Lesson 14
অনেক সময় আমরা ভাবি দু-একবার সামান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে কিংবা “একটু” কর ফাঁকি দিলে দোষ কোথায়? কিন্তু ঈশ্বরের বিধি ভিন্নভাবে কাজ করে। ঈশ্বর আমরা যা কিছু করি তা দেখেন, যা কিছু বলি শুনেন, এবং আমরা তাঁর আজ্ঞাকে কীভাবে মান্য করি সে বিষয়ে তিনি যত্নবান। যদিও প্রভু আমাদের পাপের ক্ষ মা দেন, তার অর্থ এই নয় যে ঈশ্বরের নিয়ম লঙ্ঘনের কোনও পরিণতি নেই। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, অনেক খ্রীষ্টিয়ানগণ বলে থাকে যে ঈশ্বরের আজ্ঞাকে পালন করা হল আইনসর্বস্বতার সামিল। অথচ যীশু বলেছেন আমরা যদি ঈশ্বরকে সত্যিই প্রেম করি, তবে তিনি যা চাইবেন আমরা তাই করবো। সুতরাং, বাধ্যতা কি সত্যিই বিধিসর্বস্বতা? সময় নিয়ে এই সহায়িকা বইটি যত্নসহকারে পড়ুন। আমাদের অনন্ত পরিণাম ঝুঁকির সম্মুখীন!
1. ঈশ্বর কি বাস্তবিকই আপনার উপর ব্যক্তিগত ভাবে লক্ষ্য রাখেন?
“তুমি দর্শনকারী ঈশ্বর’’ (আদি ১৬:১৩)। “হে সদাপ্রভু, তুমি আমাকে অনুসন্ধান করিয়াছ, আমাকে জ্ঞাত হইয়াছ। তুমিই আমার উপবেশন ও আমার উত্থান জানিতেছ, তুমি দূর হইতে আমার সঙ্কল্প বুঝিতেছ। তুমি ... আমার সমস্ত পথ ভালরূপে জান। যখন আমার জিহ্বাতে একটি কথাও নাই, দেখ, সদাপ্রভু, তুমি উহা সমস্তই জানিতেছ”
(গীত ১৩৯:১—৪)। “তোমাদের মস্তকের কেশগুলিও সমস্ত গণিত আছে’’ (লূক ১২:৭)।
উত্তর: হ্যাঁ। ঈশ্বর আপনাকে এবং পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকেই আমরা আমাদের নিজেদের যতটা জানি, তার থেকেও বেশি ভাল করে জানেন। কারণ তিনি তো তাদের সৃষ্টিকর্তা। প্রত্যেকটি মানুষের প্রতি তিনি ব্যক্তিগত আগ্রহ দেখান এবং আমরা যা কিছু করি সে সবই তিনি দেখেন। আমাদের কোনও কথা, চিন্তা-ভাবনা, কিংবা কার্য্য তাঁর দৃষ্টির আড়াল নয়।

“যাহারা আমাকে হে প্রভু, হে প্রভু বলে, তাহারা সকলেই যে স্বর্গ-রাজ্যে প্রবেশ করিতে পারিবে, এমন নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা পালন করে, সেই পারিবে’’ (মথি ৭:২১)। “তুমি যদি জীবনে প্রবেশ করিতে ইচ্ছা কর, তবে আজ্ঞা সকল পালন কর” (মথি ১৯:১৭)। “তিনি ... আপনার আজ্ঞাবহ সকলের অনন্ত পরিত্রাণের কারণ হইলেন” (ইব্রীয় ৫:৯)।
উত্তর:না। এ বিষয়ে শাস্ত্র স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়। পরিত্রাণ এবং স্বর্গরাজ্য তাদের জন্য যারা প্রভুর আজ্ঞা মেনে চলে। ঈশ্বর এমন লোকদের অনন্ত জীবনের প্রতিশ্রুতি দেননি যারা শুধুমাত্র প্রকাশ্যে বিশ্বাস স্বীকার করেছে কিংবা মণ্ডলীর সদস্য কিংবা বাপ্তিস্ম নিয়েছে, বরং এমন লোকদের দিয়েছেন যারা তাঁর ইচ্ছে অনুযায়ী চলে, যেমন শাস্ত্রে প্রকাশ আছে। তবে, এই বাধ্যতা কেবল খ্রীষ্টের মাধ্যমেই লাভ করা সম্ভব (প্রেরিত ৪:১২)।

“কেননা জীবনে যাইবার দ্বার সঙ্কীর্ণ ও পথ দুর্গম, এবং অল্প লোকেই তাহা পায়’’ (মথি ৭:১৪)। “যে আমার বিরুদ্ধে পাপ করে, সে তাহার প্রাণের অনিষ্ট করে; যে সকল লোক আমাকে ঘৃণা করে, তাহারা মৃত্যুকে ভালবাসে’’ (হিতোপদেশ ৮:৩৬)। “সদাপ্রভু আমাদিগকে এই সমস্ত বিধি পালন করিতে, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় করিতে আজ্ঞা করিলেন, যেন যাবজ্জীবন আমাদের মঙ্গল হয়, আর তিনি ... যেন আমাদিগকে জীবিত রাখেন” (দ্বিতীয় বিবরণ ৬:২৪)।
উত্তর:কারণ একটি পথই আমাদের ঈশ্বরের রাজ্যে পৌঁছে দেয়। সব রাস্তা একই গন্তব্যে নিয়ে যায় না। বাইবেল আমাদের মানচিত্র—এটি এমন একটি সহায়ক বই যা আমাদের সেই রাজ্যে নিরাপদে পৌঁছাবার সমস্ত নির্দেশাবলী, সতর্কবাণী, ও তথ্য দেয়। এর একটি অংশ লঙ্ঘনই আমাদের ঈশ্বর এবং তাঁর রাজ্য থেকে দূরে নিয়ে যাবে। ঈশ্বরের এই মহাবিশ্ব প্রাকৃতিক, নৈতিক, এবং আধ্যাত্মিক আইন-শৃঙ্খলা মেনে চলে। এগুলোর মধ্যে যে কোনো একটি ভঙ্গ করলেও তার সুনির্দিষ্ট পরিণাম রয়েছে। আমাদের কাছে যদি বাইবেল দেয়া না হতো, তবে আজ কিংবা কাল হোক, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ভুল-ভ্রান্তির মাধ্যমে, আমরা আবিষ্কার করতাম যে, বাইবেলের মহান নীতিমালা বাস্তব এবং সত্য। সেই নীতিমালা উপেক্ষা করার ফলে মানুষের জীবনে সর্ব প্রকার রোগ, পীড়া, এবং অসুখ আসে। সুতরাং, ঈশ্বরের বাক্য নিছক এমন উপদেশ নয় যা আমরা গ্রহণ কিংবা অগ্রাহ্য করবো অথচ তার পরিণাম ভোগ করবো না। বরং বাইবেল সেই পরিণামগুলোর কথাও বলে এবং কিভাবে সেগুলো এড়ানো যায় তা-ও ব্যাখ্যা করে। খ্রীষ্টসুলভ হলে যেমন কোনও ব্যক্তি তার নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী চলবে না—তেমনি সমস্যা এড়াতে হলে একজন নির্মাতা ঘরের নীলনকশা উপেক্ষা করবে না। ঈশ্বরও চান যেন আমরা পবিত্র শাস্ত্রের নীলনকশা অনুসরণ করি। তাঁর মত হতে হলে এবং তাঁর রাজ্যে একটি স্থান পেতে হলে তা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। সত্যিকারের সুখ পেতে হলেও এ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
4. ধারাবাহিকভাবে অবাধ্যতাকে কেন ঈশ্বর মেনে নিচ্ছেন? কেন পাপী ও পাপকে এখনি ধ্বংস করছেন না?
“দেখ, প্রভু আপন অযুত অযুত পবিত্র লোকের সহিত আসিলেন, যেন সকলের বিচার করেন; 15 আর ভক্তিহীন সকলে আপনাদের যে সকল ভক্তিবিরুদ্ধ কার্য দ্বারা ভক্তিহীনতা দেখাইয়াছে, এবং ভক্তিহীন পাপিগণ তাঁহার বিরুদ্ধে যে সকল কঠোর বাক্য কহিয়াছে, তৎপ্রযুক্ত তাহাদিগকে যেন ভর্ৎসনা করেন” (যিহূদা ১:১৪, ১৫)। “প্রভু কহিতেছেন, আমার জীবনের দিব্য, আমার কাছে প্রত্যেক জানু পাতিত হইবে, এবং প্রত্যেক জিহ্বা ঈশ্বরের গৌরব স্বীকার করিবে” (রোমীয় ১৪:১১)।
উত্তর: যতদিন পর্য্যন্ত প্রত্যেকে ঈশ্বরের ন্যায়বিচার, প্রেম, এবং দয়া সম্পূর্ণ উপলব্ধি না করবে, ততদিন পর্যন্ত তিনি পাপকে ধ্বংস করবেন না। অবশেষে সকলেই উপলব্ধি করবে যে, ঈশ্বর আমাদের উপর তাঁর ইচ্ছে চাপিয়ে দেবার জন্য বাধ্যতা প্রত্যাশা করেন না, বরং আমাদের আঘাত এবং ধ্বংস থেকে রক্ষা করাই তাঁর প্রচেষ্টা। যতক্ষণ পর্যন্ত এমন কি ছিদ্রান্বেষী, কঠিন-হৃদয় ব্যক্তিরাও ঈশ্বরের ভালোবাসা ও ন্যায়পরায়ণতা স্বীকার না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পাপ সমস্যার সমধান হবে না। হয়ত কিছু লোককে বোঝাতে গিয়ে বিপর্যস্ত হতে হবে, তবে পাপময় জীবন-যাপন করে অবশেষে সবাই মানবে যে, ঈশ্বর ন্যায্য এবং নির্ভুল।
5.অবাধ্যরা কি সত্যিই ধ্বংস হয়ে যাবে?
“ঈশ্বর পাপে পতিত দূতগণকে ক্ষমা করেন নাই, কিন্তু নরকে ফেলিয়া বিচারার্থে রক্ষিত হইবার জন্য অন্ধকারের কারাকূপে সমর্পণ করিলেন” (২ পিতর ২:৪)। “তিনি সমুদয় দুষ্টকে সংহার করিবেন” (গীতসংহিতা ১৪৫:২০)। “প্রভু যীশু ... জ্বলন্ত অগ্নিবেষ্টনে ... যাহারা ঈশ্বরকে জানে না ও যাহারা আমাদের প্রভু যীশুর সুসমাচারের আজ্ঞাবহ হয় না, তাহাদিগকে সমুচিত দণ্ড দিবেন” (২ থিষলনীকীয় ১:৮)।
উত্তর: হ্যাঁ। অবাধ্যগণ, দিয়াবল ও তার দূতগণ সহ ধ্বংস হবে। এইজন্য, এখনি কোনটা সঠিক এবং কোনটা ভুল সে বিষয়ে সমস্ত অস্পষ্টতা পরিত্যাগ করার সময়। সঠিক এবং ভুলের বিষয়ে আমাদের নিজেদের ধারণা এবং অনুভূতির উপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়। ঈশ্বরের বাক্যের উপর নির্ভরতাই হলো আমাদের একমাত্র নিরাপত্তা। (পাপ ধ্বংসের বিষয় বিস্তারিত জানতে ১১ নং সহায়িকা বই এবং যীশুর দ্বিতীয় আগমনের বিষয় জানতে ৮ নং সহায়িকা বই দেখুন।)
6. আপনি ঈশ্বরকে খুশি করতে প্রস্তুত, কিন্তু তাঁর সব আজ্ঞাগুলো মেনে চলা কি সম্ভব?
“যাচ্ঞা কর, তোমাদিগকে দেওয়া যাইবে; অন্বেষণ কর, পাইবে” (মথি ৭:৭)। “তুমি আপনাকে ঈশ্বরের কাছে পরীক্ষাসিদ্ধ লোক দেখাইতে যত্ন কর; এমন কার্যকারী হও, ... যে সত্যের বাক্য যথার্থরূপে ব্যবহার করিতে জানে” (২ তীমথিয় ২:১৫)। “যদি কেহ তাঁহার ইচ্ছা পালন করিতে ইচ্ছা করে, সে এই উপদেশের বিষয়ে জানিতে পারিবে, ইহা ঈশ্বর হইতে হইয়াছে, না আমি আপনা হইতে বলি” (যোহন ৭:১৭)। “যাবৎ তোমাদের কাছে জ্যোতি আছে, যাতায়াত কর, যেন অন্ধকার তোমাদের উপরে আসিয়া না পড়ে” (যোহন ১২:৩৫)। “শ্রবণমাত্র তাহারা আমার আজ্ঞাকারী হইবে” (গীত ১৮:৪৪)।
উত্তর: ঈশ্বর আপনাকে ভ্রান্তি থেকে বাঁচিয়ে নিরাপদে সব সত্যে আনতে প্রতিশ্রুতি দেন যদি আপনি (১) পরিচালনার জন্য একান্তে প্রার্থনা করেন, (২) আন্তরিকভাবে ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করেন, এবং (৩) সত্য পাওয়া মাত্র তা অনুসরণ করেন।

“যদি অন্ধ হইতে, তোমাদের পাপ থাকিত না; কিন্তু এখন তোমরা বলিয়া থাক, আমরা দেখিতেছি; তোমাদের পাপ রহিয়াছে” (যোহন ৯:৪১)। “যে কেহ সৎকর্ম করিতে জানে, অথচ না করে, তাহার পাপ হয়” (যাকোব ৪:১৭)। “জ্ঞানের অভাব প্রযুক্ত আমার প্রজাগণ বিনষ্ট হইতেছে; তুমি ত জ্ঞান অগ্রাহ্য করিয়াছ, এই জন্য আমিও তোমাকে নিতান্ত অগ্রাহ্য করিলাম” (হোশেয় ৪:৬)। “অন্বেষণ কর, পাইবে” (মথি ৭:৭)।
উত্তর: যদি কারও বাইবেলের কোনও একটি সত্য জানার সুযোগ না থাকে তবে ঈশ্বর সেটির জন্য তাকে দোষী করেন না। কিন্তু বাইবেল বলে যে, আমাদের কাছে যেটুকু আলো (সত্যের জ্ঞান) রয়েছে, আমরা সে জন্য দায়ী থাকবো। তবে ঈশ্বরের দয়ার ব্যাপারে আমরা যেন অসতর্ক না হই! কেউ কেউ তাঁর বাক্য অধ্যয়ন, অনুসন্ধান, শিক্ষা, এবং শ্রবণ করতে অস্বীকার করে এ জন্য তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে কারণ তারা “জ্ঞান অগ্রাহ্য” করেছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উটপাখির মতো মাথা গুঁজে থাকা ভয়ানক ব্যাপার। আমাদের দায়িত্ব হলো সযত্নে সত্যের সন্ধান করা।
8. ঈশ্বর কি কড়ায়-গণ্ডায় বাধ্যতার হিসেব করেন?
“আমি ... দিব্য করিয়াছি, মিসর হইতে আগত পুরুষদের মধ্যে ... কেহই সেই দেশ দেখিতে পাইবে
না; কেননা তাহারা সম্পূর্ণরূপে আমার অনুগত হয় নাই; কেবল ... কালেব ও ... যিহোশূয় উহা দেখিবে, কারণ তাহারাই সম্পূর্ণরূপে সদাপ্রভুর অনুগত হইয়াছে” (গণনাপুস্তক ৩২:১১, ১২)। “মনুষ্য কেবল রুটিতে বাঁচিবে না, কিন্তু ঈশ্বরের মুখ হইতে যে প্রত্যেক বাক্য নির্গত হয়, তাহাতেই বাঁচিবে” (মথি ৪:৪)। “আমি তোমাদিগকে যাহা কিছু আজ্ঞা দিতেছি, তাহা যদি পালন কর, তবে তোমরা আমার বন্ধু” (যোহন ১৫:১৪)।
উত্তর: অবশ্যই—তিনি সূক্ষ্ম বিচারক। পুরাতন নিয়মের সময়ে ঈশ্বরের লোকেরা অত্যন্ত কষ্ট করে এটি শিখেছিল। যারা মিশর দেশ থেকে প্রতিজ্ঞাত দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল, তারা বিপুল-সংখ্যক ছিল। ঐ দলের মধ্যে, কালেব এবং যিহোশূয় নামক, মাত্র দুজনই সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরকে অনুসরণ করেছিল, আর কেবল তারাই সেই কনান দেশে প্রবেশ করতে পেরেছিল। অন্যান্যরা সকলেই মরুভূমিতে মারা গিয়েছিল। যীশু বলেন আমরা যেন বাইবেলের “প্রত্যেক বাক্য” দ্বারাই জীবন-যাপন করি। একটি আজ্ঞাও বেশী কিংবা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবগুলোই গুরুত্বপূর্ণ!

“যাবৎ তোমাদের কাছে জ্যোতি আছে, যাতায়াত কর, যেন অন্ধকার তোমাদের উপরে আসিয়া না পড়ে” (যোহন ১২:৩৫)। “আমি সত্বর হইলাম, বিলম্ব করিলাম না, তোমার আজ্ঞা সকল পালন করিবার জন্য” (গীতসংহিতা ১১৯:৬০)। “তোমরা প্রথমে তাঁহার রাজ্য ও তাঁহার ধার্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা কর, তাহা হইলে ঐ সকল দ্রব্যও তোমাদিগকে দেওয়া হইবে” (মথি ৬:৩৩)।
উত্তর: না। একবার যখন কোনও বাইবেল সত্য সম্বন্ধে নিশ্চিত হবেন, তা কার্যকর করতে দেরি করা অনুচিত। গড়িমসি করা হল একটি ভয়ঙ্কর ফাঁদ। অপেক্ষা করা আপাতদৃষ্টিতে নিরাপদ মনে হতে পারে, কিন্তু বাইবেল শেখায় যে, আলো পেয়েও যদি কেউ তত্ক্ষণাত্ তা গ্রহণ না করে, তাহলে সেই আলো দ্রুত অন্ধকারে পরিণত হবে। আমরা কেবল দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করি, তাহলে বাধ্যতার পথের বাধাবিপত্তি অপসারিত হবে না; সেগুলো বরং আকারে বৃদ্ধি পাবে। মানুষ ঈশ্বরকে বলে, “পথ খুলে দাও, তাহলে আমি অগ্রসর হব।” কিন্তু ঈশ্বরের পদ্ধতি ঠিক এর বিপরীত। তিনি বলেন, “তুমি অগ্রসর হও, তাহলে আমি পথ প্রস্তুত করে দেব।”

“ঈশ্বরের [পক্ষে] সকলই সাধ্য” (মথি ১৯:২৬)। “যিনি আমাকে শক্তি দেন, তাঁহাতে আমি সকলই করিতে পারি” (ফিলিপীয় ৪:১৩)। “ধন্য ঈশ্বর, তিনি সর্বদা আমাদিগকে লইয়া খ্রীষ্টে বিজয়-যাত্রা করেন” (২ করিন্থীয় ২:১৪)। “যে আমাতে থাকে, এবং যাহাতে আমি থাকি, সেই ব্যক্তি প্রচুর ফলে ফলবান হয়; কেননা আমা ভিন্ন তোমরা কিছুই করিতে পার না” (যোহন ১৫:৫)। “তোমরা যদি সম্মত ও আজ্ঞাবহ হও, তবে দেশের উত্তম উত্তম ফল ভোগ করিবে” (যিশাইয় ১:১৯)।
উত্তর: আমাদের কারও পক্ষেই নিজের শক্তিতে বাধ্যতায় চলা সম্ভব নয়, কিন্তু খ্রীষ্টের সহায়তায় চলা সম্ভব এবং উচিতও। শয়তান ঈশ্বরকে অযৌক্তিক দেখানোর জন্য, মানুষের কাছে মিথ্যা ছড়াচ্ছে যে, বাধ্যতায় চলা রক্ত-মাংসের দেহে সম্পূর্ণ অসম্ভব।

“সত্যের তত্ত্বজ্ঞান পাইলে পর যদি আমরা স্বেচ্ছাপূর্বক পাপ করি, তবে পাপার্থক আর কোন যজ্ঞ অবশিষ্ট থাকে না, কেবল থাকে বিচারের ভয়ঙ্কর প্রতীক্ষা এবং বিপক্ষদিগকে গ্রাস করিতে উদ্যত অগ্নির চণ্ডতা” (ইব্রীয় ১০:২৬, ২৭)। “যাবৎ তোমাদের কাছে জ্যোতি আছে, যাতায়াত কর, যেন অন্ধকার তোমাদের উপরে আসিয়া না পড়ে; আর যে ব্যক্তি অন্ধকারে যাতায়াত করে, সে কোথায় যায়, তাহা জানে না” (যোহন ১২:৩৫)।
উত্তর: বাইবেল সন্দেহের কোন অবকাশ রাখেনি। উত্তরটা গুরুগম্ভীর হলেও সত্য। যখন কোন ব্যক্তি জেনে শুনে সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং অবাধ্যতায় চলতে থাকে, তখন ক্রমেই সেই জ্যোতি চলে যাবে, এবং সে সম্পূর্ণ অন্ধকারে পড়ে থাকবে। যিনি সত্য প্রত্যাখ্যান করেন, তিনি এক “ভ্রান্তির কার্যসাধন” লাভ করেন যা তাকে বিশ্বাস করায় যে মিথ্যাটাই সত্য (২ থিষলনীকীয় ২:১১, ১২)। অতঃপর তিনি বিনাশের দিকে এগিয়ে যান।

“যীশু উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, কেহ যদি আমাকে প্রেম করে, তবে সে আমার বাক্য সকল পালন করিবে। ... যে আমাকে প্রেম করে না, সে আমার বাক্য সকল পালন করে না” (যোহন ১৪:২৩, ২৪)।
“ঈশ্বরের প্রতি প্রেম এই, যেন আমরা তাঁহার আজ্ঞা সকল পালন করি; আর তাঁহার আজ্ঞা সকল দুর্বহ নয়” (১ যোহন ৫:৩)।
উত্তর:আদৌ নয়! প্রকৃতপক্ষে বাইবেল এটা শেখায় যে বিনা বাধ্যতায় ঈশ্বরকে সত্যিকার ভাবে ভালবাসা যায় না আর ঈশ্বরের জন্য ভালবাসা এবং কৃতজ্ঞতাবোধ ব্যতিরেকে কেউ তাঁর বাধ্য হতে পারে না। কোনও সন্তান যতক্ষণ না তার পিতা-মাতাকে ভালবাসে, সে পুরোপুরি তাদের বাধ্য হবে না, আবার সে যদি তাদের বাধ্য না হয়, সে তাদের প্রেমও করবে না। প্রেম ও বাধ্যতা হলো জুড়ে থাকা দুটি যমজ সন্তানের মতো। তারা যখন পৃথক হয়, তাদের মৃত্যু হয়।

“তোমরা যদি আমার বাক্যে স্থির থাক, তাহা হইলে ... তোমরা সেই সত্য জানিবে, এবং সেই সত্য তোমাদিগকে স্বাধীন করিবে। ... যে কেহ পাপাচরণ করে, সে পাপের দাস” (যোহন ৮:৩১, ৩২, ৩৪)। “ঈশ্বরের ধন্যবাদ হউক যে, তোমরা পাপের দাস ছিলে বটে, পরন্তু শিক্ষার যে আদর্শে সমর্পিত হইয়াছ, অন্তঃকরণের সহিত সেই আদর্শের আজ্ঞাবহ হইয়াছ; এবং পাপ হইতে স্বাধীনীকৃত হইয়া তোমরা ধার্মিকতার দাস হইয়াছ” (রোমীয় ৬:১৭, ১৮)। “আমি সতত তোমার ব্যবস্থা পালন করিব, যুগে যুগে চিরকাল করিব। আর আমি প্রশস্ত স্থানে যাতায়াত করিব, কেননা আমি তোমার নিদেশ সকলের অন্বেষণ করিয়াছি” (গীতসংহিতা ১১৯:৪৪, ৪৫)।
উত্তর: না! স্বাধীনতা বলতে পাপ (রোমীয় ৬:১৮), কিংবা অবাধ্যতা অর্থাত্ ঈশ্বরের আজ্ঞা লঙ্ঘন (১ যোহন ৩:৪) থেকে মুক্তি বোঝায়। তাই বলা যায় প্রকৃত স্বাধীনতা আসে কেবল বাধ্যতার মাধ্যমেই। যে নাগরিকগণ আইন মেনে চলে, তারা স্বাধীনতা ভোগ করে। আজ্ঞা লঙ্ঘনকারীরা ধরা পড়ে ও স্বাধীনতা হারায়। বিনা বাধ্যতায় স্বাধীনতা পাওয়া একটি মিথ্যা স্বাধীনতা—যা বিভ্রান্তি ও নৈরাজ্য নিয়ে আসে। প্রকৃত খ্রীষ্টীয় স্বাধীনতা হল অবাধ্যতা থেকে মুক্তি। অবাধ্যতা সর্বদাই কেউকে কষ্ট দেয় ও শয়তানের নিষ্ঠুর দাসত্বে নিয়ে যায়।

“বিনয় করি, ... আপনি সদাপ্রভুর বাক্য মান্য করুন; তাহাতে আপনার মঙ্গল হইবে, আপনার প্রাণ বাঁচিবে” (যিরমিয় ৩৮:২০)। “যে নিজ হৃদয়কে বিশ্বাস করে, সে হীনবুদ্ধি” (হিতোপদেশ ২৮:২৬)। “মনুষ্যে নির্ভর করণাপেক্ষা সদাপ্রভুর শরণ লওয়া উত্তম” (গীতসংহিতা ১১৮:৮)। “ভূতল হইতে আকাশমণ্ডল যত উচ্চ, তোমাদের পথ হইতে আমার পথ, ও তোমাদের সঙ্কল্প হইতে আমার সঙ্কল্প তত উচ্চ” (যিশাইয় ৫৫:৯)। “তাঁহার বিচার সকল কেমন বোধাতীত! তাঁহার পথ সকল কেমন অননুসন্ধেয়?” (রোমীয় ১১:৩৩, ৩৪)। “যে সকল মার্গ তাহারা জানে না, সেই সকল মার্গ দিয়া তাহাদিগকে চালাইব” (যিশাইয় ৪২:১৬)। “তুমি আমাকে জীবনের পথ জ্ঞাত করিবে” (গীতসংহিতা ১৬:১১)।
উত্তর: নিশ্চয়ই! প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত কারণ তিনি এত জ্ঞানী যে আমাদের কাছে এমন কিছু কিছু জিনিস প্রত্যাশা করেন যা আমাদের বোধগম্য নয়। যারা ভালো সন্তান, তারা তাদের পিতামাতার নির্দেশমালার কারণ পরিষ্কার না বুঝলেও তাদের বাধ্য থাকে। ঈশ্বরের উপর আন্তরিক বিশ্বাস এবং নির্ভরতার কারণেই আমরা বিশ্বাস করি যে কিসে আমাদের সর্বাধিক মঙ্গল তা তিনি জানেন এবং কখনো আমাদের ভুল পথে নিয়ে যাবেন না। যখন আমরা ঈশ্বরের নেতৃত্বের সব কারণগুলো বুঝবো না, এমন কি তখনো, অজ্ঞতাবসতঃ তাঁর উপর সন্দেহ আনা আমাদের জন্য মুর্খতা।

“যে পাপাচরণ করে, সে দিয়াবলের; কেননা দিয়াবল আদি হইতে পাপ করিতেছে। ... ইহাতে ঈশ্বরের সন্তানগণ এবং দিয়াবলের সন্তানগণ প্রকাশ হইয়া পড়ে; যে কেহ ধর্মাচরণ না করে, ... সে ঈশ্বরের লোক নয়” (১ যোহন ৩:৮, ১০)। “শয়তান ... সমস্ত নরলোকের ভ্রান্তি জন্মায়” (প্রকাশিত বাক্য ১২:৯)।
উত্তর: শয়তানই এ জন্য দায়ী। দিয়াবল জানে যে সব ধরণের অবাধ্যতাই পাপ, আর ঐ পাপের কারণেই আসে সমস্ত অশান্তি, দুঃখজনক ঘটনা, ঈশ্বরের সঙ্গে বিচ্ছেদ, এবং অবশেষে বিনাশ। শয়তান তার ঘৃণাবশতঃ, প্রত্যেক ব্যক্তিকেই অবাধ্যতায় পরিচালনা দিতে চেষ্টা করে। আপনিও এতে জড়িত। আপনাকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয় অবাধ্য হয়ে বিনষ্ট হবেন, নয়তো খ্রীষ্টকে গ্রহণ করে, বাধ্য হয়ে, পরিত্রাণ লাভ করবেন। আপনি খ্রীষ্টকে সত্য থেকে আলাদা করতে পারেন না, কারণ তিনি বলেন, “আমিই ... সত্য” (যোহন ১৪:৬)। “যাহার সেবা করিবে, তাহাকে অদ্য মনোনীত কর” (যিহোশূয় ২৪:১৫)।

“তোমাদের অন্তরে যিনি উত্তম কার্য আরম্ভ করিয়াছেন, তিনি যীশু খ্রীষ্টের দিন পর্যন্ত তাহা সিদ্ধ করিবেন” (ফিলিপীয় ১:৬)।
উত্তর: ঈশ্বরের প্রশংসা করুন! যেভাবে তিনি আমাদের নতুন জন্ম দেয়ার লক্ষে একটি অলৌকিক কার্য সাধন করেছেন, তেমনি যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা তাঁর রাজ্যে নিরাপদে না পৌঁছাই, (আমরা স্বেচ্ছায় তাঁকে অনুসরণ করার সঙ্গে সঙ্গে) তিনি আমাদের জীবনে প্রয়োজন অনুসারে অলৌকিক কাজ করতে থাকবেন।
17. আপনি কি আজ থেকে প্রেমের সঙ্গে যীশু এবং তাঁর ব্যবস্থাগুলো অনুসরণ করে চলবেন?
আপনার উত্তর: __________
আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর
১। এমন কেউ কি বিনষ্ট হবে, যারা মনে করে যে তারা উদ্ধারপ্রাপ্ত?
উত্তর: হ্যাঁ, এমনটি হতে পারে! মথি ৭:২১—২৩ এটা স্পষ্ট করে বলে যে এমন অনেকেও বিনষ্ট হবে যারা খ্রীষ্টের নামে ভবিষ্যৎ বলেছে, ভূত ছাড়িয়েছে, এবং অন্যান্য চমৎকার কাজ করে দেখিয়েছে। খ্রীষ্ট বলেছেন তারা “আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা” (২১ পদ) পালন করে নি বলেই বিনষ্ট হবে। যারা ঈশ্বরের বাধ্য হতে অস্বীকার করবে, তারা অবশেষে মিথ্যাতে বিশ্বাস করবে (২ থিষলনীকীয় ২:১১, ১২) এবং, ভাববে যে তারা উদ্ধার পেয়েছে, যেখানে তারা কিনা হারিয়ে গিয়েছে।
২। সেই সব আন্তরিক লোকদের কী হবে যারা ভুল পথে থাকা সত্ত্বেও ভাবে যে তারা ঠিক আছে?
উত্তর: এ প্রসঙ্গে যীশু বলেন যে তিনি তাদের তাঁর সত্য পথে আহ্বান করবেন, আর তাঁ প্রকৃত মেষগুলো (অর্থাৎ অনুসারীরা) শুনবে এবং তাঁর অনুসরণ করবে (যোহন ১০:১৬, ২৭)।
৩। আন্তরিকতা এবং উদ্যম কি যথেষ্ট নয়?
উত্তর: না! আমাদের সঠিক পথে চলতেও হবে। প্রেরিত পৌল তার মন পরিবর্তনের পূর্বে যখন খ্রীষ্টীয়ানদের অত্যাচার করতেন, তখন আন্তরিক এবং উদ্যমে পরিপূর্ণ ছিলেন ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে তিনি ভুল পথে ছিলেন (প্রেরিত ২২:৩, ৪; ২৬:৯—১১)।
৪। যারা সত্যের আলো পায়নি, সেই লোকদের কী হবে?
উত্তর: বাইবেল বলে যে সকলেই কিছু না কিছু জ্যোতি পেয়েছে। “প্রকৃত জ্যোতি ছিলেন, যিনি সকল মনুষ্যকে দীপ্তি দেন, তিনি জগতে আসিতেছিলেন” (যোহন ১:৯)। প্রত্যেক ব্যক্তি সে যতটুকু জ্যোতি পেয়েছে তা কীভাবে অনুসরণ করছে সে অনুসারে বিচারিত হবে। রোমীয় ২:১৪, ১৫ অনুসারে এমনকি অবিশ্বাসীগণও কিছু সত্য পেয়েছে এবং আইন মেনে চলে।
৫। ঈশ্বর বাধ্যতা প্রত্যাশা করেন, এ কথা নিশ্চিত করার জন্য মানুষের কি তাঁর কাছে চিহ্ন চাওয়া নিরাপদ?
উত্তর: না, কখোনই না। যীশু বলেছেন, “দুষ্ট ও ব্যভিচারী লোকে চিহ্নের অন্বেষণ করে” (মথি ১২:৩৯)। যে সমস্ত মানুষ বাইবেলের সহজ-সরল শিক্ষামালা বিশ্বাস করে না তারা কোনো চিহ্নতেও বিশ্বাস করবে না। যেমন যীশু বলেছেন, “তাহারা যদি মোশির ও ভাববাদিগণের কথা না শুনে, তবে মৃতগণের মধ্য হইতে কেহ উঠিলেও তাহারা মানিবে না” (লুক ১৬:৩১)।
৬। ইব্রীয় ১০:২৬, ২৭ কি এ কথা বলছে যে, সত্য জানার পর যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মাত্র একবার পাপ করে, সে পরিত্রাণ হারাবে?
উত্তর: না! এহেন মতবাদ সম্পূর্ণ ঈশ্বর-বিরোধী। পাপ করার পর যদি কেউ তা স্বীকার করে, ঈশ্বর তাকে ক্ষমা করবেন। বাইবেল এখানে মাত্র একটি পাপ কাজের কথা বলেনি—কিন্তু চেতনা বাক্য পাবার পরও ঝুঁকি নিয়ে নিরন্তর পাপে লিপ্ত থাকা এবং খ্রীষ্টের কাছে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করার কথা বলেছে। এরকম কাজ পবিত্র আত্মাকে দুঃখ দিয়ে দূরে ঠেলে দেয় (ইফিষীয় ৪:৩০) এবং মানুষের হৃদয়কে কঠিন করতে করতে “অসাড়” (ইফিষীয় ৪:১৯) অর্থাৎ অনুভূতিহীন করে তুলে বিনাশের দিকে নিয়ে যায়। বাইবেল বলে, “দুঃসাহসজনিত [পাপ] হইতেও নিজ দাসকে পৃথক রাখ, সেই সকল আমার উপরে কর্তৃত্ব না করুক; তখন আমি সিদ্ধ এবং মহাপাতক হইতে শুচি হইব” (গীতসংহিতা ১৯:১৩)।
সারসংক্ষেপ
দয়া করে এই প্রশ্নের সমাধান করার আগে পাঠটি পড়ে নিন। সমস্ত উত্তর আপনি এই সহায়িকা বইটিতে পেয়ে যাবেন।। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দিন। বন্ধনীর সংখ্যাগুলো (১) সঠিক উত্তরের সংখ্যা নির্দেশ করে।
১। সেই লোকেরা রক্ষা পাবে যারা (১)
( ) খ্রীষ্টের নামে ভূত ছাড়ায়।
( ) খ্রীষ্টকে ভালবাসে বলে দাবী করে।
( ) প্রভুকে গ্রহণ করে, ও তাঁর বাধ্য থাকে।
২। নিচের উল্লিখিত কোন তিনটি বিষয় আমাকে সম্পূর্ণ সত্য পাবার নিশ্চয়তা দেবে? (৩)
( ) আমার মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে প্ৰশ্ন করা।
( ) সত্যের আলোর জন্য প্রার্থনা করা।
( ) প্রচারক যা বলেন, তাই করা।
( ) গীর্জাতে অর্থ দান করা।
( ) নিজেকে শাস্তি দেয়া।
( ) উচ্চ শিক্ষা লাভ করা।
( ) ঈশ্বরের কাছ থেকে চিহ্ন চাওয়া।
( ) বাইবেল অধ্যয়ন করা।
( ) এখন যে সত্য জানি ও বুঝি তা মেনে চলা।
৩। যে ব্যাপারে ঈশ্বর আমাকে দায়ী করেন (১)
( ) আমার যাজকের পরামর্শ অনুসারে কাজ করা।
( ) আমার পিতামাতার পদচিহ্ন অনুসরণ করা।
( ) যে সত্যের আলো আমি পেয়েছি বা পাবো।
৪। নতুন সত্য জানার পর আমার করণীয় (১)
( ) তা উপেক্ষা করা।
( ) গ্রহণ করতে প্রভাবিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
( ) তৎক্ষণাৎ গ্রহণ করে তা মেনে চলা।
৫। প্রভুর প্রতি সম্পূর্ণ বাধ্যতা হল (১)
( ) কোনো পরিস্থিতিতেই সম্ভব নয়।
( ) বিধিসর্বস্বতা এবং শয়তান থেকে প্রাপ্ত।
( ) শুধুমাত্র খ্রীষ্টের মাধ্যমেই সম্ভব।
৬। ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা (১)
( ) অন্ধকার এবং অনন্ত মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।
( ) মণ্ডলীর প্রবল উদ্যোগী কর্মীদের জন্য ঠিক।
( ) আমি জেদী হলে ঈশ্বর মার্জনা করবেন।
৭। প্রভুর জন্য খাঁটি ভালোবাসা (১)
( ) বাধ্যতার চেয়েও উত্তম।
( ) বাধ্যতাকে নিষ্প্রয়োজন করে তোলে।
( ) আমাকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তাঁর বাধ্য রাখে।
৮। সত্যিকারের খ্রীষ্টিয় স্বাধীনতার অর্থ হলো (১)
( ) সব ক্ষেত্রে আমার পছন্দমত করার অধিকার।
( ) ঈশ্বরকে অমান্য করার অধিকার।
( ) অবাধ্যতা এবং শয়তানের দাসত্ব থেকে মুক্তি।
৯। যখন কোনো সত্য স্পষ্ট হয় কিন্তু বুঝি না কেন ঈশ্বর তা মানতে বাধ্য করেন, তখন আমার (১) (1)
( ) কারণ বোধগম্য হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।
( ) ঐ সত্যটিকে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
( ) তা গ্রহণ করে ঈশ্বরের বাধ্য হওয়া উচিত।
১০। সকল অবাধ্যতার জন্য আসলে দায়ী কে? (১)
( ) দেশের সরকার।
( ) আমার পিতামাতা, যাঁরা আমায় ভুল শিখিয়েছেন।
( ) দিয়াবল।
১১। কেন বাধ্যতা আবশ্যক? (১)
( ) কারণ ঈশ্বর আমার চেয়ে বড় এবং ভয়ঙ্কর।
( ) তাঁকে ক্রোধান্বিত করতে চাই না।
( ) কারণ আমি ঈশ্বরকে ভালবাসি এবং খ্রীষ্টীয় স্বভাব ধারণের জন্য তাঁর নিয়মাবলী পালন করতে চাই।
১২। ঈশ্বর কেন এখনই অবাধ্যদের বিনাশ করছেন না? (১) (1)
( ) এটা করতে তিনি ভয় পাচ্ছেন।
( ) দুষ্টতার বৃদ্ধি দেখে তিনি আনন্দ নিচ্ছেন।
( ) সকলে যেন তাঁর প্রেম ও ন্যায়বিচার বুঝতে পারে, সে জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন।
১৩। যীশুকে গ্রহণ করে যারা তাঁর অনুসারী হয়, তাদের তিনি কেবল নতুন জন্মই দেন না, কিন্তু তাদের নিরাপদে তাঁর রাজ্যে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত তাদের জীবনে অলৌকিক কাজ করতেই থাকেন। এ কথা জেনে আপনি কি আনন্দিত?
( ) হ্যাঁ
( ) না।



