Lesson 11

ভাল? বস্তুত ঈশ্বর কি দিয়াবলকে বেতন দিয়ে নরকের মুখ্য অধিকর্তা হিসেবে রেখেছেন, যেন সে পাপীদের শাস্তির হিসাবরক্ষণ করতে পারে? প্রায় বিশ্বব্যাপী মানুষের মনে নরক সম্বন্ধে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ধারণা আছে, আর স্বয়ং আপনাকে জানতে হবে বাইবেল এ বিষয়ে কী বলে। নির্বোধ হবেন না—কারণ নরক সম্বন্ধে আপনার ধারণা ঈশ্বর সমন্ধে আপনার ধারণাকেও প্রভাবিত করে! কিছুটা সময় নিয়ে আপনি সেই বিস্ময়কর তথ্যগুলো জানুন, যা আজ আপনার জানা খুব প্রয়োজন!

1. How many lost souls are being punished in hell today?

1. বর্তমানে নরকে কতজন হারানো আত্মা শাস্তি পাচ্ছে?

“প্রভু ভক্তদিগকে পরীক্ষা হইতে উদ্ধার করিতে, এবং অধার্মিকদিগকে দণ্ডাধীনে বিচারদিনের জন্য রাখিতে জানেন” (২ পিতর ২:৯)।

উত্তর: আজ নরকে একজন আত্মাও নেই। বাইবেল বলে যে, ঈশ্বর তাদের বিচার দিনের জন্য ও প্রাপ্য দণ্ডের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন

2. When will the lost be cast into hellfire?2. ভ্রান্ত ও অধার্ম্মিকগণ কখন অগ্নিহৃদে নিক্ষিপ্ত হবে?

“তেমনি যুগান্তে হইবে মনুষ্যপুত্র আপন দূতগণকে প্রেরণ করিবেন; তাঁহারা তাঁহার রাজ্য হইতে সমস্ত বিঘ্নজনক বিষয় ও অধর্মাচারীদিগকে সংগ্রহ করিবেন, এবং তাহাদিগকে অগ্নিকুণ্ডে ফেলিয়া দিবেন” (মথি ১৩:৪০—৪২)। “আমি যে বাক্য বলিয়াছি, তাহাই শেষ দিনে তাহার বিচার করিবে” (যোহন ১২:৪৮)।

উত্তর: পৃথিবীর অন্তিমকালে শেষ বিচারের সময়ে দুষ্টগণ নরকের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হবে—তাদের মৃত্যুতে নয়। যতদিন পর্য্ন্ত পৃথিবীর অন্তিমকালে আদালতে তার বিচার সমাপ্ত না হয়, ততদিন ঈশ্বর একজনকেও অগ্নিকুণ্ডে ফেলে শাস্তি দিবেন না। এটা কি ভাবার বিষয় নয় যে ঈশ্বর ৫,০০০ বছর পূর্বে মৃত এক ঘাতককে অন্য একজন ঘাতকের চেয়ে ৫,০০০ বছর বেশি শাস্তি দিবেন যার আজই মৃত্যু হয় এবং যার একই পাপের জন্য একই সাজা পাওয়া উচিত? (আদিপুস্তক ১৮:২৫ পদ দেখুন।)

3. যেসব পরিত্রাণ অপ্রাপ্তগণের ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে, তারা কোথায় আছে?

“এমন সময় আসিতেছে, যখন কবরস্থ সকলে তাঁহার রব শুনিবে, এবং যাহারা সৎকার্য করিয়াছে, তাহারা জীবনের পুনরুত্থানের জন্য, ও যাহারা অসৎকার্য করিয়াছে, তাহারা বিচারের পুনরুত্থানের জন্য বাহির হইয়া আসিবে” (যোহন ৫:২৮, ২৯)। “বিনাশের দিন পর্যন্ত দুর্জন রক্ষিত হয়? ... আর সে কবরে নীত হইবে, লোকে তাহার কবর-স্থান চৌকি দিব” (ইয়োব ২১:৩০, ৩২)।

উত্তর: বাইবেল এই বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে বলেছে। যারা মারা গেছেন, বিশ্বাসী এবং অবিশ্বাসী উভয়ই, তারা খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমন পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকবে। সেই সময়ে, তাদের পুনরুত্থিত করা হবে এবং তাদের কাজ অনুসারে বিচার করা হবে। (মৃত্যুর সময় আসলে কী ঘটে সে সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য অধ্যয়ন নির্দেশিকা ১০ দেখুন।)

4. পাপের শেষ পরিণাম কী?

“পাপের বেতন মৃত্যু; কিন্তু ঈশ্বরের অনুগ্রহ-দান আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টেতে অনন্ত জীবন”
(রোমীয় ৬:২৩)। “পাপ পরিপক্ব হইয়া মৃত্যুকে জন্ম দেয়” (যাকোব ১:১৫)। “ঈশ্বর ... আপনার এক জাত পুত্রকে দান করিলেন, যেন, যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়” (যোহন ৩:১৬)।

Jesus died to save us from our sins. Those who do not accept His gift of salvation will receive death.

উত্তর: পাপের বেতন (বা পরিণাম) হলো মৃত্যু, নরক যন্ত্রণা ভোগ করে আজীবন বেঁচে থাকা নয়। মন্দগণ, অবিশ্বাসীগণ ও অধার্ম্মিকদের “বিনাশ,” কিংবা “মৃত্যু” হয়, কিন্তু ধার্ম্মিকগণ “অনন্ত জীবন” লাভ করেন।

5. What will happen to the wicked in hellfire?5.নরকের আগুনে অবিশ্বাসী এবং দুষ্টগণের কী অবস্থা হবে?

“যাহারা ভীরু, বা অবিশ্বাসী, বা ঘৃণার্হ, বা নরঘাতক, বা বেশ্যাগামী, বা মায়াবী, বা প্রতিমাপূজক, তাহাদের এবং সমস্ত মিথ্যাবাদীর অংশ অগ্নি ও গন্ধকে প্রজ্বলিত হ্রদে হইবে; ইহাই দ্বিতীয় মৃত্যু" (প্রকাশিত বাক্য ২১:৮)।

উত্তর: দুষ্টগণ অগ্নি প্রজ্জ্বলিত হৃদে নিক্ষিপ্ত হবে, যেখানে তাদের দ্বিতীয়বার মৃত্যু হবে। যদি তারা অনন্ত কাল নরক যন্ত্রণা ভোগ করে বেঁচে থাকে, তবে তারা তো অমরত্ব পেল। কিন্তু তা অসম্ভব কারণ বাইবেলানুসারে ঈশ্বরই “অমরতার একমাত্র অধিকারী” (১ তীমথি ৬:১৬)। যখন এদোন বাগান থেকে আদম-হবাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো, জীবন বৃক্ষের পথ রক্ষা করার জন্য একজন স্বর্গদূতকে রাখা হলো
যেন পাপীরা ঐ ফল না খায়, পাছে তারা “অনন্তজীবী হয়” (আদিপুস্তক ৩:২২-২৪)। যে শিক্ষা বলে যে, পাপীরা নরকে অমর হয়ে থাকে সেটির উত্পত্তি শয়তান থেকে হয়েছে এবং তা সম্পূর্ণ অসত্য। যখন এ পৃথিবীতে পাপ প্রবেশ করে তখন ঈশ্বর জীবন বৃক্ষকে রক্ষা করে তা হওয়া রোধ করে দিয়েছেন।

বাইবেল বলে যে দুষ্টদের নিশ্চিহ্ন করা হবে।

দুষ্টরা ... “মৃত্যু” ভোগ করবে রোমীয় ৬:২৩
... “বিনাশ” [ধ্বংস] প্রাপ্ত হবে ইয়োব ২১:৩০
... “বিনষ্ট” হবে গীতসংহিতা ৩৭:২০
তাদেরকে “পোড়াইয়া” দিবে মালাখি ৪:১
অধর্মাচারিগণ “বিনষ্ট” হবে গীতসংহিতা ৩৭:৩৮
... “অন্তর্হিত” হবে গীতসংহিতা ৩৭:২০
... “উছিন্ন” হবে গীতসংহিতা ৩৭:৯
তাহাকে “হনন” করা হবে গীতসংহিতা ৬২:৩
ঈশ্বর তাদের “সংহার” করবেন গীতসংহিতা ১৪৫:২০
অগ্নি তাদের “ভক্ষণ” করবে গীতসংহিতা ২১:৯

 

লক্ষ্য করুন, সবগুলো উদ্ধৃতি স্পষ্ট করে বলে যে দুষ্টদের মৃত্যু হয় এবং তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। তারা অনন্ত কাল যন্ত্রণার মধ্যে জীবন-যাপন করে না।

6. When and how will hellfire be kindled?

6. নরকের আগুন কখন ও কীভাবে জ্বালানো হবে?

“তেমনি যুগান্তে হইবে। মনুষ্যপুত্র আপন দূতগণকে প্রেরণ করিবেন; তাঁহারা ... তাহাদিগকে অগ্নিকুণ্ডে ফেলিয়া দিবেন” (মথি ১৩:৪০—৪২)। “তাহারা পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল হইতে অগ্রসর হইয়া পবিত্রগণের শিবির এবং প্রিয় নগরটি ঘেরিল; তখন “স্বর্গ হইতে অগ্নি পড়িয়া তাহাদিগকে গ্রাস করিল” (প্রকাশিত বাক্য ২০:৯)। “পৃথিবীতে ধার্মিক প্রতিফল পায়। তবে দুর্জন ও পাপী আরও কত না পাইবে” (হিতোপদেশ ১১:৩১)।
উত্তর: বাইবেল বলে যে ঈশ্বর নরকের আগুন জ্বালাবেন। পবিত্র নগরী নূতন যিরূশালেম স্বর্গ থেকে নেমে আসার পর দুষ্টরা ঐ পবিত্র নগর দখলের চেষ্টা করবে (প্রকাশিত বাক্য ২১:২)। তখন ঈশ্বর স্বর্গ থেকে
পৃথিবীতে অগ্নি বর্ষাবেন, আর ঐ অগ্নি দুষ্টদের গ্রাস করবে। এই আগুনই হলো বাইবেলে বর্ণিত নরকের
আগুন।

7. How big and how hot will hellfire be?7. নরকের অগ্নিকুণ্ড কত বৃহৎ এবং কত উত্তপ্ত হবে?

“প্রভুর দিন চোরের ন্যায় আসিবে; তখন আকাশমণ্ডল হূহূ শব্দ করিয়া উড়িয়া যাইবে, এবং মূলবস্তু সকল পুড়িয়া গিয়া বিলীন হইবে, এবং পৃথিবী ও তাহার মধ্যবর্তী কার্য সকল পুড়িয়া যাইবে” (২ পিতর ৩:১০)।

উত্তর: অগ্নিকুণ্ড পৃথিবী যতটা বড় ততটাই বড় হবে কারণ সম্পূর্ণ পৃথিবী জুড়েই আগুন লাগবে। আগুন এতটাই উত্তপ্ত হবে যে, পৃথিবী গলে যাবে এবং “তাহার মধ্যবর্তী কার্য সকল” পুড়ে যাবে। বায়ুমণ্ডলীয় আকাশ বিস্ফোরিত হবে এবং “প্রবল শব্দে উড়ে যাবে।”

8. How long will the wicked suffer in the fire?

8. দুষ্টরা কতক্ষণ ঐ অগ্নিকুণ্ডে যন্ত্রণা ভোগ করবে?

“দেখ, আমি শীঘ্র আসিতেছি; এবং আমার দাতব্য পুরস্কার আমার সহবর্তী, যাহার যেমন কার্য, তাহাকে তেমন ফল দিব” (প্রকা ২২:১২)। তিনি “প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাহার ক্রিয়ানুসারে প্রতিফল দিবেন” (মথি ১৬:২৭)। “সেই দাস, যে নিজ প্রভুর ইচ্ছা জানিয়াও ... তাঁহার ইচ্ছানুযায়ী কর্ম করে নাই, সে অনেক প্রহারে প্রহারিত হইবে। কিন্তু যে না জানিয়া প্রহারের যোগ্য কর্ম করিয়াছে, সে অল্প প্রহারে প্রহারিত হইবে” (লুক ১২:৪৭, ৪৮)।

উত্তর: বাইবেল এ কথা উল্লেখ করে না যে আগুনে মৃত্যু হওয়ার আগে ঠিক কত সময় যাবত্ দুষ্টদের শাস্তি দেয়া হবে। তবে ঈশ্বর এ কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন যে, সকলে নিজ নিজ কর্ম অনুসারে শাস্তি ভোগ করবে। তার অর্থ কেউ কেউ তাদের কর্মের উপর ভিত্তি করে অন্যদের থেকে বেশি সময় ধরে শাস্তি ভোগ করবে

9. Will the fire eventually go out?

9. পরিশেষে অগ্নি কি নির্বাপিত হবে?

“দেখ, তাহারা খড়ের ন্যায় হইল; আগুন তাহাদিগকে পোড়াইয়া ফেলিল; তাহারা অগ্নিশিখার বল হইতে আপন আপন প্রাণ উদ্ধার করিতে পারিবে না; উহা উষ্ণ হইবার অঙ্গার বা সম্মুখে বসিবার আগুন নয়” (যিশাইয় ৪৭:১৪)। “আমি ‘এক নূতন আকাশ ও এক নূতন পৃথিবী’ দেখিলাম। ... আর তিনি তাহাদের সমস্ত নেত্রজল মুছাইয়া দিবেন; এবং মৃত্যু আর হইবে না; শোক বা আর্তনাদ বা ব্যথাও আর হইবে না; কারণ প্রথম বিষয় সকল লুপ্ত হইল” (প্রকাশিত বাক্য ২১:১, ৪)।

উত্তর: হ্যাঁ! বাইবেল সুনির্দিষ্টভাবে এটা শিক্ষা দেয় যে অবশেষে নরক-অগ্নি নির্ব্বাপিত হবে—এবং সেখানে কোনও “উষ্ণ হইবার অঙ্গার বা সম্মুখে বসিবার আগুন থাকিবে না” বলেও উল্লেখ করে। বাইবেল এ-ও বলে যে “প্রথম বিষয় সকল” বিলুপ্ত হয়ে যাবে। পূর্বের বিষয়গুলোর মধ্যে নরক অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, আমাদের কাছে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞা রয়েছে যে সেটিও বিলুপ্ত হবে।

10. What will be left when the fire goes out?

10. যখন অগ্নি নির্বাপিত হবে তখন কী অবশিষ্ট থাকবে?

“দেখ, সেই দিন আসিতেছে, তাহা হাপরের ন্যায় জ্বলিবে, এবং দর্পী ও দুষ্টাচারীরা সকলে খড়ের ন্যায় হইবে; আর সেই যে দিন আসিতেছে, তাহা তাহাদিগকে পোড়াইয়া দিবে ... তাহাদের মূল কি শাখা কিছুই অবশিষ্ট রাখিবে না। ... তোমরা দুষ্ট লোকদিগকে মর্দন করিবে; কেননা আমার কার্য করিবার দিনে তাহারা তোমাদের পদতলের অধঃস্থিত ভস্ম হইবে, ইহা বাহিনীগণের সদাপ্রভু কহেন” (মালাখি ৪:১, ৩)।

উত্তর: লক্ষ্য করুন বাইবেল বলে না যে দুষ্টেরা অভ্রের ন্যায় জ্বলবে, যা আজ অনেকে বিশ্বাস করে, বরং খড়ের মত, যা পুড়ে যাবে। এই কথার অর্থ হল সম্পূর্ণ ভাবে জ্বলে শেষ হয়ে যাবে। অগ্নি নির্ব্বাপিত হলে ভস্ম ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। গীতসংহিতা ৩৭:১০, ২০ পদে বাইবেল বলে “তাহারা অন্তর্হিত, ধূমের ন্যায় অন্তর্হিত হইবে” অর্থাত্ সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হবে।

11. Will the wicked enter hell in bodily form and be destroyed both soul and body?

11. দুষ্টগণ কি দৈহিক ভাবে নরকে প্রবেশ করবে, এবং তাদের আত্মা ও দেহ উভয়ই বিনাশ প্রাপ্ত হবে?

“কেননা তোমার সমস্ত শরীর নরকে যাওয়া অপেক্ষা বরং একটি অঙ্গের নাশ হওয়া তোমার পক্ষে ভাল” (মথি ৫:৩০)। “কিন্তু যিনি আত্মা ও শরীর উভয়ই নরকে বিনষ্ট করিতে পারেন, বরং তাঁহাকেই ভয় কর” (মথি ১০:২৮)। “যে প্রাণী পাপ করে, সেই মরিবে” (যিহিস্কেল ১৮:২০)।

উত্তর: হ্যাঁ। জীবিত, বাস্তব লোকেরা স্বশরীরে নরকে প্রবেশ করবে এবং দেহ ও আত্মা উভয়ই বিনাশ প্রাপ্ত হবে। ঈশ্বর কর্ত্তৃক আকাশ থেকে অগ্নি বাস্তব মানুষের উপর পড়বে ও তাদের নিশ্চিহ্ন করবে।

12. Will the devil be in charge of hellfire?

12. দিয়াবল কি নরকাগ্নির অধিকর্তা হবে?

“তাহাদের ভ্রান্তিজনক দিয়াবল “অগ্নি ও গন্ধকের” হ্রদে নিক্ষিপ্ত হইল” (প্রকাশিত বাক্য ২০:১০)। “আমি
তোমাকে দর্শনকারী সকলের সাক্ষাতে ভস্ম করিয়া ভূমিতে ফেলিয়া দিলাম। ... তুমি কোন কালে আর হইবে না (যিহিষ্কেল ২৮:১৮, ১৯)।

উত্তর: অবশ্যই নয়! দিয়াবলকে ঈশ্বর অগ্নি ও গন্ধকের হ্রদে নিক্ষিপ্ত করবেন, আর তাতে সে সম্পূর্ণ ভস্মে পরিণত হবে।

13. “নরক” শব্দটি দিয়ে বাইবেলে কি সব সময়ে শাস্তি দান বা প্রজ্জ্বলনের ক্ষেত্রকে বোঝান হয়েছে?

না! বাইবেলে “নরক” শব্দটি মোট ৫৪ বার উল্লেখিত হয়েছে, আর তার মধ্যে মাত্র ১২ বার তা দ্বারা নরকের অগ্নিকুণ্ড বোঝানো হয়েছে। “নরক” শব্দটি বিভিন্ন শব্দ থেকে অনুবাদিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি নিচে দেখানো হলো:

পুরাতন নিয়মে:

৩১ বার “শেওল” শব্দ থেকে, যার অর্থ “কবর” বা “সমাধি।”

নতুন নিয়মে:

১০ বার “হেদস” শব্দ থেকে, যার অর্থ “কবর” বা “সমাধি।”

১২ বার “গেহেন্না” থেকে, যার অর্থ “প্রজ্জ্বলনের ক্ষেত্র” বা স্থান।

১ বার “টারটুরাস” থেকে, যার অর্থ “অন্ধকারময় স্থান।”

টীকা: “গেহেনা” শব্দটি ইব্রীয় শব্দ “গী-হিন্নম” শব্দের বর্ণান্তরিত একটি শব্দ, যার অর্থ হলো “হিন্নমের উপত্যকা।” এই উপত্যকা, যা যিরূশালেমের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত, সেই জায়গা যেখানে পশুর মৃত দেহ, বর্জ্য, এবং অন্যান্য আবর্জনা ফেলা হত। এখানে সারাক্ষণ আগুন জ্বলতেই থাকতো, যেমন বর্তমানের আবর্জনা ঘাটিতে হয়ে থাকে। বাইবেল এই “গেহেনা” কিংবা “হিন্নমের উপত্যকা” শব্দ সেই আগুনের একটি প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে যা পৃথিবীর অন্তিম মুহূর্তে পাপী এবং হারিয়ে যাওয়া লোকদের বিনষ্ট করে দেবে। গেহেনার আগুন অনন্তকালীন ছিলো না। নতুবা, সেটি আজও যিরূশালেমের দক্ষিণ-পশ্চিমে জ্বলতে থাকতো। নরকের আগুনও তেমনি অনন্তকালীন হবে না।

14. নরকের অগ্নিকুণ্ডে ঈশ্বরের আসল উদ্দেশ্য কী ?

“ওহে শাপগ্রস্ত সকল, আমার নিকট হইতে দূর হও, দিয়াবলের ও তাহার দূতগণের জন্য যে অনন্ত অগ্নি প্রস্তুত করা গিয়াছে, তাহার মধ্যে যাও” (মথি ২৫:৪১)। “জীবন-পুস্তকে যে কাহারও নাম লিখিত পাওয়া গেল না, সে অগ্নিহ্রদে নিক্ষিপ্ত হইল” (প্রকাশিত বাক্য ২০:১৫)। “আর ক্ষণকাল, পরে দুষ্ট লোক আর নাই। ... সদাপ্রভুর শত্রুগণ ... অন্তর্হিত, ধূমের ন্যায় অন্তর্হিত হইবে” (গীতসংহিতা ৩৭:১০, ২০)।

উত্তর: ঈশ্বরের উদ্দেশ্য এই যে পৃথিবীকে চিরতরে নিরাপদ রাখতে নরকই দিয়াবলকে, সমস্ত পাপকে, এবং পরিত্রাণ-অপ্রাপ্তদের ধ্বংস করবে। এই গ্রহে পাপের একটু লেশ থেকে যাওয়ার অর্থ হলো এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের প্রতি চিরকালের হুমকীস্বরূপ এক প্রাণঘাতী সংক্রমণ। চিরতরে পাপকে সমূলে উত্পাটন করাই হলো ঈশ্বরের পরিকল্পনা।

অনন্ত নরক পাপকে চলমান রাখবে

যদি নরক যন্ত্রণা অনন্তকালীন হয় তবে তা পাপকে চলমান রেখে তার নির্মূলকে অসম্ভব করবে। অনন্ত যন্ত্রণার নরক ঈশ্বরের মহান পরিকল্পনার অংশ নয়। এইরকম মতবাদ আমাদের প্রেমময় ঈশ্বরের পবিত্র নামের কলঙ্ক মাত্র। শয়তান আমাদের প্রিয় ঈশ্বরকে এক নির্দয় অত্যাচারী হিসেবে দেখিয়ে খুব আনন্দ অনুভব করে।

অনন্ত নরকের উল্লেখ বাইবেলে নেই

“অনন্ত যন্ত্রণার নরকের” তত্ত্বটির উত্পত্তি বাইবেল থেকে হয় নি, কিন্তু ঐ সব বিপথে পরিচালিত লোকদের থেকে হয়েছে যারা, হয় তো অসাবধানতাবসতঃ, শয়তান দ্বারা চালিত হয়েছে। আর আমাদের মনযোগ নরকের ভয়ের দিকে আকর্ষিত হলেও, আমরা ভয় দ্বারা নয় কিন্তু ঈশ্বরের দয়ার মাধ্যমেই উদ্ধার পাই।

God will be deeply saddened when He must destroy those His Son died to save.

15. যারা পরিত্রাণ পায় নি তাদের ধ্বংস করার প্রক্রিয়া ঈশ্বরের স্বভাব বিরুদ্ধ কার্য্য নয় কি?

“প্রভু সদাপ্রভু কহেন, ‘আমার জীবনের দিব্য, দুষ্ট লোকের মরণে আমার সন্তোষ নাই; বরং দুষ্ট লোক যে আপন পথ হইতে ফিরিয়া বাঁচে, [ইহাতেই আমার সন্তোষ]। তোমরা ফির, আপন আপন কুপথ হইতে ফির; কারণ, ... তোমরা কেন মরিবে?’” (যিহিস্কেল ৩৩:১১)। “মনুষ্যপুত্র মনুষ্যদের প্রাণনাশ করিতে আইসেন নাই, কিন্তু রক্ষা করিতে আসিয়াছেন” (লুক ৯:৫৬)। “সদাপ্রভু উঠিবেন ... এইরূপে তিনি আপন কার্য, আপন অসম্ভব কার্য সিদ্ধ করিবেন; আপন ব্যাপার, আপন বিজাতীয় ব্যাপার সম্পন্ন করিবেন” (যিশাইয় ২৮:২১ পদ)।

উত্তর:হ্যাঁ—ঈশ্বরের সকল কার্য্যই ধ্বংসের পরিবর্তে মানুষকে রক্ষা করতেই করা হয়েছে। নরকাগ্নিতে দুষ্টদের ধ্বংস করার কাজটি এতটাই ঈশ্বরের স্বভাব-বিরুদ্ধ যে বাইবেল একে তাঁর “অসম্ভব কার্য” হিসেবে উল্লেখ করে। দুষ্টদের ধ্বংসে ঈশ্বরের হৃদয় দুঃখিত হয়। প্রত্যেকটি প্রাণকে বাঁচাতে তিনি কতই না যত্নবান! কিন্তু কেউ যদি তাঁর ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান করে এবং পাপে আঁকড়ে থাকে, তাহলে যেদিন ঈশ্বর এই বিশ্ব থেকে “পাপ” নামক ভয়ঙ্কর, নিষ্ঠুর সংক্রমণ ঐ অন্তিম দিনের আগুনে ধ্বংস করবেন, সেদিন সেই অনুতাপহীন পাপীকেও সেই আগুনে বিনষ্ট করা ছাড়া আর কোন বিকল্প থাকবে না।

16. What are God’s post-hell plans for the earth and His people?

16. নরকের আগুনের পরে ঈশ্বরের তাঁর লোকদের এবং এই পৃথিবীর জন্য পরিকল্পনা কী?

“তিনি একেবারে শেষ করিবেন, দ্বিতীয় বার সঙ্কট উপস্থিত হইবে না” (নহূম ১:৯)। “দেখ, আমি নূতন আকাশমণ্ডলের ও নূতন পৃথিবীর সৃষ্টি করি; এবং পূর্বে যাহা ছিল, তাহা স্মরণে থাকিবে না, আর মনে পড়িবে না”
(যিশাইয় ৬৫:১৭)। “দেখ, মনুষ্যদের সহিত ঈশ্বরের আবাস; তিনি তাহাদের সহিত বাস করিবেন, এবং তাহারা তাঁহার প্রজা হইবে; এবং ঈশ্বর আপনি তাহাদের সঙ্গে থাকিবেন, ও তাহাদের ঈশ্বর হইবেন। আর তিনি তাহাদের সমস্ত নেত্রজল মুছাইয়া দিবেন; এবং মৃত্যু আর হইবে না; শোক বা আর্তনাদ বা ব্যথাও আর হইবে না” (প্রকাশিত বাক্য ২১:৩, ৪)।

Answer

উত্তর: নরকের আগুন নিভে গেলে দুষ্টদের মৃত্যুর পর ঈশ্বর এক নতুন পৃথিবীর রচনা করবেন ও বিশ্বাসীগণের কাছে তা ফিরিয়ে দিবেন—যেখানে থাকবে ঠিক সেই সৌন্দর্য ও মহিমা যা এদোন উদ্যানে পাপ প্রবেশের পূর্বে ছিল। ব্যথা, মৃত্যু, দুঃখজনক ঘটনা, আর্তনাদ, অশ্রুজল, ব্যাধি, নিরাশা, কষ্ট, এবং সমস্ত পাপ চিরদিনের জন্য মুছে ফেলা হবে।

পাপের আর উত্থান হবে না

ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন যে আর কখনোই পাপের উদ্ভব হবে না। তাঁর সন্তানদের জীবনে থাকবে শুধু আনন্দ, সুখ, শান্তি, ও পরিপূর্ণতা। অবর্ণনীয় আনন্দঘন জীবনের অধিকারী হয়ে তারা অনেক খুশি ও রোমাঞ্চকর হবেন। নরকের সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা হবে স্বর্গ রাজ্য থেকে বঞ্চিত হওয়া। যে ব্যক্তি যে এই চমত্কার রাজ্যে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে তার জীবনের সব থেকে দুঃখজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

17. আপনি কি এই বিষয়ে জানতে পেরে কৃতজ্ঞ যে, ঈশ্বর অনন্তকাল ধরে নরকের আগুনে দুষ্টদের শাস্তি দেবেন না?

আপনার উত্তর: ___________

 


আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর


১। বাইবেল কি "অনন্ত যন্ত্রণার" কথা বলে না?

উত্তর: না—বাইবেলে “অনন্তকালীন যন্ত্রণা” বাক্যাংশটির কোন উল্লেখ নেই।

২। তবে বাইবেল কেন অবিশ্বাসীদের অনির্বাণ অগ্নিশিখায় ধ্বংস করার কথা উল্লেখ করেছে?

উত্তর: অনির্বাণ আগুন হলো সেই আগুন যা নিভান যায় না, কিন্তু যখন তা সব ভস্মে পরিণত করে তখন নিভে যায়। যিরমিয় ১৭:২৭ পদ যিরূশালেম অনির্বাণ আগুনে ধ্বংস হবার কথা বলেছে, এবং
২ বংশাবলি ৩৬:১৯—২১ পদে বাইবেল এই আগুন “যিরমিয় দ্বারা কথিত সদাপ্রভুর বাক্য সফল করণার্থে” সেই নগরকে পুড়িয়ে সেটিকে জনশূন্য করেছিলো বলে উল্লেখ করে। তবুও আমরা জানি যে এই আগুন নিভে গেছে, কেননা যিরূশালেম এখন আর জ্বলছে না।

৩। মথি ২৫:৪৬ পদে কি অবিশ্বাসীদের অনন্তকালীন দণ্ডের কথা বলা হয়নি?

উত্তর: লক্ষ্য করুন যে, শব্দটি হলো “দণ্ড।” এটি “দণ্ড দিতে থাকা” নয়। দণ্ড দিতে থাকার কথা বললে সেটি হতো ক্রমাগত, অথচ দণ্ড একটি এক কালীন ক্রিয়া। দুষ্টদের শাস্তি হলো মৃত্যু, আর এই মৃত্যু হলো অনন্ত কালীন।

৪। মথি ১০:২৮ পদের ব্যাখ্যা দিতে পারেন কি: “যাহারা শরীর বধ করে, কিন্তু আত্মা বধ করিতে পারে না, তাহাদিগকে ভয় করিও না”?

উত্তর: বাইবেলে “আত্মা” কথাটির তিন প্রকার অর্থ এবং প্রয়োগ আছে। প্রথমত: (১) একটি সজীব প্রাণী হিসেবে, আদিপুস্তক ২:৭—(২) মন বোঝাতে, গীতসংহিতা ১৩৯:১৪—এবং (৩) জীবন বোঝাতে,
১ শমূয়েল ১৮:১। এছাড়াও মথি ১০:২৮ আত্মাকে সেই অনন্ত জীবন রূপে দেখায় যা ঈশ্বর সেই সব লোকদের দেবার নিশ্চয়তা দেন যারা তা গ্রহণ করে। কেউ তা কেড়ে নিতে পারে না।

৫। মথি ২৫:৪১ পদ দুষ্টদের জন্য “অনন্ত অগ্নির” কথা বলে। সেই আগুন কি নির্বাপিত হবে?

উত্তর: হ্যাঁ। বাইবেল অনুসারে, সে আগুন নির্বাপিত হবে। আমাদের অবশ্যই বাইবেলের ব্যাখ্যাকে গ্রহণ করতে হবে। সদোম এবং ঘমোরাকে অনন্ত অগ্নি দ্বারা ধংস করা হয়েছিল (যিহুদা ১:৭), আর সেই আগুন তাদের “ভস্মীভূত” করেছে, যা ছিল তাদের প্রতি সতর্কতাস্বরূপ “যাহারা ভক্তিবিরুদ্ধ আচরণ করিবে”
(২ পিতর ২:৬)। সেই নগরগুলো আজ আর জ্বলছে না। সমস্ত কিছু পুড়িয়ে ছাই করার পর সেই আগুন নিভে গিয়েছিল। একই ভাবে সবকিছু পুড়ে ছাই করে দেওয়ার পর অনন্ত কালীন আগুন নিভে যাবে। (মালাখী ৪:৩)। আগুনের কর্মক্ষমতা অনন্ত কালীন, কিন্তু এই আগুন অনন্ত কাল জ্বলবে না।

৬। লূক ১৬:১৯—৩১ পদে উল্লিখিত লাসার ও সেই ধনী ব্যক্তির গল্পটি কি যন্ত্রণাদায়ক অনন্ত নরকের কথা ব্যক্ত করে না?

উত্তর: না! এটা একটি দৃষ্টান্ত যা যীশু একটি নির্দিষ্ট আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেছিলেন। এই গল্পের উদ্দেশ্য ৩১পদে পাই। দৃষ্টান্তগুলো আক্ষরিকভাবে নিলে হবে না—তা না হলে, আমাদের এটিও বিশ্বাস করতে হবে যে গাছ কথা বলে! (বিচারকর্তৃগণ ৯:৮—১৫।) এখানে কিছু ঘটনাবলী উল্লেখ করা হলো যেন এটা স্পষ্ট হয় যে লুক ১৬:১৯—৩১ একটি দৃষ্টান্ত।

  1. অব্রাহামের কোল বা ক্রোড় স্বর্গ নয় (ইব্রীয় ১১:৮—১০, ১৬)।
  2. নরকের লোকেরা স্বর্গবাসীদের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না (যিশাইয় ৬৫:১৭)।
  3. মৃতেরা তাদের কবরে আছেন (ইয়োব ১৭:১৩; যোহন ৫:২৮, ২৯)। ধনী ব্যক্তির চোখ, জিহ্বা, ইত্যাদি শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিল যখন আমরা জানি যে মৃত্যুতে দেহ নরকে যায়না বরং কবরে থেকে যায়, যেমন বাইবেল বলে।
  4. লোকেরা খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমনে পুরষ্কৃত হবেন, মৃত্যুতে নয় (প্রকাশিত বাক্য ২২:১২)।
  5. যাহারা পরিত্রাণ প্রাপ্ত হয় না তাদের এই বিশ্বের সমাপ্তিতে নরকে ফেলা হবে, তারা যখন মারা
    যাবে তখন নয় (মথি ১৩:৪০—৪২)।

৭। কিন্ত বাইবেল দুষ্টগণের “অনন্তকাল” যন্ত্রণা ভোগ করার কথা বলে, তাই না?

উত্তর: এই “অনন্তকাল” বা “চিরতরে” শব্দটি বাইবেলে ৫৬ বার ব্যবহার করা হয়েছে সে সমস্ত বস্তু বোঝাতে যা ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়ে গেছে। এটা সেই “লম্বা” শব্দটির ন্যায় যা মানুষ, গাছ, কিংবা বা পর্বতের ক্ষেত্রে ভিন্ন কিছু বোঝায়। যেমন যোনা ২:৬ পদে, “চিরতরে” বলতে তিন দিন তিন রাত বোঝায়। যেমন দ্বিতীয় বিবরন ২৩:৩ পদে এটা ১০ প্রজন্ম বোঝায়। মানবজাতির ক্ষেত্রে এটি সে
“যতদিন বেঁচে থাকবে” বা “মৃত্যু পর্যন্ত” বোঝায় (দেখুন ১ শমূয়েল ১:২২, ২৮; যাত্রাপুস্তক ২১:৬; গীতসংহিতা ৪৮:১৪)। সুতরাং দুষ্টগণ যতক্ষণ জীবিত থাকে ততক্ষণ বা মৃত্যু পর্যন্ত জ্বলবে। এই জ্বলন্ত কুণ্ডের শাস্তি প্রত্যেক জনের পাপের পরিমাণ অনুসারে তারতম্যে ভিন্ন হবে। কিন্ত শাস্তির শেষে আগুন নিভে যাবে। শাশ্বত যন্ত্রণার এই বাইবেল বিরুদ্ধ ভ্রান্ত শিক্ষাটি মানুষকে শয়তানের অন্য যে কোনো আবিস্কারের চেয়ে বেশী চালিত করেছে নাস্তিকতার দিকে। এটি একজন করুনাময় স্বর্গীয় পিতার প্রেমময় চরিত্রের উপরে অপবাদ এনেছে এবং খ্রীষ্টীয় নীতির অবর্ণনীয় ক্ষতি সাধন করেছে।

সারসংক্ষেপ

দয়া করে এই প্রশ্নের সমাধান করার আগে পাঠটি পড়ে নিন। সমস্ত উত্তর আপনি এই সহায়িকা বইটিতে পেয়ে যাবেন।। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দিন। বন্ধনীর সংখ্যাগুলো (১) সঠিক উত্তরের সংখ্যা নির্দেশ করে।

১। পাপীগণ নরকাগ্নিতে নিক্ষিপ্ত
হবে (১)

( ) যখন তাদের মৃত্যু ঘটবে।

( ) পৃথিবীর সমাপ্তিতে।

( ) দিয়াবলের দ্বারা।

২। অগ্নিকুণ্ডে পাপীদের প্রতিদান হবে (১)

( )মৃত্যু।

( ) অনন্ত যন্ত্রণাভোগ।

( ) অধিকর্তা শয়তান কর্তৃক নির্যাতন।

৩। নরকাগ্নি (১)

( ) ঈশ্বর কর্তৃক সমগ্র পৃথিবীর প্রজ্জ্বলন।

( ) এখন জ্বলছে।

( ) অনন্তকালব্যাপী জ্বলতেই থাকবে।

৪। মৃত পাপীরা এখন (১)

( ) প্রায়শ্চিত্তমূলক স্থানে আছে।

( ) নরকের অগ্নিতে আছে।

( ) তাদের কবরে আছে।

৫। নরকে বর্তমান জনসংখ্যা হলো (১)

( ) শূন্য।

( ) লক্ষ লক্ষ।

( ) নির্ধারণ করা যাবে না।

৬। নরক অগ্নি (১)

( ) দুষ্টদের কেবল মাত্র দেহকে ধ্বংস করে।

( ) অনন্তকালব্যাপী দুষ্টদের আত্মাকে যন্ত্রণা দেয়।

( ) অবিশ্বাসীদের দেহ ও মন—উভয়কে—ধ্বংস করে ভস্মে পরিণত করে, পরে নিভে যায়।

৭। শাশ্বত নরক যন্ত্রণা হলো (১)

( ) ঈশ্বরের মহা পরিকল্পনার একটি অংশ।

( ) দিয়াবলের মতবাদ ও ঈশ্বরের পবিত্র, প্রেমময় নামের উপর কলঙ্ক, যিনি লোকদের কষ্ট দেখতে ঘৃণা করেন।

( ) অনন্তকালব্যাপী শয়তানকে দেওয়া একটি কাজের ভার।

৮। বাইবেল অনুসারে নরক (১)

( ) সর্বদা প্রজ্জ্বলিত একটি স্থান।

( ) বহু অর্থবিশিষ্ট একটি শব্দ, যার একটি হচ্ছে “কবর।”

( ) শয়তানের ভূগর্ভস্থ যন্ত্রণাদায়ী স্থানকে বোঝায়।

৯। নরকের উদ্দেশ্য হলো (১)

( ) ঈশ্বরের শত্রুদের প্রতিদানস্বরূপ যন্ত্রণা দান।

( ) ভয় দেখিয়ে মানুষকে সুপথে আনা।

( ) বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণরূপে পাপ ও দুষ্টতা দূর করা এবং বিশ্বাসীদের অনন্তকালের জন্য নিরাপদ রাখা।

১০। নরকে মানুষকে ধ্বংস করা (১)

( ) মহান স্বর্গীয় পিতার আনন্দের বিষয় হবে।

( ) ঈশ্বরের “স্বভাব বিরুদ্ধ” কাজ, কারণ এটি বিশ্বাসীদের রক্ষার প্রেমময় পরিকল্পনার বিপরীতধর্মী।

( ) ঈশ্বরের পরিকল্পনার সঙ্গে শয়তানের সহায়ক কার্য্য।

১১। নরক অগ্নি নির্ব্বাপিত হলে (১)

( ) ঈশ্বর শয়তানকে মহাশূন্যে নিক্ষেপ করবেন।

( ) ঈশ্বর একটি নিখুঁত নতুন পৃথিবী নির্মাণ করে সেটি বিশ্বাসীদের দান করবেন যেখানে পুনরায় আর কোনও দিন পাপের উদয় হবে না।

( ) ধার্মিকেরা পুনরায় পাপের উদ্ভবের কথা ভেবে ভয়-ভীতিতে জীবন-যাপন করবে।

১২। লাসার ও ধনী ব্যক্তির গল্পটি (১)

( ) একটি দৃষ্টান্ত যা আক্ষরিকভাবে নেওয়া উচিত না।

( ) চিরন্তন যন্ত্রণা ভোগের বাইবেলদত্ত প্রমাণ।

( ) প্রমাণ করে যে নরকবাসী আত্মারা স্বর্গবাসী আত্মাদের সঙ্গে কথোপকথন করতে পারে।

১৩। বাইবেলের চিরদিন শব্দটির ব্যবহার একজন ব্যক্তির জীবনের প্রসঙ্গে (১)

( ) “অন্তবিহীন সময়” অর্থে বোঝায়।

( ) রহস্যময়, সহজে বেধগম্য নয়।

( ) সাধারণত “মানুষের জীবনকালকে” বা “মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত” বোঝায়।

১৪। আমি একথাটি জেনে কৃতজ্ঞ যে, ঈশ্বর দুষ্টদের নরকে অনন্তকালব্যাপী যন্ত্রণার শাস্তি দেন না।

( )হ্যাঁ।

( ) না।