Lesson 27
যখন একজন স্কাইডাইভার অর্থাৎ যে উড়োজাহাজ থেকে প্যারাসুটে আকাশ থেকে ভূমিতে নামে এমন ব্যক্তি) প্লেনের দরজা দিয়ে নিচে নামে। তখন আর তাঁর পিছনে তাকাবার কোণ অবকাশ থাকে না। প্রচন্ড গতিতে নীচে নামতে থাকে কোন প্রকারে সে যদি তাঁর প্যারাসুটের বেল্টটি ঠিক সময়মত খুলতে ভুলে যায়, তবে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু নিঃশ্চিত। কিন্তু এর চেয়েও মর্মান্তিক হতে পারে যদি ঈশ্বরের সঙ্গে আপনার সম্পর্কের ইতি ঘটে, সেক্ষেত্রে পূর্ব্বস্থায় ফিরে আসার অবকাশ নেই। লক্ষ লক্ষ মানুষের এবিষয়ে ধারনা অস্পষ্ট। আপনিও কি তাঁদের মধ্যে? কোন্ ধরনের ভয়ঙ্কর পাপের দরুন মানুষের ভাগ্য এমন হয়? কেন্ ঈশ্বর ক্ষমা করেন না? কিন্তু এক্ষেত্রেও ঈশ্বর আশার আলো দেখিয়েছেন। আসুন দেখি অধ্যায়ন পুস্তিকা এ বিষয়ে কি বলে।

1. কোন্ পাপ, ঈশ্বর ক্ষমা করতে পারেন না?
“এই কারন আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, মনুষ্যের সকল পাপ ও নিন্দার ক্ষমা হইবে, কিন্তু পবিত্র আত্মার নিন্দার ক্ষমা হইবে না” (মথি ১২:৩১)।
উত্তর: এমন পাপ, যে ঈশ্বর ক্ষমা করতে পারে না তা হলো পবিত্র আত্মার নিন্দার ন্যায় পাপের ক্ষমা হবে না। কিন্তু ঐ পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধাচারন কি? মানুষের মনে এ বিষয়ে বিভিন্ন মত আছে। অনেকে মনে করেন, হত্যা, কেউ মনে করে পবিত্র আত্মাকে শাপ রূপান্তর করা, কেউ মনে করে আত্মহত্যা করা, কেউ মনে করে গর্ভাবস্থায় শিশু হত্যা, কেউ মনে করে খ্রীষ্টকে অস্বীকার করা, কেউ মনে করে জঘন্য অপরাধ, আবার অনেকে মনে করে ভ্রান্ত ঈশ্বরের ভজনা করা ইত্যাদি কার্য্যের দরুন হয়তো পবিত্র-আত্মার বিরুদ্ধে পাপাচার হয়। পরবর্ত্তী প্রশ্ন এই জটিল বিষয়টিকে বুঝতে সাহায্য করবে।

2. পাপ ও ধর্ম্মনিন্দার সম্বন্ধে বাইবেল কি জ্ঞাত করে?
“মনুষ্যদের সকল পাপ ও নিন্দার ক্ষমা হইবে” (মথি ১২:৩১)।
జవాబు বাইবেল উল্লেখ করে যে সব পাপ ও নিন্দার ক্ষমা মানুষ পাবে। এইজন্য প্রথম প্রশ্নে যেগুলি বলা হয়েছে সেই পাপ এর মধ্য নেই যা ঈশ্বর ক্ষমা করতে পারে না। তাহলে এটি স্পষ্ট যে সবধরনের পাপের ক্ষমা হবে, এমন কোন পাপ নেই যার ক্ষমা হবে না। পরস্পর বিরোধী হলেও কিন্তু নিচের দেওয়া এটি সত্য
ক। যে কোন প্রকারের পাপ ও ধর্ম নিন্দার ক্ষমা হবে।
খ। ধর্ম্মনিন্দা ও পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে পাপের ক্ষমা হবে না।
যীশু স্পষ্টভাবে এই দুটি বিবৃতি দিয়েছেন:যীশু (মথি ১২:৩১) পদে, এইজন্য এখানে কোন ভ্রান্তির স্থান নেই। আমাদের পবিত্র আত্মাকে অনুসন্ধান করতে হবে।
3. পবিত্র আত্মার কাজ কি?
“আর তিনি আসিয়া, পাপের সম্বন্ধে, ধার্ম্মিকতার সম্বন্ধে ও বিচারের সম্বন্ধে জগৎকে দোষী করিবেন। পরন্তু তিনি সত্যের আত্মা, যখন আসিবেন তখন পথ দেখাইয়া তোমাদিগকে সমস্ত সত্যে লইয়া যাইবেন; কারন
তিনি আপনা হইতে কিছু বলিবেন না, কিন্তু যাহা যাহা শুনেন, তাহাই বলিবেন, এবং আগামী ঘটনাও তোমাদিগকে জানাইবেন” (যোহন ১৬:৮, ১৩)।
উত্তর: পবিত্র আত্মা পাপের সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞাত করে ও সত্য পথে পরিচালিত করে। পবিত্র আত্মার মাধ্যমে ঈশ্বর বাক্যালাপ করেন। পবিত্র আত্মার দ্বারাই মানুষের পাপের অনুভূতি জন্মায়, এবং পবিত্র আত্মা দ্বারাই মানুষের পরিবর্তন ঘটে। পবিত্র আত্মা বিনা কেউ পরিবর্তিত হয় না।

4. যখন পবিত্র আত্মা পাপ সম্বন্ধে আমাদের অভিযুক্ত করে, তখন মার্জ্জনা লাভের জন্য আমাদের কি করা উচিৎ?
“আমরা যদি আপন আপন পাপ স্বীকার করি, তিনি বিশ্বস্ত ও ধার্ম্মিক, সুতরাং আমাদের পাপ সকল মোচন করিবেন, এবং আমাদিগকে সমস্ত অধার্ম্মিকতা হইতে শুচি করবেন! (১ যোহন ১:৯ পদ)।
উত্তর: পবিত্র আত্মা দ্বারা চালিত হলে আমাদের পাপের জন্য মার্জ্জনা চাইতে হবে, যখন আমরা পাপ স্বীকার করি, তখন ঈশ্বর যে আমাদের ক্ষমা করেন তাই না, আমাদের সর্বপ্রকার অপবিত্রতা থেকে শুচি ও পবিত্র করেন। ঈশ্বর আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে, ও আপনার সমস্ত ধরনের পাপকে ক্ষমা করার জন্য প্রস্তুুত আছে (গীতসংহিতা ৮৬:৫)। কিন্তু তখনই করবেন যখন আমরা পাপের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করে অনুতপ্ত হই।
5. পবিত্র আত্মা দ্বারা পাপের জন্য অভিযুক্ত হবার পরও যদি আমরা পাপ স্বীকার না করি তবে তার ফল কি হবে?
“যে আপন অধর্ম্ম সকল ঢাকে, সে কৃতকার্য্য হইবে না, কিন্তু যে তাহা স্বীকার করিয়া ত্যাগ করে
সে করুনা পাইবে” (হিতোপদেশ ২৮:১৩)।
উত্তর: যদি আমরা পাপ স্বীকার না করি, তবে ঈশ্বর আমাদের ক্ষমা করেন না, সেইজন্য যতক্ষন পর্য্যন্ত আমরা পাপ স্বীকার না করি, ততক্ষন পর্য্যন্ত তা অমার্জ্জনীয় হিসাবেই গনিত হয়। কেননা ক্ষমা সবসময় স্বীকার করার পরেই হয়। এটি কখনো আগে আসে না।
পবিত্র আত্মার প্রতিরোধ করা ভয়ঙ্কর বিপদ:
ভয়ংকর বিপদজনক হল পবিত্র আত্মার প্রতিরোধ করা, কারণ ইহা আমাদের সহজে সকল প্রকার পবিত্র আত্মার বিরোধী করে তোলে। আর সেই পাপ ঈশ্বর ক্ষমা করেন না, এটা না ফিরে আসার দিকে নির্দেশ করে। যেহেতু কেবলমাত্র পবিত্র আত্মাই আমাদের চেতনা দিয়ে ফিরিয়ে আনেন, যদি আমরা সম্পূর্ণ বিরোধ করি, যদি অনবরত আমরা অস্বীকার করি তবে আর কোনো আশা থাকে না। এই বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ন যে বাইবেল অনেক দৃষ্টান্ত দ্বারা প্রকাশ করেছেন। পুস্তিকাটি অধ্যায়নকালীন দৃষ্টান্ত গুলি লক্ষ্য করুন।
6. পবিত্র আত্মার দ্বারা যখন আমরা পাপের বিষয়ে অভিযুক্ত হই বা আমাদের সম্মুখে নতুন সত্য
উদ্ঘাটিত হয়, তখন আমাদের কর্তব্য কি?
উত্তর: বাইবেল বলে:
ক। আমি সত্বর হইলাম, বিলম্ব করিলাম না, তোমার আজ্ঞা সকল পালন করিবার জন্য।” (গীতসংহিতা ১১৯:৬০)।
খ। “দেখ, এখন সুপ্রসন্নতার সময়; দেখ এখন পরিত্রানের দিবস।” (২ করিন্থীয় ৬:২)।
গ। “আর এখন কেন বিলম্ব করিতেছ? উঠ, তাঁহার নামে ডাকিয়া বাপ্তাইজিত হও, তোমার পাপ ধুইয়া ফেল।” (প্রেরিত ২২:১৬)।
বাইবেল ধারাবাহিকভাবে জানায় যখন আমরা পাপের দোষে দুষ্ট হই, তত্ক্ষণাত্ই আমাদের সেই পাপ স্বীকার করা উচিত্, আর যখন নতুন সত্য জানতে পারি তখন কোন প্রকার বিলম্ব না করে আমাদের তা গ্রহণ করা উচিত্।
7. কোন্ স্বতঃস্ফূর্ত সতর্কতা ঈশ্বর জানিয়েছেন তাঁর পবিত্র আত্মার ওকালতি সম্বন্ধে?
“তাহাতে সদাপ্রভু কহিলেন, আমার আত্মা মনুষ্যদের মধ্যে নিত্য অধিষ্ঠান করিবেন না” (আদিপুস্তক ৬:৩)।
উত্তর: ঈশ্বর স্বতঃস্ফূর্তভাবে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে অনির্দিষ্ট কাল ধরে পবিত্র আত্মা একজন মানুষের পাপ সম্বন্ধে ও ঈশ্বরের প্রতি বাধ্যতা প্রসঙ্গে ওকালতি করে না।

8. কোন্ পর্যায়ে পবিত্র আত্মা একজন মানুষের ক্ষেত্রে ওকালতি করা বন্ধ করে দেয়?
“এই জন্য আমি তাহাদিগকে দৃষ্টান্ত দ্বারা কথা বলিতেছি, কারন তাহারা দেখিয়াও দেখে না, শুনিয়াও শুনে না, এবং বুঝেও না” (মথি ১৩:১৩)।
উত্তর: পবিত্র আত্মা কথা বলা বন্ধ করে তখনই যখন সেই ব্যক্তি বধিরতার জ্ঞান করে। এটাকে বাইবেল বলে শুনেও শোনে না। দৈহিক ভাবে বধির যে তাঁর ঠিক যেন তার কক্ষে এলার্ম লাগানোর মত, সে শুনবে না। কিন্তু যে বধির নয় সে যদি শব্দ শুনেও আলার্ম বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে, তবে তাঁকে জাগাবে কে? মানুষের জীবনে পবিত্র আত্মার আহ্বানে যাঁরা সময় মত সাড়া না দেবে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঐ আহ্বান কিন্তু অনির্দিষ্ট কাল পর্য্যন্ত থাকবে না একসময় তা রুদ্ধ হয়ে যাবে। সেই জীবনে ঐ মানুষের ঐ পাপের আর ক্ষমা হবে না।
কখনোই পবিত্র আত্মাকে রুদ্ধ কোরো না:
পবিত্র আত্মার ক্ষেত্রেও একই যদি আমরা তাকে রোধ করে রাখি। পবিত্র আত্মার আহ্বানে যদি আমরা বধির হয়ে থাকি, তবে একদিন আসবে যখন পবিত্র আত্মা আমাদের জীবনে ক্রিয়াশীল থাকবে না ও আমাদের উদ্দেশ্যে ওকালতিও করবে না, কারন বিনামূল্যে ঈশ্বর দত্ত সুযোগ আমরা নষ্ট করেছি তাই।

9. পবিত্র আত্মা দ্বারা আমরা আলোকিত (যোহন ১:৯) হই ও পাপ সম্বন্ধে জ্ঞাত হই (যোহন ১৬:৮)। পবিত্র আত্মা দ্বারা এ সকল লাভ করে আমাদের অবশ্য কর্তব্য কি?
“যীশু তাহাদিগকে কহিলেন, আর অল্পকাল মাত্র জ্যোতি তোমাদের মধ্যে আছে, যাবৎ তোমাদের মধ্যে জ্যোতি আছে, যাতায়াত কর যেন অন্ধকার তোমাদের মধ্যে আসিয়া না পড়ে আর যে ব্যক্তি অন্ধকারে যাতায়াত করে, সে কোথায় যায় জানে না।” (যোহন ১২:৩৫) “ধার্ম্মিকদের পথ প্রভাতীয় জ্যোতির ন্যায়, যাহা মধ্যাহ্ন পর্য্যন্ত উত্তরোত্তর দেদীপ্যমাণ, দুষ্টদের পথ অন্ধকারের ন্যায়, কিসে উছোট খাইবে জানে না” (হিতোপদেশ ৪:১৮, ১৯)।
উত্তর: বাইবেল বিধি অনুসারে যখন পবিত্র আত্মা নতুন আলোক দেখায় অথবা পাপ সম্বন্ধে সচেতন করে, তৎক্ষণাৎ-নিঃশর্তভাবে আমাদের ঈশ্বরের প্রতি বাধ্যতা প্রদর্শন করে পাপস্বীকার করে পরিবর্তিত হতে সচেষ্ট হতে হবে ও ঈশ্বর দত্ত পথে অগ্রসর হতে হবে। যদি তাঁর আহ্বানে সাড়া দিই এবং তা অনুসরণ করি তবে, ঈশ্বর আরও নতুন আলো দেবে। আর যদি বাধ্য না হই তবে যা জ্যোতি আছে তাও পথভ্রষ্ট হয়ে ঈশ্বরের আলোক বর্জিত হয়ে চির অন্ধকারে হারিয়ে যাব। অন্ধকার ও জ্যোতির আজ্ঞা লঙ্ঘন সর্বদাই মনে হয় সেটা হল পবিত্র আত্মাকে অস্বীকার করার পরিণাম, আর এটি আমাদের আশাকে বঞ্চিত করে।

10. যে কোণ পাপ কি পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে পাপ?

উত্তর: হ্যাঁ যদি আমরা অবিচলভাবে পাপস্বীকার করে ও অনুতপ্ত হতে অস্বীকার করি। তাহলে ইচ্ছাকৃতভাবে আমরা পবিত্র আত্মার আহ্বানকেই প্রত্যাখ্যান করি, ও তাঁর কথা আমরা শুনতে পাই না। ফল স্বরূপ আমাদের পাপ মুক্ত হবার পথ আর খোলা থাকে না, ধ্বংস অনিবার্য হয়। দেখুন কিছু বাইবেল দৃষ্টান্ত:
ক। যিহূদার অমার্জ্জনীয় অপরাধ ছিল তাঁর লোভ (যোহন ১২:৬)। কেন? কারন ঈশ্বর তাকে ক্ষমা করতে পারেনি? না! এই কারণে অমার্জ্জনীয় যে যিহূদা পবিত্র আত্মার কথা শোনেনি এবং নিজের লোভজনিত পাপের পথ পরিত্যাগ করেনি। এভাবেই সে ধীরে ধীরে পবিত্র আত্মার আহ্বানে বধির হয়ে ছিল।
খ। লুসিফারের অমার্জ্জনীয় পাপ ছিল তাঁর দম্ভ ও আত্মমহিমা (যিশাইয় ১৪:১২-১৪) যেহেতু ঈশ্বর ঐ সকল পাপ ক্ষমা করতে পারতেন, যদি পবিত্র আত্মার আহ্বানে প্রত্যাখ্যান না করে সে তাতে সাড়া দিত।
গ। ফরীসিদের অমার্জ্জনীয় অপরাধ ছিল, যীশুকে মশীহ্ বা ত্রাণকর্ত্তা হিসাবে গ্রহণ করতে প্রত্যাখ্যান করা।
(মার্ক ৩:২২-৩০)। জীবন্ত ঈশ্বরের একমাত্র পুত্রই মশীহ, আর তিনি স্বয়ং যীশু একথা বারংবার তাঁদের জানানো সত্ত্বেও তাঁদের একগুঁয়েমীর জন্য তাঁরা যীশুকে মশীহা হিসাবে গ্রহণ করেনি, এভাবেই তাঁরা পবিত্র আত্মার আহ্বানে বধির হতে থাকে ও যীশুকে অস্বীকার করতে থাকে। পরে একদিন ফরীসিরা ভিড় প্রযুক্ত লোকেদের যীশুর অলৌকিক ক্ষমতাকে দিয়াবলের ক্ষমতা বলে ও পবিত্র আত্মার অবমাননা করে যদিও যীশু তাঁর পবিত্র আত্মা দ্বারা চালিত হবার প্রমান দিয়েছিলেন। এর ফলে ফরীসিদের আর ফেরার পথ অবশিষ্ট ছিল না, কারন তাঁরা পবিত্র আত্মার অমর্যাদা করেছিল। ঈশ্বর হয়তো হৃষ্টচিত্তে তাঁদের মার্জ্জনা করতেন, কিন্তু শেষ পর্য্যন্ত তাঁরা পবিত্র আত্মার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিল। বস্তুত এই ধারাবাহিক প্রত্যাখ্যান তাঁদের পবিত্র আত্মার রব শুনতে ব্যর্থ করেছিল।
আমরা পরিনাম নির্ধারণ করতে পারি না:
যখন পবিত্র আত্মা আমাদের নিবেদন করে তখন আমরা আহ্বানে সাড়া দিতে পারি, নাও দিতে পারি, কিন্তু আমরা পরিনাম নির্ধারন করতে কখনোও পারি না; কারন পরিনাম নিশ্চিত। যদি আমরা সচেতনভাবে ঐ আহ্বানে সাড়া দিই তবে আমরা যীশুর ন্যায় হতে পারব। পবিত্র আত্মা আমাদের ললাটে ঈশ্বরের সন্তান হিসাবে মুদ্রাঙ্কিত করবেন (প্রকাশিত বাক্য ৭:২, ৩), এবং এভাবেই স্বর্গে আমাদের স্থান সুনিশ্চিত হবে। আর যদি সচেতনভাবে আহ্বান প্রত্যাখ্যান করি, তবে পবিত্র আত্মা দুঃখ পাবে - ও চিরতরে ছেড়ে চলে যাবে এবং আমাদের ধ্বংসে সিলমোহর করে দেন।

11. ব্যাভিচার ও হত্যার মত দুটি ভয়ঙ্কর পাপ করার পর দায়ূদ রাজা মনস্তাপ সহযোগে কি প্রার্থনা করেছিলেন?
“তোমার পবিত্র আত্মাকে আমা হইতে হরন করিও না” (গীতসংহিতা ৫১:১১)।
উত্তর: তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যেন তাঁর কাছ থেকে পবিত্র আত্মা হরন না করেন। কেন? কারন তিনি জানতেন, যে মূহুর্তে পবিত্র আত্মা তাঁকে পরিত্যাগ করবে সেই মূহুর্ত থেকে তাঁর জীবন মূল্যহীন হয়ে পড়বে। তিনি জানতেন শুধুমাত্র পবিত্র আত্মাই তাঁকে পরিচালনা করে তাঁকে অনুতপ্ত হতে সাহায্য করবে। ও তাঁকে পুনরুদ্ধার করবে। সে ভয় পেয়েছিল কি পবিত্র আত্মার রব তাঁর কাছে যদি স্তব্ধ হয়। বাইবেলে উল্লেখিত আছে যে ইফ্রয়ীম, প্রতিমাগনে আসক্ত হয়ে পড়েছিল (হোশেয় ৪:১৭) এবং পবিত্র আত্মার সতর্কতায় কান না দেওয়াতে পরিশেষে ইফ্রয়ীম আত্মিকভাবে বধির হয়ে পড়ে। পবিত্র আত্মা তাঁকে পরিত্যাগ করে। এমন যেন কখনোও না হয় যে, পবিত্র আত্মা আপনাকে পরিত্যাগ করে ও আপনি একাকী হয়ে পড়েন! এমনটা যেন আপনার জীবনে কখনও ঘটতে দেবেন না।

12. থিষলনীকীয় মন্ডলীকে প্রেরিত পৌল কোন্ জরুরী আজ্ঞা দিয়েছিলেন?
“আত্মাকে নির্ব্বান করিও না” (১ থিষলনীকীয় ৫:১৯)।
উত্তর: পবিত্র আত্মা মানুষের মনে এবং অন্তরে অগ্নিশিখার ন্যায় প্রজ্জ্বলিত থাকে, পাপ ঐ অগ্নিশিখাতে জল ঢালার কাজ করে, ও ঐ অগ্নিকে নির্ব্বাপিত করে। যখনি আমরা পবিত্র আত্মাকে অস্বীকার করি ও পাপে থাকি তখন আমরা পবিত্র আত্মার অগ্নিতে জল ঢালছি। পৌলের ঐ সতর্ক বার্তা এযুগেও প্রযোজ্য। বারে বারে পবিত্র আত্মার আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করে আমরা যেন ঐ আত্মার অগ্নিকে নির্ব্বান না করি। যদি একবার ঐ অগ্নি নির্ব্বাপিত হয় তবে, প্রত্যাবর্তনের আর সুযোগ থাকে না।
যে কোন পাপ ঐ অগ্নি নির্ব্বান করতে সক্ষম:
যে কোন স্বীকারহীন পাপ, ও অপরিতক্ত পাপ দ্বারাই পবিত্র আত্মার ঐ অগ্নি নির্ব্বাপিত হতে পারে। এটি সপ্তমদিন শাব্বাথ পালন না করলেও হতে পারে, মদ ব্যবহারে, এমনকি অপরকে ক্ষমা প্রদর্শন না করলেও হতে পারে, অনৈক্যতার জন্য হতে পারে, দশমাংশ না দেওয়ার জন্য হতে পারে, এমনকি পবিত্র আত্মার আওয়াজ না শোনার দ্বারা পবিত্র আত্মার আগুনে জল ঢালবেন না, যত বড় ঘটনা ঘটুক না কেন। ঐ অগ্নিকে পাপ দ্বারা নির্ব্বাপিত হতে দেবেন না।
13. থিষলনীকীয় বিশ্বাসীদের আর কি উল্লেখযোগ্য বিবৃতি দিয়েছিলেন প্রেরিত পৌল?
“এবং যাহারা বিনাশ পাইতেছে, তাহাদের সম্বন্ধে অধার্ম্মিকতার সমস্ত প্রতারনা সহকারে হইবে, কারন তাহারা পরিত্রান পাইবার নিমিত্ত সত্যের প্রেম গ্রহণ করে নাই। আর সেই জন্য ঈশ্বর তাহাদের কাছে ভ্রান্তির কার্য্য সাধন পাঠান, যাহাতে তাহারা সেই মিথ্যায় বিশ্বাস করিবে, যেন সেই সকলের বিচার হয়, যাহারা সত্যে বিশ্বাস করিত না, কিন্তু অধার্ম্মিকতায় প্রীত হইত” (২ থিষলনীকীয় ২:১০-১২ পদ)।
উত্তর: কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও আশ্চার্য্যজনক বাক্য! ঈশ্বর বলেছেন, যাঁরা তাঁদের উপর দত্ত অভিযোগ ও পবিত্র আত্মার সত্য প্ৰত্যাখ্যান করবে - পবিত্র আত্মা তাঁদের পরিত্যাগ করবে। তখন তাঁরা ভ্রান্তির কার্য্য সাধন করবে ও মিথ্যায় বিশ্বাস করবে। এক গম্ভীর বিচার।

14. বিচারের সময় কিছু লোক কি অভিজ্ঞতা লাভ করবে, যারা বিভ্রান্তিতে থাকবে?
“সেই দিন অনেকে আমাকে বলিবে, হে প্রভু, হে প্রভু, আপনার নামেই কি আমরা ভাববাণী বলি নাই? আপনার নামেই কি ভূত ছাড়াই নাই? আপনার নামেই কি অনেক পরাক্রম কার্য্য করি নাই? তখন আমি তাহাদিগকে স্পষ্টই বলিব, আমি কখনোও তোমাদিগকে জানি নাই; হে অধৰ্ম্মচারীরা আমার নিকট হইতে দূর হও (মথি ৭:২২, ২৩)।
উত্তর: যাঁরা শুধু বাক্যে হে প্রভু, হে প্রভু করে কিন্তু স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা পালন করে না, সে কোন অবস্থাতেই পরিত্রাণ লাভ করতে পারবে না, ফলস্বরূপ সে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশাধিকার পাবে না। তারা দৃঢ় যে তারা পরিত্রাণ পেয়েছে, আর তখন যীশু তাদের সেই অতীত দিনের কর্ম সকল মনে করাবেন যখন পবিত্র আত্মা নতুন সত্য উদঘাটিত করেছিলেন, ও তাঁদের পাপ সম্বন্ধে সচেতন করেছিলেন তখন তাঁরা পবিত্র আত্মার রবে কর্নপাত করেনি। যখন কি এটি ধ্রুব সত্য ছিল। এমনকি সেকারনে তারা রাত্রিতে ঘুমাতে পারতো না, কেননা তারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যুদ্ধ করতো। তাদের হৃদয় প্রজ্জ্বলিত হচ্ছিল! কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা বলল, না! পরিশেষে আগে শোনার ক্ষেত্রে তারা পবিত্র আত্মাকে অস্বীকার করে দিল। এবং শেষে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছালো যে তারা পরিত্রাণ পেয়েছে, যখন কিনা তারা বিনষ্ট হয়ে গেছে, সত্যিই কি ভয়ংকর পরিণতি।

15. কোন্ বিশেষ সতর্কবার্তার মাধ্যমে যীশু আমাদের বুঝতে সাহায্য করবেন যে আসলে আমরা সুরক্ষিত হইনি বরং হারিয়ে গিয়েছি?
“যাহারা আমাকে হে প্রভু, হে প্রভু, বলে তাহারা সকলেই যে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করিতে পাইবে এমন নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা পালন করে, সেই পাইবে” (মথি ৭:২১ পদ)।
উত্তর: যীশু স্বতঃস্ফূর্তভাবে জানিয়েছেন যে, যাঁরা নিশ্চিত যে তাঁরা স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করবে, এমনটা নাও হতে পারে, কেবলমাত্র তাঁরাই প্রবেশাধিকার পাবে যাঁরা ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করে। প্রত্যেকেই পরিত্রানের প্রত্যাশা করে এবং ঈশ্বরও আমাদের উদ্ধার করতে চান কিন্তু পরিত্রান শুধুমাত্র ঈশ্বরের অনুগ্রহে ব্যবস্থা পালনের মাধ্যমেই সম্ভবপর। যেহেতু, আজকের দিনে অনেক মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে যে পাপে জীবনযাপন করলেও উদ্ধার পাবে ও কোন পরিবর্তন নেই।
যীশু সমস্ত শঙ্কা দূর করেন:
শু বলেছেন, আশ্বাস তাঁদের জন্যই যাঁরা তাঁর পিতার ইচ্ছানুযায়ী চলে। যখন আমরা যীশুকে আমাদের জীবনে ঈশ্বর হিসাবে গ্রহণ করি তখন আমাদের জীবনধারা বদলে যায়, তখন আমরা সম্পূর্ন নতুন এক মানুষে পরিবর্তিত হই (২ করিন্থীয় ৫:১৭)। আমরা সক্রিয়ভাবে তাঁর আজ্ঞা সকল পালন করি, তাঁর ইচ্ছানুযায়ী, (যোহন ১৪:১৫) তিনি যে পথে অগ্রসর করান সেই পথে হৃষ্টচিত্তে অগ্রসর হই (১ পিতর ২:২১)। তাঁর আশ্চার্য্যজনক পুনরূত্থানের ক্ষমতা বলে আমরা তাঁর প্রতিমূর্ত্তিতে রূপান্তরিত হই (ফিলিপীয় ৩:১০; ২ করিন্থীয় ৩:১৮)। তাঁর গৌরবাজ্জ্বল শান্তি আমাদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় (যোহন ১৪:২৭)। পবিত্র আত্মার মাধ্যমে যীশু আমাদের অন্তরে বসতি করেন, (ইফিষীয় ৩:১৬ – ১৭)। আমরা সব কিছুই করতে পারি (ফিলিপীয় ৪:১৩), কিছুই আর অসাধ্য থাকে না,
(মথি ১৭:২০)।
প্ৰকৃত সত্য আশ্বাস বনাম নকল আশ্বাস:
যদি আমরা তাঁকে অনুসরন করি তবে ত্রানকর্ত্তা আমাদের অগ্রবর্ত্তী করেন, তখন কোনো শক্তিই আমাদের তাঁর হাত থেকে কেড়ে নিতে পারে না (যোহন ১০:২৮)। ও কি যথার্থ ও গৌরবময় মুকুট আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে (প্রকাশিত বাক্য ২:১০)। কি আশ্চার্য, মহিমা, ও প্রকৃত সুরক্ষা ঈশ্বর তার অনুসরণকারীকে দেয়। অন্যদিকে যীশু বিহীন কোন প্রকার আশ্বাসই নকল ও ভিত্তিহীন, এর দ্বারা তাঁরা বিচারের সম্মুখীন হবে, যদিও তাঁরা মনে করে তাঁরা সুরক্ষিত কিন্তু আদতে তাঁরা সুরক্ষিত থাকে না ও পরিনামে মৃত্যুলাভ করে (হিতোপদেশ ১৬:২৫)।

16. ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত আশীর্ব্বাদ তাঁর বিশ্বাসীদের প্রতি কি, যাঁরা ঈশ্বরকে তাঁদের জীবনের মুকুট স্বরুপ প্রতিষ্ঠা করে?
“যিনি তোমাদের মধ্য ভালো কাজ শুরু করেন।.. সেই অনুগ্রহে তিনি আমাদিগকে সেই প্রিয়তমে অনুগৃহীত করিয়াছেন। কিন্তু এখন খ্রীষ্ট যীশুতে, পূর্ব্বে দূরবর্ত্তী ছিলে যে তোমরা, খ্রীষ্টের রক্ত দ্বারা নিকটবর্ত্তী হইয়াছ (ফিলিপীয় ১:৬; ২:১৩ পদ)।
উত্তর: ঈশ্বরের ধন্যবাদ কর! যাঁরা যীশুকে তাঁদের জীবনে ঈশ্বর হিসাবে ও পরিচালক হিসাবে গ্রহন করে, প্রতিজ্ঞানুসারে, যীশু তাঁদের অনন্ত স্বর্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত করেন। এর চেয়ে উত্তম আর কি হতে পারে!

17. অতিরিক্ত কোন্ গৌরবময় প্রতিজ্ঞা যীশু সকলের উদ্দেশ্যে করেছেন?
“দেখ আমি দ্বারে দাঁড়াইয়া আছি, ও আঘাত করিতেছি, কেহ যদি আমার রব শুনে ও দ্বার খুলিয়া দেয়, তবে আমি তাঁহার কাছে প্রবেশ করিব ও তাঁহার সহিত ভোজন করিব এবং সেও আমার সহিত ভোজন করিবে”
(প্রকাশিত বাক্য ৩:২০ পদ)।
উত্তর: যীশু আমাদের অন্তরে প্রবেশ করবেন যখন আমরা হৃদয়ের দ্বার উন্মুক্ত রাখব। ইনি যীশু যিনি আমাদের হৃদয় দ্বারে করাঘাত করছেন পবিত্র আত্মার মাধ্যমে, তিনি যীশু রাজার রাজা, এই পৃথিবীর ত্রানকর্তা, তিনি পবিত্র আত্মা দ্বারা তাঁর প্রেম ও পথনির্দেশ নিয়ে আপনাকে পরিচালিত করেন। যীশুর সঙ্গে আপনার চিরন্তন প্রেমপূর্ণ সম্পৰ্ক বজায় রাখতে হবে যেন আমরা কোনো প্রকার অবহেলা না করি। সে বিচারের দিন কোন প্রকার বিচারের সম্মুখীন হবে না। যীশু ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে যীশুর স্বর্গরাজ্যে অভ্যর্থনা করবেন - “তখন রাজা আপনার দক্ষিণ দিকে স্থিত লোকদিগকে বলিবেন, আইস আমার পিতার আশীর্ব্বাদ পাত্রেরা, জগতের পত্তনাবধি যে রাজ্য তোমাদের জন্য প্রস্তুত করা গিয়াছে, তাঁহার অধিকারী হও” (মথি ২৫:৩৪)।

18. আপনি কি হৃদয়ের দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত রাখবেন, কারন যীশু আপনার মনের দ্বারে কড়া নাড়ছেন, এবং যেখানে তিনি আপনাকে নিয়ে যাবেন স্বেচ্ছায় সেখানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন কি?
আপনার উত্তর: ___________
শেষ কথা
এইটি ২৭ নম্বর বা শেষ সহায়ক বই। আমাদের বাসনা এই যে, আপনারা সকলে সান্নিধ্য ও পরিচালনা লাভ করুন ও একটি সুন্দর সম্পৰ্ক বজায় রাখুন প্রভু যীশু খ্রীষ্টের সঙ্গে। আমরা আশা করি আপনি প্রভুর সঙ্গে চলবেন দিন প্রতিদিন এবং খুব শীঘ্রই আনন্দপূর্ণ দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে, রূপান্তরিত হবেন তাঁর আগমনে তাঁর রাজ্যে। যদি আমরা এই পৃথিবীতে আর মিলিত হতে না পারি। তবে সেই মহান দিনে মেঘে মিলিত হতে সম্মত হই। দয়া করে লিখুন বা যোগাযোগ করুন আমাদের সঙ্গে তাকি আপনার ভবিষ্যতে আর কোনভাবে সাহায্য করতে পারি স্বর্গীয় যাত্রাপথে।
আপনার প্রশ্নের দত্ত উওরাবলী
১৷ বাইবেল বলে যে ঈশ্বর ফরৌনের হৃদয়কে কঠোর করেছিলেন (যাত্রাপুস্তক ৯:১২)। এটা ন্যায়সঙ্গত বলে মনে হয় না। এর মানে কী?
উত্তর: পবিত্র আত্মা সমস্ত মানুষের সাথে অনুরোধ করেন, ঠিক যেমন সূর্য সকলের উপর এবং সবকিছুর উপর আলোকিত হয় (যোহন ১:৯)। একই সূর্য যে কাদামাটি শক্ত করে মোমকেও গলায়। পবিত্র আত্মা আমাদের হৃদয়ের উপর একটি ভিন্ন প্রভাব ফেলে, সেটা তার উপর নির্ভর করে কিভাবে আমরা তাঁর আবেদনের সাথে সাড়াদিই। আমরা যদি প্রতিক্রিয়া জানাই, আমাদের হৃদয় নরম হবে এবং আমরা সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হব (১ শমূয়েল ১০:৬)। যদি আমরা প্রতিরোধ করি, আমাদের হৃদয় কঠিন হবে (সখরিয় ৭:১২)।
ফরৌনের প্রতিক্রিয়া:
ফরৌন প্রকৃতপক্ষে পবিত্র আত্মাকে প্রতিরোধ করার মাধ্যমে তার নিজের হৃদয়কে শক্ত করেছিল
(যাত্রাপুস্তক ৮:১৫, ৩২; ৯:৩৪)। কিন্তু বাইবেল বলে ঈশ্বর ফরৌনের হৃদয়কে কঠিন করেন কারণ ঈশ্বরের পবিত্র আত্মা ফরৌনের কাছে অনুনয়-বিনয় করে চলেছেন। যেহেতু ফরৌন প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছিল, তার হৃদয় শক্ত হয়ে গিয়েছিল যেভাবে সূর্যের আলো কাদামাটিকে শক্ত করে সেভাবে। ফরৌন শুনলে সূর্য যেমন মোমকে নরম করে তেমনি তার হৃদয়ও নরম হয়ে যেত। বা যেভাবে সূর্যের তাপে বরফ গলে সেভাবে তার হৃদয়ও গলে যেত।
যিহূদা এবং পিতর:
খ্রীষ্টের শিষ্য যিহুদা এবং পিতর এই একই নীতি প্রদর্শন করেছিলেন। দুজনেই গুরুতর পাপ করেছিল। একজন বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এবং অন্যজন যীশুকে অস্বীকার করেছিল। কোনটা খারাপ? কে বলতে পারে? একই পবিত্র আত্মা উভয়ের সাথে অনুরোধ করেছিলেন। যিহুদা নিজেকে শক্ত করে, এবং তার হৃদয় পাথরের মত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, পিতর আত্মাকে গ্রহণ করেছিলেন এবং তার হৃদয় গলে গিয়েছিল। তিনি সত্যই অনুতপ্ত ছিলেন এবং পরে প্রাথমিক মণ্ডলীর একজন মহান প্রচারক হয়ে ওঠেন। (সখরিয় ৭:১২, ১৩), পড়ুন, তাঁর আত্মার অনুরোধ শ্রবণ ও মেনে চলার বিরুদ্ধে আমাদের হৃদয়কে কঠোর করার বিষয়ে ঈশ্বরের গভীর সতর্কতা।
২৷ আজ্ঞাবহতা হওয়ার আগে প্রভুর কাছ থেকে “লক্ষণ” চাওয়া কি নিরাপদ?
উত্তর: নতুন নিয়মে, যীশু চিহ্ন চাওয়ার বিরুদ্ধে বলেছিলেন, “এই কালের দুষ্ট ও ব্যভিচারী লোকে চিহ্নের অন্বেষণ করে” (মথি ১২:৩৯)। তিনি সত্য শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং পুরনো নিয়ম থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে, তখন যে শাস্ত্র উপলব্ধ ছিল।। তিনি যা বলেছেন তা তারা খুব ভাল করেই বুঝতে পেরেছিল৷ তারা তাঁর অলৌকিক কাজগুলিও দেখেছিল, কিন্তু তবুও তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। পরে তিনি বলেছিলেন, “যদি তারা মোশি এবং ভাববাদীদের কথা না শোনে, তবে মৃতদের মধ্য থেকে একজন পুনরুত্থিত হলেও তারা শুনবে না” (লুক ১৬:৩১)। বাইবেল আমাদেরকে শাস্ত্র দ্বারা সবকিছু পরীক্ষা করতে বলে (যিশাইয় ৮:১৯, ২০)। আমরা যদি যীশুর ইচ্ছা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই এবং তিনি যেখানে নেতৃত্ব দেন সেখানে অনুসরণ করি, তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি আমাদেরকে ভুল থেকে সত্য বুঝতে সাহায্য করবেন (যোহন ৭:১৭)।
৩৷ এমন কোন সময় আছে যখন প্রার্থনা সহায়ক হবে না?
উত্তর: হ্যাঁ; যদি একজন ব্যক্তি জেনেশুনে ঈশ্বরের অবাধ্য হয় (গীতসংহিতা ৬৬:১৮) এবং তবুও ঈশ্বরের কাছে তাকে আশীর্বাদ করার জন্য অনুরোধ করেন যদিও তিনি পরিবর্তন হবার পরিকল্পনা করেন না, তবে সেই ব্যক্তির প্রার্থনা শুধুমাত্র মূল্যহীন নয়, কিন্তু ঈশ্বর বলেছেন এটি একটি ঘৃণ্য (হিতোপদেশ ২৮:৯)।
৪৷ আমি উদ্বিগ্ন যে আমি হয়তো পবিত্র আত্মাকে প্রত্যাখ্যান করেছি এবং তার ক্ষমা পাব না। আপনি কি আমাকে সাহায্য করতে পারেন?
উত্তর:আপনি পবিত্র আত্মা প্রত্যাখ্যান করেননি। আপনি এটি জানতে পারেন কারণ আপনি
উদ্বিগ্ন বা দোষী বোধ করছেন। এটা একমাত্র পবিত্র আত্মা যিনি আপনাকে উদ্বেগ ও প্রত্যয় নিয়ে
আসেন (যোহন ১৬:৮-১৩) যদি পবিত্র আত্মা আপনাকে ছেড়ে চলে যেতেন তবে আপনার হৃদয়ে কোন উদ্বেগ বা প্রত্যয় থাকত না। আনন্দ করুন এবং ঈশ্বরের প্রশংসা করুন! তাঁকে এখন আপনার জীবন দিন! এবং সামনের দিনগুলিতে প্রার্থনা সহকারে তাঁকে অনুসরণ করুন এবং আনুগত্য থাকুন। তিনি আপনাকে বিজয় দেবেন (১ করিন্থীয় ১৫:৫৭), আপনাকে ধরে রাখুন (ফিলিপীয় ২:১৩), এবং তাঁর ফিরে আসা পর্যন্ত আপনাকে রক্ষা করুন (ফিলিপীয় ১:৬)।
৫৷ বীজ বপনকারীর দৃষ্টান্তে (লুক ৮:৫-১৫), যে বীজটি পথের ধারে পড়েছিল এবং পাখিরা খেয়েছিল তার অর্থ কী?
উত্তর: বাইবেলে বলে, “সেই বীজ ঈশ্বরের বাক্য। আর তাহারাই পথের পার্শ্বের লোক, যাহারা শুনিয়াছে, পরে দিয়াবল আসিয়া তাহাদের হৃদয় হইতে সেই বাক্য হরণ করিয়া লয়, যেন তাহারা বিশ্বাস করিয়া পরিত্রাণ না পায়।” (লুক ৮:১১, ১২) যীশু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে যখন আমরা বুঝতে পারি যে পবিত্র আত্মা শাস্ত্র থেকে নতুন আলোর বিষয়ে আমাদের কী করতে বলছে, তখন আমাদের অবশ্যই এটিতে কাজ করতে হবে। অন্যথায়, শয়তান আমাদের মন থেকে সেই সত্য মুছে ফেলার সুযোগে রয়েছে।
6. ৬৷ (মথি ৭:২১-২৩) তে তিনি যে লোকেদের সম্বোধন করছিলেন তাদের কাছে প্রভু কীভাবে বলতে পারেন “আমি আপনাকে কখনোই চিনতাম না”? আমি ভেবেছিলাম ঈশ্বর সবাইকে জানেন এবং সবকিছু জানেন।
উত্তর: এখানে কাউকে ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবে জানার কথা বলছেন। আমরা তাঁকে একজন বন্ধু হিসাবে জানতে পারি যখন আমরা প্রতিদিন প্রার্থনা এবং বাইবেল অধ্যায়নের মাধ্যমে তাঁর সাথে যোগাযোগ করি, তাঁকে অনুসরণ করি এবং একজন পার্থিব বন্ধুর মতো আমাদের আনন্দ এবং দুঃখ ভাগ করে নিই। যীশু বলেছিলেন, “আমি তোমাদিগকে যাহা কিছু আজ্ঞা দিতেছি, তাহা যদি পালন কর, তবে তোমরা আমার বন্ধু” (যোহন ১৫:১৪)। মথি ৭ অধ্যায়ে সম্বোধন করা লোকেরা তাঁর পবিত্র আত্মাকে প্রত্যাখ্যান করেছে৷ তারা “পাপে পরিত্রাণ” বা “কাজের দ্বারা পরিত্রাণ” লাভ করতে চায়—যার কোনটিরই যীশু অনুমোদন করেন না। তারা একটি স্ব-নির্মিত মানুষ যারা পরিত্রাতার সাথে পরিচিত হতে সময় নেয় না। তাই, তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন যে তিনি সত্যিই তাদের সাথে পরিচিত হতে চান না, বা তাদের ব্যক্তিগত বন্ধু হতে চান না।
৭৷ আপনি কি (ইফিষীয় ৪:৩০) ব্যাখ্যা করতে পারবেন?
উত্তর: পদটি বলে, “আর ঈশ্বরের সেই পবিত্র আত্মাকে দুঃখীত করিও না, যাঁহার দ্বারা তোমরা মুক্তির দিনের অপেক্ষায় মুদ্রাঙ্কিত হইয়াছ।” পৌল এখানে ইঙ্গিত করছেন যে পবিত্র আত্মা একটি বিদ্যমান ব্যক্তি, কারণ শুধুমাত্র ব্যক্তিরাই দুঃখিত হতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ, তিনি নিশ্চিত করছেন যে খ্রীষ্টের পবিত্র আত্মা তাঁর প্রেমময় আবেদন প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে শোকাহত হতে পারেন। এক পক্ষের বারবার প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে অন্য পক্ষের প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে একটি প্রীতি চিরতরে শেষ হতে পারে, তাই পবিত্র আত্মার সাথে আমাদের সম্পর্ক স্থায়ীভাবে শেষ হতে পারে তাঁর প্রেমময় আবেদনে সাড়া দিতে আমাদের বারবার অস্বীকারের মাধ্যমে।
মর্মার্থ পত্র
দয়া করে এই প্রশ্নের সমাধান করার আগে পাঠটি পড়ে নিন। সমস্ত উত্তর আপনি এই সহায়িকা বইটিতে পেয়ে যাবেন।। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দিন। বন্ধনীর সংখ্যাগুলো (১) সঠিক উত্তরের সংখ্যা নির্দেশ করে।
১। যে কোনো পাপই সেই পাপ হতে পারে যা ঈশ্বর ক্ষমা করবেন না। (১)
( ) হ্যাঁ
( ) না
২। পবিত্র আত্মার বিরুদ্ধে পাপ হল (১)
( ) হত্যা
( ) ঈশ্বর নিন্দা
( ) পবিত্র আত্মাকে অস্বীকার করা।
৩। পবিত্র আত্মাকে কখনও কখনও দুঃখের সঙ্গে একজন পাপীর কাছ থেকে সরে যেতে হয় কারণ (১)
( ) পবিত্র আত্মার কাছে অন্য কাজ থাকে
( ) পাপীর খারাপ ব্যবহারে রুষ্ঠ হন
( ) ঈশ্বর তাঁকে অন্য কিছু করার নির্দেশ দেন
( ) পাপী ঈশ্বরের আহ্বানে বধীর হন
৪। পবিত্র আত্মা নির্ব্বাপিত হয় পাপের দরুন (১)
( ) হ্যাঁ
( ) না
৫। যে কোণ পাপ বা ধর্ম্ম নিন্দার ক্ষমা হবে
যদি (১)
( ) যদি এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রার্থনা হয়
( ) যথাযথভাবে পাপ স্বীকার ও পাপ পরিহারের মাধ্যমে
( ) বহুদিন উপবাস করলে
( ) বিশ্বস্তভাবে সাক্ষ্য দান করলে।
৬। পবিত্র আত্মা ব্যতিরেকে পাপ সম্বন্ধে চেতনা ও পরিবর্তন ঘটে না কোন মানুষের (১)
( ) সত্যি
( ) মিথ্যা
৭। উদ্ধারের আশ্বাস কখনো কখনো মিথ্যা হতে পারে, যারা নিজেরা সুরক্ষিত মনে করে আসলে তাঁরা সুরক্ষিত নয় (১)
( )হ্যাঁ
( ) না
৮। (যোহন, ১৬) অধ্যায় অনুসারে পবিত্র আত্মার কার্য্যসকল চিহ্নিত করুন (২)
( ) গান সম্বন্ধে শিক্ষাদান
( ) ভাববানীর উপহার দান
( ) খুশি রাখা
( ) পাপ চিহ্নিতকরণ
( ) সত্যে পরিচালিত করা
৯। পবিত্র আত্মার দ্বারা নতুন সত্য বা পাপ সম্বন্ধে জ্ঞাত হলে (১)
( ) যাজককে এবিষয়ে বলবো
( ) এক মানসিক ডাক্তারকে দেখানো উচিত
( ) ঈশ্বরকে চিহ্ন প্রদর্শন করতে অনুরোধ করব,
( ) দেরি না করে আত্মার পরিচালনা অনুসরন করব
( ) কয়েন চেলে নির্ধারণ করবো।
১০। কেন্ দায়ূদ ঈশ্বরকে পবিত্র আত্মার হরন করতে না করেছেন প্রার্থনায় (১)
( ) পবিত্র আত্মা তাঁকে বীনা বাজাতে সাহায্য করেছিল
( ) সে জানত পবিত্র আত্মা না থাকলে তাঁর জীবনে হানি ঘটতে পারে
( ) কারন তিনি জানতেন পবিত্র আত্মার অনুপস্থিতিতে তিনি হারিয়ে যাবেন
১১। মথি ৭:২১–২৩ অনুযায়ী, শুধু অলৌকিক কাজ করা, অশুভ আত্মা বের করা, যীশুর নামে ভবিষ্যদ্বাণী করা এবং তাঁকে প্রভু হিসেবে স্বীকার করাই বিচার দিবসে যথেষ্ট হবে না। যীশু আরও কী বলেছেন যা অপরিহার্য? (১)
( ) অনেক সাক্ষ্যদান
( ) জনগনের মধ্যে প্রার্থনা
( ) প্রায়শই উপবাস
( ) গীর্জায় নিয়মিত যোগদান
( ) স্বর্গীয় পিতার ইচ্ছা পালন।
১২। (২ য় থিষলনীকীয় ২:১০-১২) পদ অনুসারে সত্য লঙ্ঘন কারীদের কি হবে? (১)
( ) যে কোণ প্রকারে সুরক্ষিত হবে
( ) ঈশ্বর পুনরায় সুযোগ দেবেন
( ) ঈশ্বর তাঁদের কঠিন বিভ্রান্তি দেবেন, তখোন তাঁরা মিথ্যাকেই সত্য মনে করবে।
১৩। যখন প্রভু বিচার দিবসে বলবেন, “আমি কখনো তোমাদের চিনতাম না,” তখন তিনি বোঝাতে চাইবেন যে… (১)
( ) ঐ ব্যক্তিকে তিনি জানেন না
( ) মুখটা চেনা হলেও বুঝতে পারছে না।
( ) ঐ ব্যক্তি কখনোই তাঁকে ব্যক্তিগত বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেনি
১৪। নতুন নিয়মে যীশু চিহ্ন চাইবার বিরুদ্ধে শিক্ষা দিয়েছিলেন। (১)
( ) হ্যাঁ
( ) না
১৫। যীশু পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আপনাকে যা জ্ঞাত করেন নির্দেশ দেন, আপনি কি সে সকল মেনে চলতে প্রস্তুত?
( ) হ্যাঁ
( ) না



