Lesson 3
দৃশ্যটি কল্পনা করুন যে আপনি একটি অগ্নিদগ্ধ উত্তপ্ত ঘরে আটকে আছেন, আর শ্বাসরুদ্ধকর ধোঁয়া আপনাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরছে! এবার কল্পনা করুন সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়ে আপনি কতটা নিরাপদ ও আশ্বস্ত! সত্যি বলতে কী, পৃথিবী নামক এই গ্রহে আমরা প্রত্যেকেই ভয়ঙ্কর বিপদে আছি। আমাদের জরুরীভাবে উদ্ধার হওয়া চাই—তবে উর্দি পরিহিত বাহিনী দ্বারা নয়—আমাদের স্বর্গস্থ পিতার দ্বারা। ঈশ্বর আপনাকে এতই ভালবাসেন যে, আপনাকে বাঁচাতে তিনি তাঁর পুত্রকে প্রেরণ করেছেন। আপনি নিশ্চয়ই এই কথা পূর্বে শুনেছেন, কিন্ত এর প্রকৃত অর্থ বুঝেছেন তো? এর প্রকৃত অর্থ কী, আর এটি কি সত্যিই আপনার জীবন পরিবর্তন করতে পারে? পড়তে থাকুন এবং তা জেনে নিন!
1. ঈশ্বর কি সত্যিই আপনার জন্য চিন্তা করেন?
তিনি একথা বলেছেন: “তুমি আমার দৃষ্টিতে বহুমূল্য ও সম্ভ্রান্ত, আমি তোমাকে প্রেম করিয়াছি” (যিশাইয় ৪৩:৪)। “আমি তো চির প্রেমে তোমাকে প্রেম করিয়া আসিতেছি” (যিরমিয় ৩১:৩)।
উত্তর: আপনার প্রতি ঈশ্বরের অন্তহীন প্রেম মানুষের বোঝার অসাধ্য। যদি এই পৃথিবীতে আপনি কেবলমাত্র একা পাপী ব্যক্তি হন, তবুও ঈশ্বর আপনাকে ভালবাসবেন। যদি উদ্ধার করার জন্য আর একজন পাপীও না থাকতো, তবুও প্রভু যীশু আপনার জন্য জীবন দিতেন। এক কথা ভুললে চলবে না, তার কাছে আপনি বহু মূল্যবান। তিনি আপনাকে গভীরভাবে ভালোবাসেন এবং আপনার যত্ন নেন।
2. ঈশ্বর কীভাবে আপনার প্রতি তাঁর প্রেম প্রদর্শন করেছেন?
“কারণ ঈশ্বর জগতকে এমন প্রেম করিলেন যে, আপনার একজাত পুত্রকে দান করিলেন, যেন যে কেহ তাঁহাতে বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পায়” (যোহন ৩:১৬)। “আমাদিগেতে ঈশ্বরের প্রেম ইহাতেই প্রকাশিত হইয়াছে যে, ঈশ্বর আপনার একজাত পুত্রকে প্রেরণ করিয়াছেন যেন আমরা তাহার দ্বারা জীবন লাভ করিতে পারি। ইহাতেই প্রেম আছে, আমরা যে ঈশ্বরকে প্রেম করিয়াছিলাম তাহা নয়, তিনিই আমাদিগকে প্রেম করিলেন এবং আপন পুত্রকে আমাদের পাপার্থক প্রায়শ্চিত্ত হইবার জন্য প্রেরণ করিলেন” (১ যোহন ৪:৯, ১০)।
উত্তর: আপনাকে ঈশ্বর এত ভালবাসেন যে, আপনার সঙ্গে অনন্ত বিচ্ছেদের পরিবর্তে তিনি নিজের একমাত্র পুত্রকে কষ্ট ভোগ করে মৃত্যু বরণ করতে অনুমতি দিলেন। এমন ভালবাসা অনুভব করা কঠিন হওয়া সত্ত্বেও, ঈশ্বর আপনার জন্য তা-ই করলেন।
3. ঈশ্বর কীভাবে আপনার মতো একজনকে ভালবাসতে পারলেন?
“কারণ আমরা যখন পাপী ছিলাম তখনও খ্রীষ্ট আমাদের নিমিত্ত প্রাণ দিলেন” (রোমীয় ৫:৮)।
উত্তর:নিশ্চয়ই কারো যোগ্যতার কারণে তিনি এ ভালবাসা দিচ্ছেন না। পাপের বেতন মৃত্যু ছাড়া কেউ আর কিছুই অর্জন করতে পারেনি (রোমীয় ৬:২৩)। কিন্তু ঈশ্বরের প্রেম শর্তহীন। তিনি চোর, ব্যভিচারী, এমনকি খুনিকেও প্রেম করেন। যারা স্বার্থপর, যারা কপট, যারা নেশাগ্রস্ত তিনি তাদেরকেও প্রেম করেন। আপনি কী করেছেন, বা এখন কী করছেন, তা তাঁর কাছে গুরুত্বপুর্ণ নয়, তিনি আপনাকে প্রেম করেন—এবং তিনি আপনাকে পাপ থেকে এবং এর মারাত্মক পরিণতি থেকে উদ্ধার করতে চান।
4. যীশুর মৃত্যু আপনার জন্য কী সাধন করেছে?
“দেখ পিতা আমাদিগকে কেমন প্রেম প্রদান করিয়াছেন যে, আমরা ঈশ্বরের সন্তান বলিয়া আখ্যাত হই”
(১ যোহনের ৩:১)। “আর যতজন যাহারা তাঁহার নামে বিশ্বাস করে তাহাদিগকে তিনি ঈশ্বরের সন্তান হইবার ক্ষমতা দিলেন” (যোহন ১:১২)।
উত্তর: আপনার মৃত্যুদণ্ডের খেসারত দিতে খ্রীষ্ট মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি মানুষ বেশে জন্মগ্রহণ করেছেন যেন যেরূপ মৃত্যু পাপীর প্রাপ্য, তা তিনিই ভোগ করতে পারেন। আর আজ, তাঁর কাজের কৃতিত্ব তিনি আপনাকে দিচ্ছেন। তাঁর নিস্পাপ জীবন তিনি আপনার নামে লিখে দিলেন, যেন আপনি ধার্মিক গণ্য হতে পারেন। আমাদের সব অন্যায়গুলোর সম্পূর্ণ মুক্তিপণ হিসাবে ঈশ্বর তাঁর মৃত্যৃ গ্রহণ করলেন, আর তিনি যা করেছেন আপনি যখন তা উপহারস্বরূপ গ্রহণ করেন, তখন আপনি ঈশ্বরের পরিবারে তাঁর একজন সন্তান হিসাবে গণ্য হবেন।
5. আপনি কী কী ভাবে যীশুকে গ্রহণ করেন এবং মৃত্যু থেকে জীবনে উত্তরণ করেন?
উত্তর: আপনার অভাব স্বীকার করে ও তাঁকে বিশ্বাস করে।
কেবল মাত্র তিনটি বিষয় স্বীকার করুন:
আমি একজন পাপী।
“কেননা সকলেই পাপ করিয়াছে” (রোমীয় ৩:২৩)।
মৃত্যু আমার জন্য অপরিহার্য।
“কেননা পাপের বেতন মৃত্যু” (রোমীয় ৬:২৩)।
নিজেকে বাঁচাতে আমি অক্ষম।
“কেননা আমা ভিন্ন তোমরা কিছুই করিতে পারনা” (যোহন ১৫:৫)।
এএরপর তিনটি বিষয় বিশ্বাস করুন:
তিনি আমার জন্য মৃত্যু বরণ করেছেন।
“যেন ঈশ্বরের অনুগ্রহে যীশু সকলের নিমিত্ত মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করেন” (ইব্রীয় ২:৯)।
তিনি আমাকে ক্ষমা করেন
“যদি আমরা আপন আপন পাপ স্বীকার করি, তিনি বিশ্বস্ত ও ধার্ম্মিক সুতরাং আমাদের পাপ সকল মোচন করিবেন” (১ যোহনের ১:৯)।
তিনি আমাকে রক্ষা করেন।
“যে আমাতে বিশ্বাস করে সে অনন্ত জীবন লাভ করেছে” (যোহন ৬:৪৭)।
জীবন বদলে দেয়া এই সত্যগুলো বিবেচনা করুন:

* আমার পাপের কারণে আমি মৃত্যুদণ্ডাধীন।
* অনন্ত জীবন না হারিয়ে আমি এ দণ্ড হতে মুক্ত হতে পারবোনা। বরং চির মৃত্যুতে মৃত থাকবো।
* আমি এমন ঋণে ঋণী যা শোধ করতে আমি অক্ষম! কিন্তু যীশু বলেন, "এই ঋণ আমি শোধ করবো। তোমার স্থানে আমি মৃত্যুবরণ করবো, এবং এর জন্য কৃতিত্ব তোমাকেই দেব। তোমার পাপের জন্য তোমাকে মরতে হবে না।”
* আমি তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করছি! যে মুহূর্তে আমি আমার ঋণ স্বীকার করে নেই ও আমার পাপের জন্য তাঁর মৃত্যু মেনে নেই, সেই মুহূর্তেই আমি তাঁর সন্তান হয়ে যাই! (খুব সহজ, তাই নয় কি?)
6. পরিত্রাণের এই উপহার পেতে হলে আমাদের কী করতে হবে?
“আমরা বিনামূল্যে তাঁহারই অনুগ্রহে, খ্রীষ্ট যীশুতে পাপ মুক্তি দ্বারা ধার্ম্মিক গণিত হই” (রোমীয় ৩:২৪)। “ব্যবস্থার কার্য ব্যতিরেকে বিশ্বাস দ্বারাই মনুষ্য ধার্ম্মিক গণিত হয়” (রোমীয় ৩:২৮)।
উত্তর: একমাত্র যে কাজটি আপনি করতে পারেন তা হলো পরিত্রাণকে উপহারস্বরূপ গ্রহণ করা। আমাদের বাধ্যতার কাজগুলো আমাদের ধার্মিক গণিত করতে কাজে আসবে না কারন আমরা ইতোমধ্যেই পাপ করেছি এবং মৃত্যু আমাদের প্রাপ্য। কিন্তু যারা বিশ্বাসপুর্বক পরিত্রাণ যাচ্ঞা করবে তারাই পরিত্রাণ পাবে। যিনি সবার চেয়ে কম পাপ করেছেন তিনি যেমন সম্পূর্ণরূপে গৃহীত হবেন, জঘন্যতম পাপীও তেমনি সম্পূর্ণরূপে গৃহীত হবেন। আপনার অতীত আপনার বিপক্ষে গণ্য হবে না! মনে রাখবেন, ঈশ্বর সকলকে সমান ভালবাসেন, এবং ক্ষমা পাওয়া শুধুমাত্র চাইবার উপর নির্ভর করে। “কারণ অনুগ্রহেই, বিশ্বাস দ্বারা তোমরা পরিত্রাণ পাইয়াছ; এবং ইহা তোমাদের হইতে হয় নাই; ঈশ্বরেরই দান; তাহা কর্মের ফল নয়, যেন কেহ শ্লাঘা না করে” (ইফিষীয় ২:৮, ৯)।
7. যখন আপনি বিশ্বাসে যীশুর পরিবারে যুক্ত হন, তখন আপনার জীবনে তিনি কী কী পরিবর্তন আনেন?

“কেহ যদি খ্রীষ্টে থাকে, তবে নূতন সৃষ্টি হইল; পুরাতন বিষয়গুলি অতীত হইয়াছে, দেখ, সেগুলি নূতন হইয়া উঠিয়াছে” (২ করিন্থীয় ৫:১৭)।
উত্তর:যখন আপনি খ্রীষ্টকে আপনার হৃদয়ে গ্রহণ করেন, তিনি আপনার জীবনে পরিবর্তন শুরু করেন, আপনার পুরাতন পাপময় সত্তা ধ্বংস করে, আপনাকে এক নূতন আধ্যাত্মিক মানুষে পরিণত করেন। মনে আনন্দ নিয়ে অপরাধবোধ ও অপবাদ থেকে বেরিয়ে এসে আপনি গৌরবময় মুক্তির অভিজ্ঞতা লাভ করতে শুরু করেন। আর আপনার অতীত পাপময় জীবন আপনার কাছে জঘন্য মনে হতে থাকে। আপনি দেখবেন যে শয়তানের দাস হয়ে পুরো জীবনটা কাটানো থেকে ঈশ্বরের সাথে কাটানো এক মুহূর্তটিও কত বেশী আনন্দদায়ক। কী এক বিনিময়! কেন মানুষ এটা গ্রহন করতে এত সময় অপেক্ষা করছে কেন?
8. এই পরিবর্তিত জীবনটি কি আপনার পুরাতন পাপময় জীবনের তুলনায় অধিক সুখকর হবে?
যীশু বলেন, “এই সকল কথা তোমাদিগকে বলিয়াছি, যেন ... তোমাদের আনন্দ সম্পূর্ণ হয়।” (যোহন ১৫:১১)। “পুত্র যদি তোমাদিগকে স্বাধীন করেন তবে তোমরা প্রকৃতরূপে স্বাধীন হইবে” (যোহন ৮:৩৬) “আমি আসিয়াছি, যেন তাহারা জীবন পায় ও উপচয় পায়” (যোহন ১০:১০)।

উত্তর: অনেকে মনে করেন আত্মত্যাগের ভারের কারণে খ্রীষ্টীয় জীবনটি সুখকর নয়। প্রকৃতপক্ষে এর ঠিক বিপরীতটি সত্য! আপনি যখন যীশুর ভালবাসা গ্রহণ করেন, আপনার অন্তরের আনন্দ উপচে পড়ে। এমনকি যখন চরম দুঃখের সময় আসে, তখনও খ্রীষ্টিয়ানগণ “সময়ের উপযোগী উপকারার্থে” ঈশ্বরের নিশ্চয়তাদায়ক এবং শক্তিশালী উপস্থিতিতে জয়ী হবার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন (ইব্রীয় ৪:১৬)।
9. খ্রীষ্টিয়ানগণের যা যা করণীয় তার সবই কি আপনি নিজে থেকে করতে পারবেন? 
“খ্রীষ্টের সহিত আমি ক্রুশারোপিত হইয়াছি; আমি আর জীবিত নই; খ্রীষ্টই আমাতে জীবিত আছেন” (গালাতীয় ২:২০)। “যিনি আমাকে শক্তি দেন তাঁহাতে আমি সকলই করিতে পারি” (ফিলিপীয় ৪:১৩)।
উত্তর: খ্রীষ্টিয় জীবনের সবচেয়ে বড় চমক এই: খ্রীষ্টিয়ান হিসাবে আপনি যা করেন, তা মূলত আপনার অভ্যন্তরে যীশুর জীবন-যাপনের স্বতঃস্ফূর্ত বহির্মূখী প্রবাহ। নিজেকে “বলপূর্বক” ভালো প্রমাণ করা নয়! বরং, বাধ্যতাই হবে আপনার জীবনে ঈশ্বরের অকৃত্রিম প্রেমের প্রতি স্বাভাবিক সাড়া প্রদান। ঈশ্বর হতে, এক নতুন সৃষ্টি হিসবে, জন্ম নিয়ে, আপনি তার বাধ্য হতে চাইবেন কারণ তাঁর জীবন আপনার জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে। আপনি যাকে ভালবাসেন তাকে সন্তুষ্ট করা একটি বোঝাস্বরূপ হতে পারে না; বরং আনন্দজনক হবে! “হে আমার ঈশ্বর, তোমার অভিষ্ট সাধনে আমি প্রীত, আর তোমার ব্যবস্থা আমার অন্তরে আছে” (গীতসংহিতা ৪০:৮)।
10. এর অর্থ কি এই যে দশ আজ্ঞা মেনে চলাও আমাদের কাছে কষ্টকর মনে হবে না?
“তোমরা যদি আমাকে প্রেম কর, তবে আমার আজ্ঞা সকল পালন করিবে” (যোহন ১৪:১৫)। “কেননা ঈশ্বরের প্রতি প্রেম এই, যেন আমরা তাঁহার আজ্ঞা সকল পালন করি, আর তাঁহার আজ্ঞা সকল দুর্বহ নয়” (১ যোহন ৫:৩)।
“কিন্তু যে তাঁহার বাক্য পালন করে, তাহার অন্তরে সত্যই ঈশ্বরের প্রেম সিদ্ধ হইয়াছে” (১ যোহন ২:৫)।
উত্তর: বাইবেল বাধ্যতাকে, ঈশ্বরের প্রতি অকৃত্রিম প্রেমের সঙ্গে বেঁধে দেয়। খ্রীষ্টিয়ানগণ কখনোই ১০ আজ্ঞা পালনে ক্লান্ত বোধ করবে না। যীশুর প্রায়শ্চিত্তকারী মৃত্যু আপনার সমস্ত পাপকে আচ্ছাদন করেছে; তাই আপনার বাধ্যতা আপনারই মাঝে তাঁর বিজয়ী জীবনের উপস্থিতির সঙ্গে বদ্ধমূল হয়েছে। আপনার জীবনে পরিবর্তন সাধন করেছেন বলে তাঁকে আপনি এতটাই ভালবেসেছেন যে, সে জন্য আপনি দশ আজ্ঞা পালনের বাধ্যবাধকতাকেও ছাড়িয়ে যেতে রাজি। তাঁর ইচ্ছা জানতে আপনি নিয়মিত বাইবেল অনুসন্ধান করবেন, তাঁর প্রতি আপনার প্রেম প্রদর্শন করতে আপনি নতূন নতূন মাধ্যম খুঁজবেন। "যা কিছু যাচ্ঞা করি; তাহা তাঁহার নিকটে পাই; কেননা আমরা তাঁহার আজ্ঞা সকল পালন করি এবং তাহার দৃষ্টিতে যাহা যাহা প্রীতিজনক, তাহাই করি” (১ যোহন ৩:২২)।
11. আপনি কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে দশ আজ্ঞা পালন ‘বাধ্যবাধকতা’ নয়?
“এইস্থলে সেই পবিত্রগণের ধৈর্য দেখা যায়, যাহারা ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করে ও যীশুর বিশ্বাস ধারণ করে” (প্রকাশিত বাক্য ১৪:১২)। “আর মেষশাবকের রক্ত প্রযুক্ত, এবং আপন আপন সাক্ষ্যের বাক্য প্রযুক্ত, তাহারা (পবিত্রগণ) তাহাকে (শয়তানকে) জয় করিয়াছে; আর তাহারা মৃত্যু পর্যন্ত আপন আপন প্রাণও প্রিয় জ্ঞান করে নাই” (প্রকাশিত বাক্য ১২:১১)।
উত্তর:“আইনবাদ”-এর অর্থ হল, পরিত্রাণকে একটি উপহার হিসেবে গ্রহণ করার পরিবর্তে ভালো কাজের দ্বারা অর্জনের চেষ্টা করা। বাইবেলে বর্ণিত পবিত্রগণের মধ্যে চার ধরণের চারিত্রিক বৈশিষ্ট দেখা যায়: (১) আজ্ঞা সকল পালন করা, (২) মেষ শাবকের রক্তে আস্থা রাখা, (৩) নিজের বিশ্বাস অন্যের সঙ্গে সহভাগ করা, এবং (৪) পাপ করার চেয়ে মৃত্যুবরণকে শ্রেয় মনে করা। যে ব্যক্তি খ্রীষ্টকে প্রেম করেন এবং তাঁকে অনুসরণ করতে ইচ্ছে করেন তার ভেতর সত্যিই ঐ লক্ষণগুলো দেখা যায়।
12. কীভাবে আপনি নিশ্চিত হবেন যে খ্রীষ্টের সঙ্গে আপনার সম্পর্কের মধ্যে প্রেম ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পেতে থাকবে?

“শাস্ত্র অনুসন্ধান করিয়া থাক” (যোহন ৫:৩৯)। “অবিরত প্রার্থনা কর” (১ থিষলনীকীয় ৫:১৭)। “অতএব খ্রীষ্ট যীশুকে, প্রভুকে, যেমন গ্রহণ করিয়াছ তেমনি তাঁহাতেই চল” (কলসীয় ২:৬)। “আমি প্রতিদিন মরিতেছি” (১ করিন্থীয় ১৫:৩১)।

উত্তর: কোনও ব্যক্তিগত সম্পর্কই যোগাযোগ ব্যাতিরেকে উন্নতিলাভ করে না। প্রার্থনা ও বাইবেল পাঠ করা হলো ঈশ্বরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম। আর তাঁর সঙ্গে সুসম্পর্ক বৃদ্ধি করার জন্য এগুলো অপরিহার্য। আপনার আধ্যাত্মিক জীবনকে পরিপুষ্ট করতে তাঁর বাক্য এমন একটি ‘প্রেম পত্র’ যা আপনি প্রতিদিন পড়তে চাইবেন। প্রার্থনার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে কথোপকথন আপনার ধ্যানকে গভীরতর করবে, ও আপনার মনকে একটি আরও অধিক চাঞ্চল্যকর এবং প্রগাঢ় জ্ঞানের প্রতি উন্মুক্ত করবে যেন আপনি জানতে পারেন তিনি কে এবং আপনার জীবনে তিনি কীসের অনুসন্ধান করেন। আপনাকে সুখী করার জন্য তাঁর কী কী চমকপ্রদ ব্যবস্থা প্রস্তুত, তার চমত্কার বর্ণনা আপনি জানতে পারবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, অন্যান্য ব্যক্তিগত সম্পর্কের মতই, প্রেমে শীতলতা এলে স্বর্গ ক্রীতদাসত্বে পরিণত হতে পারে। যখন আমরা খ্রীষ্টকে ও তাঁর আদর্শকে প্রেম করা থামিয়ে দিব, তখন ধর্মকে জোরপুর্বক চাপিয়ে দেয়া একগুচ্ছ বাধা-নিষেধ মনে হবে।
13. কীভাবে আপনি ঈশ্বরের সঙ্গে আপনার জীবন-পরিবর্তনকারী সম্পর্কের কথা অন্যদের জানাবেন?
“অতএব আমরা তাঁহার মৃত্যুর উদ্দেশ্যে বাপ্তিস্ম দ্বারা তাঁহার সহিত সমাধি প্রাপ্ত হইয়াছি, যেন খ্রীষ্ট যেমন পিতার মহিমা দ্বারা মৃতগনের মধ্য হইতে উত্থাপিত হইলেন, তেমনি আমরাও জীবনের নূতনতায় চলি” আমাদের পুরাতন মনুষ্য তাঁহার সহিত ক্রুশারোপিত হইয়াছে, যেন পাপ দেহ শক্তিহীন হয়, যাহাতে আমরা পাপের দাস আর না থাকি” (রোমীয় ৬:৪, ৬)। “কারণ ঈশ্বরীয় অন্তর্জ্বালায় তোমাদের জন্য আমার অন্তর্জ্বালা হইতেছে ... একই বর খ্রীষ্টের হস্তে সমর্পণ করিবার জন্য বাগদান করিয়াছি” (২ করিন্থীয় ১১:২)।
উত্তর: যে খ্রীষ্টকে গ্রহণ করেছে বাপ্তিস্ম তার জীবনের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকস্বরূপ: (১) পাপময় জীবনের মৃত্যু, (২) খীষ্টে এক নূতন জন্ম, এবং (৩) যীশুর সঙ্গে অনন্তকালব্যাপী একটি আধ্যাত্মিক “বিবাহ বন্ধন।” যত দিন আমরা তাঁর প্রেমে থাকব, এই আধ্যাত্মিক মিলন সময়ের সাথে সাথে আরও দৃঢ় এবং মধুর হবে।
ঈশ্বর আমাদের আধ্যাত্মিক বিবাহ মুদ্রাঙ্কিত করেন।
যীশুর সঙ্গে আপনার আধ্যাত্মিক বিবাহ-বন্ধনটি অনন্তকালের জন্য অটুট রাখতে ঈশ্বর আপনাকে
কখনও পরিত্যাগ না করার, (গীতসংহিতা ৫৫:২২; মথি ২৮:২০; ইব্রীয় ১৩:৫), স্বাস্থ্যে কি পীড়ায় যত্ন করবার, (গীতসংহিতা ৪১:৩; যিশাইয় ৪১:১০), এবং আপনার ভবিষ্যত জীবনের সম্ভাব্য প্রত্যেকটি প্রয়োজন মেটাবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (মথি ৬:২৫–৩৪)। আপনি যেভাবে তাঁকে বিশ্বাসে গ্রহণ করেছেন, তেমনি ভবিষ্যতে আপনার সমস্ত চাহিদার ভার তাঁর ওপর ছেড়ে দিন, তিনি কখনও আপনাকে নিরাশ করবেন না।
14. আপনি কি এ মুহূর্তেই যীশুকে আপনার জীবনে গ্রহণ এবং একটি নতুন জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনে ইচ্ছুক? ?
আপনার উত্তর:
আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর
১। কীভাবে একজন ব্যক্তির মৃত্যুতে সমগ্র মানবজাতির পাপের মুক্তিপণ পরিশোধ হতে পারে? কেমন হয় যদি আমরা এতটাই জঘন্য পাপী হই যে ঈশ্বর আমাদের উদ্ধার করবেন না?
উত্তর: যেহেতু “সকলেই পাপ করিয়াছে” (রোমীয় ৩:২৩) এবং যেহেতু “পাপের বেতন মৃত্যু”
(রোমীয় ৬:২৩), সেহেতু জন্মগ্রহন করার পর প্রত্যেক মানুষেরই একটি বিশেষ জিনিসের প্রয়োজন
আছে। কেবল মাত্র তিনিই সমস্ত মানবজাতির জন্য মরতে পারেন যার জীবন অন্ততঃপক্ষে সমস্ত
মানবজাতির জীবনের সমান। যেহেতু যীশুই সমস্ত জীবনের সৃষ্টিকর্তা ও আদিকর্তা, এই জন্য তিনি যে
জীবন বলি দিয়েছেন, তা যত লোক জীবন-যাপন করবে তাদের সবার জীবনের চেয়েও বৃহত্তর, “এই জন্য, যাহারা তাঁহা দিয়া ঈশ্বরের নিকটে উপস্থিত হয়, তাহাদিগকে তিনি সম্পূর্ণরূপে পরিত্রাণ করিতে পারেন, কারণ তাহাদের নিমিত্ত অনুরোধ করণার্থে তিনি সতত জীবিত আছেন” (ইব্রীয় ৭:২৫)।
২। যদি আমি খ্রীষ্ট এবং তাঁর ক্ষমাকে গ্রহণ করা সত্ত্বেও পুনরায় পাপে পতিত হই, তবে তিনি কি পুনরায় আমাকে ক্ষমা করবেন? ?
উত্তর: যদি আমরা আমাদের কৃত পাপ কাজের জন্য সত্যিই দুঃখিত হই এবং তা স্বীকার করি, তাহলে আমরা অবশ্যই আস্থা রাখতে পারি যে ঈশ্বর আমাদের পুনরায় ক্ষমা করবেন। “যদি আমরা আপন আপন পাপ স্বীকার করি, তিনি বিশ্বস্ত ও ধার্মিক, সুতরাং আমাদের পাপ সকল মোচন করিবে ও আমাদের সকল অধার্ম্মিকতা হইতে শুচি করিবেন” (১ যোহন ১:৯)। এ ছাড়াও মথি ৬:১২ দেখুন।
৩। কীভাবে আমি আমার পাপপূর্ণ অবস্থাতেও ঈশ্বরের কাছাকছি আসতে পারি? আমার পক্ষ হয়ে কি কোনও পুরোহিত প্রার্থনা করলে উত্তম হতো না?
উত্তর: যেহেতু যীশু মাংসিক দেহে জীবন-যাপন করে “আমাদের ন্যায় পরীক্ষিত” হয়েছেন (ইব্রীয় ৪:১৫)
এবং বিজয়ী হয়েছিলেন (যোহন ১৬:৩৩), সেহেতু তিনি আমাদের পাপ ক্ষমা করতে পারেন; এ কাজের জন্য আমাদের কোনও পার্থিব পুরোহিত কিংবা পরিচর্যাকারীর প্রয়োজন নেই। তাছাড়া, ১ তীমথিয় ২:৫ আমাদের নির্দিষ্ট করে বলে যে “ঈশ্বরের ও মনুষ্যদের মধ্যে একমাত্র মধ্যস্থও আছেন, তিনি মনুষ্য, খ্রীষ্ট যীশু।” যীশুর জীবন, মৃত্যু, পুনরুত্থান, এবং আপনার জন্য তাঁর নিরন্তর প্রার্থনার কারণেই (রোমীয় ৮:৩৪), আপনি ঈশ্বরের কাছাকছি আসতে পারেন—এবং সাহসপূর্বক তাঁর কাছে আসতে পারেন! (ইব্রীয় ৪:১৬)।
৪। আমাকে উদ্ধার করার কার্যে ঈশ্বরকে আমি কি কোনও উপায়ে সাহায্য করতে পারি?
উত্তর: না। তাঁর পরিকল্পনাটি পুরোপুরিই একটি অনুগ্রহের পরিকল্পনা (রোমীয় ৩:২৪; ৪:৫); এটি “ঈশ্বরের উপহার” (ইফিষীয় ২:৮)। এটি সত্য যে ঈশ্বর আমাদের বিশ্বাসের দ্বারা অনুগ্রহ করেন, এছাড়াও তিনি আমাদের তাঁর বাধ্য হবার জন্যেও ইচ্ছা ও শক্তি দেন। এর ফল হল তাঁর আজ্ঞার প্রতি প্রেমপূর্ণ বাধ্যতা। তাই এমন কি এই বাধ্যতাও ঈশ্বরের বিনামূল্য অনুগ্রহের ফলাফল! বাধ্যতা, প্রেমপূর্ণ সেবা ও আনুগত্য, হলো শিষ্যত্বের একটি সত্যিকারের পরীক্ষা এবং যীশু খ্রীষ্টেতে বিশ্বাসের একটি স্বাভাবিক ফল—অর্থাত্, পরিণাম।
৫। ঈশ্বর যখন আমার পাপ ক্ষমা করেন, তখনও কি আমার নিজের কোনও প্রকার প্রায়শ্চিত্ত করণীয় আছে?
উত্তর: রোমীয় ৮:১ পদ বলে, “অতএব এখন যাহারা খ্রীষ্ট যীশুতে আছে তাহাদের প্রতি কোনও দণ্ডাজ্ঞা নেই।” যীশু আমাদের অপরাধের সম্পূর্ণ প্রায়শ্চিত্ত করেছেন, আর বিশ্বাসে যে এটি গ্রহণ করে তার শুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রায়শ্চিত্তের প্রয়োজন নেই, কারণ যীশু আগে থেকেই “পাপ হইতে আমাদিগকে মুক্ত করিয়াছেন” (প্রকাশিত বাক্য ১:৫)। যিশাইয় ৪৩:২৫ এই সুন্দর প্রতিশ্রুতি বণ্টন করে: “আমি, আমিই আমার নিজের অনুরোধে তোমার অধর্ম সকল মার্জনা করি, তোমার পাপ সকল মনে রাখিব না।” মীখা ৭:১৮, ১৯ আপনার জন্য তাঁর ক্ষমার চূড়ান্ততা দেখিয়েছে: “কে তোমার তুল্য ঈশ্বর? অপরাধ ক্ষমাকারী, ও আপন অধিকারের অবশিষ্টাংশের অধর্মের প্রতি উপেক্ষাকারী! তিনি চিরকাল ক্রোধ রাখেন না, কারণ তিনি দয়ায় প্রীত। তিনি ফিরিয়া আমাদের প্রতি করুণা করিবেন; তিনি আমাদের অপরাধ সকল পদতলে মর্দিত করিবেন; হাঁ, তুমি আপন লোকদের সমস্ত পাপ সমুদ্রের অগাধ জলে নিক্ষেপ করিবে।”
সারসংক্ষেপ
দয়া করে এই প্রশ্নের সমাধান করার আগে পাঠটি পড়ে নিন। সমস্ত উত্তর আপনি এই সহায়িকা বইটিতে পেয়ে যাবেন।। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দিন। বন্ধনীর সংখ্যাগুলো (১) সঠিক উত্তরের সংখ্যা নির্দেশ করে।
১। ঈশ্বর কোন্ মহান উপহারটির মাধ্যমে মানুষকে স্বর্গের সবটুকু প্রদান করেছেন? (১)
( ) বাইবেল
( ) তাঁর মণ্ডলী
( ) যীশু খ্রীষ্ট
( ) তাঁর আজ্ঞা
২। প্রেমের সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত যা জগত আগে কখনো দেখেনি (১)
( ) রুটি এবং মাছ।
( ) ক্রুশে যীশুর মৃত্যু।
( ) পঞ্চাশত্তমী।
( ) পিতরের অঙ্গীকার।
৩। ক্রুশে খ্রীষ্টের মৃত্যুবরণ ছিল (১)
( ) সকলের জন্য।
( ) কেবল পবিত্রগণের জন্য।
( ) কেবল মন্দদের জন্য।
( ) তাদের জন্য যারা উদ্ধারের জন্য পূর্বেই নির্ধারিত ছিল।
৪। ঈশ্বর কাকে সব চাইতে বেশি ভালোবাসেন? (১)
( ) মণ্ডলীর সদস্যদের
( ) পতিতা ও চোরদের
( ) প্রত্যেককে সমানভাবে
( ) পুনর্জন্ম নেওয়া খ্রীষ্টীয়ানদের
৫) খ্রীষ্ট মানব পরিবারে জন্মেছিলেন (১)
( ) পাপের প্রায়শ্চিত্তের মূল্য দিতে।
( ) আমরা কতটা দুর্বল তা জানতে।
( ) একজন ভাল কাঠমিস্ত্রি হতে।
৬। পরিত্রাণ পেতে হলে একজন ব্যক্তিকে (১)
( ) বাইবেলের কোর্স নিতে হবে।
( ) মণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে থাকতে হবে।
( ) বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে হবে।
( ) উপহার হিসাবে এটি গ্রহণ করতে হবে।
৭। আমরা পরিত্রাণ পাই (১)
( ) ভালো কাজ করার মাধ্যমে।
( ) অনুগ্রহের মাধ্যমে।
( ) এটি পাবার আকাঙ্ক্ষা করে।
৮। ক্ষমা ও গ্রহণযোগ্যতা আমাদের জানতে সাহায্য করে যে (২)
( ) পাপ কাজ চালিয়ে যাওয়া যায়।
( ) প্রত্যাখ্যান করা সুখের জন্য আক্ষেপ করবো।
( ) আনন্দ ও শান্তি আছে।
( ) অনন্ত জীবনের আশ্বাস আছে।
৯। বাধ্যতা নির্ভর করবে (১)
( ) নরককে ভয় পাবার উপর।
( ) বন্ধুদের সমর্থন লাভের ইচ্ছায়।
( ) যীশুর উপস্থিতির/যীশুর প্রতি প্রেমের উপর।
১০। খ্রীষ্টীয় আচরণ, কিংবা দশ আজ্ঞা পালন হল (১)
( ) আইনবাদ।
( ) সত্যিকারের পরিবর্তনের একটি ফল।
( ) গুরুত্বহীন।
১১। খ্রীষ্টের সঙ্গে আধ্যাত্মিক বিবাহ-বন্ধনের প্রতীক হলো (১)
( ) একটি মঠ কিংবা আশ্রমে মিলিত হওয়া।
( ) বাপ্তিস্ম নেওয়া।
( ) ডান হাতে বিবাহের আংটি পরিধান করা।
( ) কৌমার্য পালনের শপথ নেওয়া।
১২। খ্রীষ্টের সঙ্গে প্রেমে থাকার দুটি সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় হলো (২)
( ) প্রত্যহ বাইবেল পাঠ।
( ) উদারভাবে দান করা।
( ) শুকর ভক্ষণ না করা।
( ) নিরন্তর প্রার্থনার মনোভাব পোষণ করা।
১৩। আমি যীশুকে আমার জীবনে গ্রহণ করতে এবং নতুন জন্মের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ইচ্ছা করি।
( ) হ্যাঁ।
( ) না।
( ) ইতিমধ্যেই করেছি।





