Lesson 7

আপনি জানেন কি বাইবেলে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দিন আছে, যে বিষয়ে প্রায় সবাই ভুলে গিয়েছে? ভাবতে অবাক লাগে যে খুব অল্প সংখ্যক মানুষই এ বিষয়ে সচেতন, কারণ এটি মানব ইতিহাসে সবচাইতে তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন! এটি কেবল অতীতেই নয়, আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্যও সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তাছাড়াও, এই অবহেলিত দিনটিতে যা ঘটে, তা আপনার জীবনে ইতিবাচক ফল আনতে পারে? এই হারানো দিনটির কথা আরও জানতে চান? তাহলে এই সহায়ক বইটি মন দিয়ে পড়ুন।

When Jesus was here on earth, He worshiped on the Sabbath.

1. প্রথাগত ভাবে যীশু কোন দিনে উপাসনা করতেন?

“আর তিনি যেখানে পালিত হইয়াছিলেন সেই নাসারতে উপস্থিত হইলেন এবং রীতি অনুসারে বিশ্রামবারে সমাজগৃহে প্রবেশ করিলেন ও পাঠ করিতে দাড়াইলেন” (লুক ৪:১৬)।

উত্তর: যীশুর রীতি ছিল বিশ্রামদিনে উপাসনা করা।

2. কিন্তু ইতিহাসের কোন দিনটি বাস্তবিকভাবে মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে?

“কিন্তু সপ্তম দিন তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে বিশ্রামদিন” (যাত্রাপুস্তক ২০:১০)।
“বিশ্রামদিন অতীত হইলে পর মগ্দলীনী মরিয়ম, যাকোবের মাতা মরিয়ম এবং শালোমী সুগন্ধি দ্রব্য ক্রয় করিলেন, যেন গিয়া যীশুকে মাখাইতে পারেন। পরে সপ্তাহের প্রথম দিন তাঁহারা অতি প্রত্যুষে, সূর্য উদিত হইলে, কবরের নিকটে আসিলেন” (মার্ক ১৬:১, ২)।

Answer

উত্তর: এই প্রশ্নের জবাব দিতে হলে একটু অনুসন্ধানের প্রয়োজন। অনেকে বিশ্বাস করেন বিশ্রামদিন সপ্তাহের প্রথম দিন অর্থাত্ রবিবার, কিন্তু বাইবেল জ্ঞাত করে যে বিশ্রামদিনটি সপ্তাহের প্রথম দিনের কেবল আগেই আসে। শাস্ত্রানুসারে বিশ্রামদিন হল সপ্তাহের সপ্তমদিন—অর্থাত্, শনিবার।

3. Where did the Sabbath come from?

3. বিশ্রামদিন কোথা থেকে এলো?

“আদিতে ঈশ্বর আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি করিলেন। ... পরে ঈশ্বর সপ্তম দিনে আপনার কৃত কার্য্য হইতে নিবৃত্ত হইলেন, সেই সপ্তম দিনে আপনার সমস্ত কার্য্য হইতে বিশ্রাম করিলেন। আর ঈশ্বর সেই সপ্তম দিনকে আশীর্বাদ করিয়া পবিত্র করিলেন, কেননা সেই দিনে আপনার সৃষ্ট ও কৃত সমস্ত কার্য্য হইতে বিশ্রাম করিলেন” (আদিপুস্তক ১:১; ২:২, ৩ পদ)।

উত্তর: পৃথিবী সৃষ্টির সময়েেই ঈশ্বর বিশ্রামদিনের প্রতিষ্ঠা করেছেন।
ঈশ্বর স্বয়ং এই দিনে বিশ্রাম করেছেন এবং দিনটিকে আশীর্বাদ করে পবিত্র করেছেন—অর্থাত্, তিনি একটি পবিত্র কাজের জন্য এটিকে আলাদা করেছেন।

4. দশ আজ্ঞাতে ঈশ্বর বিশ্রামদিন সম্বন্ধে কী ব্যক্ত করেন?

“তুমি বিশ্রামদিন স্বরণ করিয়া পবিত্র করিও। ছয় দিন শ্রম করিও, আপনার সমস্ত কার্য্য করিও, কিন্তু সপ্তম দিন তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে বিশ্রামদিন। সেই দিন তুমি, কি তোমার পুত্র কি কন্যা, কি তোমার দাস কি দাসী, কি তোমার পশু, কি তোমার পুরদ্বারের মধ্যবর্ত্তী বিদেশী, কেহ কোন কার্য্য করিও না। কেননা সদাপ্রভু আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী, সমুদ্র ও সেই সকলের মধ্যবর্তী সমস্ত বস্তু ছয় দিনে নির্মাণ করিয়া সপ্তম দিনে বিশ্রাম করিলেন। এই জন্য সদাপ্রভু বিশ্রামদিনকে আশীর্বাদ করিলেন, ও পবিত্র করিলেন” (যাত্রাপুস্তক ২০:৮-১১)। “আর সদাপ্রভু আমাকে ঈশ্বরের অঙ্গুলী দ্বারা লিখিত সেই দুই প্রস্তর ফলক দিয়াছিলেন” (দ্বিতীয় বিবরণ ৯:১০)।
উত্তর: চতুর্থ আজ্ঞায় ঈশ্বর বলেছেন যেন আমরা সপ্তম দিনের বিশ্রামদিনকে, তাঁর পবিত্র দিন হিসেবে পালন করি। এটা স্পষ্ট যে ঈশ্বর জানতেন মানুষ তাঁর বিশ্রামদিনটিকে ভুলে যেতে পারে, এ কারণে তিনি আজ্ঞাটির শুরুতেই “স্বরণ” করার কথাটি বলেছেন।

5. But haven’t the Ten Commandments been changed?

5. দশ আজ্ঞাগুলো কি পরিবর্তিত হয়ে যায়নি?

যাত্রাপুস্তক ২০:১ বলে, “ঈশ্বর এই সকল কথা কহিলেন ... [২-১৭ পদগুলোতে আজ্ঞাগুলো আছে]।”
ঈশ্বর বলেন, “আমি আমার নিয়ম ব্যর্থ করিব না, আমার ওষ্ঠনির্গত বাক্য অন্যথা করিব না” (গীতপুস্তক ৮৯:৩৪)। যীশু বলেন, “ব্যবস্থার এক বিন্দু পড়িয়া যাওয়া অপেক্ষা বরং আকাশের ও পৃথিবীর লোপ হওয়া সহজ” (লুক ১৬:১৭)।

উত্তর: একেবারেই না! ঈশ্বরের নৈতিক ব্যবস্থার একটিরও পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়। দশ আজ্ঞার সবগুলোই আজও কার্যকর। যেভাবে অন্য নয়টি আজ্ঞা বদলায় নি, সেভাবে চতুর্থ আজ্ঞাটিও বদলায় নি।

6. Did the apostles keep the Sabbath on the seventh day?

6. প্রেরিতগণ কি সপ্তম দিনে বিশ্রামদিন পালন করতেন?

“আর পৌল আপন রীতি অনুসারে তাহাদের কাছে গেলেন এবং তিন বিশ্রামবারে তাহাদের সহিত শাস্ত্রের কথা লইয়া প্রসঙ্গ করিলেন” (প্রেরিত ১৭:২)। “আর পৌল ও তাঁহার সঙ্গীগণ ... বিশ্রামদিনে সমাজ গৃহে প্রবেশ করিয়া বসিলেন” (প্রেরিত ১৩:১৩, ১৪)। “আর বিশ্রামবারে নগর-দ্বারের বাইরের নদীতীরে গেলাম মনে করিলাম, সেখানে প্রার্থনা স্থান আছে, আর আমরা বসিয়া সমাগত স্ত্রী লোকেদের কাছে কথা কহিতে লাগিলাম” (প্রেরিত ১৬:১৩)। “প্রতি বিশ্রামবারে তিনি [পৌল] সমাজ-গৃহে কথা প্রসঙ্গ করিতেন, এবং যিহূদী ও গ্রীকদিগকে বিশ্বাস করিতে প্রবৃত্তি দিতেন” (প্রেরিত ১৮:৪)।

উত্তর: হ্যাঁ। প্রেরিত পুস্তক এটি পরিষ্কারভাবে দেখায় যে, পৌল এবং প্রারম্ভিক মণ্ডলী বিশ্রামদিন পালন করতেন।

7. Did the Gentiles also worship on the seventh-day Sabbath?

7. পরজাতিগণ / অযিহূদীগণও কি সপ্তম দিনে বিশ্রামদিন পালন করত?

ঈশ্বর বলেছেন, “ধন্য সেই ব্যক্তি, ... যে বিশ্রামবার ... অপবিত্র করে না, ... আর যে বিজাতি-সন্তানগণ ... সদাপ্রভুতে আসক্ত হয়, অর্থাৎ যে কেহ বিশ্রামবার ... অপবিত্র করে না, ও আমার নিয়ম দৃঢ় করিয়া রাখে, তাহাদিগকে আমি আপন পবিত্র পর্বতে আনিব, এবং আমার প্রার্থনা-গৃহে আনন্দিত করিব; ...
যেহেতু আমার গৃহ সর্বজাতির প্রার্থনা-গৃহ বলিয়া আখ্যাত হইবে।” (যিশাইয় ৫৬:২, ৬, ৭)। প্রেরিতগণ একই শিক্ষা দিয়েছেন: “তাঁহাদের বাহিরে যাইবার সময়ে লোকেরা বিনতি করিল, যেন পর বিশ্রামবারে সেই সকল কথা তাহাদের কাছে বলা হয়। ... পরবর্তী বিশ্রামবারে নগরের প্রায় সমস্ত লোক ঈশ্বরের বাক্য শুনিতে সমাগত হইল” (প্রেরিত ১৩:৪২, ৪৪)। “প্রতি বিশ্রামবারে তিনি সমাজ-গৃহে কথা প্রসঙ্গ করিতেন, এবং যিহূদী ও গ্রীকদিগকে বিশ্বাস করিতে প্রবৃত্তি দিতেন" (প্রেরিত ১৮:৪)।

উত্তর: প্রারম্ভিক মণ্ডলীর প্রেরিতগণ ঈশ্বরের নির্দেশ কেবল মেনেই চলতেন না, বরং পরিবর্তিত হওয়া বিজাতীয়গণকে বিশ্রামদিনে উপাসনা করতে প্রবৃত্তিও দিতেন।

8. কিন্তু বিশ্রামদিন কি রবিবারে পরিবর্তন হয়ে যায় নি?

উত্তর: না। বাইবেলে কোথাও এমন কোনও ইঙ্গিত নেই যে যীশু, পিতা ঈশ্বর, কিংবা শিষ্যগণ কখনও—কোন পরিস্থিতিতেই—পবিত্র সপ্তম-দিন বিশ্রামদিনকে অন্য কোন দিনে পরিবর্তন করেছেন।
প্রকৃতপক্ষে বাইবেল বরং এর বিপরীত শিক্ষা দেয়। প্রমাণ আপনি নিজেই দেখে নিন:

ঈশ্বর বিশ্রামদিনকে আশীর্বাদ করেছেন:

ঈশ্বর বিশ্রামদিনকে আশীর্বাদ করিলেন ও পবিত্র করিলেন” (যাত্রাপুস্তক ২০:১১)। "আর ঈশ্বর সেই সপ্তম দিনকে আশীর্ব্বাদ করিয়া পবিত্র করিলেন" (আদিপুস্তক ২:৩)।

খ.খ্রীষ্ট প্রত্যাশা করেছিলেন যে ৭০ খ্রিস্টাব্দে যিরূশালেম ধ্বংসের সময়েও লোকেরা বিশ্রামদিন পালন করে যাবে।

যিরূশালেম ৭০ খ্রিস্টাব্দে ধ্বংস হবে এটা ভালো করে জেনে যীশু তাঁর অনুসারীদের এই বলে সতর্ক করেছিলেন, “আর প্রার্থনা কর, যেন তোমাদের পলায়ন শীতকালে কিম্বা বিশ্রামবারে না ঘটে" (মথি ২৪:২০)। যীশু স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে তাঁর পুনরুত্থানের ৪০ বছর পরও তাঁর লোকেরা বিশ্রামদিন পালন করতে থাকবে।

যে নারীগণ যীশুর দেহ অভিষিক্ত করতে এসেছিলেন তাঁরাও বিশ্রামদিন পালন করেছিলেন।
"বিশ্রামদিনের পূর্বদিনে" মৃত্যুবরণ করেছিলেন (মার্ক ১৫:৩৭, ৪২), যে দিনটি পুণ্য শুক্রবার বলে পরিচিত। ঐ নারীগণ তাঁর দেহটি অভিষিক্ত করতে সুগন্ধি দ্রব্য ও তৈল প্রস্তুত করলেন, পরে “বিশ্রামবারে তাঁহারা বিধিমতে বিশ্রাম করিলেন” (লূক ২৩:৫৬)। কেবল “বিশ্রামদিন অতীত হইলে পর” সেই নারীগণ “সপ্তাহের প্রথম দিন” তাদের শোক পালনের কার্যক্রম সমাপ্ত করতে এলেন” (মার্ক:১৬:১, ২)। তারা দেখলেন “সপ্তাহের প্রথম দিবসে যীশু প্রত্যুষে” উঠেছেন (৯ পদ), যা “ইস্টার সানডে” নামে পরিচিত। দয়া করে লক্ষ্য করুন যে ইস্টার সানডে’র পূর্বদিনটিই “বিধিমতে” বিশ্রামদিন, যাকে আমরা এখন শনিবার বলি।

প্রেরিত পুস্তকের লেখক লূক, উপাসনার দিনের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন নি। বাইবেলেও এমন কোন তথ্য নেই।

প্রেরিত পুস্তকে লূক বলেছেন যে তিনি যীশুর দেয়া শিক্ষা “সকল” নিয়ে তার পুস্তকটি (লূক লিখিত সুসমাচার) লিখেছিলেন (প্রেরিত ১:১-৩)। কিন্তু তিনি কখনও বিশ্রামদিন পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন নি।

Everybody in God's eternal kingdom will keep the Sabbath holy.

9. কিছু লোক বলেন ঈশ্বরের নূতন পৃথিবীতে বিশ্রামদিন পালিত হবে। একথা কি সঠিক?

“কারণ আমি যে নূতন আকাশমণ্ডল ও নূতন পৃথিবী গঠন করিব, তাহা যেমন আমার সম্মুখে থাকিবে, তেমনি তোমাদের বংশ ও তোমাদের নাম থাকিবে, ইহা সদাপ্রভু কহেন। আর প্রতি অমাবস্যায় ও প্রতি বিশ্রামবারে সমস্ত মর্ত্য আমার সম্মুখে প্রণিপাত করিতে আসিবে, ইহা সদাপ্রভু কহেন” (যিশাইয় ৬৬:২২, ২৩)।

উত্তর: হ্যাঁ। বাইবেল উল্লেখ করে যে সব যুগের প্রতিটি পরিত্রাণ পাওয়া লোক নূতন পৃথিবীতে বিশ্রামদিন পালন করবে।

10. But isn’t Sunday the Lord’s Day?

10. কিন্তু রবিবার কি প্রভুর দিন নয়?

“বিশ্রামবারকে আমোদদায়ক, ও সদাপ্রভুর পবিত্র দিনকে গৌরবান্বিত বল” (যিশাইয় ৫৮:১৩)। “কেননা মনুষ্যপুত্র বিশ্রামবারের কর্তা” (মথি ১২:৮)।

উত্তর: বাইবেল প্রকাশিত বাক্য ১:১০ পদে "প্রভুর দিনের"-এর বিষয়ে বলে, সুতরাং প্রভুর একটি বিশেষ দিন তো অবশ্যই আছে। কিন্তু বাইবেলের কোনও পদই রবিবারকে প্রভুর দিন হিসেবে বলে না। বরং শাস্ত্র সপ্তম দিনকে স্পষ্টভাবেই প্রভুর দিন হিসেবে দেখায়। একমাত্র যে দিনটি ঈশ্বর আশীর্বাদ করেছেন এবং নিজের বলে দাবি করেছেন, তা হল সপ্তম-দিনের বিশ্রামদিন।

11.খ্রীষ্টের পুনরুত্থানের সম্মানে কি আমাদের রবিবারকে পবিত্র দিন হিসাবে পালন করা উচিৎ নয়?

"অথবা তোমরা কি জান না যে, আমরা যত লোক খ্রীষ্ট যীশুর উদ্দেশে বাপ্তাইজিত হইয়াছি, সকলে তাঁহার মৃত্যুর উদ্দেশে বাপ্তাইজিত হইয়াছি? অতএব আমরা তাঁহার মৃত্যুর উদ্দেশে বাপ্তিস্ম দ্বারা তাঁহার সহিত সমাধিপ্রাপ্ত হইয়াছি; যেন, খ্রীষ্ট যেমন পিতার মহিমা দ্বারা মৃতগণের মধ্য হইতে উত্থাপিত হইলেন, তেমনি আমরাও জীবনের নূতনত্বে চলি। কেননা যখন আমরা তাঁহার মৃত্যুর সাদৃশ্যে তাঁহার সহিত একীভূত হইয়াছি, তখন অবশ্য পুনরুত্থানের সাদৃশ্যেও হইব। আমরা ত ইহা জানি যে, আমাদের পুরাতন মনুষ্য তাঁহার সহিত ক্রুশারোপিত হইয়াছে, যেন পাপদেহ শক্তিহীন হয়, যাহাতে আমরা পাপের দাস আর না থাকি" (রোমীয় ৬:৩-৬ পদ)।

উত্তর: না! বাইবেল কখনই পুনরুত্থান দিনের সম্মানে বা অন্য কারণে রবিবার দিনকে পবিত্র রাখার পরামর্শ দেয় না। আমরা ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ আজ্ঞাগুলো পালন করে ঈশ্বরকে সম্মান করি (যোহন ১৪:১৫)—তাঁর অনন্ত ব্যবস্থার স্থানে মানুষের তৈরী রীতিনীতিকে (ট্রেডিশন) প্রতিস্থাপন করে নয়।

12. যদি বাইবেল রবিবার-পালন শিক্ষা না দেয়, তবে এটি কার চিন্তাধারা?

“ সে ... নিরূপিত সময়ের ও ব্যবস্থার পরিবর্তন করিতে মনস্থ করিবে" (দানিয়েল ৭:২৫)। “ তোমরা আপনাদের পরমপরাগত বিধির জন্য ঈশ্বরের বাক্য নিষ্ফল করিয়াছ। ... ইহারা অনর্থক আমার আরাধনা করে, মনুষ্যদের আদেশ ধর্মসূত্র বলিয়া শিক্ষা দেয়” (মথি ১৫:৬, ৯)। “তথাকার যাজকগণ আমার ব্যবস্থার প্রতি দৌরাত্ম্য করিয়াছে, ও আমার পবিত্র বস্তু সকল অপবিত্র করিয়াছে। ... তথাকার ভাববাদিগণ তাহাদের জন্য চুন দিয়া [দেওয়াল] লেপণ করিয়াছে ... সদাপ্রভু কথা না কহিলেও তাহারা বলে, প্রভু সদাপ্রভু এই কথা কহেন (যিহিষ্কেল ২২:২৬, ২৮)।

উত্তর: যীশুর পুনরুত্থানের প্রায় ৩০০ বছর পর, আংশিকভাবে যিহুদিদেরকে ঘৃণার কারণে, কিছু ভ্রান্ত লোকেরা ঈশ্বরের উপাসনার পবিত্র দিনটি শনিবার থেকে রবিবারে পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়েছিলো। ঈশ্বর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এটি ঘটবে, এবং তা ঘটেছে। এ ভ্রান্তিটি সত্য হিসেবে আমাদের সরল-বিশ্বাসী প্রজন্মের কাছে চলে এসেছে। যাহোক, রবিবার-পালন নিছকই মানুষের তৈরী রীতি যা ঈশ্বরের বিশ্রামদিন পালনের ‍নির্দেশের সেই ব্যবস্থাটি লঙ্ঘন করায়। কেবল ঈশ্বরই একটি দিনকে পবিত্র করতে পারেন। ঈশ্বর বিশ্রামদিনকে আশীর্বাদ করেছেন, আর যখন ঈশ্বর আশীর্বাদ করেন, তখন কোনও মানুষ তা "বদলাতে পারে না" (গণনাপুস্তক ২৩:২০)।

13. ঈশ্বরের ব্যবস্থার উপর এ ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ বিপদজনক নয় কি?

“আমি তোমাদিগকে যাহা আজ্ঞা করি, সেই বাক্যে তোমরা আর কিছু যোগ করিবে না, এবং তাহার কিছু হ্রাস করিবে না। আমি তোমাদিগকে যাহা যাহা আদেশ করিতেছি, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেই সকল আজ্ঞা পালন করিবে” (দ্বিতীয় বিবরণ ৪:২)। “ঈশ্বরের প্রত্যেক বাক্য পরীক্ষাসিদ্ধ। ...
তাঁহার বাক্যকলাপে কিছু যোগ করিও না; পাছে তিনি তোমার দোষ ব্যক্ত করেন, আর তুমি মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন হও” (হিতোপদেশ ৩০:৫, ৬)।

উত্তর: ঈশ্বর মানুষকে তাঁর ব্যবস্থাতে কোনো সংযোজন বা বিয়োজনের মাধ্যমে তা বদলাতে বারণ করেছেন। ঈশ্বরের ব্যবস্থার উপর অবৈধ হস্তক্ষেপ করা সবচেয়ে বিপদজনক একটি কাজ, কারণ ঈশ্বরের ব্যবস্থা নির্ভুল এবং তা আমাদের মন্দ থেকে সুরক্ষা করার জন্য নকশা করা হয়েছে।

14. তাহলে কেন ঈশ্বর বিশ্রামদিনটি দিয়েছেন?

সৃষ্টির চিহ্ন। “তুমি বিশ্রামদিন স্মরণ করিয়া পবিত্র করিও। ... কেননা সদাপ্রভু আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী, সমুদ্র ও সেই সকলের মধ্যবর্তী সমস্ত বস্তু ছয় দিনে নির্মাণ করিয়া সপ্তম দিনে বিশ্রাম করিলেন। এই জন্য সদাপ্রভু বিশ্রামদিনকে আশীর্বাদ করিলেন, ও পবিত্র করিলেন” (যাত্রাপুস্তক ২০:৮, ১১)।

মুক্তি ও পবিত্রতার চিহ্ন। “আর আমিই যে তাহাদের পবিত্রকারী সদাপ্রভু, ইহা জানাইবার জন্য আমার ও তাহাদের মধ্যে চিহ্নস্বরূপে আমার বিশ্রামদিন সকলও তাহাদিগকে দিলাম” (যিহিস্কেল ২০:১২)।

উত্তর: ঈশ্বর বিশ্রামদিনকে দ্বিগুণ চিহ্ন হিসেবে দিয়েছেন: প্রথমতঃ এটা ঈশ্বর আক্ষরিক ছয়টি দিনে সমস্ত জগত্ সৃষ্টি করার একটি চিহ্ন, এবং দ্বিতীয়তঃ এটি ঈশ্বরের মহান শক্তির চিহ্ন যে লোকদের উদ্ধার করার এবং পবিত্র করার ক্ষমতা তাঁর আছে। ঈশ্বর এ পৃথিবী সৃষ্টি করার এবং মানুষকে মুক্ত করার মহামূল্য চিহ্নের প্রতি সাড়া দিয়ে একজন খ্রীষ্টীয়ান সপ্তম-দিনের বিশ্রামদিনকে ভালোবাসবে, এটাই স্বাভাবিক (যাত্রাপুস্তক ৩১:১৩, ১৬, ১৭; যিহিষ্কেল ২০:২০)। ঈশ্বরের বিশ্রামদিন কে পদদলিত করা অতি অসম্মানজনক। যিশাইয় ৫৮:১৩, ১৪ পদে ঈশ্বর বলেন যে কেউ আশীর্বাদ পেতে চান তারা যেন তাঁর পবিত্র দিনকে পা দিয়ে না মাড়ায়।

15. বিশ্রামদিনকে পবিত্র রাখা কতটা জরুরী?

“ব্যবস্থালঙ্ঘনই পাপ” (১ যোহন ৩:৪)। “পাপের বেতন মৃত্যু” (রোমীয় ৬:২৩)। কারণ যে কেহ সমস্ত ব্যবস্থা পালন করে, কেবল একটি বিষয়ে উছোট খায়, সে সকলেরই দায়ী হইয়াছে” (যাকোব ২:১০)। “খ্রীষ্টও তোমাদের জন্য দুঃখভোগ করিলেন, এই বিষয়ে তোমাদের জন্য এক আদর্শ রাখিয়া গিয়াছেন, যেন তোমরা তাঁহার পদচিহ্নের অনুগমন কর” (১ পিতর ২:২১)। “আপনার আজ্ঞাবহ সকলের অনন্ত পরিত্রাণের কারণ হইলেন” (ইব্রীয় ৫:৯)।

উত্তরঃএটি একটি জীবন-মরণের বিষয়। বিশ্রামদিন ঈশ্বরের ব্যবস্থার চতুর্থ আজ্ঞা দ্বারা সুরক্ষিত এবং সমর্থিত। জেনে-শুনে দশ আজ্ঞার যে কোন একটিকে লঙ্ঘন করার অর্থ হল পাপ করা। খ্রীষ্টীয়ানগণ খুশি মনেই খ্রীষ্টের বিশ্রামদিন পালনের উদাহরণ অনুসরণ করবে।

16. যে সব ধর্মগুরুগণ বিশ্রামদিন উপেক্ষা করেন তাদের প্রতি ঈশ্বরের অনুভূতি কেমন?

“তথাকার যাজকগণ আমার ব্যবস্থার প্রতি দৌরাত্ম্য করিয়াছে, ও আমার পবিত্র বস্তু সকল অপবিত্র করিয়াছে, পবিত্র ও সামান্যের কোন প্রভেদ রাখে নাই ... ও আমার বিশ্রাম দিন সকলের প্রতি চক্ষু মুদিয়াছে, আর আমি তাহাদের মধ্যে অপবিত্রীকৃত হইতেছি। ... এই জন্য আমি তাহাদের উপরে আপন রোষ ঢালিলাম” (যিহিষ্কেল ২২:২৬, ৩১)।

উত্তর: যদিও কিছু ধর্মগুরু জানে না বলে রবিবার দিনকে পবিত্র মানে, তবে যারা ইচ্ছে করেই করে, তারা ঈশ্বর যা পবিত্র বলেছেন তা অপবিত্র করে। ধর্মীয় নেতারা ঈশ্বরের সত্য বিশ্রামদিন থেকে মন ফিরিয়ে নেয়ার কারণে অন্যেরাও দিনটি অপবিত্র করেছে। এ বিষয়ে লক্ষ লক্ষ লোককে ভ্রান্ত করা হয়েছে। ফরীশীরা তাদের পরম্পরাগত বিধির মাধ্যমে দশ আজ্ঞার একটিকে অকার্যকর করা সত্ত্বেও ঈশ্বরকে প্রেম করার ভান করত বলে যীশু তাদের ভর্ৎসনা করেন। (মার্ক ৭:৭–১৩)।

17. বিশ্রামদিন পালন সত্যি কি কেউকে ব্যক্তিগতভাবে প্রভাবিত করে?

“তোমরা যদি আমাকে প্রেম কর, তবে আমার আজ্ঞা সকল পালন করিবে” (যোহন ১৪:১৫)। “বস্তুতঃ যে কেহ সৎকর্ম করিতে জানে, অথচ না করে, তাহার পাপ হয়” (যাকোব ৪:১৭)। “ধন্য তাহারা, যাহারা আপন আপন পরিচ্ছদ ধৌত করে, যেন তাহারা জীবন-বৃক্ষের অধিকারী হয়, এবং দ্বার সকল দিয়া নগরে প্রবেশ করে” (প্রকাশিত বাক্য ২২:১৪)। “তিনি [যীশু] তাহাদিগকে আরও কহিলেন, ‘বিশ্রামবার মনুষ্যের নিমিত্তই হইয়াছে, মনুষ্য বিশ্রামবারের নিমিত্ত হয় নাই’” (মার্ক ২:২৭)।

উত্তর: হ্যাঁ! বিশ্রামদিন মানুষের জন্য ঈশ্বরের একটি উপহার, যিনি আপনার জন্য এটা সৃষ্টি করেছেন যেন পার্থিব বিষয় থেকে আপনি সাময়িক বিরতি নিতে পারেন! যারা তাঁকে ভালোবাসে তারা বিশ্রামদিনের আজ্ঞাটি পালনের চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। আসলে, আজ্ঞা পালন ছাড়া প্রেম তো সত্যিকারের প্রেম হতেই পারে না (১ যোহন ২:৪)। আমাদের সকলেরই এ সিদ্ধান্তটি নেওয়া উচিত, আর এটি আমরা এড়াতে পারি না। সুখবরটা এই যে বিশ্রামদিন পালন করতে মনস্থ করলে আপনি গভীরভাবে আশীর্বাদ পাবেন।

বিশ্রামদিেন আপনি নির্দ্বিধায়—অপরাধবোধ ছাড়াই—আপনার দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড, যেমন কাজ এবং কেনাকাটা থেকে বিরতি নিয়ে, তার পরিবর্তে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টার সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। অন্য বিশ্বাসীদের সঙ্গে ঈশ্বরের উপাসনায় কাটানো, পরিবারকে সময় দেয়া, প্রকৃতিতে হেঁটে বেড়ানো, আত্মিক উদ্দীপক লেখা পাঠ, এবং এমনকি অসুস্থদের কাছে গিয়ে তাদের উত্সাহ দেয়া, এসবই বিশ্রামদিনকে পবিত্র রাখার কিছু ভালো উপায়। ছয় দিন কাজের চাপের শেষে, ঈশ্বর আপনার শ্রম থেকে বিশ্রাম নিতে আর নিজ আত্মাকে সুস্থ করতে বিশ্রামদিনটি উপহার দিয়েছেন। আপনি আস্থা রাখতে পারেন যে আপনার জন্য সর্বোত্তম কী তা তিনি জানেন।

18. ঈশ্বরের সপ্তম-দিনের বিশ্রামদিনটি পবিত্র রেখে আপনি কি তাঁকে সম্মানিত করতে ইচ্ছুক?
আপনার উত্তর: ___________

আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর

১। বিশ্রামদিন কি কেবল যিহুদীদের জন্য নয়?

উত্তর: না। যীশু বলেন, “বিশ্রামবার মনুষ্যের নিমিত্তই হইয়াছে” (মার্ক ২:২৭)। এটি কেবলমাত্র যিহুদীদের জন্য নয়, কিন্তু সমস্ত মানুষের জন্য—সব জায়গার সকল স্ত্রী-পুরুষের জন্য। যিহুদী জাতির আবির্ভাব হয়েছিল বিশ্রামদিন প্রতিষ্ঠারও ২৫০০ বছর অতিবাহিত হবার পর।

২। প্রেরিত ২০:৭-১২ পদ কি প্রমাণ দেয় না যে শিষ্যগণ রবিবারকে পবিত্ররূপে মান্য করতেন?

উত্তর: বাইবেল অনুসারে প্রতিটি দিনের সূচনা হয় সূর্যাস্তে এবং শেষ হয় পরবর্তী সূর্যাস্তের সময়ে
(আদিপুস্তক ১:৫, ৮, ১৩, ১৯, ২৩, ৩১; লেবীয় ২৩:৩২) দিনের শুরু হয় অন্ধকার দিয়ে। তাই বিশ্রামদিন শুরু হয় শুক্রবার বিকেলে সূর্যাস্তের সময়ে এবং সমাপ্ত হয় শনিবার সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সময়ে। প্রেরিত ২০ অধ্যায়ে বর্ণিত সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল শনিবার রাতে অর্থাৎ রবিবারের প্রারম্ভের অন্ধকার মুহূর্তে। এটি ছিল শনিবার সান্ধ্যকালীন একটি সভা যা মধ্যরাত পর্যন্ত চলেছিলো। পৌল এখান থেকে বিদায় নিয়ে পরের দিন সকালে অন্যত্র যাত্রা করবেন আর তিনি জানতেন বহুদিন এদের সঙ্গে তার সাক্ষাত হবে না (২৫ পদ)। আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই যে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রচার করেছিলেন! (কোন নিয়মিত সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান সারা রাত ধরে চলে না।) পৌল “পরদিন প্রস্থান করিতে উদ্যত” ছিলেন (৭ পদ)। রুটি ভাঙ্গার কোন বিশেষত্ব এখানে ছিল না, কারণ তারা প্রতিদিন রুটি ভাঙ্গতো (প্রেরিত ২:৪৬)। এই পদে প্রথম দিনটি পবিত্র, কিংবা প্রারম্ভিক খ্রীষ্টানগণ তা মনে করতেন, এমন কোনও ইঙ্গিত নেই। আর বিশ্রামদিনের যে পরিবর্তন হয়েছে তারও কোনও প্রমাণ নেই। যিহিষ্কেল ৪৬:১ পদে ঈশ্বর রবিবারকে “কার্যের ছয় দিন”-এর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

৩। ১ করিন্থীয় ১৬:১, ২ পদ কি ‘সানডে’ (রবিবার) স্কুলের দানের (চাঁদার) কথা উল্লেখ করে না?

উত্তর: না, করে না। এখানে কোন জনসভার কথা উল্লেখ নেই। এখানে বাড়িতেই টাকা আলাদা করে রাখার কথা বলা হয়েছে। এখানে পৌল এশিয়া মাইনরের মণ্ডলীগুলোকে অনুরোধ করে লিখছিলেন যেন তারা তাদের যিরূশালেম নিবাসী দারিদ্র্য-কবলিত ভাই বোনেদের সহায়তা করে (রোমীয় ১৫:২৬-২৮)। এখানের সব খ্রীষ্টীয়ান ভাইবোনেরা বিশ্রামদিন পবিত্র রাখতো, তাই পৌল প্রস্তাব দিয়েছিলেন যেন বিশ্রামদিন অতিবাহিত হলে পরদিন, অর্থাৎ রবিবার সকালে, তাঁরা যেন তাদের অভাবগ্রস্ত ভাই-বোনদের সাহায্যের জন্য কিছু দান পৃথক করে রাখে, যেন যখন তিনি আসবেন তখন তাদের হাতে যেন কিছু টাকা থাকে। এটা ব্যক্তিগত ভাবে করার জন্য বলা হয়েছে, অন্য অর্থে, নিজের ঘরেতে। এখানে রবিবারকে পবিত্র দিন হিসাবে বর্ণিত করা হয়নি।

৪। খ্রীষ্টের সময়ের পর থেকে কি সময় হারিয়ে যায়নি, এবং সপ্তাহের দিনগুলি পরিবর্তিত হয়নি?

উত্তর:না, কখনও না।পণ্ডিতগণ এবং ইতিহাসবিদগণ একমত যে ক্যালেন্ডার পরিবর্তিত হলেও, সাপ্তাহিক চক্র কখনো হয়নি। অতএব, আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমাদের সপ্তম দিনটি সেটিই যে সপ্তম দিনটি যীশু পবিত্রভাবে পালন করেছিলেন!

৫। যোহন ২০:১৯ পদ কি পুনরুত্থান দিনের সম্মানার্থে শিষ্যগণের রবিবার পালনের প্রমাণ নয়?

উত্তর: না। ঐ সময়ে শিষ্যগণ বিশ্বাস করেননি যে যীশুর পুনরুত্থান হয়েছে। তারা “যিহূদীগণের ভয়ে” একত্রিত হয়েছিলেন। যখন যীশু তাদের মধ্যে সপ্রকাশ হলেন, তখন তিনি তাদের তিরস্কার করলেন, “কেননা তিনি উঠিলে পর যাঁহারা তাঁহাকে দেখিয়াছিলেন, তাঁহাদের কথায় তাঁহারা বিশ্বাস করেন নাই”
(মার্ক ১৬:১৪)। এখানে কোন ইঙ্গিত নেই যে সেদিন তারা রবিবারকে পবিত্র দিনরূপে গণ্য করেছিল। নূতন নিয়মে কেবল আটটি পদে সপ্তাহের প্রথম দিনের বিষয়ে উল্লেখ আছে এবং এর কোনোটি ইঙ্গিত করে না যে দিনটি পবিত্র।

৬। কলসীয় ২:১৪-১৭ পদ কি সপ্তমদিনের বিশ্রামদিন পালনকে বাতিল করে না?

 উত্তর: কখনোও নয়। এটা কেবল বার্ষিক, অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক বিশ্রামদিনকে ইঙ্গিত করে, যা “আগামী বিষয়ের ছায়ামাত্র” ছিল, সপ্তম-দিনের বিশ্রামদিনকে নয়। প্রাচীন ইস্রায়েলীয়দের প্রতি বছর সাতটি এমন পবিত্র দিন, বা পার্বণ ছিল যেগুলোকে বিশ্রামদিনও বলা হত। (লেবীয় ২৩ অধ্যায় দেখুন)। আর “সদাপ্রভুর বিশ্রামদিন হইতে ... এই সকল ভিন্ন,” কিংবা পরিপূরক ছিল। (লেবীয় ২৩:৩৮)। ওগুলো ছিল মূলতঃ ক্রুশের ছায়ামাত্র এবং ক্রুশেই ওগুলোর সমাপ্তি হয়েছে। ঈশ্বরের সপ্তম-দিনের বিশ্রামবারটি আদমের পাপের পূর্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আর তা পাপ থেকে উদ্ধারের কোন পূর্বাভাস হতে পারে না। এ কারণেই যেসব বিশ্রামদিন “ছায়ামাত্র” ছিল সেগুলোকে কলসীয় ২ অধ্যায় আলাদা করে দেখায় এবং বিশেষভাবে উল্লেখ করে।

৭। রোমীয় ১৪:৫ অনুযায়ী, বিশ্রামদিন পালন কি প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার নয় কি?

উত্তর:লক্ষ্য করুন সম্পূর্ণ অধ্যায়টি একে অপরকে “তর্কবিতর্ক সম্বন্ধীয় বিষয়ের” (পদ ১) বিচার করার বিষয় নিয়ে লেখা (পদ ৪, ১০, ১৩)। এখানের বিতর্কটি সপ্তম-দিন বিশ্রামদিন নিয়ে নয়, যা নৈতিক ব্যবস্থা, কিন্তু অন্যান্য ধর্মীয় দিন নিয়ে। যিহূদী খ্রীষ্টীয়ানগণ পরজাতীয় খ্রীষ্টীয়ানদের ঐ দিনগুলো পালন না করার কারণে তাদের বিচার করতো। পৌল কেবল বলছেন, “কেহ কাহারও বিচার আর না করি।” ঐ বিধিমূলক আজ্ঞা আর বাধ্যতামূলক নয়।

সারসংক্ষেপ

দয়া করে এই প্রশ্নের সমাধান করার আগে পাঠটি পড়ে নিন। সমস্ত উত্তর আপনি এই সহায়িকা বইটিতে পেয়ে যাবেন।। সঠিক উত্তরটির পাশে টিক চিহ্ন দিন। বন্ধনীর সংখ্যাগুলো (১) সঠিক উত্তরের সংখ্যা নির্দেশ করে।

১। যীশু (১)

( ) রবিবার পবিত্র দিন হিসাবে পালন করেছেন।

( ) সপ্তমদিন পবিত্র দিন হিসাবে পালন করেছেন।

( ) বাকি প্রত্যেকটি দিনই পবিত্র দিন হিসাবে পালন করেছেন।

২। প্রভুর দিনটি হল (১)

( ) রবিবার, সপ্তাহের প্রথমদিন।

( ) বিশ্রামদিন, সপ্তাহের সপ্তমদিন।

( ) প্রভুর কাছে উৎসর্গীকৃত যে কোনও দিন।

৩। বিশ্রামদিনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল (১)

( ) কেবলমাত্র যিহূদীদের জন্য।

( ) ঈশ্বর কর্তৃক পৃথিবী সৃষ্টির সময়ে সর্বকালীন সর্বস্থানের সকল নারী-পুরুষের জন্য।

( ) কেবল পুরাতন নিয়মের সময়ে বসবাসকারী লোকদের জন্য।

৪। বিশ্রামদিন থেকে রবিবার পরিবর্তনটি করেছিলেন (১)

( ) খ্রীষ্ট।

( ) শিষ্যরা।

( ) বিভ্রান্ত নেতৃবৃন্দ।

৫। ঈশ্বরের বিশ্রামদিন সম্বন্ধীয় আজ্ঞা (১)

( ) আজকের দিনে আর কার্যকর নেই।

( ) কখনও পরিবর্তনের যোগ্য না। আজও প্রযোজ্য।

( ) খ্রীষ্টের মৃত্যুতে সমাপ্ত হয়েছে।

৬। নতুন নিয়মের মণ্ডলীতে ধর্মান্তরিত পরজাতীয়গণ এবং শিষ্যরা (১)

( ) রবিবারকে পবিত্র দিন হিসেবে মান্য করত।

( ) শিক্ষা দিত যে আপনি আন্তরিক হলে যে কোনও দিনই পবিত্র বলে গণ্য হবে।

( ) বিশ্রামদিন পালন করত।

৭। বিশ্রামদিনটি (১)

( ) ক্রুশে শেষ হয়ে গেছে।

( ) যীশুর দ্বিতীয় আগমনে শেষ হয়ে যাবে।

( ) ঈশ্বরের চিরস্থায়ী রাজ্যে সর্বযুগের উদ্ধারপ্রাপ্ত লোকেরা পালন করবে।

৮। যেহেতু বিশ্রামদিন ঈশ্বরের আজ্ঞার অংশ, সুতরাং এটি লঙ্ঘন করলে (১)

( ) খ্রীষ্টের মৃত্যুর পর আর উদ্বেগের বিষয় না।

( ) পাপ হবে কারণ এটি পবিত্র বিষয়াদিকে পদদলিত করে।

( ) বর্তমানে অসুবিধা নেই।

৯। যাঁরা প্রকৃতই যীশুকে ভালবাসে এবং অনুসরণ করে তারা (১)

( ) যীশু যেমন করেছেন, তেমনি বিশ্রামদিন পালন করে।

( ) বাকি প্রতিটি দিন পবিত্র বলে মান্য করে।

( ) রবিবারকে পবিত্র দিন বলে মান্য করে।

১০। বিশ্রামদিনটি হল (১)

( ) রবিবার, সপ্তাহের প্রথম দিন।

( ) শনিবার, সপ্তাহের সপ্তম দিন। (শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত)।

( ) ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গীকৃত যে কোনও দিন।

১১। রবিবার পালন হল (১)

( ) মনুষ্য-রচিত, যা বাইবেল ভাববাণী করে।

( ) বর্তমানের জন্য ঈশ্বরের পরিকল্পনা।

( ) যীশুর পুনরুত্থানে উৎপত্তি এবং পঞ্চাশত্তমিতে অনুমোদনপ্রাপ্ত।

১২। বিশ্রামদিন পালন (১)

( ) আইনবাদের একটি লক্ষণ।

( ) শুধুমাত্র যিহূদীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

( ) ঈশ্বরের সৃষ্টি ও পরিত্রাণের চিহ্ন।

১৩। আমি যীশুর বিশ্রামদিন পালনের উদাহরণ অনুসরণ করতে চাই।

( ) হ্যাঁ।

( ) না।