Lesson 6

যেভাবে অপরাধ ও হিংস্রতা আমাদের সমাজ এবং গৃহকে প্লাবিত করে চলেছে, নিরাপত্তা ও শান্তি সুনিশ্চিত করতে আমাদের সবার এ দেশের নিয়ম-কানুন মেনে চলা উচিৎ, তাই না? বহু শতাব্দী পূর্বে, ঈশ্বর প্রস্তরের উপরে তাঁর নিজস্ব নিয়ম (ব্যবস্থা) মানষের উদ্দেশে লিখেছিলেন—আর বাইবেল বলে যে সেটি এখনও আমদের পালন করা কর্তব্য। ঈশ্বরের ব্যবস্থা লঙ্ঘন করলেই মানুষের জীবনে নেতিবাচক পরিণতি আসে। কিন্তু যদি আমরা ঈশ্বরের সব ব্যবস্থাগুলো মেনে চলি তবে আমাদের শান্তি এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয়। বর্তমানে জীবন এতটাই বিপন্ন যে, আপনার জীবনে ঈশ্বরের দশটি আজ্ঞাকে স্থান দেবার সিদ্ধান্ত নিতে এক মিনিট সময় গুরুত্বের সঙ্গে ব্যয় করা কি লাভজনক নয়?

1.বাস্তবিক ভাবেই কি ঈশ্বর স্বহস্তে দশ আজ্ঞাগুলো লিখেছেন?

“পরে তিনি সীনয় পর্বতে মোশির সহিত কথা সাঙ্গ করিয়া সাক্ষের দুই ফলক ঈশ্বরের অঙ্গুলি দ্বারা লিখিত দুই প্রস্তর ফলক তাঁহাকে দিলেন”। সেই প্রস্তর ফলক ঈশ্বরের নির্ম্মিত এবং সেই লেখা ঈশ্বরের লেখা ফলকে খোদিত” (যাত্রাপুস্তক ৩১:১৮; ৩২:১৬)।

উত্তর: হ্যাঁ! স্বর্গের ঈশ্বর তাঁর নিজের আঙ্গুল দিয়ে দশটি আজ্ঞা প্রস্তর ফলকে লিপিবদ্ধ করেছিলেন।

2. ঈশ্বরদত্ত পাপের সংজ্ঞা কী?

“ব্যবস্থা লঙ্ঘনই পাপ” (১ যোহন ৩:৪ পদ)।

উত্তর: ঈশ্বরের দশ আজ্ঞাগুলো লঙ্ঘনই পাপ। কারণ ঈশ্বরের ব্যবস্থা নির্ভুল (গীতসংহিতা ১৯:৭), প্রতিটি অনুমেয় পাপই এর নীতিগুলির আওতায় পড়ে। মানুষের সকল কর্তব্যগুলো দশ আজ্ঞাগুলোর আওতায় পড়ে (উপদেশক ১২:১৩)। কিছুই অবশিষ্ট থাকেনা।

3. ঈশ্বর কেন আমাদের দশ আজ্ঞাগুলো দিয়েছেন?

“দর্শনের অভাবে প্রজাগণ উচ্ছৃঙ্খল হয়, কিন্তু যে ব্যবস্থা মানে সে ধন্য” (হিতোপদেশ ২৯:১৮)। “বৎস তুমি আমার ব্যবস্থা ভুলিও না; তোমার চিত্ত আমার আজ্ঞা সকল পালন করুক কারণ তদ্বারা তুমি আয়ুর দীর্ঘতা, জীবনের বৎসর বাহুল্য, এবং শান্তি প্রাপ্ত হইবে” (হিতোপদেশ ৩:১, ২)।

উত্তর

ক:সুখি, প্রাচুর্যপূর্ণ জীবন-যাপনের জন্য একটি নির্দেশিকা হিসেবে। ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছিলেন যেন আমরা সুখ, শান্তি, দীর্ঘ জীবন, তৃপ্তি, সাফল্য, এবং অন্যান্য যে সব আশীর্বাদগুলো আমাদের মন পেতে বাসনা করে সেগুলো উপভোগ করতে পারি। ঈশ্বরের আজ্ঞা এমন একটি মানচিত্র যা আপনাক এই সত্যিকারের, পরম সুখ পাবার সঠিক রাস্তা দেখিয়ে দেয়। “ব্যবস্থা দ্বারা পাপের জ্ঞান জন্মে” (রোমীয় ৩:২০)। “বরং পাপ কী তাহা আমি জানিতাম না, কেবল ব্যবস্থা দ্বারাই জানিয়াছি” (রোমীয় ৭:৭)।

খ:

যেন আমরা ভাল-মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারি। ঈশ্বরের আজ্ঞা (বা ব্যবস্থা) একটি আয়নার মতো (যাকোব ১:২৩–২৫)। আয়না যেমন আমাদের মুখের দাগ দেখায়, তেমনি আজ্ঞা আমাদের জীবনের ভুল কর্মগুলো দেখায়। কেবলমাত্র ঈশ্বরের আজ্ঞার আয়নাতে দৃষ্টি দিয়ে আমরা জানতে পারি যে আমরা পাপ করছি। এই ভাল-মন্দ মিশ্রিত দুনিয়ার জন্য শান্তি পাওয়া যায় একমাত্র ঈশ্বরের দশ আজ্ঞাগুলোতে। এটি আমাদের সীমারেখা দেখিয়ে দেয়!
“সদাপ্রভু আমাদিগকে এই সমস্ত বিধি পালন করিতে ... আজ্ঞা করিলেন, যেন যাবজ্জীবন আমাদের মঙ্গল হয়” (দ্বিতীয় বিবরণ ৬:২৪)। “আমাকে ধরিয়া রাখ, তাহাতে পরিত্রাণ পাইব, আর তোমার বিধিকলাপ সর্বদা মান্য করিব। তুমি তাহাদের সকলকে হেয়জ্ঞান করিয়াছ, যাহারা তোমার বিধি-পথ হইতে ভ্রমে চলে” (গীতসংহিতা ১১৯:১১৭, ১১৮)।

গ:
যেন আমরা বিপদ এবং দুঃখজনক ঘটনা থেকে সুরক্ষা পাই। ঈশ্বরের আজ্ঞাগুলো চিড়িয়াখানার একটি মজবুত খাঁচার মত যা আমাদের মিথ্যাচার, হত্যাকাণ্ড, মূর্তিপূজা, চুরি, এবং আরও নানা প্রকারের মন্দতা যেগুলো জীবন, শান্তি, এবং সুখ ধ্বংস করে, সেসব থেকে সুরক্ষিত রাখে। সমস্ত উত্তম নিয়মগুলো আমাদের সুরক্ষা দেয়, আর ঈশ্বরের ব্যবস্থাও এর ব্যতিক্রম নয়।

“আর আমরা ইহাতেই জানিতে পারি যে, তাঁহাকে জানি, যদি তাঁহার আজ্ঞা সকল পালন করি” (১ যোহন ২:৩)।

 ঘ:

এটি আমাদের ঈশ্বরকে চিনতে সাহায্য করে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি প্রত্যেকটি ব্যক্তির স্বভাবের ভেতরে গভীরে ঈশ্বরের আজ্ঞার আভ্যন্তরীন অনন্তকাল স্থায়ী নীতিগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। লেখাটি হয়তো ক্ষীণ এবং দাগযুক্ত হতে পারে, কিন্তু সেটি এখনও টিকে আছে। আমাদের সে আজ্ঞাগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে জীবন যাপন করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। যখন আমরা সেগুলো উপেক্ষা করি, ফলাফল সবসময়ই দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, এবং দুঃখদায়ক ঘটনা—ঠিক যেমন নিরাপদে গাড়ি চালানোর নিয়মগুলো উপেক্ষা করলে গুরূতর আঘাত কিংবা মৃত্যু হতে পারে।

4. Why is God’s law exceedingly important to you personally?

4. কেন ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন আপনার ব্যক্তিগত জীবনে এত জরুরী?

“তোমরা স্বাধীনতার ব্যবস্থা দ্বারা বিচারিত হইবে বলিয়া তদনুরূপ কথা বল ও কার্য কর” (যাকোব ২:১২)।

উত্তর: কারণ দশ আজ্ঞার নিয়ম হলো সেই মানদণ্ড যা দ্বারা ঈশ্বর স্বর্গীয় বিচারের সময় লোকদের পরীক্ষা করবেন।

5. ঈশ্বরের ব্যবস্থা (দশটি আজ্ঞা) কি কখনও পরিবর্তিত কিংবা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে?

“ব্যবস্থার এক বিন্দু পড়িয়া যাওয়া অপেক্ষা বরং আকাশের ও পৃথিবীর লোপ হওয়া সহজ”
(লূক ১৬:১৭)। “আমি আমার নিয়ম ব্যর্থ করিব না, আমার ওষ্ঠনির্গত বাক্য অন্যথা করিব না” (গীতসংহিতা ৮৯:৩৪)। “তাঁহার সমস্ত বিধি বিশ্বসনীয়। সেই সকল অনন্তকালের নিমিত্ত স্থিরীকৃত” (গীতসংহিতা ১১১:৭, ৮)।

উত্তর: না! বাইবেলে একথা স্পষ্ট যে ঈশ্বরদত্ত ব্যবস্থা অপরিবর্তনীয় থাকবে। আজ্ঞাগুলো হলো ঈশ্বরের পবিত্র চরিত্রের নীতিমালার প্রকাশ এবং তাঁর রাজ্যের ভিত্তি। যতদিন ঈশ্বর আছেন সেগুলি সত্যই থাকবে।

এই তালিকা আমাদের দেখায় যে ঈশ্বর এবং তাঁর চরিত্র, উভয়ের বৈশিষ্ট্য একই রকম, যা প্রকাশ করে যে দশ আজ্ঞাগুলো হলো ঈশ্বরেরই চরিত্রের লিখিত রূপ—লিখিত এই কারণে যেন আমরা ঈশ্বরকে আরও উত্তমভাবে অনুধাবন করতে পারি। ঈশ্বরকে যেমন স্বর্গ থেকে নামিয়ে এনে পরিবর্তন করা অসম্ভব ঠিক তেমনি ঈশ্বরের আজ্ঞাকেও পরিবর্তন করা অসম্ভব। যীশু আমাদের দেখালেন, সেই ব্যবস্থাটি কী—সেটি হল, পবিত্র জীবন যাপনের একটি নমুনা—আর মানুষ রূপে প্রকাশিত যীশুই হলেন সেই নমুনা। ঈশ্বরের চরিত্রের পরিবর্তন হতে পারে না; অতএব, তাঁর ব্যবস্থারও পরিবর্তন হতে পারে না।

ঈশ্বর হলেন
আজ্ঞা হল
উত্তম লূক ১৮:১৯ ১ তীমথিয় ১:৮
পবিত্র যিশাইয় ৫:১৬ রোমীয় ৭:১২
নিখুঁত মথি ৫:৪৮ গীত ১৯:৭
বিশুদ্ধ ১ যোহন ৩:২, ৩ গীত ১৯:৮
ন্যায্য দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:৪ রোমীয় ৭:১২
সত্য যোহন ৩:৩৩ গীত ১৯:৯
আধ্যাত্মিক ১ করিন্থীয় ১০:৪ রোমীয় ৭:১৪
ধার্মিকতা যিরমিয় ২৩:৬ গীত ১১৯:১৭২
বিশ্বস্ত ১ করিন্থীয় ১:৯ গীত ১১৯:৮৬
প্রেম ১ যোহন ৪:৮ রোমীয় ১৩:১০
অপরিবর্তনশীল যাকোব ১:১৭ মথি ৫:১৮
চিরন্তন আদিপুস্তক ২১:৩৩ গীত ১১১:৭, ৮

6. যীশু পৃথিবীতে থাকাকালীন তিনি কি ঈশ্বরের আজ্ঞা বিলুপ্ত করেছেন?

“মনে করিও না যে, আমি ব্যবস্থা ... লোপ করিতে আসিয়াছি; আমি তাহা লোপ করিতে আসি নাই, কিন্তু পূর্ণ করিতে আসিয়াছি। ... যে পর্যন্ত আকাশ ও পৃথিবী লুপ্ত না হইবে, সেই পর্যন্ত ব্যবস্থার এক মাত্রা কি এক বিন্দুও লুপ্ত হইবে না, সমস্তই সফল হইবে” (মথি ৫:১৭, ১৮)।

Answer

উত্তর: অবশ্যই নয়! স্পষ্টতই যীশু জানিয়েছেন যে, তিনি ব্যবস্থা লোপ করতে আসেননি বরং তা পূর্ণ করতে এসেছেন। ব্যবস্থাকে লুপ্ত করার বদলে তিনি পবিত্র জীবন যাপনের সঠিক পথ প্রদর্শক হিসেবে এটিকে সুদৃঢ়, করেছেন (যিশাইয় ৪২:২১)। উদাহরণ হিসেবে যীশু উল্লেখ করেছেন “তুমি নরহত্যা করিও না,” আজ্ঞাটি বিনা কারণে ক্রোধ করা (মথি ৫:২১, ২২) এবং ঘৃণা করাকে (১ যোহন ৩:১৫) দোষারোপ করে, তাছাড়াও, লালসা হল এক প্রকারের ব্যভিচার (মথি ৫:২৭, ২৮)। তিনি বলেছেন “তোমরা যদি আমাকে প্রেম কর, তবে আমার আজ্ঞা সকল পালন করিবে” (যোহন ১৪:১৫)।

7. যারা জেনে-বুঝে ঈশ্বরের আজ্ঞাগুলো লঙ্ঘন করতে থাকে তাঁরা কি উদ্ধার পাবে?

“কেননা পাপের বেতন মৃত্যু” (রোমীয় ৬:২৩)। “তথাকার পাপীদিগকে তাহার মধ্য হইতে উচ্ছিন্ন করিবার নিমিত্ত সেই দিন নিষ্ঠুর” (যিশাইয় ১৩:৯ পদ)। “কেননা যে কেহ সমস্ত ব্যবস্থা পালন করে , কেবল একটি বিষয়ে উছোট খায় সে সকলেরই দায়ী হইয়াছে” (যাকোব ২:১০)।

উত্তর: দশ আজ্ঞা আমাদের পবিত্র জীবন যাপনের দিকে পথ প্রদর্শন করে। আমরা যদি
আজ্ঞাগুলোর মধ্যে এমন কি একটিকেও উপেক্ষা করি, তবে আমরা স্বর্গীয় পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অবহেলা করি। যদি একটি শিকলের একটি সংযোগ ভেঙ্গে যায়, তাহলে সেই শিকলের সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যটাই ব্যাহত হয়ে যায়। বাইবেল বলে যে যখন আমরা জেনে-বুঝে ঈশ্বরের একটি আজ্ঞা লঙ্ঘন করি, তখন আমরা পাপ করে থাকি (যাকোব ৪:১৭) কারণ তিনি আমাদের জন্য যা ইচ্ছা করেছিলেন আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি। কেবলমাত্র যারা তাঁর ইচ্ছা অনুসারে চলবে তারাই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে। তবে, যে কেউ আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয় এবং খ্রীষ্টের, জীবন পরিবর্তনকারী, শক্তিকে গ্রহণ করে, ঈশ্বর অবশ্যই তাকে ক্ষমা করবেন।

8. কেউ কি আজ্ঞা পালনের দ্বারা উদ্ধার পেতে পারে?

“ব্যবস্থার কার্য দ্বারা কোন প্রাণী তাঁহার সাক্ষাতে ধার্মিক গণিত হইবে না” (রোমীয় ৩:২০)। “অনুগ্রহেই, বিশ্বাস দ্বারা তোমরা পরিত্রাণ পাইয়াছ; এবং ইহা তোমাদের হইতে হয় নাই, ঈশ্বরেরই দান; তাহা কর্মের ফল নয়, যেন কেহ শ্লাঘা না করে” (ইফিষীয় ২:৮, ৯)।

উত্তর: না! এর উত্তর খুব স্পষ্ট। শুধুমাত্র ব্যবস্থা পালনের মাধ্যমে কেউ উদ্ধার পেতে পারে না। পরিত্রাণ আসে একমাত্র যীশু খ্রীষ্টের বিনামূল্য উপহার অর্থাত্ অনুগ্রহের দ্বারা, আর বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা এই উপহারটি পাই, আমাদের কৃত কাজের মাধ্যমে নয়। আইন একটি আয়নার মতো কাজ করে যা আমাদের কৃত পাপকে দেখিয়ে দিতে সাহায্য করে। আয়না যেমন আমাদের মুখমণ্ডলের নোংরা দাগ দেখতে সাহায্য করে কিন্তু মুখমণ্ডল পরিষ্কার করতে পারে না, তেমনি সেই পাপ থেকে পরিষ্কৃত হওয়া এবং ক্ষমা পাওয়া সম্ভব কেবলমাত্র খ্রীষ্টের মাধ্যমে।

9. তাহলে, কেন একজন খ্রীষ্টীয়ানের চরিত্রের উন্নয়নে আজ্ঞা পালন অপরিহার্য?

“ঈশ্বরকে ভয় কর, ও তাঁহার আজ্ঞা সকল পালন কর, কেননা ইহাই সকল মনুষ্যের কর্তব্য” (উপদেশক ১২:১৩)। “ব্যবস্থা দ্বারা পাপের জ্ঞান জন্মে” (রোমীয় ৩:২০)।

উত্তর: কারণ খ্রীষ্টীয় জীবন যাপনের পরিপূর্ণ নমুনা, কিংবা “কর্তব্যের সম্পূর্ণ বিবরণ” ঈশ্বরের ব্যবস্থার মধ্যে নিহিত আছে। একটি ছয় বছর বয়সের ছেলে নিজের ইচ্ছেমত একটি মাপা’র ফিতা বানিয়ে, নিজেই নিজের মাপ নিয়ে তার মাকে বললো যে সে ১২ ফুট লম্বা, একইভাবে আমাদের নিজেদের মানদণ্ডে নিজেদের পরিমাপ করা কখনো নিরাপদ নয়। যতক্ষণ না আমরা সেই নির্ভুল মানদণ্ড—অর্থাত্ ঈশ্বরের আজ্ঞার দিকে সযত্নে দৃষ্টি দেব, ততক্ষণ আমরা জানবো না যে আমরা পাপী কি না। অনেকে এভাবে চিন্তা করে যে তারা যদিও আজ্ঞা পালন উপেক্ষা করে তথাপী ভালো কাজ করার মাধ্যমে তাদের পরিত্রাণ সুনিশ্চিত হয় (মথি ৭:২১–২৩)। সুতরাং, তারা ভাবে যে তারা ধার্মিক অথচ, প্রকৃতপক্ষে, তারা পাপী এবং হারিয়ে গেছে। “আমরা ইহাতেই জানিতে পারি যে, তাঁহাকে জানি, যদি তাঁহার আজ্ঞা সকল পালন করি” (১ যোহন ২:৩)।

10. একজন প্রকৃত পরিবর্তিত নতুন বিশ্বাসী কী দ্বারা ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করতে সক্ষম হয়?

“আমি তাহাদের চিত্তে আমার ব্যবস্থা দিব, আর তাহাদের হৃদয়ে তাহা লিখিব” (ইব্রীয় ৮:১০)। “তাঁহাতে (খ্রীষ্টে) আমি সকলই করিতে পারি” (ফিলিপীয় ৪:১৩)। “ঈশ্বর তাহা করিয়াছেন, নিজ পুত্রকে ... পাঠাইয়া দিয়াছেন যেন ... ব্যবস্থার ধর্মবিধি সেই আমাদের মধ্যে সিদ্ধ হয়” (রোমীয় ৮:৩, ৪)।

উত্তর: খ্রীষ্ট অনুতপ্ত পাপীদের শুধুমাত্র মার্জনাই করেন না। তিনি তাদের ভেতর পুনরায় ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিটি ফিরিয়ে আনেন। তিনি তাঁদের অন্তরে বসবাস করার মাধ্যমে তাদের তাঁর ব্যবস্থার সঙ্গে ঐকতানে আনেন। “করিও না” এমন একটি সক্রিয় প্রতিজ্ঞা হয়ে ওঠে যে খ্রীষ্টীয়ান ব্যক্তিটি চুরি করা, মিথ্যা বলা, হত্যা করা, ইত্যাদি ছেড়ে দেবে, কারণ যীশু আমাদের মধ্যে বসবাস করেন এবং আমাকে নিয়ন্ত্রণ করেন। ঈশ্বর তার নৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করবেন না, কিন্তু যীশুর মাধ্যমে তিনি পাপীদের পরিবর্তনের একটি সুযোগ করে দেন, যেন আমরা সেই ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে যোগ্য প্রতিপন্ন হতে পারি।

11. কিন্তু যে খ্রীষ্টীয়ান ব্যক্তি বিশ্বাস করে এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহের অধীনে চলে, সে কি ব্যবস্থা পালনের আওতামুক্ত নয়?

“পাপ [ঈশ্বরের ব্যবস্থালঙ্ঘন—১ যোহন ৩:৪] তোমাদের উপরে আর কর্তৃত্ব করিবে না; কারণ তোমরা ব্যবস্থার অধীন নহ, কিন্তু অনুগ্রহের অধীন। তবে দাঁড়াইল কি? আমরা ব্যবস্থার অধীন নই, অনুগ্রহের অধীন, এই জন্য কি পাপ [ব্যবস্থালঙ্ঘন] করিব? তাহা দূরে থাকুক” (রোমীয় ৬:১৪, ১৫)। “তবে আমরা কি বিশ্বাস দ্বারা ব্যবস্থা নিষ্ফল করিতেছি? তাহা দূরে থাকুক; বরং ব্যবস্থা সংস্থাপন করিতেছি” (রোমীয় ৩:৩১)।

উত্তর:না! শাস্ত্র ঠিক এর বিপরীতে কথা বলে। অনুগ্রহ হলো একজন বন্দীর প্রতি প্রশাসনের ক্ষমা যেমন, তেমন। অনুগ্রহ তাকে ক্ষমা করে, কিন্তু তাকে আরেকটি নিয়ম লঙ্ঘন করার স্বাধীনতা দেয় না। ক্ষমাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, প্রকৃতপক্ষে, ঈশ্বরের অনুগ্রহে জীবন যাপন করে, তার পরিত্রাণ লাভের খুশিতে কৃতজ্ঞ হয়েই ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করতে চাইবে। যে ব্যক্তি অনুগ্রহের অধীনে জীবন যাপন করছেন বলে ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করতে অনিচ্ছুক, দুঃখজনকভাবে পরিত্রাণ সম্বন্ধে তার ধারণাটি ভুল।

12. ঈশ্বরের দশটি আজ্ঞা কি নতুন নিয়মে সমর্থন করা হয়েছে?

উত্তর: হ্যাঁ—এবং তা অবশ্যই খুব স্পষ্টভাবে করা হয়েছে। নিম্নোক্ত বিষয়গুলি যত্নের সঙ্গে দেখুন। ব্যবস্থা
নতুন নিয়মে (ঈশ্বরের ব্যবস্থা)

  1. “তোমার ঈশ্বর প্রভুকেই প্রনাম করিবে, কেবল তাঁহারই আরাধনা” (মথি ৪:১০)।
  2. "“বত্সেরা, তোমরা প্রতিমাগণ হইতে আপনাদের রক্ষা” (১ যোহন ৫:২১)। “অতএব আমরা যখন ঈশ্বরের বংশ, তখন ঈশ্বরের স্বরূপকে মনুষ্যের শিল্প ও কল্পনা অনুসারে ক্ষোদিত স্বর্ণের কি রৌপ্যের কি প্রস্তরের সদৃশ জ্ঞান করা আমাদের কর্তব্য নহে” (প্রেরিত ১৭:২৯)।
  3. “যেন ঈশ্বরের নাম এবং শিক্ষা নিন্দিত না হয়” (১ তীমথিয় ৬:১)।
  4. “কেননা তিনি এক স্থানে সপ্তম দিনের বিষয়ে এইরূপ বলিয়াছিলেন, “এবং সপ্তম দিনে ঈশ্বর আপনার সমস্ত কর্ম হইতে বিশ্রাম করিলেন।” সুতরাং ঈশ্বরের প্রজাদের নিমিত্ত বিশ্রামকালের ভোগ বাকী রহিয়াছে। ফলতঃ যেরূপ ঈশ্বর আপন কর্ম হইতে বিশ্রাম করিয়াছিলেন, তেমনি যে ব্যক্তি তাঁহার বিশ্রামে প্রবেশ করিয়াছে, সেও আপনার কর্ম হইতে বিশ্রাম করিতে পাইল।” (ইব্রীয় ৪:৪; ৯, ১০)।
  5. “পিতা ও মাতাকে সমাদর করিও” (মথি ১৯:১৯)।
  6. “নরহত্যা করিও না” (রোমীয় ১৩:৯)।
  7. “ব্যভিচার করিও না” (মথি ১৯:১৮)।
  8. “চুরি করিও না” (রোমীয় ১৩:৯)।
  9. “মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না” (রোমীয় ১৩:৯)।
  10. “লোভ করিও না” (রোমীয় ৭:৭)।

পুরাতন নিয়মে (ঈশ্বর দত্ত ব্যবস্থা)

  1. “আমার সাক্ষাতে তোমার অন্য দেবতা না থাকুক” (যাত্রাপুস্তক ২০:৩)।
  2. “তুমি আপনার নিমিত্তে খোদিত প্রতিমা নির্মাণ করিও না; উপরিস্থ স্বর্গে, নিচস্থ পৃথিবীতে ও পৃথিবীর নিচস্থ জলমধ্যে যাহা যাহা আছে, তাহাদের কোন মূর্তি নির্মাণ করিও না; তুমি তাহাদের কাছে প্রণিপাত করিও না, এবং তাহাদের সেবা করিও না; কেননা তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু আমি স্বগৌরব রক্ষণে উদ্‌যোগী ঈশ্বর; আমি পিতৃগণের অপরাধের প্রতিফল সন্তানদের উপরে বর্তাই, যাহারা আমাকে দ্বেষ করে, তাহাদের তৃতীয় চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত বর্তাই; কিন্তু যাহারা আমাকে প্রেম করে ও আমার আজ্ঞা সকল পালন করে, আমি তাহাদের সহস্র [পুরুষ] পর্যন্ত দয়া করি” (যাত্রাপুস্তক ২০:৪ – ৬)।
  3. “তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নাম অনর্থক লইও না, কেননা যে কেহ তাঁহার নাম অনর্থক লয়, সদাপ্রভু তাহাকে নির্দোষ করিবেন না” (যাত্রাপুস্তক ২০:৭)।
  4. “তুমি বিশ্রামদিন স্মরণ করিয়া পবিত্র করিও। ছয় দিন শ্রম করিও, আপনার সমস্ত কার্য করিও; কিন্তু সপ্তম দিন তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে বিশ্রামদিন। সেই দিন তুমি, কি তোমার পুত্র কি কন্যা, কি তোমার দাস কি দাসী, কি তোমার পশু, কি তোমার পুরদ্বারের মধ্যবর্তী বিদেশী, কেহ কোন কার্য করিও না। কেননা সদাপ্রভু আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী, সমুদ্র ও সেই সকলের মধ্যবর্তী সমস্ত বস্তু ছয় দিনে নির্মাণ করিয়া সপ্তম দিনে বিশ্রাম করিলেন। এই জন্য সদাপ্রভু বিশ্রামদিনকে আশীর্বাদ করিলেন, ও পবিত্র করিলেন” (যাত্রাপুস্তক ২০:৮–১১)।
  5. “তোমার পিতাকে ও তোমার মাতাকে সমাদর করিও, যেন তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাকে যে দেশ দিবেন, সেই দেশে তোমার দীর্ঘ পরমায়ু হয়” (যাত্রাপুস্তক ২০:১২)।
  6. “নরহত্যা করিও না” (যাত্রাপুস্তক ২০:১৩)।
  7. “ব্যভিচার করিও না” (যাত্রাপুস্তক ২০:১৪)।
  8. “চুরি করিও না” (যাত্রাপুস্তক ২০:১৫)।
  9. “তোমার প্রতিবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না” (যাত্রাপুস্তক ২০:১৬)।
  10. “তোমার প্রতিবাসীর গৃহে লোভ করিও না; প্রতিবাসীর স্ত্রীতে, কিম্বা তাহার দাসে কি দাসীতে, কিম্বা তাহার গরুতে কি গর্দভে, প্রতিবাসীর কোন বস্তুতেই লোভ করিও না” (যাত্রাপুস্তক ২০:১৭)।

13. Are God’s law and Moses’ law the same?

13. ঈশ্বরের ব্যবস্থা ও মোশির বিধি ব্যবস্থা কি এক?

উত্তর: না—ওগুলো এক নয়। দু’টি ব্যবস্থার মধ্যে যে পার্থক্য আছে, সেগুলো নিচে বর্ণিত হল:
মোশির ব্যবস্থা ছিল পুরাতন নিয়মের সাময়িক অনুষ্ঠান সংক্রান্ত, বলিদান, ধর্মীয় আচার, মাংস ও পানীয়ের উত্সর্গকেন্দ্রিক ও প্রথাগত, যেগুলো ক্রুশের পূর্বাভাস দেয়। “যা যোগ করা হইয়াছিল, যে পর্যন্ত না সেই বংশ আইসেন” যিনি ছিলেন স্বয়ং খ্রীষ্ট (গালাতীয় ৩:১৬, ১৯)। মোশির বিধি রীতি খ্রীষ্টের বলিদানের ইঙ্গিত করেছিলো। যখন খ্রীষ্ট মৃতুবরণ করেন, সেগুলো লুপ্ত হয়ে গেলো, কিন্তু ঈশ্বরের দশ আজ্ঞাগুলো, “অনন্তকালের নিমিত্ত স্থিরীকৃত, সত্যে ও সরলতায় প্রণীত” (গীতসংহিতা ১১১:৮)। ব্যবস্থাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—এ কথা (দানিয়েল ৯:১০, ১১)-এ স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

বিঃদ্রঃ ঈশ্বরের ব্যবস্থা তখন থেকেই টিকে আছে যখন থেকে পাপের উৎপত্তি হয়েছে। বাইবেল বলে, “কিন্তু যেখানে ব্যবস্থা নাই, সেখানে ব্যবস্থা লঙ্ঘনও [পাপ] নাই (রোমীয় ৪:১৫)। সুতরাং ঈশ্বরের আজ্ঞা আদি থেকেই অস্তিত্তে ছিল। মানুষ সেই ব্যবস্থাকে লঙ্ঘন করেছে (পাপ করেছে —১ যোহন ৩:৪)। পাপের (অর্থাৎ ঈশ্বরের নিয়ম), লঙ্ঘন করার জন্যেই মোশির ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছিল (অর্থাৎ যুক্ত করা হয়েছিলো—(গালাতীয় ৩:১৬, ১৯) যতক্ষণ পর্যন্ত না খ্রীষ্ট জন্ম নেন ও মৃত্যুবরণ করেন। দুটিই আলাদা আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে: ঈশ্বরের ব্যবস্থা ও মোশির ব্যবস্থা।

(যাত্রা ৩১:১৮; ৩২:১৬)

মোশির ব্যবস্থা: ঈশ্বরের ব্যবস্থা:
“মোশির ব্যবস্থা” বলা হয়
(লূক ২:২২)
“ঈশ্বরের ব্যবস্থা” বলা হয় (যিশাইয় ৫:২৪)
“বিধিবদ্ধ আজ্ঞাকলাপরূপ ব্যবস্থা” বলা যায় (ইফিষীয় ২:১৫) . "“রাজকীয় ব্যবস্থা” হিসাবে উল্লেখিত (যাকোব ২:৮)
মোশির দ্বারা এক পুস্তকে লিখিত আছে (২ বংশাবলি ৩৫:১২)
.
নিয়ম সিন্দুকের পার্শ্বে রক্ষিত
(দ্বিতীয় বিবরন ৩১:২৬)
নিয়ম সিন্দুকের ভিতরে রক্ষিত
(যাত্রা ৪০:২০)
ক্রুশেই এর সমাপ্তি
(ইফিষীয় ২:১৬)
চিরকাল স্থায়ী থাকবে
(লূক ১৬:১৭).
পাপের কারণে যোগ করা হয়েছিল
(গালাতীয় ৩:১৯)
পাপকে চিহ্নিত করে
(রোমীয় ৭:৭; ৩:২০).
আমাদের বিপরীত, আমদের বিপক্ষে (কলসীয় ২:১৪) কখনই বোঝাস্বরূপ নয়
(১ যোহন ৫:৩)
কাউকে বিচার করে না
(কলসীয় ২:১৪—১৬).
সকলেই বিচারিত হয়
(যাকোব ২:১০—১২)
মাংসিক (ইব্রীয় ৭:১৬ আত্মিক (রোমীয় ৭:১৪)
কোন কিছুকে নিখুঁত করে না
(ইব্রীয় ৭:১৯)
সম্পূর্ণভাবে ত্রুটিহীন
(গীত ১৯:৭)

 

14. ঈশ্বরের ব্যবস্থা পালনকারী মানুষদের প্রতি দিয়াবলের অনুভূতি কেমন?

“আর সেই স্ত্রীলোকটির [সত্য মণ্ডলী] প্রতি নাগ [শয়তান] ক্রোধান্বিত হইল, আর তাহার বংশের সেই অবশিষ্ট লোকদের সহিত, যাহারা ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন ... করে, তাহাদের সহিত যুদ্ধ করিতে গেল। (প্রকাশিত বাক্য ১২:১৭)। “এইস্থলে সেই পবিত্রগণের ধৈর্য দেখা যায়, যাহারা ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করে” (প্রকাশিত বাক্য ১৪:১২)।

উত্তর: ঈশ্বরের ব্যবস্থা পালনকারীদের দিয়াবল ঘৃণা করে, কেননা ব্যবস্থা সঠিক জীবনের একটি নমুনা। তাই এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে যারা ঈশ্বরের ব্যবস্থা পালন করে সে সেই সকলের সঙ্গে বিরোধিতা করে। সে ঈশ্বরের পবিত্র আদর্শের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে এমনকি ধর্মীয় নেতাদেরও পথভ্রষ্ট করে তাঁদের মাধ্যমে দশ আজ্ঞা পালনের অযৌক্তিকতা সম্বন্ধে প্রচার চালায়, একই সঙ্গে জাগতিক রীতি রেওয়াজ পালন করার উপর জোরারোপ করে। এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই যে যীশু বলেছেন, “তোমরাও আপনাদের পরমপরাগত বিধির জন্য ঈশ্বরের আজ্ঞা লঙ্ঘন কর কেন? ... ইহারা অনর্থক আমার আরাধনা করে, মনুষ্যদের আদেশ ধর্মসূত্র বলিয়া শিক্ষা দেয়” (মথি ১৫:৩, ৯)। আর দায়ূদ বলেছেন, “সদাপ্রভুর কার্য করিবার সময় হইল, [কেননা] লোকে তোমার ব্যবস্থা খণ্ডন করিয়াছে” (গীতসংহিতা ১১৯:১২৬)। খ্রীষ্টীয়ানদের অবশ্যই জেগে উঠে ঈশ্বরের ব্যবস্থাকে তাদের হৃদয়ে ও জীবনে পুনরায় স্থান দিতে হবে।

15. আপনি কি মনে করেন যে, একজন খ্রীষ্টীয়ানের পক্ষে দশ আজ্ঞা পালন করা জরুরী?

আপনার উত্তর:

আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর

1. বাইবেল কি এটা বলে না যে ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল (কিংবা রয়েছে)?

উত্তর : না। বাইবেল বলে যে মানুষ ত্রুটিপূর্ণ ছিল। ঈশ্বর তাদের মধ্যে “দোষ” খুঁজে পেয়েছিলেন (ইব্রীয় ৮:৮)। আর রোমীয় ৮:৩ পদে বাইবেল বলে যে ব্যবস্থা “মাংস দ্বারা দুর্ব্বল” ছিল যা সব সময়েই দেখা যায়। ব্যবস্থা নির্ভুল, কিন্তু লোকেরা ত্রুটিপূর্ণ, কিংবা দুর্বল। সেই জন্য ঈশ্বর চাইলেন তাঁর পুত্র তাঁর লোকদের মধ্যে বসবাস করুন যেন আমাদের মধ্যে বসবাসকারী খ্রীষ্টের মাধ্যমে “ব্যবস্থার ধর্মবিধি সেই আমাদের মধ্যে সিদ্ধ হয়” (রোমীয় ৮:৪)।

2. গালাতীয় ৩:১৩ পদের উল্লেখ অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থার শাপ হইতে মুক্ত হবার অর্থ কী?

উত্তর: আজ্ঞার অভিশাপ হলো মৃত্যু (রোমীয় ৬:২৩)। খ্রীষ্ট “প্রত্যেক মানুষের পক্ষে মৃত্যুর” আস্বাদ গ্রহণ করেছেন (ইব্রীয় ২:৯)। এভাবে তিনি সকলকে ব্যবস্থার অভিশাপ (মৃত্যু) থেকে মুক্ত করে তার পরিবর্তে অনন্ত জীবন প্রদান করেছেন।

3. কলসীয় ২:১৪-১৭ এবং ইফিষীয় ২:১৫ পদ কি শিখায় না যে ঈশ্বরের ব্যবস্থা ক্রুশে যীশুর মৃত্যুতেই বিলুপ্ত হয়েছে?

উত্তর: না, কখনই না। উভয় পদই “বিধি” বা “মোশী’র ব্যবস্থা”-র কথা বলে, যা হলো বলিদান প্রণালী আর যাজকীয় কর্ম প্রক্রিয়া। এই বিধিগুলি ছিল ক্রুশের পূর্বাভাস এবং যীশুর মৃত্যুর সময় সমাপ্ত হয়ে গেছে, যেমনটি ঈশ্বরের পরিকল্পনা ছিল। মোশীর ব্যবস্থা ততক্ষণ প্রযোজ্য ছিল “যে পর্যন্ত না সেই বংশ আইসেন” আর “সেই বংশ খ্রীষ্ট” (গালাতীয় ৩:১৬, ১৯)। ঈশ্বরের ব্যবস্থা এখানে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে না, কারণ যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যুরও অনেক বছর পর পৌল এটি পবিত্র, ন্যায্য, এবং উত্তম বলেছেন (রোমীয় ৭:৭, ১২)।

4. বাইবেল বলে “প্রেমই ব্যবস্থার পূর্ণতা” (রোমীয় ১৩:১০)। আমাদের ঈশ্বরকে প্রেম করার আর প্রতিবেশীকে প্রেম করার আদেশ দিয়ে মথি ২২:৩৭—৪০ পদ এই শব্দগুলো দিয়ে সমাপ্ত করে, “এই দুইটি আজ্ঞাতেই সমস্ত ব্যবস্থা এবং ভাববাদীগ্রন্থও ঝুলিতেছে।” এই আজ্ঞাগুলো কি দশ আজ্ঞাকে প্রতিস্থাপন করে?

উত্তর: না। দশ আজ্ঞা এই দুই আজ্ঞার উপর ঝুলে আছে যেমন আমাদের দশ আঙ্গুল আমাদের দুই হাতে জুড়ে আছে। এরা অবিচ্ছেদ্য। ঈশ্বরের প্রতি প্রেম প্রথম চারটি আজ্ঞা (ঈশ্বর সম্বন্ধীয়) পালনে সুখ, এবং আমাদের প্রতিবেশীকে প্রেম করায়, বাকী ছয়টি আজ্ঞা (আমাদের প্রতিবেশী সম্বন্ধিত) পালনে আনন্দের কথা বলে। প্রেম আমাদের থেকে নিছক আনুগত্যের বাধ্যবাধকতা দূর করে এবং নিয়ম পালনকে আনন্দে পরিণত করে (গীতসংহিতা ৪০:৮)। যখন আমরা কোনো ব্যক্তিকে সত্যিকার অর্থে প্রেম করি, তার অনুরোধ রক্ষা করা আমাদের খুশির কারণ হয়। যীশু বলেছেন, “তোমরা যদি আমাকে প্রেম কর, তবে আমার আজ্ঞা সকল পালন করিবে” (যোহন ১৪:১৫)। কেউ ঈশ্বরকে প্রেম করবে অথচ তাঁর আজ্ঞা পালন করবে না, এটা অসম্ভব, কারণ বাইবেল বলে, “কেননা ঈশ্বরের প্রতি প্রেম এই, যেন আমরা তাঁহার আজ্ঞা সকল পালন করি; আর তাঁহার আজ্ঞা সকল দুর্বহ নয়” (১ যোহন ৫:৩)। “যে ব্যক্তি বলে, আমি তাঁহাকে জানি, তথাপি তাঁহার আজ্ঞা সকল পালন না করে, সে মিথ্যাবাদী এবং তাঁহার অন্তরে সত্য না” (১ যোহন ২:৪)।

5. ২ করিন্থীয় ৩:৭ কি এটা শেখায় না যে প্রস্তরে খোদিত ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে? ?

উত্তর: না‌। উক্ত বাক্যাংশ মোশির পরিচালিত ব্যবস্থার পরিচর্যা কাজের “মহিমার” অবসানের কথা বলে, কিন্তু ব্যবস্থার কথা বলে না। মনোযোগ সহকারে ২ করিন্থীয় ৩:৩—৯ পর্যন্ত পড়ুন। এখানে আলোচ্য বিষয়টা ব্যবস্থা কিংবা তার প্রতিষ্ঠা নয়, বরং প্রস্তর ফলক থেকে হৃদয়ের ফলকে ব্যবস্থার স্থান পরিবর্তন। পবিত্র আত্মার পরিচর্যার অধীনে, এবং খ্রীষ্টের মাধ্যমেই, ব্যবস্থা হৃদয়ে লিখিত হয়, (ইব্রীয় ৮:১০)। বিদ্যালয়ের বোর্ডে লেখা নিয়ম কেবল তখনই কার্যকরী হয় যখন তা ছাত্রের হৃদয়ে প্রবেশ করে। একইভাবে, একজন খ্রীষ্টীয়ানের ঈশ্বর এবং মানুষ উভয়ের জন্য সত্যিকারের ভালবাসা থাকার কারণে ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন তার কাছে আনন্দের এবং আনন্দময় জীবনযাপনের উপায় হয়ে ওঠে।

6. "রোমীয় ১০:৪ বলে যে “খ্রীষ্টই ব্যবস্থার পরিণাম।” তাই এটি শেষ হয়ে গেছে, তাই নয় কি??

উত্তর: এই পদে “পরিণাম”-এর অর্থ উপলক্ষ বা লক্ষ্যবস্তু, যেমন যাকোব ৫:১১ বলে। এখানে অর্থ সুস্পষ্ট। মানুষকে যীশুর দিকে পরিচালিত করা—যেখানে তার ধার্মিকতা খুঁজে পাবে—িযনি লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কিংবা ব্যবস্থার পরিণাম।

7.কেন এত লোক ঈশ্বরের ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক দাবিকে অস্বীকার করে?
<?

উত্তর: “কেননা মাংসের ভাব ঈশ্বরের প্রতি শত্রুতা, কারণ তাহা ঈশ্বরের ব্যবস্থার বশীভূত হয় না, বাস্তবিক হইতে পারেও না। আর যাহারা মাংসের অধীনে থাকে, তাহারা ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করিতে পারে না। কিন্তু তোমরা মাংসের অধীনে নও, আত্মার অধীনে রহিয়াছ, যদি বাস্তবিক ঈশ্বরের আত্মা তোমাদের মধ্যে বাস করেন। কিন্তু খ্রীষ্টের আত্মা যাহার নাই, সে খ্রীষ্টের নয়” (রোমীয় ৮:৭—৯)।

8. পুরাতন নিয়মে ধার্মিকগণ কি ব্যবস্থা দ্বারা পরিত্রাণ পেয়েছিল??

উত্তর: ব্যবস্থার দ্বারা কখনও কোন মানুষ পরিত্রাণ পায়নি। সর্বযুগব্যাপী যারা পরিত্রাণ পেয়েছেন, তারা অনুগ্রহের দ্বারাই পরিত্রাণ পেয়েছেন। “সেই অনুগ্রহ অনাদিকালের পূর্বে খ্রীষ্ট যীশুতে আমাদিগকে দত্ত হইয়াছিল” (২ তীমথিয় ১:৯)। ব্যবস্থার কেবল পাপকে দেখিয়ে দেয়। কেবল খ্রীষ্ট রক্ষা করতে পারেন। নোহ “অনুগ্রহ প্রাপ্ত হইলেন (আদিপুস্তক ৬:৮); মোশি অনুগ্রহ পেয়েছিলেন, (যাত্রাপুস্তক ৩৩:১৭); প্রান্তরে ইস্রায়েলীয়রা অনুগ্রহ পেয়েছিল (যিরমিয় ৩১:২) আর হেবল, হনোক, অব্রাহাম, ইসহাক, যাকোব, যোষেফ, এবং পুরাতন নিয়মের আরও অনেক চরিত্র ইব্রীয় ১১ অধ্যায় অনুসারে “বিশ্বাসে” পরিত্রাণ পেয়েছেন। তারা ক্রুশের প্রতীক্ষা করার মাধ্যমে পরিত্রাণ পেয়েছিলেন আর আমরা পেছনে ফেলে আসা ক্রুশের দিকে তাকিয়ে। ব্যবস্থা জরুরি কারণ, একটি আয়নার ন্যায় এটা আমাদের জীবনের “ময়লা”কে দেখিয়ে দেয়। ব্যবস্থা ছাড়া, লোকেরা পাপী হওয়া সত্ত্বেও সে সম্বন্ধে সচেতন নয়। যাহোক, ব্যবস্থার রক্ষা করার কোনও শক্তি নেই। এটা কেবল পাপকে দেখিয়ে দেয়। যীশু, এবং একমাত্র তিনিই, পাপ থেকে এক ব্যক্তিকে বাঁচাতে পারেন। এটা সর্বসময়ে সত্য ছিল, এমনকি পুরাতন নিয়মের সময়েও (প্রেরিত ৪:১০, ১২; ২ তীমথিয় ১:৯)।

9. ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে হবে কেন? বিবেক কি একটি নিরাপদ পথপ্রদর্শক নয়?

উত্তর: না। বাইবেল একটি মন্দ বিবেক, একটি বিকৃত বিবেক, এবং একটি কলুষিত বিবেকের বিষয়ে বলে—যার কোনোটিই নিরাপদ নয়। “একটি পথ আছে, যাহা মানুষের দৃষ্টিতে সরল; কিন্তু তাহার পরিণাম মৃত্যুর পথ” (হিতোপদেশ ১৪:১২)। ঈশ্বর বলেন, “যে নিজ হৃদয়কে বিশ্বাস করে, সে হীনবুদ্ধি”
(হিতোপদেশ ২৮:২৬)।

সারসংক্ষেপ

দয়া করে এই প্রশ্নের সমাধান করার আগে পাঠটি পড়ে নিন। সমস্ত উত্তর আপনি এই সহায়িকা বইটিতে পেয়ে যাবেন।। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দিন। বন্ধনীর সংখ্যাগুলো (১) সঠিক উত্তরের সংখ্যা নির্দেশ করে।

১। দশ আজ্ঞা লিখেছেন (১) (1)

( ) ঈশ্বর।

( ) মোশি।

( )অজানা এক ব্যক্তি।

২। বাইবেল অনুসারে পাপ হল (১)

( ) ব্যক্তিত্বের ত্রুটি।

( ) ঈশ্বরের ব্যবস্থা লঙ্ঘন।

( ) যা কিছু ভুল মনে হয় তাই।

৩।কোন উক্তিগুলো ঈশ্বরের ব্যবস্থার বিষয়ে সত্য? (৪)

( ) এটি সুখী জীবনের সঠিক নির্দেশিকা।.

( ) দর্পণের ন্যয় এটি পাপকে দেখিয়ে দেয়।.

( ) এটি দুর্বহ পীড়াদায়ক।.

( ) এটি আমাকে মন্দতা থেকে রক্ষা করে।

( ) এটির ঈশ্বরের চরিত্রেরই প্রতিফলন।

( ) নতুন নিয়মে এটি বর্জিত হয়েছে।

( ) এটি একটি অভিশাপ।

৪।ঈশ্বরের দশ আজ্ঞা (১)

( ) কেবল পুরাতন নিয়মের সময়কার জন্যই ছিল।

( ) ক্রুশে যীশুর দ্বারা বিলুপ্ত হয়েছে।

( ) অপরিবর্তনীয়।

৫। শেষ বিচারে আমি রক্ষা পাব যদি (১)

( ) আমি ভালো কাজের একটি চমৎকার হিসেব রাখি।

( ) আমি ১০ আজ্ঞা পালন করি বা না করি তা’তে কিছু যায় আসে না, কিন্তু যীশুকে ভালবাসি।.

( )যীশুর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের দরুন আমি তাঁর সমস্ত আজ্ঞাই পালন করি।

৬। মানুষেরা পরিত্রাণ পায় (১)

( ) ব্যবস্থা পালনের মাধ্যমে।

( ) ব্যবস্থা লঙ্ঘনের মাধ্যমে।

( ) একমাত্র যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে.

৭। প্রকৃত পরিবর্তিত খ্রীষ্টীয়ানগণ (১)

( ) খ্রীষ্টের শক্তিতে ঈশ্বরের ব্যবস্থা পালন করে।

( ) ব্যবস্থা উপেক্ষা করে কারণ এটি বিলুপ্ত হয়েছে।

( ) ব্যবস্থা পালনকে নিস্প্রয়োজন মনে করে।

৮। যে মানুষ অনুগ্রহে বসবাস করে সে (১)

( ) ১০ আজ্ঞা লঙ্ঘন করলেও তার পাপ হবে না।

( ) ব্যবস্থা পালন থেকে মুক্ত।

( ) আগ্রহপূর্বক হৃষ্টচিত্তে ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করবে।.

৯. প্রেমই ব্যবস্থার পূর্ণতা সাধন করে কারণ (১)

( ) প্রেম ব্যবস্থাকে বাতিল করে দেয়।

( ) ঈশ্বরের এবং মানুষের প্রতি সত্যিকারের প্রেম আজ্ঞা পালনকে আনন্দময় করে তোলে।

( ) বাধ্যতার চাইতে প্রেম অধিক গুরুত্বপূর্ণ।.

১০।মোশির নিয়মে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে (১)

( ) ঈশ্বরের ব্যবস্থার অনুরূপ বিষয়বস্তু

( ) আচার-অনুষ্ঠান ও বলিদানের রীতি, যা খ্রীষ্টের দিকে নির্দেশ করেছে এবং ক্রুশে সমাপ্ত হয়েছে।

( ) চিরতরে পালনীয় কর্তব্য।

১১। যাঁরা ১০ আজ্ঞা পালন করেন তারা (১)

( ) সবাই আইনবাদী।

( ) শয়তানের বিরোধীতার মুখোমুখি হবে, যে ঈশ্বর এবং তাঁর আজ্ঞাকে ঘৃণা করে।

( ) ব্যবস্থা পালনের মাধ্যমে রক্ষা পাবে।

১২) খ্রীষ্ট এবং ব্যবস্থা সম্বন্ধে যে উক্তিগুলো সত্য সেগুলোতে চিহ্ন দিন: (৪)

( ) যীশু ব্যবস্থা ভঙ্গ করেছেন।

( ) যীশু ব্যবস্থা পালনের একজন নিখুঁত মানব উদাহরণ।

( ) যীশু ব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটিয়েছেন।

( ) যীশু বলেছেন, “তোমরা যদি আমাকে প্রেম কর, তবে আমার আজ্ঞা সকল পালন করিবে।”

( ) যীশু ব্যবস্থা বিবর্ধিত করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে তাতে সকল পাপ অন্তর্ভুক্ত আছে।

( ) যীশু বলেছেন যে ব্যবস্থা অপরিবর্তনীয়।

১৩) আমি বিশ্বাস করি একজন খ্রীষ্টীয়ান ব্যক্তি হৃষ্টচিত্তে ঈশ্বরের ১০ আজ্ঞা পালন করবে, আর আমি যীশুর কাছে সাহায্য চাই যেন তিনি আমার জীবনকে ঐ আজ্ঞাগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যতায় আনেন।

( ) হ্যাঁ।

( ) না।