Lesson 19

বিচারকমন্ডলী রায়দান উল্লেখ করলেন, বিচারপর্ব সমাপ্ত হল। এভাবেই একদিন আমাদের সকলের বিচার হবে ঈশ্বরের সম্মুখে এবং কার্য্যানুসারে, (২ করিন্থীয় ৫:১০)। কিন্তু এতে আপনি আশ্চার্য হবেন না, কিন্তু সাহস রাখবেন! কারণ ঈশ্বর সর্বজ্ঞ। বিচারের এই বার্তা প্রতিটি মানুষ জানেন, প্রতিটি মানুষকে সচেতন করা হয়েছে এই অধ্যয়ন পুস্তিকাতে। বাইবেলে সহস্রবারেরও অধিক বিচার সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। প্রতিটি পুস্তকে উল্লেখিত হয়েছে। এটিকে দৈর্ঘ প্রস্থে বড় করা যায়না কেননা এটি বাইবেলের ভবিষ্যৎবাণী, আনুষাঙ্গিক বিষয়ে আসুন পুনরায় পর্য্যালোচনা করি। বিচারপর্ব কি, কেন তা আবশ্যক? বি: দ্র: অন্তিম বিচারের তিন পর্ব-পড়ার সময় তা লক্ষ্য করুন।

শেষ বিচারের প্রথম পর্ব :

1. স্বর্গদূত গ্যাব্রিয়েল দানিয়েলয়েলকে ১৮৪৪ এর বিচারের ভবিষ্যৎবাণীটি দেন। বিচার পর্বের প্রথম পর্ব যীশুর দ্বিতীয় আগমনের পূর্ব্বেই শুরু হবার বিষয়টিকে প্রাক আগমন বিচার পর্ব বলা হয়। কোন দলের লোকেরা শেষ বিচারের প্রথম পর্বে-অন্তর্ভুক্ত হবে? কখন এটি সমাপ্ত হবে?

“কেননা ঈশ্বরের গৃহে বিচার আরম্ভ হইবার সময় হইল; আর যদি তাহা প্রথমে আমাদিগেতে আরম্ভ হয়, তবে যাহারা ঈশ্বরের সুসমাচারে অবাধ্য, তাহাদের পরিণাম কি হইবে?” (১ পিতর ৪:১৭) “যে অধর্ম্মাচারী, সে ইহার পরেও অধর্ম্মাচারণ করুক, এবং যে কলুষিত, সে ইহার পরেও কলুষিত হউক। দেখ, আমি শীঘ্র আসিতেছি, এবং আমার দাতব্য পুরস্কার আমার সহবর্তী, যাহার যেমন, কার্য্য, তাহাকে তেমন ফল দিব” (প্রকাশিত বাক্য ২২:১১, ১২)।

উত্তর: যীশুর দ্বিতীয় আগমনের ঠিক পূর্বে সমাপ্ত হবে। (১৮৪৪ সালে শুরু হয়েছে, যা অধ্যায়ন পুস্তিকা ১৮ তে বর্ণনা করা হয়েছে)। মৃত, জীবিত যাঁরা নিজেদের খ্রীষ্টান হিসাবে দাবী করেন, (ঈশ্বরের গৃহ) তারাই প্রাক - আগমন বিচারপর্বের অংশীদার হবে।

2. ঐ বিচারপর্বে কে পৌরহিত্য করবেন? প্রতিপক্ষ হিসাবে কে থাকবেন? বিচারপতি কে? দোষী কে? সাক্ষী কে?

“আমি দৃষ্টিপাত করিতে করিতে কয়েকটি সিংহাসন স্থাপিত হইল, এবং অনেক দিনের বৃদ্ধ উপবিষ্ট হইলেন, তাঁহার পরিচ্ছদ হিমানীর ন্যায় শুক্লবর্ণ এবং তাঁহার মস্তকের কেশ বিশুদ্ধ মেঘলোমের তুল্য। তাঁহার সিংহাসন অগ্নি শিক্ষাময়, তাঁহার চক্র সকল জলন্ত অগ্নি। তাঁহার সম্মুখ হইতে অগ্নির স্রোত নির্গত হইয়া বহিতে ছিল; সহস্রের সহস্র তাঁহার পরিচর্য্যা করিতেছিল। এবং অযুতের অযুত তাঁহার সম্মুখে দন্ডায়মান ছিল, বিচার বসিল, এবং পুস্তক সকল খোলা হইল।” (দানিয়েল ৭:৯, ১০)। পিতার কাছে আমাদের এক সহায়ক আছে, যিনি খ্রীষ্ট (১ যোহন ২:১)। “পিতার ... ন্যায় করার সব ক্ষমতা পুত্রের হাতে সমর্পণ করেছেন” (যোহন ৫:২২)। শয়তান। ... যিনি আমাদের ভ্রাতাদের প্রতি আরোপ করে ... তার পতন হল (প্রকাশিত বাক্য ১২:৯, ১০)। যিনি উকিল আর বিশ্বাসযোগ্য আর সাক্ষী, আর ঈশ্বরের সৃষ্টির মূল কারণ” তিনি বলেন (প্রকাশিত বাক্য ৩:১৪), (কলসীয় ১:১২-১৫)।

উত্তর: ঈশ্বর পিতা, যিনি আদিকাল হইতে, তিনি পৌরোহিত্য করবেন বিচারকার্য্যের। তিনি আপনাকে অনেক প্রেম করেন (যোহন ১৬:২৭)। শয়তান হল দোষারোপকারী। স্বর্গীয় বিচারালয়ে যীশু যিনি আপনাকে ভালোবাসেন, যিনি আপনার প্রিয় বন্ধু, তিনি আপনার পক্ষে সাক্ষী দেবেন, তিনিই বিচারপতি এবং তিনিই সাক্ষী বহন করবেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, বিচারের রায় ধার্মিকের পক্ষেই কার্য্যকর হবে। (পবিত্রগনের রাজত্ব ভোগের সময় উপস্থিত হইল” (দানিয়েল ৭:২২)। কারণ পিতা আপনি তোমাদিগকে ভালবাসেন, কেননা তোমরা আমাকে ভালবাসিয়াছ, এবং বিশ্বাস করিয়াছ যে, আমি ঈশ্বরের নিকট হইতে বাহির হইয়া আসিয়াছি”।

3. প্রাক-আবির্ভাবের বিচারে ব্যবহৃত প্রমাণের উৎস কী? কোন মানদন্ডে সব বিচার করা
হবে? যেহেতু ঈশ্বর ইতিমধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির সম্পর্কে সবকিছু জানেন, কেন তবে বিচারের প্রয়োজন আছে?

“বিচার বসিল এবং পুস্তক সকল খোলা হইল (দানিয়েল ৭:১০)। “মৃতেরা পুস্তকসমূহে লিখিত প্রমাণে “আপন আপন কার্য্যানুসারে” বিচারিত হইল” (প্রকাশিত বাক্য ২০:১২)। “তোমরা স্বাধীনতার ব্যবস্থা দ্বারা বিচারিত হইবে”
(যাকোব ২:১২)। “আমরা জগতের ও দূতগণের ও মনুষ্যদের কৌতুকাস্পদ হইয়াছি” (১ করিন্থীয় ৪:৯)।

Answer

উত্তর: এই আদালতের প্রমাণ সেই “বই” থেকে আসবে যেখানে একজনের জীবনের সমস্ত বিবরণ লিপিবদ্ধ করা হয়। বিশ্বস্তদের জন্য, প্রার্থনা, অনুতাপ এবং পাপের ক্ষমার নথি সকলের দেখার জন্য সেখানে থাকবে। নথি প্রমাণ করবে যে ঈশ্বরের শক্তি খ্রীষ্টানদের পরিবর্তিত জীবনযাপন করতে সক্ষম করে। ঈশ্বর তাঁর সাধুদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তাদের জীবনের প্রমাণ ভাগ করে নিতে আনন্দিত হবেন। বিচার নিশ্চিত করবে যে “যারা খ্রীষ্ট যীশুতে আছে তাদের জন্য কোন নিন্দা নেই, যারা মাংস অনুসারে চলে না, কিন্তু আত্মা অনুসারে চলে” (রোমীয় ৮:১)।দশ আজ্ঞার বিধানই ঈশ্বরের বিচারের মানদণ্ড (যাকোব ২:১০-১২)। তাঁর বিধি লঙ্ঘন করা মানেই পাপ করা (১ যোহন ৩:৪)। যীশু তাঁর সমস্ত জনগণের মধ্যে এই বিধির ধার্মিকতা পূর্ণ করবেন (রোমীয় ৮:৩-৪)। যদি কেউ বলে যে এটি সম্ভব নয়, তাহলে সে যীশুর বাক্য ও তাঁর শক্তির প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করছে।
এটা অসম্ভব বলে দাবি করার মানে যীশুর কথা এবং তাঁর শক্তিকে সন্দেহ করা। বিচার ঈশ্বরকে জানানো নয়। তিনি ইতিমধ্যে সম্পূর্ণরূপে জানেন (২ তীমথিয় ২:১৯)। বরং, মুক্তিপ্রাপ্তরা এমন একটি জগৎ থেকে স্বর্গে আসবেন যা পাপের দ্বারা অধঃপতিত হয়েছে। দূত এবং অবিস্কৃত জগতের বাসিন্দারা উভয়েই অবশ্যই ঈশ্বরের রাজ্যে এমন কাউকে প্রবেশ করা নিয়ে অস্বস্তি বোধ করবে যে আবার পাপ শুরু করতে পারে। সুতরাং, বিচার তাদের জন্য প্রতিটি বিস্তারিত উন্মুক্ত করবে এবং প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেবে। শয়তানের আসল লক্ষ্য সর্বদা ঈশ্বরকে অন্যায্য, নির্মম, প্রেমহীন এবং অসত্য হিসাবে অসম্মান করা। এটি মহাবিশ্বের সমস্ত প্রাণীর জন্য এটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে যে এটি সরাসরি দেখা যায় যে ঈশ্বর পাপীদের সাথে কতটা ধৈর্যশীল ছিলেন। ঈশ্বরের চরিত্রের সত্যায়ন হল বিচারের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য (প্রকাশিত বাক্য ১১:১৬-১৯; ১৫:২-৪; ১৬:৫, ৭;
১৯:১, ২; দানিয়েল ৪:৩৬, ৩৭)। উল্লেখ্য যে তিনি যেভাবে বিচার পরিচালনা করেন তার জন্য প্রশংসা এবং গৌরব ঈশ্বরকে দেওয়া হয়।

4. What portion of a person’s life is considered in the pre-advent judgment? What will be confirmed? How will rewards be decided?4. মানুষের জীবনের কোন অংশ এই প্রাক আগমন বিচারপর্বে নির্ধারীত হয়? কি নিশ্চিত হবে? কিভাবে পুরস্কার দত্ত হবে?

“ঈশ্বর আমাদের সমস্ত গোপন কথা ভালো ও মন্দ, সমস্ত কিছুই বিচারে আনবেন” (উপদেশক ১২:১৪)। “শস্য ছেদনের সময় পর্য্যন্ত (উভয়কে একত্রে বাড়িতে দেও), পরে ছেদনের সময় আমি ছেদকদের বলিব, তোমরা
প্রথমে শ্যামাঘাস সংগ্রহ করিয়া পোড়াইবার জন্য বোঝা বাঁধিয়া রাখ, কিন্তু গম আমার গোলায় সংগ্রহ কর ...” (মথি ১৩:৩০, ৪১)। “দেখ” আমি শীঘ্র আসিতেছি; এবং আমার দাতব্য পুরস্কার আমার সহবর্তী, যাহার যেমন কার্য তাহাকে তেমন ফল দিব (প্রকাশিত বাক্য ২২:১২)।

উত্তর: জীবনের সবিস্তার পর্য্যালোচনা হবে, এমনকি চিন্তা ভাবনা ও গোপনীয় কার্য্যাদি সম্বন্ধে আলোচনা হবে। এজন্যই বিচারপর্বের প্রথম পর্য্যায়কে “অনুসন্ধান মূলক বিচার “বলা হয়। এই তদন্তে স্পষ্ট হবে, কারা নিজেদের খ্রীষ্টের অনুগামী ভাবেন, আদৌ কি তাঁরা সঠিক? আমাদের কার্য্যাদির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আমাদের পুরস্কার, যার দ্বারা প্রমাণিত হবে খ্রীষ্টের প্রতি আস্থাশীলতার যথার্থতা। যদিও আমরা অনুগ্রহে জীবিত, তবুও বিচার আমাদের কর্ম ও আচার ব্যবহারের উপর নির্ধারিত হবে-যা খ্রীষ্টের উপর বিশ্বাসকে বাস্তবিক ভাবে প্রমাণ করে। “বাস্তবিক যেমন আত্মাবিহীন দেহ মৃত, তেমনি কর্মবিহীন বিশ্বাসও মৃত” (যাকোব ২:২৬)।

অন্তিম বিচারের দ্বিতীয় পর্য্যায়

5. প্রকাশিত বাক্য ২০ অধ্যায় অনুযায়ী, ১০০০ বৎসর ব্যাপী স্বর্গীয় বিচারে কোন দল অংশগ্রহণ করবে? এই দ্বিতীয় পর্য্যায়ের বিচারের উদ্দেশ্য কি?

“তোমরা কি জান না যে, পবিত্রগণ জগতের বিচার করিবেন? আর জগতের বিচার যদি তোমাদের দ্বারা হয়, তবে তোমরা কি যৎসামান্য বিষয়ের বিচার করিবার অযোগ্য? তোমরা কি জান না যে আমরা দূতগনের বিচার করিব, ইহজীবন সংক্রান্ত বিষয় তো সামান্য কথা” (১ করিন্থীয় ৬:২, ৩)। “পরে আমি কয়েকটি সিংহাসন দেখিলাম, সেগুলির উপর কেহ কেহ বসিলেন, তাহাদিগকে বিচার করিবার ভার দত্ত হইল” (প্রকাশিত বাক্য ২০:৪)।

Answer

উত্তর: সমস্ত পবিত্রগণ যারা পরিত্রান প্রাপ্ত সমস্ত বয়সের লোকেরা, যাদের প্রভু যীশু তার দ্বিতীয় আগমনে স্বর্গে নিয়ে যাবেন, তাঁরাই বিচারের দ্বিতীয় পর্য্যায়ে অংশগ্রহণ করবেন। যেমন ধরুন এক পরিবারের এক পুত্রকে হত্যা করা হয়েছে, স্বর্গে নেই-কিন্তু হত্যাকারী আছে। নিঃসন্দেহে কিছু কিছু উত্তর জানতে চাইবে। বিচারের এই দ্বিতীয় পর্যায়ে সেই সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে। প্রতিটি অবিশ্বস্ত লোকেদের, শয়তান ও তাঁর সঙ্গী দূতগণ সহ বিচারের সম্মুখীন হবে, তাঁরা বিশ্বাসীগণ কর্ত্তৃক বিচারিত হবে ও শাস্তিভোগ করবে অনন্ত মৃত্যুর। সকলে জানতে পারবে যে ন্যায় কখন একদিকের পক্ষে নয়। এর কারণ হল, মানুষের পছন্দের উপর নির্ধারণ করবে কি সে যীশুকে না অন্য স্বামীকে সেবা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল (প্রকাশিত বাক্য ২২:১১, ১২)। (১০০০ বছরের বিষয়ে জানার জন্য অধ্যায়ন পুস্তিকা ১২ দেখুন)।

অন্তিম বিচার পর্ব

6. কোথায় এবং কখন অন্তিম বিচারের তৃতীয় পর্য্যায় শুরু হবে? ঐ পর্য্যায়ে কোন নতুন দল যোগদান করবে?

“আর সেই দিন তাঁহার চরণ সেই জৈতুন পর্ব্বতের উপরে দাঁড়াইবে। যাহা যিরূশালেমের সম্মুখে পূর্ব্বদিকে অবস্থিত; তাহাতে জৈতুন পর্ব্বতের মধ্যদেশ পূর্ব্বদিকে ও পশ্চিমদিকে বিদীর্ণ হইয়া অতি বৃহৎ উপত্যকা হইয়া যাইবে, পর্ব্বতের অর্দ্ধেক উত্তরদিকে ও অর্দ্ধেক দক্ষিণ দিকে সরিয়া যাইবে। ... হ্যাঁ তোমরা পলায়ন করিবে, যেমন যিহূদা রাজ উষিয়ের সময় ভুমিকম্পের সম্মুখ হইতে পলায়ন করিয়াছিলে, আর আমার সদাপ্রভু আসিবেন, তোমার সঙ্গে পবিত্রগণ সকলেই আসিবেন” (সখরিয় ১৪:৪, ৫ ও ১০ পড়ুন)। আমি পবিত্র নগরী জেরুশালেম স্বর্গ হইতে নামিয়া আসিতে দেখিলাম (প্রকাশিত বাক্য ২১:২)। যখন হাজার বছর সমাপ্ত হবে তখন শয়তান। ... যুদ্ধের জন্য সকলকে একত্র করবে (প্রকাশিত বাক্য ২০:৭, ৮)।

Answer

উত্তর: সহস্র বছরের সমাপ্তিতে বিচারের তৃতীয় পর্য্যায় শুরু হবে, এই পৃথিবীতে যীশু যখন
পবিত্র নগর নিয়ে আসবেন, তখন দুষ্টদেরই (শয়তান সহ, দুষ্ট দূতগণ সহ) উত্থান হবে। (প্রকাশিত বাক্য ২০:৫)। এরপর শয়তান দুষ্টদের সঙ্গে মন্ত্রণা করে, একত্রিত হয়ে পবিত্র নগর দখল করতে উদ্যত হবে। শয়তান ওদের আরও একবার ভ্রান্তি জন্মানোর জন্য এক শক্তিশালী প্রচার অভিযান শুরু করবে। আশ্চার্যজনক! সে পৃথিবীর জাতির উপর বিশ্বাস দিতে সফল হবে কি যে তারা পবিত্র নগরীর উপর আক্রমণ করতে সক্ষম হবে। দুষ্টেরা পবিত্র নগরের উপর হামলা করার চেষ্টা করবে।

The wicked will try to attack the holy city.7. এরপর কি হবে?

“তাহারা পৃথিবীর বিস্তার দিয়া আসিয়া পবিত্রগনের শিবির এবং প্রিয় নগরটি ঘেরিল” (প্রকাশিত বাক্য ২০:৯)।

উত্তর: দুষ্টেরা নগরকে ঘিরে নেবে ও যুদ্ধের জন্য তৈরি হবে।

8. তাঁদের যুদ্ধ পরিকল্পনায় কি বাধা এসেছিল, পরিণতিই বা কি হয়েছিল?

“আর আমি দেখিলাম, ক্ষুদ্র ও মহান সমস্ত মৃত লোক সেই সিংহাসনের সম্মুখে দাঁড়াইয়া আছে; পরে কয়েকখান পুস্তক খোলা গেল, এবং আর একখানি পুস্তক, অর্থাৎ জীবন পুস্তক খোলা গেল, এবং মৃতেরা পুস্তক সম্মূহে লিখিত প্রমানে আপন আপন কার্য্যানুসারে বিচারিত হইল” (প্রকাশিত বাক্য ২০:১২)। “কারণ আমাদের সকলকেই খ্রীষ্টের বিচারাসনের সম্মুখে প্রত্যক্ষ হইতে হইবে, যেন সৎকার্য্য হউক, কি অসৎকার্য্য হউক, প্রত্যেক জন আপনার কৃতকার্য্য অনুসারে দেহ দ্বারা উপার্জ্জিত ফল পায়” (২ করিন্থীয় ৫:১০)। “প্রভু কহিতেছেন, আমার জীবনের দিব্য, আমার কাছে প্রত্যেক জানু পাতিত হইবে, এবং প্রত্যেক জিহ্বা ঈশ্বরের গৌরব স্বীকার করিবে।” সুতরাং আমাদের প্রত্যেক জনকে ঈশ্বরের কাছে আপন আপন নিকাশ দিতে হইবে” (রোমীয় ১৪:১১, ১২)।

উত্তর: হঠাত্ নগরের উপরে ঈশ্বরের আবির্ভাব ঘটবে, (প্রকাশিত বাক্য ১৯:১১-২১) সত্যের সেই সময় এসে গেছে। বিশ্বের আরম্ভ থেকে সমস্ত বিনষ্ট আত্মা এবং শয়তান ও তার দূতসহ ঈশ্বরের সেই বিচারের অপেক্ষায় আছে। রাজাদের রাজার, উপর প্রত্যেক চোখ থাকবে, (প্রকাশিত বাক্য ২০:১২)।

প্রতিটি জীবনের পর্যালোচনা:

এই সময়ে, প্রতিটি হারিয়ে যাওয়া আত্মা তার নিজের জীবনের গল্প স্মরণ করবে: ঈশ্বরের ধ্রুবক, উষ্ণ, অনুশোচনা করার আহ্বান; সেই নিবেদন, এখনও মৃদু আহ্বান; ভয়ঙ্কর প্রত্যয় যে প্রায়ই আসে; সাড়া না দিয়ে বারবার প্রত্যাখ্যান। এগুলি সবকিছু মনে পড়বে। এর যথার্থতা অনস্বীকার্য। এর বাস্তবতা। ঈশ্বর চান দুষ্টরা সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারে। তিনি সমস্ত জিনিস পরিষ্কার করার জন্য পছন্দসই সব বিবরণ প্রদান করবেন। পুস্তকে সমস্ত নথি থাকবে। “বড় করে লেখা হবে” : ঈশ্বর কোনো জিনিসকে স্বর্গীয় রূপ থেকে আবদ্ধের সাথে জড়িত না। তিনি কোনো প্রমাণ নষ্ট করেননি। লুকানোর কিছু নেই। সবকিছু খোলা আছে, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যারা বেঁচে ছিল এবং সমস্ত ভাল এবং খারাপ দূত সকল ঘটনাগুলি দেখবে।అందుబాటులో ఉన్నాయి.Wicked bowing down

পাপীরা নতজানু হবে:

হঠাত্ একটা আন্দোলন হয়। একজন হারানো আত্মা নতজানু হয়ে তার অপরাধ স্বীকার করবে এবং
খোলাখুলিভাবে স্বীকার করবেন যে ঈশ্বর তার সাথে ন্যায্য প্রেমী, থেকেও বেশি ছিলেন। তার নিজের একগুঁয়ে অহংকার তাকে সাড়া দিতে বাধা দেয়। এবং এখন সব দিকে, মানুষ এবং মন্দ দূত একইভাবে হাঁটু গাড়বে (ফিলিপীয় ২:১০, ১১)। তারপরে একটি মহত্, প্রায় একই আলোড়ন হবে, সমস্ত অবশিষ্ট মানুষ এবং শয়তান
সহ মন্দ দূতরা ঈশ্বরকে দণ্ডবত্ করবে (রোমীয় ১৪:১১)। তারা প্রকাশ্যে সমস্ত মিথ্যা অভিযোগ থেকে ঈশ্বরের নাম পরিষ্কার করে এবং তাদের প্রতি তাঁর প্রেমময়, ন্যায্য, করুণাময় আচরণের সাক্ষ্য দেবে।

সকলেই স্বীকার করে মৃত্যুদণ্ড তাদের ন্যায্য:

সকলেই স্বীকার করে যে তাদের উপর উচ্চারিত মৃত্যুদণ্ড ন্যায্য—একমাত্র নিরাপদ উপায় পাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। প্রত্যেকটি বিনষ্ট ব্যক্তি বলবে,। প্রতিটি হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির সম্পর্কে বলা যেতে পারে, “যদিও তারা নিজেকে ধ্বংস করেছ” (হোশেয় ১৩:৯)। তখন মহাবিশ্বের সামনে ঈশ্বর যে ন্যায় তার প্রমাণ হবে। শয়তানের অভিযোগ এবং দাবিগুলি একজন কঠোর পাপীর বিকৃত মিথ্যা হিসাবে উন্মোচিত হবে।

Fire from heaven will eradicate sin and sinners for eternity.কোন অন্তিম পদক্ষেপে পাপ পৃথিবী থেকে স্বমূলে উৎপাটিত হবে? এবং পবিত্রগনের নিমিত্ত একটা নিশ্চিত বাসস্থান ও ভবিষ্যৎ হবে?

তাহারা পৃথিবীর বিস্তার দিয়া আসিয়া পবিত্রগণের শিবির এবং প্রিয় নগরটী ঘেরিল; তখন “স্বর্গ হইতে অগ্নি পড়িয়া তাহাদিগকে গ্রাস করিল।” তাহাদের ভ্রান্তিজনক দিয়াবল “অগ্নি ও গন্ধকের হ্রদে নিক্ষিপ্ত হইল, (প্রকাশিত বাক্য ২০:৯, ১০) “দুষ্ট তোমাদের পদতলের অধঃস্থিত ভস্ম হইবে” (মালাখি ৪:৩)। দেখ, আমি নূতন আকাশমণ্ডলের ও নূতন পৃথিবীর সৃষ্টি করি; (যিশাইয় ৬৫:১৭) “আমরা এমন নূতন আকাশ মন্ডলের ও নূতন পৃথিবীর অপেক্ষায় আছি, যাহার মধ্যে ধার্ম্মিকতা বসতি করে” (২ পিতর ৩:১৩)। “তিনি তাহাদের সহিত বাস করিবেন, এবং তাঁহারা তাঁহার প্রজা হইবে, এবং ঈশ্বর আপনি তাঁহাদের সঙ্গে থাকিবেন ও তাঁহাদের ঈশ্বর হইবেন” (প্রকাশিত বাক্য ২১:৩)।

উত্তরঃ স্বর্গ থেকে আগুন দুষ্টদের উপর পড়বে। আগুন সম্পূর্ণরূপে পাপ এবং যারা তাদেরকে পাপের সাথে প্রেম রাখে তাদের মহাবিশ্ব থেকে চিরতরে নির্মূল করবে। (নরকের আগুন সম্পর্কে সম্পূর্ণ বিশদ বিবরণের জন্য স্টাডি গাইড ১১ দেখুন।) এটি ঈশ্বরের লোকেদের জন্য গভীর দুঃখ এবং মানসিক অবসাদের সময় হবে। কার্যত প্রত্যেক ব্যক্তির প্রিয়জন বা বন্ধু আগুনে থাকবে। যে দূতেরা তাদের রক্ষা করেছিল তাদের বিনাশের সময় তারা রোদন করবে যাদেরকে তারা বছরের পর বছর রক্ষা ও প্রেম করে আসছিল। খ্রীষ্ট নিঃসন্দেহে তাদের জন্য কাঁদবেন যাদের তিনি এতদিন ভালোবাসতেন এবং নিবেদন করতেন। সেই ভয়ঙ্কর মূহুর্তে,—আমাদের প্রেমময় পিতা—ঈশ্বরের মর্মভেদী দুঃখ বর্ণনাতীত৷World in his hands

নতুন স্বর্গ এবং পৃথিবী:

তারপর প্রভু তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত লোকদের সমস্ত অশ্রু মুছে দেবেন (প্রকাশিত বাক্য ২১:৪) এবং তাঁর সাধুদের জন্য নতুন স্বর্গ এবং একটি নতুন পৃথিবী তৈরি করবেন। এবং সর্বোপরি, তিনি অনন্তকাল ধরে তাঁর লোকেদের সাথে এখানে থাকবেন।

The sacrificed animal represented Jesus' sacrifice on the cross.10. পুরাতন নিয়মে ধর্ম্মধামে প্রায়শ্চিত্ত দিন ঈশ্বর কিরূপে পাপকে স্বমূলে উৎপাটন করে পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের পরিকল্পনার বিচারের প্রতীক হিসাবে পরিগণিত হয়?

উত্তর: অধ্যায়ন পুস্তিকা ২ তে আমরা শিখেছিলাম যে শয়তান ঈশ্বরের উপর মিথ্যা আরোপ লাগিয়েছিলেন, যার কারণে পৃথিবীতে পাপের দুষ্টতা আসে। শয়তান, ঈশ্বর ও তাঁর প্রর্বতিত ব্যবস্থাকে সর্বদা মানুষের মাধ্যমে ক্ষুন্ন করার প্রচেষ্টায় ব্রতী। প্রায়শ্চিত্ত দিনের কার্য্যবলীর মাধ্যমে ঈশ্বর ইস্রায়েলদের সময় শান্তি প্রত্যাবর্ত্তনের ব্যবস্থা করেছিলেন। পার্থিব ধর্ম্মধামে কিছু প্রতীকী পদক্ষেপ নেওয়া হত। (প্রায়শচিত্তর অর্থ হলো “সমস্ত কিছু সম্পূর্ন সমন্বয় বজায় রাখা”)। পৃথিবীতে পবিত্র স্থানে এটি ছিল একটি প্রতীকী।

ক। ঈশ্বরের নামাঙ্কিত ছাগ হননের মাধ্যমে পাপীদের পাপ আচ্ছাদন করা হত

খ।মহাযাজক ঐ রক্ত অনুগ্রহ সিংহাসনের সম্মুখে উত্সর্গ করত

গ।বিচারপর্ব ক্রমানুযায়ী হত :

(1)পবিত্রগণ নিশ্চিত হতেন
(2) অবিশ্বাসীগণকে বিনষ্ট করা হত
(3) পাপের সমস্ত নথি ধর্ম্মধাম থেকে পরিষ্কার করা হত।

D. এরপর ঐ শয়তানের নামাঙ্কিত ছাগের উপর পাপের ভার দত্ত হত

E. এরপর ঐ দিয়াবলের নামাঙ্কিত ছাগটিকে নির্জন স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হত

F. এইভাবে ব্যক্তির পাপ মুক্ত হত, ও ধর্ম্মধাম শুচি হত

G. এভাবে নতুন বছরে সবকিছু আবর্জনা মুক্ত থাকত

এই মহত্ প্রায়শ্চিত্ত কালীন ঘটনা আক্ষরিক ভাবে স্বর্গীয় ধর্মধামের ছায়া স্বরূপ যাহা মহাবিশ্বের কাছে ঈশ্বরের স্বর্গীয় স্থানের প্রতিবিম্ব। উপরের দেওয়া তালিকা নিচের দেওয়া তালিকার প্রতীকীকরন, ইত্যাদি। লক্ষ্য করুন কত স্পষ্টভাবে ঈশ্বর এই মহান প্রায়শ্চিত্তের ঘটনা গুলিকে পতীকী করেছেন:

ক। ঈশ্বর / যীশু ত্যাগস্বীকার করে মানুষের পরিবর্ত্তে নিজেই উত্সর্গীকৃত হয়েছেন (১ করিন্থীয় ১৫:৩; ৫:৭)

খ।যীশু, আমাদের মহাযাজক হিসাবে মানুষকে ঈশ্বরের প্রতিমূর্ত্তিতে সংরক্ষিত করেন
(রোমীয় ৮:২৯, ইব্রীয় ৪:১৪-১৬)।

গ।ন্যায় পুনঃস্থাপন করার জন্য বিচারের নথি ভাল- মন্দ সমন্বিত থাকে পরবর্ত্তীতে পাপের নথিগুলি স্বর্গীয় ধর্ম্মধাম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। (প্রেরিত ৩:১৯-২১, প্রকাশিত বাক্য ২০:১২)।

ঘ।শয়তানই পাপের উৎপত্তি এবং মানুষকে পাপে প্ররোচিত করার জন্য চূড়ান্ত দায়ী।
(১ যোহন ৩:৮, প্রকাশিত বাক্য ২২:১২)।

ঙ। শয়তান অগাধলোকে ফেলে দেওয়া যাবে (প্রকাশিত বাক্য ২০ অধ্যায় অনুযায়ী ১০০০
বছর পর্যন্ত)।

চ। শয়তান, পাপ ও যাঁরা পাপের প্রতি অনুরক্ত তাঁরা স্বমূলে উত্পাটিত হবে (গীতসংহিতা ৩৭:১০, ২০; প্রকাশিত বাক্য ২০:১০; ২১:৮; নহূম ১:৯)

ছ। নতুন পৃথিবী ঈশ্বরের লোকেদের জন্য নির্মিত হবে। পাপের দ্বারা হৃত সবকিছুই পবিত্রগণ ফিরে পাবে। (২ পিতর ৩:১৩; প্রেরিত ৩:২০:২১)।

প্রায়শ্চিত্ত ততক্ষণ শেষ হবে না যতক্ষণ না পাপ সমাপ্ত করে পুনরায় না ফিরিয়ে আনা হয় - এর ফলে আর কখনো পাপের উদ্ভব হবে না।

11. এই সহায়ক পুস্তকে প্রকাশিত বিচার সম্বন্ধে আমরা কি শুভ বার্তা লাভ করি?

উত্তর: নীচে সংক্ষেপে আপনাদের জন্য শুভ বার্তাগুলি বর্ণিত হল।

ক। পাপ সমস্যা সমাধানে ঈশ্বরের ভূমিকা সমস্ত পৃথিবীর সম্মুখে উন্মুক্ত হবে; এবং তাঁকে ধন্য বলা যাবে। এটিই বিচারের মূল লক্ষ্য (প্রকাশিত বাক্য ১৯:২)।

খ। বিচার ঈশ্বরের লোকেদের পক্ষে হবে (দানিয়েল ৭:২১, ২২)।

গ। ধার্ম্মিকগন পাপমুক্ত হয়ে চিরন্তন/অনন্ত জীবনের অধিকারী হবে (প্রকাশিত বাক্য ২২:৩-৫)।

ঘ। পাপ সমূলে উত্পাটিত হবে, আর কখোনই পাপের উদ্ভব হবে না (নহূম ১:৯)।

ঙ। পাপের দ্বারা আদম ও হবা যা কিছু হারিয়েছিল সবকিছুই পুনরুদ্ধার ও পুন:স্থাপিত হবে
(প্রকাশিত বাক্য ২১:৩-৫)।

চ।দুষ্টুদের বিনষ্ট করা হবে - অনন্তকালীন যাতনা দেওয়া হবে না (মালাখি ৪:১)।

ছ। বিচার পর্বে যীশুই, বিচারক, উকিল ও সাক্ষী (যোহন ৫:২২; ১ যোহণ ২:১;
প্রকাশিত বাক্য ৩:১৪)।

জ। পিতা ও পুত্র উভয়েই আমাদের প্রেম করেন। কেবল শয়তান যে আমাদের দোষী করে
(যোহন ৩:১৬; ১৭:২৩; ১৩:১; প্রকাশিত বাক্য ১২:১০)।

ঝ। স্বর্গীয় পুস্তক পবিত্রগনের সহায়ক হবে, কারণ তা দেখাবে ঈশ্বর কিভাবে তার লোকদের পরিত্রানের নেতৃত্ব দিয়েছে। (দানিয়েল ১২:১)।

ঞ।যাহারা খ্রীষ্টে তাদের কোনো দন্ডাজ্ঞা নেই কেননা খ্রীষ্টে অবস্থানকারীগনের বিচার, তাঁদের পক্ষেই যাবে (রোমীয় ৮:১)।

ট। একটি আত্মা ও (মানুষ বা স্বর্গদূত) ঈশ্বরকে দোষারোপ করবে না তিনি অন্যায় করছেন বলে। এটা সর্বসম্মত হবে যে, ঈশ্বর প্রেমময় করুণাময়, ন্যায্য, এবং সকলের সদয় আচরণ করেছেন
(ফিলিপীয় ২:১০, ১১)।

12. স্বর্গীয় বিচারে ঈশ্বর আপনাকে রেহাই দেবেন, যদি আপনি যীশুকে আপনার জীবনে আহ্বান করেন; ও পরিচালনার ভার দেন, আপনার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে। আপনি আজই কি তাঁকে আহ্বান করতে চান?

আপনার উত্তর: __________

আপনার প্রশ্নের দত্ত উত্তরাবলী

১। যীশুকে ত্রাণকর্তা হিসাবে গ্রহণ করা, এবং তাঁকে ঈশ্বর হিসাবে গ্রহণের ক্ষেত্রে পার্থক্য কোথায়?

উত্তর: পার্থক্য উল্লেখযোগ্য। যখন আপনি তাকে ত্রাণকর্তা হিসাবে গ্রহণ করেন, তিনি আপনাকে পাপের অপরাধ এবং শাস্তি থেকে রক্ষা করেন এবং আপনাকে নতুন জন্ম দেন। তিনি আপনাকে পাপী থেকে সাধুতে পরিবর্তন করেন। এই লেনদেন একটি মহিমান্বিত অলৌকিক ঘটনা এবং পরিত্রাণের জন্য অপরিহার্য। এটা ছাড়া কেউ রক্ষা পাবে না। যাইহোক, যীশু এই মুহুর্তে আপনার সাথে তার কাজ শেষ করেননি। আপনি আবার জন্মগ্রহণ করেছেন, কিন্তু তাঁর পরিকল্পনা হল যে আপনিও তাঁর মতো হয়ে উঠবেন (ইফিষীয় ৪:১৩)। যখন আপনি প্রতিদিন তাকে আপনার জীবনের শাসক-প্রভু-হিসাবে গ্রহণ করেন, তখন তিনি, তাঁর অলৌকিক কাজগুলির দ্বারা, আপনি খ্রীষ্টে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত অনুগ্রহ এবং খ্রীষ্টিয় আচরণে বৃদ্ধি পেতে পারেন (২ পিতর ৩:১৮)।

সমস্যা—আমাদের নিজস্ব উপায়

সমস্যা হল আমরা আমাদের নিজের ইচ্ছায় জীবন চালাতে চাই এবং আমাদের নিজস্ব উপায়ে। বাইবেল এটিকে “অন্যায়” বলে-অর্থাত্, পাপ (যিশাইয় ৫৩:৬)। যীশুকে আমাদের প্রভু বানানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারন নতুন নিয়মে তাকে “প্রভু” হিসাবে ৭৬৬ বার উল্লেখ করেছে! শুধুমাত্র প্রেরিত বইয়ে, তাকে ১১০ বার “প্রভু” বলে উল্লেখ করেছে এবং “ত্রাণকর্তা” হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র দুবার। এটি প্রদর্শন করে যে আমাদের জীবনের প্রভু এবং শাসক হিসাবে তাঁকে জানা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

একটি অবহেলিত বাধ্যতামূলক—তাকে প্রভু করা

যীশু তাঁর প্রভুত্বের উপর ক্রমাগত জোর দিয়েছিলেন কারণ তিনি জানতেন যে তাঁকে প্রভুর মুকুট দেওয়া একটি ভুলে যাওয়া এবং অবহেলিত বাধ্যতামূলক হবে (২ করিন্থীয় ৪:৫)। যতক্ষণ না আমরা তাকে আমাদের জীবনের প্রভু না করি, খ্রীষ্টের ধার্মিকতায় পরিহিত পূর্ণ বয়স্ক খ্রীষ্টান হওয়ার কোন উপায় নেই। পরিবর্তে, আমরা “দুঃখী, কৃপাপাত্র, দরিদ্র, অন্ধ এবং নগ্ন” থাকি-এবং আরও খারাপ, আমরা বোধ করি আমাদের আর “কিছুরই প্রয়োজন নেই” (প্রকাশিত বাক্য ৩:১৭)।

২। যেহেতু ঈশ্বরের লোকেদের পাপের নথি প্রায়শ্চিত্তের দিনে বলির ছাগের কাছে স্থানান্তরিত হয়েছিল, তাই কি তাকে আমাদের পাপ বহনকারীও করে না? যীশু কি একাই আমাদের পাপ বহন করেননি?

উত্তর:বলির ছাগ, যা শয়তানের প্রতিনিধিত্ব করে, কোনোভাবেই আমাদের পাপের মূল্য চুকাতে পারে না। প্রভুর ছাগল, যা প্রায়শ্চিত্তের দিনে বলি দেওয়া হয়েছিল, যীশুর প্রতিনিধিত্ব করেছিল, যিনি
কালভেরিতে আমাদের পাপের জন্য মূল্য পরিশোধ করেছিলেন। যীশু একাই “জগতের পাপ দূর করেন”
(যোহন ১:২৯)। শয়তানকে তার নিজের পাপের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে (অন্য সমস্ত পাপীদের মতো—
(প্রকাশিত বাক্য ২০:১২-১৫) যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে (১) পাপের অস্তিত্ব, (২) তার নিজের মন্দ কাজগুলি এবং (৩) প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে পৃথিবীতে পাপের জন্য। ঈশ্বর স্পষ্টভাবে তাকে মন্দ কাজের জন্য দায়ী করবেন। প্রায়শ্চিত্তের দিনে বলির ছাগের (শয়তানের) কাছে পাপের স্থানান্তরের প্রতীকী অর্থ এটাই বোঝানো হয়েছিল।

৩। বাইবেলে স্পষ্ট যে ঈশ্বর সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন যা স্বীকার করা হয় (১ যোহন ১:৯)। এটাও
স্পষ্ট যে, ক্ষমা করা হলেও, এই পাপের রেকর্ড সময়ের শেষ অবধি স্বর্গের বইগুলিতে থাকে (প্রেরিত ৩:১৯-২১)। ক্ষমা হলে পাপগুলো মুছে যায় না কেন?

উত্তর: একটি খুব ভাল কারণ আছে. দুষ্টদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত স্বর্গীয় বিচার সম্পূর্ণ হয় না—জগতের শেষের দিকে তাদের ধ্বংসের আগে দুষ্টুদের বিচার না হয়। বিচারের এই চূড়ান্ত পর্যায়ের আগে ঈশ্বর যদি পাপের নথি ধ্বংস করে দেন, তাহলে তিনি একটি বিশাল গোপনীয়তার জন্য অভিযুক্ত হতে পারেন। বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মের সমস্ত নথি দেখার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

৪। কেউ কেউ বলে বিচার ক্রুশে সংঘটিত হয়েছিল। অন্যরা বলে যে এটি মৃত্যুর সময় ঘটে। আমরা কি নিশ্চিত হতে পারি যে এই স্টাডি গাইডে দেখানো বিচারের সময় সঠিক?

উত্তর: হ্যাঁ তাই আমরা বিচারের সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারি, ঈশ্বর স্পষ্টভাবে দানিয়েলয়েল অধ্যায় ৭ এ তিনবার এটি উল্লেখ করেছেন। ঈশ্বরের নির্দিষ্ট সময় লক্ষ্য করুন; তিনি অনিশ্চয়তার জন্য কোন অবকাশ রাখেন না। এই একটি অধ্যায়ে ঐশ্বরিক ক্রমটি বলা হয়েছে (পদ ৮-১৪, ২০-২২, ২৪-২৭) নিম্নরূপ:

  1. ছোট সিং ৫৩৮-১৭৯৮ শাসন করেছিল। (অধ্যয়ন নির্দেশিকা ১৫ দেখুন।)
  2. বিচার- ১৭৯৮ সালের পর থেকে শুরু হয়েছিল (১৮৪৪ সালে) এবং যীশুর দ্বিতীয় আবির্ভাব পর্যন্ত চলতে থাকে।
  3. ঈশ্বরের নতুন রাজ্য — বিচারের শেষে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ঈশ্বর এটা স্পষ্ট করেছেন যে বিচার মৃত্যু বা ক্রুশে ঘটে না, কিন্তু ১৭৯৮ এবং যীশুর দ্বিতীয় আগমনের মধ্যে। মনে রাখবেন যে প্রথম দূতের বার্তাটি আংশিকভাবে, “তাঁর বিচারের সময় এসেছে” (প্রকাশিত বাক্য ১৪:৬, ৭)। ঈশ্বরের শেষ সময়ের লোকেরা অবশ্যই বিশ্বকে ঈশ্বরের গৌরব দিতে বলছে কারণ চূড়ান্ত বিচার এখন চলছে!

৫। বিচার সম্বন্ধে আমাদের অধ্যায়ন থেকে আমরা কোন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলো শিখতে পারি?

উত্তর: নিম্নলিখিত পাঁচটি পয়েন্ট লক্ষ্য করুন:

  1. ঈশ্বর কাজ করার আগে অনেক সময় নিতে পারেন বলে মনে হতে পারে, কিন্তু তাঁর সময় সঠিক। কোন হারিয়ে যাওয়া মানুষ কখনো বলতে পারবে না “আমি বুঝতে পারিনি” বা “আমি জানতাম না।”
  2. শয়তান এবং সব ধরনের মন্দ শেষ পর্যন্ত বিচারে ঈশ্বরের দ্বারা মোকাবেলা করা হবে। যেহেতু চূড়ান্ত বিচার ঈশ্বরের কাজ এবং তাঁর কাছে সমস্ত তথ্য রয়েছে, তাই আমাদের অন্যদের বিচার করা বন্ধ করা উচিত এবং তাঁকে তা করতে দেওয়া উচিত। ঈশ্বরের বিচারের কাজটি গ্রহণ করা আমাদের জন্য একটি গুরুতর বিষয়। এটা তাঁর কর্তৃত্ব হরণ করে।
  3. ঈশ্বর আমাদের সকলকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য স্বাধীন রেখেছেন যে আমরা কীভাবে তাঁর সাথে সম্পর্ক করব এবং আমরা কাকে সেবা করব। যাইহোক, যখন আমরা তাঁর বাক্যের বিপরীত সিদ্ধান্ত নিই তখন আমাদের অবশ্যই মারাত্মক পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
  4. ঈশ্বর আমাদের এত ভালোবাসেন যে তিনি এই শেষ সময়ের বিষয়গুলি পরিষ্কার করার জন্য আমাদের দানিয়েলয়েল এবং প্রকাশিত বাক্য বই দিয়েছেন। আমাদের একমাত্র নিরাপত্তা হল তাঁর কথা শোনা এবং এই মহান ভবিষ্যত্ বাণীমূলক বই থেকে তাঁর পরামর্শ অনুসরণ করা।
  5. শয়তান আমাদের প্রত্যেককে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। তার প্রতারণামূলক কৌশলগুলি এতই কার্যকর এবং এত বিশ্বাসযোগ্য যে খুব অল্প সংখ্যক ছাড়া সবাই ফাঁদে পড়বে। শয়তানের ফাঁদ থেকে আমাদের রক্ষা করার জন্য যীশুর পুনরুত্থান শক্তি আমাদের জীবনে যদি প্রতিদিন কাজ না করে, তাহলে আমরা শয়তানের দ্বারা ধ্বংস হয়ে যাব।

মর্মার্থ পত্র

দয়া করে এই প্রশ্নের সমাধান করার আগে পাঠটি পড়ে নিন। সমস্ত উত্তর আপনি এই সহায়িকা বইটিতে পেয়ে যাবেন।। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দিন। বন্ধনীর সংখ্যাগুলো (১) সঠিক উত্তরের সংখ্যা নির্দেশ করে।

১। শেষ বিচারের কয়টি পর্য্যায়? (১)

( ) ছয়

( ) এক

( ) তিন।

২। বিচারের প্রথম পর্য্যায়ের সঠিক তথ্য নির্বাচন করুন (৭)

( ) এটি প্রাক আগমন বিচার পর্ব

( ) ১৮৪৪ সালে শুরু হয়েছে

( ) এখনও চলছে।

( ) শয়তান দোষী।

( ) গ্যাব্রিয়েল দূত বিচারক।

( ) ঈশ্বর বিচারক।

( ) ভবিষ্যত্ বক্তা যোনা ভাববানী করেছিল।

( ) ঈশ্বরের ব্যবস্থা নির্ধারক

( ) সেই সব লোকেদের বিচার হবে যারা নিজেদের খ্রীষ্টান বলে দাবি করেছিল।

৩। বিচারের দ্বিতীয় পর্য্যায়ে সঠিক তথ্যগুলি নির্বাচন করুন, যেগুলি সহস্র বছরের সময় হবে (৩)

( ) সব বয়সের ধার্ম্মিকগন উপস্থিত থাকবে।

( ) শয়তান বিচার পর্বকে ব্যহত করবে।

( ) সকলে স্বীকার করবে, শয়তানের শাস্তি যথার্থ।

( ) শয়তানের দূতগণ মার্জ্জনা পাবে।

( ) দুষ্টরা তাদের অধিকার দাবি করবে

( ) ধার্মিক লোকেরা শিখবে তাদের প্রিয়জনদের বিষয়ে।

৪। যীশু তিনটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। সেগুলি কি? (৩)

( ) বিচারক

( ) সাক্ষী

( ) আদালতের পাহারাদার

( ) আদালতের কেরানি

( ) প্রতিরক্ষা উকিল

৫। দুশ্চরিত্ররা ১,০০০ বছরের শেষে বিচারকের সামনে উপস্থিত থাকবে, যখন তারা পবিত্র নগরীকে ঘিরে ফেলবে। (১)

( ) হ্যাঁ

( ) না।

৬। ভ্রষ্ট মানুষ ও দুতেরা কেন দণ্ডাজ্ঞা পাবে ঈশ্বর তা ব্যাখ্যা করবেন (১)

( ) হ্যাঁ

( ) না।

৭। বিচারের কোন পর্যায়ে জীবিত সমস্ত মানুষ (ভাল ও মন্দ), পাশাপাশি সকল দুষ্ট আত্মা ও শয়তান, ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকবে? (১)

( ) প্রথম পর্য্যায়ে - প্রাক আগমন বিচারে

( ) দ্বিতীয় পর্য্যায়ে - ১০০০ বছরের সময়ে

( ) তৃতীয় পর্য্যায়ে - ১০০০ বছরের সমাপ্তিতে

৮। স্বর্গীয় বিচারে কেন স্মরণ পুস্তক জরুরি? (১)

( ) ঘটনা সম্পর্কে ঈশ্বরকে অবগত করা

( ) ঈশ্বরকে স্মরণ করানো তা তিনি ভূলে গেছেন

( ) স্বর্গ দূতদের কিছু কাজ দেবার জন্য

( ) সমগ্র জীবকূলকে অন্য সংসারের নিবাসী দিগকে সাহায্য করে ঈশ্বরের নিসপক্ষ আর ধার্মিক প্রবন্ধনকে বোঝার জন্য।

৯। “প্রায়শ্চিত্ত” মানে “সমস্ত বস্তুকে সম্পূর্ণ ঐশ্বরিক সামঞ্জস্যের মধ্যে আনা।” নিচের কোন গুলো মহান স্বর্গীয় প্রায়শ্চিত্তের অংশ? (৫)

( ) যীশুর ক্রুশে মৃত্যু।

( ) বিচার।

( ) আমাদের মহাযাজক হিসাবে যীশুর পরিচর্যা।

( ) নোহের দিনের বন্যা।

( ) সিংহের খাদে দানিয়েলয়েল।

( ) পাপ ও পাপীদের চূড়ান্ত বিনাশ।

( ) নতুন স্বর্গ এবং একটি নতুন পৃথিবীর সৃষ্টি।

10) ১০। বিচারে কোনগুলি সুসংবাদ? (৫)

( ) সাধুদের পক্ষে বিচার

( ) চিরতরে নরকে শয়তানের দহন

( ) আর কখনও পাপের সৃষ্টি হবে না

( ) ভবিষ্যতে পাপের পুনঃজন্ম হতে পারে

( ) যীশুই আমাদের বিচারক, উকিল ও সাক্ষী

( ) পাপ এবং পরিত্রাণের সাথে মোকাবিলা করার ঈশ্বরের পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হবে।

( ) আদম আর হবা যা কিছু হারিয়েছিল তাদের সবকিছুরই পূর্নপ্রাপ্তি হবে।

১১। বিচারের পাপের পাঁঠা হিসেবে শয়তান সম্পর্কে কী সত্য? (৩)

( ) পাপের নিমিত্ত শাস্তি দান

( ) প্রত্যেককে পাপে লিপ্ত করার জন্য শাস্তিদান

( ) তাঁর আমাদের পাপের জন্য করার কিছু নেই

( ) প্রতীকী ছাগ হতে অস্বীকার করে শয়তানের পলায়ন

১২। বিচার অযৌক্তিক নয়। বরং, এটি মানুষদের ইতিমধ্যেই করা পছন্দগুলিকে নিশ্চিত করে, যা হলো যিশুকে সেবা করা অথবা অন্য কোন প্রভুকে নির্বাচন করা। (১)

( ) হ্যাঁ

( ) না।

১৩। বিচারের মূল উদ্দেশ্য হল মানুষ, শয়তান, ভাল এবং মন্দ দূত এবং অন্যান্য জগতের বাসিন্দাদের কাছে এটি পরিষ্কার করা যে ঈশ্বর পাপের পরিণতিকে বুদ্ধিমানভাবে, ন্যায়সঙ্গতভাবে এবং ধার্মিকভাবে পরিচালনা করেছেন তার শুরু থেকেই। (১)

( ) হ্যাঁ

( ) না।

১৪। ঈশ্বর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আপনি স্বর্গীয় বিচারে আপনাকে দোষ মুক্ত করবেন যদি আপনি তাকে আপনার জীবনে প্রবেশের জন্য আমন্ত্রণ জানান এবং তাকে নিয়ন্ত্রণে থাকার অনুমতি দেন। আপনি কি তাকে আজ আপনার জীবনে প্রবেশের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন?

( ) হ্যাঁ

( ) না।