের ভাববাদীদের মৃত্যু না হয়

( ) বিচার পর্ব শুরু না হওয়া পর্য্যন্ত

( ) পৃথিবী শেষ না হওয়া পর্য্যন্ত

৫। বাইবেল অনুসারে ভাববাদীদের দর্শনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক (৫)

( ) ভিন্ন ভাষায় কথা বলা

( ) দর্শনে কখনোই কথা বলে না

( ) দর্শনের সময় কখনো কখনো চোখ খোলা থাকে

( ) প্রায়ই হিংস্র হয়ে ওঠে

( ) দেহে শ্বাস থাকেনা

( ) দর্শনে, কথা বলতে পারে।

( ) অচৈতন্য হয়ে পড়ে

( ) অতিপ্রাকৃতিক শক্তিলাভ করতে পারে।

৬। অলৌকিক কার্য্য সবসময়ে প্রমান করে যে ভাববাদী ঈশ্বর দ্বারা প্রেরিত (১)

( ) হ্যাঁ    ( ) না

৭। আমি নিশ্চিতভাবে জানতে পারি যে একজন ভাববাদী ঈশ্বরের পক্ষ থেকে এসেছেন যদি তিনি (১)

( ) দয়ালু এবং কার্য্যে পরাক্রমী

( ) অনেক আলৌকিক কার্য্য সাধন

( ) অত্যন্ত উজ্জ্বল

( ) বাইবেল ভাল জানেন

( ) যীশুর মত দেখতে

( ) কথা ও কাজ বাইবেল অনুসারে করেন

৮। কোন্ টি বাইবেলে নিষিদ্ধ নয়? (১)

( ) ভবিষ্যৎ বলা

( ) মৃতদের আত্মা স্থানান্তর

( ) জ্যোতিষচর্চা

( ) জাদুকর

( ) মন্ত্রবেত্তাদের কার্য্যাদি

( ) মৃতদের সাথে কথোপকথোন

( ) একজন ভাববাদী কথা ও কাজ বাইবেল অনুসারে করেন।

৯। ভাববাদীর প্রাথমিক কাজ হল মন্ডলীর তত্ত্বাবধান (১)

( ) হ্যাঁ    ( ) না

১০। একটি মণ্ডলী ঈশ্বরের সত্য শেষ সময়ের মণ্ডলী হতে পারে না যদি এতে একজন সত্যিকারের ভাববাদী না থাকে। (১)

( ) হ্যাঁ    ( ) না

১১। দেহের কোন্ অংশ দ্বারা ভাববানীকে ইঙ্গিত করে? (১)

( ) মুখ

( ) কান

( ) হাত

( ) চোখ

( ) পদ

১২। শেষকালে যীশুর আগমনের পূর্বে অতিরিক্ত ভাববাদীদের উত্থান হতে পারে (১)

( ) হ্যাঁ   ( ) না

১৩। শুধুমাত্র বাইবেল মানলে ও অনুসরণ করলেই, একজন যথার্থ ভাববাদীকে মানতেই হবে (১)

( ) হ্যাঁ   ( ) না

১৪। ভাববানী সংক্রান্ত কোন্ ৩ টি বিষয় (১ থিষলনীকীয় ৫:২০, ২১) পদে উল্লেখিত? (৩)

( ) ভাববানী ও ভাববাদীকে অবজ্ঞা না করা

( ) সব ভাববাদীদের মেনে চলা

( ) বাইবেল অনুসারে ভাববাদীর বাক্য ও কার্য্য মিলিয়ে নেওয়া

( ) ভাববাদীকে জিজ্ঞাসা করুন সে সত্য না মিথ্যা

( ) যাহা সত্য তাহা বিশ্বাস করুন, ও ধরে রাখুন।

( ) ভাববাদীদের অবজ্ঞা করা

১৫। যখন আমরা এক সত্য ভবিষ্যৎ বক্তার আদেশ অস্বীকার করি, ত আমরা ঈশ্বরের আদেশ অস্বীকার করি। (১)

( ) হ্যাঁ    ( ) না

১৬। শেষকালীন ভাববাদীরা নতুন মতবাদ শেখায় যা বাইবেলের অন্তর্ভুক্ত নয় (১)

( ) হ্যাঁ    ( ) না

১৭। অধিকাংশ মন্ডলীতে যথার্থ ভাববাদী নেই কেন? (১)

( ) তাঁরা বিশ্বাস করবে না তাঁদের, যদি তাঁরা আসে

( ) তাঁরা ঈশ্বরের আজ্ঞা সকল পালন করে না

( ) মন্ডলী আলোকিত হলেও তাঁদের ভাববাদীর প্রয়োজন নেই

১৮। যেখানে দর্শন নেই, লোকেরা ধ্বংস হবে (১)

( ) সত্যি    ( ) মিথ্যা

১৯। ভাববানীর দান বিহীন মন্ডলী অন্ধকারাচ্ছন্ন (১)

( ) হ্যাঁ  ( ) না

২০। ইলেন জী. হোয়াইটের লেখা শাস্ত্র সম্মত হলে, আমি তাঁকে পরীক্ষা করে যাচাই করতে চাই

( ) হ্যাঁ    ( ) না